#নিপেন_দারোগা

******নিপেন দারোগা******

সে অনেক দিন আগেকার কথা, তখন ফেসবুক তো অনেক দূর মোবাইল মানে তখন ভ্রাম্যমান বিষয় বস্তু বলেই অভিধানে দেওয়া ছিল । সেই সময়ে কোলকাতা থেকে নব্বই কিমি দূরে কোলা বলে এক গ্রাম ছিল, ছিল বলছি এই কারনে এখন সেটা আধা শহরে রুপান্তরিত হয়ে গেছে।
সেই কোলা গ্রামে নিপেন শিকদার ছিলেন খুবই হোমরা চোমরা বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খাইয়ে দেওয়ার মতন দারোগা। তার সেই গ্রামে বদলি হয়ে আসার মাস ছয়েকের মধ্যে চুরি ডাকাতি অনেক পরিমানে অনেক খানি কমে গেছিল বটে তবে কদাচিৎ যা হত তাতে পাশের পাড়ার যোগসাজশ ছিল বলেই নিপেন বাবু হুংকার মারতেন ।
তবে গাঁয়ের লোকেরা মেনে নিয়েছিল যে আগের থেকে অবস্থার বেশ উন্নতি হয়েছে আর সেই কারনে মাঝে সাঝে নিপেন বাবুর ঘরে গাঁয়ের বেশ বাছা বাছা শাক-সবজি, ফুল-ফল, পুকুরের মাছের ভেট যেত।
দিন গুলো এভাবে বেশ ভালোই কাটছিল কিন্তু এক বর্ষার রাতে গাঁয়ের ক্ষুদে পাকরাশি হন্ত দন্ত হয়ে এসে খবর দিল – দারোগা বাবু শীগগির চলেন মল্লিকের মেয়েটা গলায় দড়ি দেছে।
বর্ষার রাত , চারিদিকে কাঁদা জলে থই থই , বাইরে শো শো শিশির হাওয়া আর সাথে ঝুম ঝুম বর্ষণ। নিপেন বাবুর আজ একটু আমোদ করার মন চেয়েছিল সঙ্গী সাথী নিয়ে কিন্তু মল্লিকের মেয়ের কথা শুনে আমোদ থেকে নিজেকে বিরত রাখলেন বলা যায় রাখতে বাধ্য হলেন।
রাধারমন মল্লিক এ গাঁয়ের একটু মাতব্বর গোছের লোক, পরের বারে ভোটের টিকিট এক্কেবারে বাধা। গাঁয়ের তিনি অঘোষিত জমিদার ,সবাই বেশ মান্যি গন্যি করে চলে কিন্তু সমস্যা তাঁর একটাই, সেটি হল, তাঁর তার সদ্য যুবতি মেয়ে মল্লিকা।
পাশের গাঁয়ের নিচু জাতের ছেলে বুধুনের সাথে প্রেম পিরিত মল্লিক বাবু ঠিক মেনে নিতে পারেননি কিন্তু মেয়ে মল্লিকাও কম জেদি নয় , বাপেরই মতন হয়েছে কিনা। বাপ মাকে পরোয়া না করে মাস দুই আগে পালিয়ে গেছিল বেজাত ছেলেটার সাথে। ব্যাস মল্লিক বাবুর মাথা তেলে বেগুনে গরম হয়ে উঠল।
পালিয়ে যাওয়ার দিন কুড়ির মধ্যে লোকজন নিয়ে মল্লিক বাবু মেয়েকে পাশের গাঁ থেকে এক প্রকার যাকে বলে চ্যাং দোলা করে তুলে নিয়ে আসলেন কিন্তু সেটা তো ঠিকই ছিল তবে তার কিছুদিন পর এ গাঁয়েরই খালের মধ্যে যখন সেই ছেলেটির দেহ ভেসে উঠল তখন সবাই সব কিছু জেনেও মুখ চাপা দিয়ে রইলো।
পাড়ায় রটে গেল বা বলা যায় রটানো হল যে বুধুন খালের জলে ডুবে মারা গেছে কিন্তু ভিতরের রহস্য টা নিপেন দারোগা ঠিক উদ্ধার করে উঠতে পাড়ল না বলা যায় এই খুনের ব্যাপারে তাকে খুব একটা জড়াতে মল্লিক বাবুরই একটা অদৃশ্য নিষেধ ছিল।
নিপেন দারোগাও এটা নিয়ে খুব বেশী নাড়াচাড়া করলেন না তার অবিশ্যি একটা কারন নিন্দুকেরা বলে থাকে পকেট গরম হওয়া ।
এ হেন মল্লিক বাবুর মেয়ের গলায় দড়ির খবরে নিপেন বাবু ঝড় জলের রাতে সঙ্গে ভুঁড়িওয়ালা গনপতি হাবিলদার কে নিয়ে ছুটলেন মল্লিক বাবুর বাড়ির পথে। রাস্তায় এত কাঁদা যে গাড়ি নেওয়া চলে না , মোটা সোটা গামবুট পায়ে গলিয়ে হাতে ছয় ব্যাটারির টর্চ নিয়ে আর বর্ষাতি গায়ে নিপেন দারোগা পা বাড়ালেন।
গায়ের যে কটা হাতে গোনা পাকা বাড়ি তার মধ্যে একটি মল্লিক বাবুর, সাথে কয়েক বিঘা জমি আর কয়েকটা ধানের গোলা।
মল্লিকা ধানের গোলার ঘরে ঢুকে উপরের ছাউনির কাঠ থেকে নিজের শাড়ি দিয়ে ঝুলে পড়েছে। দূর থেকে টর্চ মেরে নিপেন দারোগা দেখল অন্ধকার ঘরে মেয়েটা ঝুলছে। আশে পাশের লোকজন এসেছে বটে কিন্তু সবাই যেন একটু বেশি রকম গম্ভীর আর শঙ্কিত।
নিপেন দারোগাকে দেখা মাত্র মল্লিক বাবু বলে উঠলেন – মেয়েটাকে নামাও হে , আর যে চোখে দেখতে পারছি না , বুকটা যে ফেটে যাচ্ছে।
নিপেন দারোগা অবাক হয়ে বলল – পাড়ার ছেলেছোকরা গুলো কি আজকাল লাশ নামাতেও ভুলে গেছে ?
মল্লিক বাবু বললেন না হে একটু অসুবিধে আছে, ছেলে ছোকরারা চেষ্টা করেছিল কিন্তু…
নিপেন দারোগা বলল – কিন্তু কি…? কই হে আমার সাথে চল, বলে তিনি তিন চারজন কে হাঁক দিলেন বটে কিন্তু কাউর বিশেষ নড়ন চড়ন দেখলেন না। সবাই যেন কেমন থম মেরে গেছে আর চোখে মুখে একটা অজানা আতঙ্ক।
নিপেন এবার হুমকি দিয়ে বললেন – এখানে দাঁড়িয়ে ইয়ার্কি হচ্ছে, চল।
কিঞ্চিৎ ভীরে দাঁড়িয়ে থাকা গাঁয়ের বয়স্ক গোছের একজন বলে উঠলো – আজ্ঞে হুজুর ভীতরে বুধুন আছে, দিদিমনির দেহ নামাতে গেলেই ও পিছন থেকে টেনে ধরছে।
নিপেন দারোগা হুংকার দিয়ে উঠলেন, স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় চেঁচিয়ে উঠে বললেন – যত সব ভীতুর দল, চল হে গনপতি, এদের দারা কিচ্ছু হবে না, তুমি ওই টুলটা নিয়ে শাড়ির প্যাঁচটা খোল, আমি ধরছি।
চারিদিকে অন্ধকার, তার মধ্যে বৃষ্টি। মল্লিক বাড়ির একটা হ্যারিকেন জ্বলছে, সামনে পিছনে রাশি রাশি নারকেল গাছের সারি , তার পিছনে একটু ঝোপ ঝাড় , গনপতি একটু ঢোঁক গিলে বলল – আজ্ঞে আমি একা যাব ওই ভীতরে?
নিপেন দারোগা চোখ টা খটমট করে তাকাতেই গনপতি গুটি গুটি পায়ে গোলার দরজা ঠেলে ভীতরে ঢুকল। ভীতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার, লোকজন হ্যারিকেন নিয়ে একটু তফাতেই দাঁড়িয়ে, গনপতি ওদিকে তাকিয়ে বলল – এজ্ঞে আলোটা আনতে হবে না হলে যাই কি করে?
নিপেন দারোগা হুংকার দিয়ে বলে উঠল – হ্যারিকেন লাগবে না আমি টর্চ জ্বালছি।
নিপেন দারোগা টর্চ জ্বাললেন, মল্লিকা ঝুলছে, মনে মনে ভাবলেন বেচারি নিজেও মরলি আরেকজন কে মেরেও ফেললি মুখে বললেন নে নে তাড়াতাড়ি কর।
গনপতি টুল নিয়ে সেটা ধানের গাদার ওপরে রেখে ওপরের কাঠে জরানো শাড়ির গিঁট টা নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করল। দরজার গোঁড়ায় নিপেন দারোগা টর্চ হাতে দাঁড়িয়ে, বাইরে ঝরো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি, ঘরটার চারপাশ টা কেমন যেন নিঝুম।
গনপতি শাড়ির গিঁট খোলার চেষ্টা করতে লাগলো তাও প্রায় বেশ খানিকক্ষন হয়ে গেল , নিপেন দারোগা এবার হুংকার দিয়ে উঠে বলল – বলি শাড়ির প্যাঁচ খুলছ না ছাদের কাঠ খুলছ?
গনপতি বলল আজ্ঞে শাড়ির প্যাঁচ টা বেশ পেঁচিয়ে গেছে, খোলা যাচ্ছে না , বলেই হটাত অনুভব করল পিছন থেকে তাকে কে যেন টেনে ধরছে, প্রথমে মনে হল নিপেন দারোগা হবে বোধ হয় কিন্তু চেয়ে দেখল দারোগা বাবু দরজায় দাঁড়িয়ে আছে অন্ধকারে মুখটা ভালো করে দেখা যাচ্ছে না।
গনপতি অনুভব করল তার পা টা কাঁপছে, গলাটা শুকিয়ে যাচ্ছে, যেকোন মুহূর্তে নিজের ভুঁড়ি শুদ্ধ টুল থেকে চিট পটাং হয়ে পরে যেতে পারে। শাড়ির গিঁট টা ছেড়ে সে সভয়ে পাশের অন্ধকার জায়গায় চাইল, একটা আবছা অবয়ব অনুভব করল, ঠিক যেন তার পাশে দাঁড়িয়ে । গনপতি হাত ছেড়ে দিয়ে টুল থেকে লাফিয়ে নামতে গিয়ে হুড়মুড় করে পরে গেল আর পরেই বাবা গো মা গো ভুতে খেয়ে ফেলল বলে দরজা দিয়ে বেড়িয়ে পিঠ টান। নিপেন দারোগা হতবম্বের মতন গনপতির ছুট দেখে ভেবে উঠতে পারলনা এই বিশাল বপু নিয়ে গনপতি এরকম দৌড় কি করে দিতে পারে ?
মল্লিক বাবু নিপেন দারগার কাছে এসে বলল – পুলিশ যদি এরকম বুজরুকি , ভুতে ভয় পায় তাহলে গাঁয়ের লোকের কি হবে, আমাদের গাঁয়ের সাহসী পুলিশের গায়ে ভীতুর তকমা লেগে যাবে যে দারোগা বাবু।
দোর্দণ্ড প্রতাপ তাঁর, বাঘে গরু এক ঘাটে জল খায় তার হুঙ্কারে, সেটা লোকে বলে তার আড়ালে তবে নিপেন দারোগা নিজের কানে কোনদিন শোনেনি, কিন্তু সাহসী বলে তার একটা সুনাম আছে, টর্চ নিয়ে নিপেন দারোগা নিজেই ঢুকে গেলেন।
আলো ফেলে দেখলেন ওপরে কড়ি কাঠে শাড়ির প্যাঁচটা বেশ কষে বাঁধা সেখান থেকে মল্লিকের মেয়ে ঝুলছে, বড়ই হৃদয়বিদারক দৃশ্য বটে কিন্তু এভাবে ফেলে রাখলে সেটা আরও বেদনাদায়ক হয়ে যাবে।
টুল টা কাত হয়ে পরেছিল, সেটাকে তুলে নিপেন দারোগা তার ওপর উঠে মুখে পেল্লায় টর্চ টা নিয়ে দু হাতে চেষ্টা করতে লাগলেন খোলার, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝলেন শাড়ির গিঁট টা বেশ ভালরকম পেঁচিয়ে গেছে এখন উপায় একটাই, শাড়িটাকে ছিঁড়ে বা কেটে নামানো। কিন্তু শাড়ি ছিঁড়ে বা কেটে তার একার পক্ষে নামানো বেশ মুশকিল।
নিপেন বাবু নেমে বাইরে বেড়িয়ে এসে বললেন কেউ একজন ভীতরে আয়, শাড়ি কেটে নামাতে হবে। মিনিট পাঁচেক হয়ে গেলেও কেউ সেরকম একটা এগিয়ে এল না, মল্লিক বাবু এবার রেগে মেগে বললেন আমি কি কোলকাতা থেকে দমকল নিয়ে আসব মেয়েকে নামানোর জন্য, এরকম অপদার্থ পুলিশ আমি দেখিনি।
অপদার্থ কথাটায় ভারি গোসা হল নিপেন দারোগার, কিন্তু মল্লিক বাবু ভোটে জিতে মন্ত্রী টন্ত্রি হয়ে যেতে পারেন ইনাকে রাগানো উচিৎ নয় ভেবে আবার তিনি ভীতরে ঢুকলেন।
টর্চ টা মুখে নিয়ে কাঠ থেকে ঝুলন্ত শাড়ির একটা দিক সবে হাত দিয়ে টেনে ছিঁড়বেন কি ছিঁড়বেন না, হটাত টর্চ টা মুখ ফস্কে মাটিতে পরে গেল আর নিপেন দারোগা কে অবাক করে সেটা নিভে গেল, বড় আশ্চর্য হয়ে নিজের মনেই নিপেন দারোগা প্রশ্ন করলেন- নিভল কেন? তবে সাত পাঁচ আর না ভেবে তিনি অন্ধকারেই হাত চালানেন শাড়ি ছেঁড়ার কাজে।
টুলে নিজের ভারসাম্য রাখাটা তার পক্ষেও বেশ মুশকিল হয়ে পড়ছিল, চেহারাটা তারও নাদুশ নুদুশ হচ্ছে বলে শত্রু পক্ষ যে বদনামটা করে সেটা আজ সত্যি বলেই মনে হল তাঁর।
পিছনে প্রায় হেলে পরেছিলেন আরকি কিন্তু এ কি ? কে যেন তাকে ঠেলে সোজা করে দিল। নিপেন বাবু ভাবলেন তিনি দোর্দণ্ড প্রতাপ দারোগা এসব মনের ভুল, তিনি নিজেই নিজের ব্যালেন্স করে নিয়েছেন।
একটা দিক ছেঁড়া হয়ে গেল এরপর বেশ নির্বিঘ্নে, এর পর পরের দিকটা ছিঁড়তে গিয়ে আবার সেই কাণ্ড এবারও তাকে অবাক করে কে যেন তাঁর হেলে যাওয়া শরীর টাকে সোজা করে দিল।
শাড়ি ছিঁড়ে মল্লিকের মেয়ে ধানের খড়ের মেঝের ওপর ধপাস করে পড়ল । ঘুঁট ঘুঁটে অন্ধকারে নিপেন দারগার কেমন যেন হতে লাগল, ভয় কি জিনিস নিপেন দারোগা বলে বেড়ান বটে যে তিনি জানেন না, তবে সেটা লোকজনের সামনে দিনের আলোতে।
টর্চ টা খুঁজতে গয়ে এদিক ওদিক অন্ধকারে হাতড়াতে হাতড়াতে দেখলেন কে যেন এগিয়ে তাঁর হাতে টর্চ দিয়ে বলে উঠল – স্যার দয়া করে ওটা জ্বালাবেন না। আমি বুধুন আপনার জন্য এখানে অপেক্ষা করছিলাম, আপনিই এর একটা বিহিত করতে পারবেন।
নিপেন দারোগার গলাটা শুকিয়ে গেল , অন্ধকারে শুন্যে টর্চ টা ভাসছিল, কাঁপা কাঁপা হাতে সেটা ধরে বলল – কে বুধুন?
মানুষের মতন গলাটা কানে এল নিপেন দারগার – ওই যারে খাল পারে মেরে ফেলেছিল মল্লিকার বাপ, আমি সেই। আমি জানি আপনি জানেন সবই কিন্তু তাও একবার আপনারে বলার জন্য এই ঘরে অন্য কাউরে আসতে দিই নাই।
কি চাস ? নিপেন দারোগা বুঝল এই রকম আওয়াজে সে কথা বলত তার ইস্কুলের হেডমাস্টারের সাথে।
নিঝুম অন্ধকারের মধ্যে মানুষের মতন গলাটা আবার বলে উঠে – আজ্ঞে মল্লিকার বাবার নামে একটা অভিযোগ করতে চাই।
নিপেন দারোগা আবার চারপাশে চাইলেন , নিজেকে বড় অসহায় মনে হল তার , তাও বলে উঠলেন – কি অভিযোগ?
আবার সেই মানুষ মানুষ কথা ভেসে এল – হুজুর, মল্লিকা নিজে গলায় দড়ি দেয় নাই, মল্লিক মশাই মেয়েরে মেরে ঝুলায় দিসে। মল্লিকা আমায় বড় ভালবাসত যে, বাড়ির অমতে গিয়ে আমার সাথে পালায় গেছিল তারপর যখন আমি মরলাম মানে খুন হলাম তখন বুঝতে ও পেরেছিল এ কার কাজ। ও ওর বাবার নামে আপনার কাছে অভিযোগ করবে বলে প্রায় ঠিকই করে রেখেছিল কিন্তু মল্লিক মশাই জানতে পেরে সেই রাগে আজ সকালে ...।
তিনি কার সাথে কথা বলছেন মানুষ না অন্য কিছু ? নিপেন বাবুর এখনও পরিষ্কার হয় নি, কিন্তু ভয় জিনিস টা তার মনের মধ্যে এসে উঁকি দিচ্ছে বেশ ।
পিছনের অদৃশ্য অবয়ব টা আবার বলে উঠল – আমি জানি কেন মেরেছে, আসলে সামনে বারের ভোটের আগে কোন দুর্নাম নিজের গায়ে মাখতে চাননি উনি, তাবলে নিজের মেয়েরে? আমি মরলাম বিচার পেলাম না ঠিক আছে তা বলে মল্লিকা পাবেনা ? আপনি দণ্ড মুণ্ডের কর্তা হুজুর, আমি জানি এর একটা বিহিত আপনি করবেন, বড় আশা নিয়ে আছি হুজুর।
নিপেন দারোগা এবার একটু জোরে চেঁচিয়ে উঠলেন সেটা ভয় পেয়ে না অন্য কারনে বোঝা গেল না – ওরে হতভাগা অন্ধকারে লাশ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি ভীতরে কেউ আয়।
হ্যারিকেনের আলো চোখে পড়ল, নিপেন বাবু বুঝলেন হেডমাস্টারের ভয়টা মন থেকে এবার গেছে, টর্চ হাতে এদিক ওদিক চাইলেন , মল্লিকার জিভ বার কড়া দেহ টা ছাড়া আর কেউ কোথাও নেই।
নিপেন দারোগা মল্লিকার দেহ নিয়ে বের হতেই মল্লিক বাবু বললেন আশে পাশের গাঁয়ের যেন কেউ জানতে না পারে, আজ রাতেই সৎকার করে ফেলতে হবে ওই অপমৃত্যুর কোন ময়নাতদন্ত করার দরকার নেই।
নিপেন দারোগা কিছু বলতে যাচ্ছিলেন কিন্তু মল্লিক মশাই অন্ধকারে নিপেন দারগার হাতে কি যেন দিলেন , নিপেন বুঝল এ হল কাগজের বান্ডিল তবে এ যে সে কাগজ নয় ।
পরের দিন থেকে নিপেন দারোগা ছুটি নিলেন, সেই যে ছুটিতে গেলেন আর এ গাঁয়ে এলেন না , পরে শোনা গেল অন্য গাঁয়ে বদলি হয়ে গেছেন।
আর মল্লিক মশাই , এবার ভোটে জিতে মন্ত্রী হননি বটে তবে পরের বার জিতলে মন্ত্রিত্ব পাকা।

-শেষ-


bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.