রাঙার বিয়ে হয়েছে তিনমাস হল।মিতা ওর বিয়েতে থাকতে পারেনি।ট্রেনিং-এ ছিল।রাঙা কিন্তু মিতার অনুপস্থিতি কিছুতেই মানতে পারছিল না ।একপ্রকার রেগেই ফোন নং বদলে ফেলে,মিতার সাথে রাঙা সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল।কিন্তু মিতা তো চিরকাল রাঙা কে শুধু বন্ধু নয়,নিজের বোন মনে করে।তাই অনেক চেষ্টার পর মিতা রাঙার ফোন নং জোগাড় করা মাত্রই ফোন করল রাঙা কে ।
ফোনের ওপারে মিতা আর এপারে রাঙা।
এতদিনের জমানো মান-অভিমানের পালা শেষ হতে বেশ কিছু টা সময় লাগল।
মিতা বলল,"আমরা একটা গেম খেলবো!
রাঙা সশব্দে হাসতে হাসতে বলল,"তুই সেই আগের মতই রয়ে গেলি!ফোন করে গেম!ধুর্!কিকরে হয়?"
মিতা বলল,"হয়,হয় সবই হয়!তুই বল,খেলবি?"
রাঙা ও বেশ খুশি খুশি মনে বলল,"আচ্ছা, শুরু হোক।"
মিতা বলল,"আমি যা যা বলব,তুই তাই করবি!"
রাঙা এবার খানিক টা অবাক হল।বলল,"বল,কি করবো?"
মিতা বলল,"আরে তোর বর কে দেখলাম না,পরিচয়ও হল না ।তাই এই গেমের মধ্য দিয়ে কিছু টা জেনে নেব তোর বর কে ।তোর বর বাড়িতে আছে এখন?"
রাঙা বলল,"আছে ।ফোনে কথা বলবি?"
মিতা বলল,"না।গেমের শর্তগুলো শোন--
1.তোকে যা প্রশ্ন করবো,পূর্ণবাক্যে উত্তর দিবি।
2.যতটা সম্ভব সঠিক উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবি।
3.গেম চলাকালীন তুই তোর বরের মুখের দিকে তাকিয়ে উত্তর গুলো দিবি।
কিরে রাজি?"
রাঙা তো দো মনা হয়ে হ্যাঁ বলেও দিল।তারপর গুটি গুটি পায়ে বরের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।রাঙার বর নয়ন খবরের কাগজ পড়ছে।কাগজ টা কাত করে রাঙা কে একবার দেখে নিয়ে আবার পড়ায় মন দিল।এবার গেম শুরু হল...
--তোর বর দেখতে কেমন?
প্রথম প্রশ্ন যে এটা হবে, রাঙা ভাবতেও পারেনি।তার উপর পূর্ণবাক্যে উত্তর দিতে হবে ।রাঙা আধো আধো স্বরে বলল,
"যেমন হয় বরেরা,তেমনই দেখতে আমার বর।"
মিতা রেগে বলল,"ঐ,ঐ মন থেকে উত্তর দিবি। "
রাঙা লাজুক নয়নে ,নয়নের দিকে তাকিয়ে বলল,"আমার বর দেখতে সুন্দর,আমার চোখে সেরা।তাই তো বিয়ে করেছি।"
নয়ন খবরের কাগজ সরিয়ে রাঙার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইল।রাঙাও এইবার গেম টা বেশ এনজয় করতে শুরু করল।
পরের প্রশ্ন:"তুই তোর বরকে কতটা ভালোবাসিস বা তোর বর তোকে কতটা ভালোবাসে?"
এহেন প্রশ্ন শুনে রাঙা স্তম্ভিত!সে তো নিজেই জানে না।
রাঙা বলল, "আমি বরকে কতটা ভালোবাসি বা বর আমাকে কতটা ভালোবাসে আজও জানতেই পারলাম না।"
পরের প্রশ্ন: "তোর বর রোমান্টিক?"
রাঙা সত্যিই এবার বিরক্ত হল বটে তবে এই গেমটার শেষ সে দেখতে চায়।এদিকে নয়ন তো তখন থেকে রাঙার দিকে তাকিয়ে আছে ।
রাঙা বলল,"আমার বর আনরোমান্টিক!যাহ্ পালা,ফোন রাখি,পরে কথা বলব,রান্না করতে হবে ।"
ফোন রেখে পিছন ফিরে রাঙা দেখল যে নয়নও তার দিকে সেই এক ভাবে তাকিয়ে আছে ।যেন এক ঘোরের মধ্যে রয়েছে নয়ন।দুজনের চোখাচোখি হতেই ,নয়ন মুচকি হেসে ঘরে চলে গেল ।রাঙা রান্নাঘরে চলে গেল ।
রাতে খাওয়ার পর রাঙা ঘরে ঢুকে যা দেখল,শুনল তা এই তিনমাসের বিবাহিত জীবনে আশা করেও পায়নি।
ঘরে এয়ার ফ্রেশনারের গন্ধ তীব্র,হোম থিয়েটারে গান বাজছে .."বোল দো না জারা,দিল মে হে যো ছুপা..."
রাঙা দেখল বিছানা পরিপাটি করে সাজানো।ঘরে হালকা নীল আলো জ্বলছে।ঘর পুরো ফাঁকা,নয়ন বিছানায় নেই।রাঙা এসব দেখে বিছানায় বসে কি সব ভাবতে লাগল।হঠাৎ রাঙা অনুভব করল যে তাকে কেউ পেছন থেকে আলতো হাতে জড়িয়ে ধরেছে।রাঙার বেশ ভয় করছে।এই আলো আঁধারিতে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক!
রাঙা ভয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ।তার ঘাড়ে কারও গরম নিশ্বাস পড়ছে।ভয়ে পেছনের দিকে তাকাতেও পারছে না।এই মূহূর্তে সে কাকে ডাকবে?যে নামের মানুষ টাকে সে কোনওদিন ডাকেনা।আজ চকিতে সেই নাম টা উচ্চারিত হল।
রাঙা তীব্র চিৎকার করে উঠল,"নয়ন,নয়ন তুমি কোথায়!"
রাঙা বুঝতে পারল তাকে কেউ আষ্ঠে পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে।ভয়ে চোখ বন্ধ করে দিল।ঠিক এই সময় ,একজনের গলার মৃদুস্বর তার ঠিক বাম কানের গোড়ায় ,"আমাদের এই জীবনে 'ডিভোর্স' শব্দটাকে আর আমরা উচ্চারণ করব না!"
রাঙা পেছন ঘুরে লোকটিকে জড়িয়ে ধরল।লোকটি কে জানেন?কে আবার? নয়ন,রাঙার বর।
রাঙা নয়ন কে জড়িয়ে ধরে শপথ করে বলল যে তারা কোনওদিন ছাড়াছাড়ি হবে না।সে নিজের অজান্তেই নয়ন কে এই তিনমাসে খুব ভালোবেসে ফেলেছে।নয়নও একই কথা বলল।
আসলে নয়ন আর রাঙা নিজেদের ভালোবাসার মানুষ কে বিয়ে করতে পারেনি।বিয়ের তিনমাস হলেও,ওদের বনিবনা নেই।ওদের দাম্পত্য জীবন শুরু হয় নি।তাই ওরা 'ডিভোর্স' এর পথে হাঁটতে চেয়েছিল।
কিন্তু ওই যে বন্ধু মিতা, সে তো রাঙা কে বোন মনে করে ।মিতা রাঙার এই ব্যাপার টা জানতে পারে রাঙার মায়ের কাছে।তাই এই সম্পর্কের ভাঙন রোধ করতে মিতা ফোন করে এই সব করল।মিতা বিয়েতে না থাকতে পারলেও,সারাজীবনের জন্য বিয়েটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারল।

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.