সেদিন মেডিক্যাল কলেজের আউটডোর এ খুব ভিড়।সকালে ফোনে মা বলেছিল, খেয়ে ডিউটি আসতে,যথারীতি সেটা হয় নি। কলেজের মেসের খাবার একেবারে যাতা খাওয়াই যায় না, দুবার খেয়েই বাকি টা স্রেফ ফেলে দিলাম। টেস্টলেস। কোয়ালিটি ছাড়া ক খাওয়া যায়! বত্রিশ টাকায় মিল অসহায় ভাবে বেসিনে পড়ে রইল,আমি অবজ্ঞাভরে তাকিয়ে বেরিয়ে এলাম

কলেজের গেটের পাশেই কেক-পেস্ট্রি এর ঝাঁচকচকে দোকানে খাচ্ছিলাম। দেখি এক বহিরাংগে সাঁওতালি চেহারার মা মেয়ের আবদারে ঢুকে দাম দেখে বড় বিপন্ন। এদিকে বাচ্চা খুকি টা একটা ব্ল্যাক ফরেস্টের দিকে কাঁচে নাক লাগিয়ে মুগ্ধ ভাবে তাকিয়ে।

আমি অসাধারণ নির্লিপ্ততা তে আমার হট-ডগ টা শেষ করে একটা ন্যাপকিন চাইলাম। এক খুব ফর্সা তন্বী ঊটকো আপদ দুটিকে সন্তর্পণে এড়িয়ে দোকানের আইসক্রিম সেকশনে এলেন। আমি একটু পর ইন্টার্ন এর জন্য প্যাকিং করিয়ে বাইরে এসে শুনলাম, শীর্ণকায় বাবা কে মা বলছে, "ঊকে কিনিদাও কেনে, আমি ভাত খাব লাই, ভুড়ি ভরা আছে"।

হঠাৎ কেন জানি না মনে হল,একটু আগের অবহেলাভরে ফেলে দেওয়া ভাতের থালা টা আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে, আয়র আমি খুব খুব বোকা হয়ে সারা গায়ে উচ্ছিষ্টান্ন নিয়ে একরাশ মূর্তিমান খিদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি ।

তাড়াতাড়ি বাচ্চা মেয়েটা আর তার মায়ের সামনে থেকে পালিয়ে এলাম। উফফ, ডিজিটাল স্মার্ট ইন্ডিয়াতে ওরা চোখে দিয়ে নিজেদের চেহারা টা দেখিয়ে দেয়। বড্ড অস্বস্তিকর, তাই না?

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.