ঘরণীর অতৃপ্ত বাসনা

অর্ঘ্যজিত মুখোপাধ্যায়

ঘরণীর অতৃপ্ত বাসনা
(105)
পাঠক সংখ্যা − 10842
পড়ুন

সারাংশ লিখুন

এ এস এম শুভজিত সান্যাল বীরভুম জেলার বাতাস পুর রেল স্টেশনে বদলী হয়ে এসেছে।ধু ধু মাঠের মধ্যে রেল কোয়ার্টার।বিদ্যুৎ আছে, ভোল্টেজ কম থাকায় রাতে প্রদীপের মতো আলো জ্বলে । দুরে অজ গ্রাম। চারদিন হল বাতাস পুর স্টেশনে কাজে যোগ দিয়েছে। খালাসী পাশোয়ান ওর কোয়ার্টারে আসবাব ঢুকানোর সময় বলেছিল -"ছোটবাবু এই কোয়ার্টারের দোষ আছে।আওরত রুহু ঘুরে বেড়ায়।" কথার মানে শুভজিত বুঝতে পারেনি।কয়েকদিন থাকার পর বেলুড়ের শ্বশুর বাড়ী থেকে নববিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে আসবে। কোয়ার্টারে দুটি ঘর ও বারান্দা, উঠোন সংলগ্ন রান্না ঘর বাথরুম পায়খানা আছে।ও তিনদিন লাস্ট নাইট অর্থাৎ রাত বারোটা থেকে ডিউটি করেছে।আজ দিনে ডিউটি করে শুভজিত প্রথম রাতে ভিতরের ঘরে পালঙ্কে শুয়ে ঘুমোচ্ছিল। ও লাইট নিভিয়ে অন্ধকারে করে শোয়।বন্ধ দরজার বাইরে রান্নাঘরে শব্দ হচ্ছে। হয়ত বিড়াল এসেছে। কিন্তু একটানা হাতা খুন্তি নাড়ার আওয়াজে রাত বারোটায় ওর ঘুম ভাঙল। মনে হচ্ছে কেউ যেন রান্না ঘরে কাজ করছে। বাথরুমে জল ফেলার শব্দ শুনে ভয়ে আড়ষ্ট হল। -"বোস এখনই খাবার আনছি।" অস্পষ্ট মহিলার কন্ঠ কানে যেতেই শুভজিত উঠে কম্পমান হাতে দেওয়ালের সুইচ টিপে আলো জ্বালল।ও ভুতে বিশ্বাস করে না।কিন্তু একা ঘরে কৃষ্ঞপক্ষের রাতে এরকম শিহরণ জাগানো অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি।ও দরজার ছিটকিনি খুলে বাইরের রান্না ঘর বাথরুমে ঢুকে কোন মহিলাকে দেখতে পেল না। রান্না ঘরে ওভেন ও গ্যাসের সিলিন্ডার এনেছে। এখন দুপুরে ও রাতের রান্না খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে পাশের কোয়ার্টারে অবিবাহিত এ এস এম হালদারের রান্না ঘরে।পোর্র্টার রাধে শ্যাম পাশোয়ান রান্না করে দেয়: স্ত্রীকে আনলে রান্নাঘর ব্যবহার করবে। ঘরের কয়েকটা বাসন জায়গা মতোই আছে। বাসনের শব্দ কে করল? উঠোনের পাঁচিলের বাইরে নিম গাছের ডালে একটা হুতোম প্যাচা বসে অন্ধকারে উজ্বল ডাগর চোখে চেয়ে আছে।দরজা বন্ধ করে শুভজিত বিছানায় শোয়। বাইরে রান্না ঘরে আবার হাড়ি গ্লাস বাটি রাখার শব্দ শুরু হল। ও ভাবে অশরীরী কেউ থাকলে সেতো রান্না ঘরে। ঘরে না এলেই হল।ওর কাণে এল ধপাস শব্দে উঠোন কেউ যেন পড়ে গেল। -" মাগো" বলে নারী কন্ঠের আর্তনাদ শুনে ও ভয় কাটাতে দুকানে বালিশ চেপে ধরল। কাণ বন্ধ রেখে ভয় দুঃশ্চিন্তার প্রহর কাটাল। শেষ রাতে আওয়াজ বন্ধ হলে ঘুমাল। সকালে শুভজিত পাশের কোয়ার্টারের অবিবাহিত জুনিয়ার এ এস এম হালদারবাবুকে বলল-" হালদার আমার কোয়র্টারের রান্না ঘর উঠোন থেকে রাতে নানারকম শব্দ হচ্ছে।মহিলা কন্ঠের আর্তনাদ শুনলাম।ঘরটাতে ভুত পেতনী আছে নাকি?" উদ্বিগ্ন হয়ে হালদার বলল-" তোমাকে আগে বলা হয়নি। তিন বছর আগে ঐ কোয়ার্টারে বোসদা বউ নিয়ে উঠেছিল। বোসদার স্ত্রী যখন নয় মাসের অন্তসত্বা ছিল তখন বাথরুমে স্নান করার সময় পা পিছলে পড়ে যায়; বোসদা স্ত্রীকে সিউরি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল; মর্মান্তিক ঘটনায় স্ত্রী ও গর্ভের সন্তান দুজনাই মারা গেছে। ------শিহরণ জাগানো ভৌতিক গল্প।

রিভিউসমূহ

রিভিউ দিন
Santanu Mondal
পাগলেরা এই ধরণের গল্প লেখে ও পড়ে...
মৌসুমী ঘোষ দাস
হাড় হিম করা লেখা
প্রত্যুত্তর
Subhodeep Das
ভালো ।
প্রত্যুত্তর
Milan Banerjee
valo
প্রত্যুত্তর
সকল টিপ্পনী দেখুন
bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.