অবৈধ ঔরসজাত


আজ ১৭ই ফাল্গুন। প্রতি বছর এই দিনটাকে মনে করে অসীম পায়েস বানায়। এক গোছা রজনীগন্ধা নিয়ে এসে হরলিক্সের বোতলে জল ঢেলে ফুলগুলোকে রাখে। সারাটা ঘর কি সুন্দর গন্ধে মো মো করে।তারপর পুরুকে বাটিতে পায়েস সাজিয়ে চামচে করে অনেক যত্ন নিয়ে খাওয়ায়। পুরুর ঠোঁটের পাশ থেকে বেয়ে বেয়ে পায়েসের দুধ পড়তে থাকে, অসীম ভেজা কাপড়ে আলতো করে মুছে দেয়। আজকের দিনটা যে বড্ড স্পেশাল। আজ কাবেরীর জন্মদিন.......অসীম কক্ষনো এই দিনটা ভোলে না।


অসীমের সাথে কাবেরীর পরিচয় জগুবাবুর কারখানাতে। কোল্ড ড্রিংক্সের কারখানাতে কাজ করতে গিয়ে একে অপরের সাথে আলাপ আর সেই আলাপ কবে যে প্রেমের রূপ ধারণ করেছিল তা দুজনেই বুঝতে পারে নি। কেউ কোনদিন প্রেম নিবেদন করে নি, একদিন কারখানার বিশ্বকর্মা পুজোতে হঠাৎ অসীম কাবেরীকে বলে , “ আমরা যদি ঘর বাঁধি?” কাবেরী বিন্দুমাত্র সঙ্কোচ না করে জিজ্ঞাসা করে “কবে?” ব্যস ,আর দেরী করে নি দুজনে। সামনেই ছিল লক্ষ্মীপুজো, ঘরের লক্ষ্মী ঘরে এলে নিশ্চিন্ত।অসীমের তিনকুলে কেউ নেই। কাবেরী দাদা-বৌদির সংসারে ছিল ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলো। জানতো ঘটা করে কোনদিনই বিয়ে হবে না, তাই পরম শান্তির একটা আশ্রয় সে চেয়েছিল। আর সেই আশ্রয় সে পেয়েছিল অসীমের মনের মাঝে। মন্দিরে গিয়ে বিয়েটা দুজনে সেরে নেয়। এরই মধ্যে জগুবাবুর কারখানা প্রচুর ঘাটতির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু অসীম-কাবেরীর প্রেমে এতটুকু ঘাটতি হয় না। অসীম নিজের যোগ্যতা আর মনবলে খুব তাড়াতাড়িই জরির কারখানাতে ভালো কাজ পেয়ে যায়। বিয়ের পর কাবেরী স্বেচ্ছাতেই কারখানার কাজটা ছেড়ে দিয়েছিল। মনেপ্রাণে অসীমের ঘরণী হয়েই থাকতে চেয়েছিল। জীবনের প্রতিটি সুখের মুহুর্ত সে উপভোগ করতে চেয়েছিল অসীমের অকৃপণ ভালবাসাতে। একই স্রোতে জীবন নদীটা বয়ে যাচ্ছিল আপন গতিতে। রাসের মেলা, চরক, দোল একে একে সব পার্বণ আসে আর দুজনে দুজনার জীবনের সব খামতিগুলো পূরিয়ে নিতে চায়।


কিছুদিনের মধ্যেই কাবেরীর শরীরে দানা বাঁধে এক নতুন জীবন। খুশির যে জোনাকিরা মিটি মিটি জ্বলে উঠেছিল তাতে যেন হ্যালোজেনের আলো এসে পড়লো.........আনন্দের সীমা রইল না দুজনের জীবনে।একের পরে এক এতো খুশির জোয়ার দেখে যেন বিধাতা মুচকি হাসি হাসছিলেন অন্তরাল থেকে। সময়ের আগেই কাবেরীর সন্তান জন্ম নিল এই পৃথিবীতে। কিছু জটিলতার কারণে কাবেরীকে সময়ের আগেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। আশেপাশে আপনার জন কেউ নেই। অসীম অসম্ভব সাহস আর অপার ভালবাসাকেই পুঁজি করে কাবেরীকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছিল। সেই কাঙ্ক্ষিত মুহুর্ত ঘনিয়ে এলো। ডাক্তার জানালেন পুত্র সন্তান জন্মেছে। পূর্ব নির্ধারিত ছিল সন্তানের নাম- মেয়ে হলে সায়না আর ছেলে হলে পুরু।

দু’দিন পর হাসপাতাল থেকে ছুটি হল। বাড়িতে গিয়ে কাবেরী ঘরের চেহারা দেখে অবাক। নিপুণ হাতে অসীম তার স্বপ্নের আশিয়ানা সাজিয়েছে। ছোট ছোট খেলনা,বাচ্চার মশারী,দুধের বোতল পরিপাটি করে গোছানো। কাবেরীর চোখ জলে ভরে গেলো খুশিতে। অসীম সাতদিনের ছুটি নিয়েছিল জড়ির কারখানা থেকে। এ কদিন বাচ্চা আর মায়ের সেবাতে প্রাণপাত করে দিল সে। কাবেরী আর অসীমের ছোট্ট সংসারে খুশির বন্যা বয়ে যেতে লাগলো। কিন্তু জীবন সবসময় একই সরলরেখায় চলে না।

পুরুর যখন তিনমাস বয়স তখন থেকেই কিছুটা অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে লাগলো ওর মধ্যে। ডাকলে বা আওয়াজ করলে সেরকম সাড়া দিত না।চোখের চাহুনিতেও কেমন যেন নির্লিপ্ত ভাব। হাত-পায়ের মধ্যেও কোন জোর-বল নেই। ঠিক হোল ভ্যাকসিনেশনের সময় ডাক্তারকে এই বিষয়ে ওরা জানাবে। যথারীতি তাই হল। সময়মত ডাক্তারকে দেখানোর পর কয়েকটা টেস্ট ও আপাত কার্যকারিতা দেখে ডঃ মল্লিক জানালেন কিছু সমস্যা নিশ্চই আছে, তবে দেখা যাক টেস্টের রিপোর্টগুলো কি বলে। এইভাবেই কিছুটা সন্দেহ আর অনিশ্চয়তা মিলেমিশে রোদ ঝলমল দিনগুলোতে ধীরে ধীরে মেঘের সঞ্চার করছিল। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সব কিছু জলের মত পরিস্কার হয়ে গেলো। পুরু এক দৈহিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু। সে কোনদিনই হাঁটাচলা করতে পারবে না, কথাও বলতে পারবে না। যুদ্ধ হল শুরু। যে ঘরটায় সবসময় অসীম আর কাবেরীর সুখের পায়রারা বকবকম করত আজ তারা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। ফাগুনের হাওয়ায় যে প্রেমের বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল আজ যেন সেই সদ্যোজাত চারাটিকে এসে কেউ দুমড়েমুচড়ে পিষে দিয়ে গেছে। এক পলকে প্রবহমান নদীর যেন সব তেজ কেড়ে নিয়ে তাকে রুক্ষ মরুর আকার দিয়েছে।

ধীরে ধীরে খরায় জমির মাঝে যেমন ফাটল ধরে অসীম আর কাবেরীর সংসারেও তেমনি অদেখা ফাটল ধরতে শুরু করলো। অসীম আপ্রাণ চেষ্টা করে যায় কাবেরীকে খুশি করতে, পুরুকে নিয়ে সে কিছুতেই হার মানবে না। সে প্রতিজ্ঞা করে যেমন করেই হোক শেষ সঞ্চয় টুকু দিয়ে হলেও পুরুর চিকিৎসা সে করাবেই। কাবেরী প্রথম প্রথম ডাক্তারের পরামর্শ মত সব সাবধানতা অবলম্বন করত। যেমনভাবে পুরুকে দেখাশোনা করা দরকার তেমনভাবেই করত কিন্তু মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেছিল। অসীম প্রতি সোমাবার ছুটির দিন বলে কাবেরীকে ঘরের কাজ করতে দিতে চাইত না, বলত “আজ আমি সব করবো। ছেলের যা কিছু আজ আমি সব দেখবো ।তুমি শুধু আরাম কর।” কাবেরী অনেক চেষ্টাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারতো না। বিকেলে নদীর পারে অসীম যখন সাইকেলে তিনজন মিলে বেড়াতে যেতে চাইতো , কাবেরী কিছুতেই রাজি হত না। অনেক বুঝিয়ে তারপর তাকে রাজি করানো ছিল অসীমের প্রতিটি ছুটির একই দৃশ্য।

পুরুর যখন দেড় বছর বয়স তখন ঘরের পরিস্থিতি একদিন চূড়ান্ত আকার নিল। অসীম একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এল সেদিন। বাড়ির বাইরে উঠোনে পুরু একা মেঝেতে পড়ে আছে, হাতে ছোট ছোট লাল পিঁপড়ে ভরে রয়েছে। অসীম চিৎকার করে উঠলো কাবেরীর নাম ধরে। কাবেরী ঘরে অঘোরে ঘুমোচ্ছে। সেদিন অসীমের ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করে গেলো। দু’জনের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা পাড়া প্রতিবেশীরও কানে গিয়ে পৌঁছালো। তারপর দু’দিন পরেই কাবেরী ঘর ছেড়ে চলে যায়। অসীমের সব প্রচেষ্টা চিরকালের মতো অন্ধকার করে কাবেরী চলে গেলো।


পাঁচ বছর পর


অসীম তার এক বন্ধু মারফৎ খবর পায় প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে হিজলগঞ্জে এক সরকারি ক্যাম্প বসেছে। শহরের বিশিষ্ট ডাক্তাররা এসেছেন সেখানে ।নানা ধরণের জটিল রোগের চিকিৎসা ও তার পরামর্শ দেবেন। প্রয়োজনে অস্ত্রপ্রচার ও দামি ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করে ভবিষ্যৎ চিকিৎসারও ব্যবস্থা করবেন। এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় নি অসীম। অনেক কষ্ট করে কাজের থেকে দুদিনের ছুটি নিয়ে পুরুকে সঙ্গে করে সে হিজলগঞ্জের দিকে রওনা হয়। মনে একটা বড় আশা- এবার ছেলেটা ভাল হয়ে যাবে!


একদিনের খাবারের ব্যবস্থা আর পুরুর যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে অসীম বাসে চেপে বসলো। খারাপ রাস্তা আর প্রচন্ড গরমের মধ্যে এসে পৌঁছালো হিজলগঞ্জে। অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করে অবশেষে সেই মেডিকেল ক্যাম্পে এসে নাম লেখালো। চারিদিকে শুধু লোক আর লোক । এতো লোকের এতো ব্যাধি ! কেউই কি নিরোগ নেই এই শহরে ? নিজের মনকে নিজেই প্রশ্ন করে। রোগী ও তার পরিজনদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে সামনের একটা ক্লাবের মাঠে। অসীম ধীর পায়ে সেদিকে এগিয়ে গেলো।

সুবিধামতো একটা জায়গা দেখে পুরুকে বসালো। তারপর গেলো আরও খোঁজ নিতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে এলো। এ কি , কি দেখছে অসীম? নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না সে। একটু দূরেই কাবেরী বসে কোলে একটি বাচ্চা। দু’জনে চোখাচোখি হয়ে গেলো। এই পাঁচ বছরে কেউ কারও খবর নেয় নি। তাই আজ দায়টা কার তা বিবেচনা করতে একটু সময় পেরিয়ে গেলো।

অসীমই প্রথম এগিয়ে গেলো।

-কি হয়েছে? এখানে কেন?

-আমার কর্মফল।

-না, সুস্থ মানুষতো এখানে আসবে না।একা এসেছো?

-অভাগা যেদিকে চায় ,সাগর শুকিয়ে যায়। চিরকাল একা ছিলাম, একাই রয়ে গেলাম।

বলতে বলতে কাবেরীর চোখ জলে ভরে গেলো।

কিছুক্ষণ চুপচাপ, তারপর দুজনের অনেক কথা হল। কাবেরী জানালো সে অসীমকে ছেড়ে পরিমলের কাছে চলে গেছিল। আজ তারই ঘরণী হয়ে কোন রকমে দিন কাটাচ্ছে।

-অনেক কথাই তুমি জানো না অসীম। আমি তোমায় ঠকিয়েছি,তাই আজ আমার এই পরিণতি।

-তুমি কাউকে ঠকাও নি। ভালবাসা কখনও ঠক হয় না।

-মানে? কি বলতে চাইছো?

-তুমি আর পরিমল একে অপরকে আমাদের বিয়ের আগে ভালবাসতে। একথা আমি বিয়ের একমাসের মধ্যেই জানতে পারি। পরিমল আমার অনেক ছোটবেলার বন্ধু ছিল। কিন্তু মাঝে কাজ করতে ও কলকাতায় চলে যাওয়ায় আমাদের আর যোগাযোগ ছিল না।

-কোথায় একথা তুমি কোনদিনও আমায় বলো নি !

-হ্যাঁ বলি নি। আমাদের বিয়ের খবর পেয়ে ও একবার আমারই এক পুরনো বন্ধুর থেকে ঠিকানা নিয়ে দেখা করতে আসে। সেদিন তুমি তোমার দাদার বাড়ি গেছিলে। পরিমল আমায় সব বলে। তোমাদের ভালবাসার কথা , হঠাৎ ওর কলকাতায় চলে যাওয়া। কিন্তু ও জানতো না যে তুমিই আমার স্ত্রী। আমিও ব্যাপারটা গোপনই রেখেছিলাম। তুমি ভেবেছিলে পরিমল কলকাতায় গিয়ে তোমায় ভুলে গেছে। আর তখনই তোমার সাথে আমার পরিচয়। তুমি আর পরিমলের ওপর ভরসা করতে পারলে না। কিন্তু বিয়ের আগে শেষবারের মতো ওর সাথে দেখা করলে। তোমরা ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলে।

- আর কি জানো?

-থাক না কাবেরী। অতীতকে অতীতেই থাকতে দাও। কি দরকার সেসব পুরনো কথা মনে করে !

-না, আজ যখন কথা উঠেছে তখন আমি আর কিছু তোমার কাছে গোপন রাখতে চাই না। আজ তোমায় সব বলে আমি মুক্ত হতে চাই। প্রতিদিনের তিল তিল করে জমানো পাপের শাস্তি আমি প্রতি মুহূর্তে পেয়ে চলেছি। এ পাপের কোন ক্ষমা নেই।

- পাপ নয়। ভালবাসা ,সন্তান কোন পাপ নয়।

-তুমি সবটা জানো?

-হ্যাঁ, সবটা। পুরু তোমার আর পরিমলের সন্তান। তাই তো? তাতে কি কাবেরী? ও তো আমাদের মিলিত ভালবাসাতে এই পৃথিবীতে এসেছে। কার কিসের রক্তের সম্পর্ক তাতে কি যায় আসে? তুমি ওকে জন্ম দিয়েছো ।

-তুমি জানতে!

চোখের জলে ভাসতে থাকে কাবেরী । অসীমের খুব ইচ্ছে করে ওকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে নিতে। ইচ্ছে করে একবার বলতে, “কাবেরী ভয় নেই ,আমি আছি।” কিন্তু পরিস্থিতি আর সময় তাকে বাধা দেয়। সেই অধিকার সে হারিয়েছে। পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে বলে, “চোখটা মুছে নাও। কাঁদতে নেই, সংসারের অমঙ্গল হয়।”

-এর পরেও আর মঙ্গল হওয়ার কিছু আছে? আমার সব শেষ হয়ে গেছে অসীম। আমার সব স্বপ্ন ,সব আশা, সব সুখ সেদিনই শেষ হয়ে গেছে যেদিন আমি তোমার বাড়ির চৌকাঠ থেকে বেরিয়ে এসেছি।কিন্তু তুমি আজ আমাকে একটা কথার জবাব দাও, পুরু তোমার ছেলে না জেনেও কি করে তুমি ওকে রাখলে, কেন বাবার পরিচয় দিলে, কেন নিজের সব সুখ বিসর্জন দিলে?

-কাবেরী, আমার নিজের বাবা-মার কথা মনে পড়ে না। তোমায় পেয়ে নিজের দুনিয়া বানিয়েছিলাম। পুরুকে নিজের মতো করে দুনিয়ার সব সুখ দিতে চেয়েছিলাম। তাই যেদিন তুমি ওকে ছেড়ে চলে গেলে সেদিন আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরেছিলাম ওকে। কেননা অনাথ হওয়ার কষ্ট আমি জানি। তাই এই শিশুটাকে আর অনাথ হতে দিতে চাই নি। তুমি চলে যাওয়ার পর আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছিলাম তুমি পরিমলের কাছে ফিরে গেছো। তাই একটিবারের জন্যও মনে হয় নি তোমায় ফিরিয়ে আনি। জানতাম আমার না দেওয়া সুখ সে তোমায় দেবে। তোমার সব খুশি সে ফিরিয়ে দেবে।

-সবার ওপরে ভগবান । তাই তিনি সব হিসেব কষে দিয়েছেন। পরিমলের কাছে ফিরে গিয়ে আমি সব ভুলে নতুন করে সব পেতে চেয়েছিলাম। পুরুর চিকিৎসা আর সেবায় আমি ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম। তাই আবার শুরু করতে চাইলাম। কিন্তু ভগবান আমায় আবার সেই প্রতিবন্ধী একটি শিশুই দিলেন। আমার মেয়ে সায়না। ওর বয়স এখন তিন বছর। কোনদিনই হয়তো আর ও কথা বলবে না ডাক্তার বলে দিয়েছে। আমি এই জীবনে আর মা ডাক শুনতে পাবো না। আমি তোমায় ঠকিয়েছি, তোমার ভালবাসাকে ঠকিয়েছি।তাই আজ পরিমলও আমায় ছেড়ে কলকাতায় নতুন সংসার পেতেছে ।আমার পরিচয় দেবার মত কোন সম্পর্কই নেই। না কারও স্ত্রী হতে পারলাম, না সন্তানের মা। সব হিসেব এই জীবনেই চুকে গেলো।

অসীম ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো। এবার বোধহয় পুরুর নাম আসবে। লাইনে গিয়ে দাঁড়ালো। আজ তার কাছে আর কোন ভাষা নেই সান্ত্বনা দেওয়ার । কাবেরীকে ফিরে আসার কথাও সে বলতে পারবে না। এ জীবন কাবেরী নিজেই বেছে নিয়েছে। যাওয়ার সময় অসীমের অনুমতি সে নেয় নি। তাই অসীমের আজ তাকে ফিরিয়ে আনারও কোন অধিকার নেই।


সূর্যের তেজ কমে এসেছে, আর কিছুক্ষণ পরেই সূর্যাস্ত হবে। কালকে আর একটা নতুন দিন , নতুন সূর্যোদয় নিয়ে আসবে নতুন দিনের আলো। অপেক্ষা কে কিভাবে নিজের জীবনকে সেই আলোতে আলোকিত করবে। কেউই মহামানব নয়, মানুষ হয়েই জীবনের প্রতিটি দিনের পরীক্ষা দিতে হবে।


bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.