খাঁটি সোনা

খাঁটি সোনা

১।

একটা দামী ক্যাফেটেরিয়াতে বসাই ঠিক হলো। ফোনে বললো দুম করে আমিও হে-হে করতে রাজি হয়ে গেলাম।দামী মানে একটু আধটু না, শহরের মধ্যে সব থেকে দামী! ওর দশ-হাত কেন একশো-হাত দূর দিয়ে যেতেই আমি অভ্যস্ত। এই হতভাগা ঐ কফিশপে একবারই ঢুকেছিলাম। ব্যবসায় প্রথম লাভ করার পর দুই বন্ধুর সাথে। চাকরীর প্রথম মাইনের মতো ব্যবসার প্রথম লাভ ! তাই একটু দৃপ্ত পদক্ষেপেই ঢুকেছিলাম।যা খেয়েছিলাম সেটা পাড়ার চায়ের দোকানে খেলে ৫০ টাকা আর খাপের রেস্টুরেন্টে ১০০ টাকা বড়জোর। ঐ চা কফির সাথে স্যন্ডুইচ! তবে চা টা ছিলো বরফঠাণ্ডা চা আর কফিটা চীনে(ক্যাপুচিনো)। চীনে মালের অতদাম আমি এই প্রথম জানতে পারলাম বিল দিতে গিয়ে। দাম না দেখেই অর্ডার দেওয়ার ফল হিসাবে, আমার ডেবিট-কার্ড ওভার-ড্রাফ্‌ট হয়ে গিয়েছিলো।

২।

আর করবি তো কর, ঐ ক্যাফেতেই প্রথম দেখা করার জন্য ফোনে বললো ও। আমাকে একটা মেয়ে ফোন করে দেখা করার জন্য বলছে, আমি কি বলতে পারি, ঐ টা বড়-দামী জায়গা, তার থেকে একটু সস্তা দোকানে চলো। কেসটা আর কিছুই না, যদিও বলতে এট্টুসখানি লজ্জা লজ্জা করছে আপনাদেরকে, বাড়ি থেকে চাপ মায়ের, ব্যবসাটা মন্দের-ভালো যখন চলেই যাচ্ছে এবার ঘরে লক্ষী আনতে হবে। কিন্তু কি করবো মায়ের কথা আমি কখনো ফেলতে পারি না ! তাঁর প্রতি কথাই আমার কাছে আদেশ। মায়ের কথা জিভ থেকে ঠোঁট পর্যন্ত আসতে দেই না, করে ফেলি তক্ষুণি। তাই একটা অন-লাইন ম্যারেজ পোর্টালে... হে-হে বুঝতেই তো পারছেন, ইয়ে মানে একটা প্রোফাইল খুললাম। এখন তো অফ- লাইনে আর কিছুই হয় না, হায় ঘটক তোমার দিন গিয়াছে। তাই অগত্যা বহির-জালেই লাইন দিলাম।

৩।

ওরা আমাকে বেশ ক'টা ছবি পাঠিয়েছিলো ম্যাচ করিয়ে, তো আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না, কাউকে আদৌ ডাকবো কি- না! মানে কাকে যে ডাকবো বুঝঝি না! ওরাই যদি আমায় ডাকে ভালো হয়। নয়তো মায়ের কাছেই ছবি-গুলি আবার প্রিন্ট করে নিয়ে যেতে হবে। কারণ ছোট-বেলা থেকেই মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে আমার ভয় ভয় করে ! আমার চরিত্র এতো-টাই উন্নত যে আমি সবসময় দেওর-লক্ষণ এর মতো মেয়েদের পায়ের দিকে তাকিয়ে কথা বলি ! কতো মেয়ে যে আমার এ-হেন ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইয়ত্তা নেই! কি করা যাবে প্রভুর সময় তো আর সম্পর্ক এতো জটিল ছিলো না। তাই আমার অস্বাভাবিক আচরণে মেয়েরা আমার সম্পর্কে কিছু উল্টা-পাল্টাই ভাবতো বোধহয়।

৪।

যাহোক, হঠাৎ ক'দিন বাদে সন্ধ্যেবেলা আমার রিন-রিনে ফোনটায় কারো চিন-চিনে গলার আওয়াজ পেলাম। আমার প্রোফাইল দেখে কোন কন্যের মনে ধরেছে বোধহয়। পাঁচ-মিনিটের ফোনে স্থির হয়েছিলো যে কবে-কোথায় দেখা হবে, তার সব-কথাতেই আমি তাল দিয়ে গেছিলাম।ফোন কাটার পরে খেয়াল পড়লো, আর আমার মতো বন-বন আর সারা গা-ঝন- ঝন করে উঠলো। সেই কফি-শপ, সর্বনাশ!ওখানে প্রথম দেখা করতে বলছে মানে, নিশ্চয় ওখানে প্রায়ই যায়। যেখানে পরবর্তীকালে ওকে নিয়েই যেতে পারবো না, সেখানে প্রথম দেখাটা হওয়া অবশ্য উচিৎ নয়। ছবি খুলে দেখলাম ওর, যা ভেবেছি তাই, ছবি দেখে মাথা-ঘুরে গেল, অপূর্ব-সুন্দরী এক পরী, বিশালদামী-ঝল- মলে পোশাক পড়ে লোকের মাথা খারাপ করছে। এতো সুন্দরী যখন নিশ্চয় বড়লোক; নয়তো মুখে অত- ঝলকানি কিসের ? তাহলে তো অনেক প্রেমিকও আছে, তবে তো ওরা আগের থেকেই মাথায় চড়িয়ে রেখে দিয়েছে। ভাই তোর পোষাবে না, মগজ অনেক কষ্টে মনকে বুঝ দিল। আমি সেই কোন ছোট্ট-বেলা থেকে সুনামের সঙ্গে কিপটে বদ-নামটা বজায় রেখেছি। সেটা এর পাল্লায় পড়ে ভাঙলে বন্ধুদের কাছে আমার ইমেজের কি হবে ? তাদের কাছে তো আমার মান-সম্মান ধূলায়... না, ওটা, এমনি ধূলায় গড়াগড়ি খায়, ওর থেকেও বেশী কিছু হোক আমি চাই না।

৫।

কথা যখন দিয়েছি, তখন কথা রাখতেই হবে, এটা মায়ের শিক্ষা। পকেট-ভর্তি- টাকা নিয়ে মিনিট-পনেরো আগেই ঢুকলাম। ওয়েটার আমায় এক-গ্লাস ঠাণ্ডা জল দিয়ে আপ্যায়ন করে জানতে চাইলো কি নেব। বললাম, এক-জন আসবে তখন ডেকে নেবো। পনেরো-মিনিট কেটে নির্দিষ্ট সময় এলো, আমার জল শেষ, ডেকে আবার জল নিলাম ! ওরা কিছু মনে করে না, জানে জেন-অয়াই এর সময় জ্ঞান কতোটা প্রবল। আস্তে-আস্তে এবার জল খেতে লাগলাম, যাতে অনেকটা সময় কাটে, দশ-পনেরো মিনিট কাটতে চললো… এই কারণে আমি সুন্দরী-মেয়েদের পছন্দই করিনা, এত-ভাও খায় কি বলব। যা, এই গ্লাসের জলটাও শেষ হয়ে গেল। ঝাড়া কুড়ি-মিনিট ধরে জল-খাওয়ার কি কষ্ট বোধ-হয় যারা প্রেম করেন, নিশ্চয় জেনেছেন। কি করি, এবার একটা ফোন করতেই হয়। আমি কেন করবো? যে আসতে পারছে না তারই তো করা উচিৎ। ভাবলাম মুখ মুছে কিছুটা সময় কাটিয়ে দেই, সময় যে আর ফুরোয় না ! পকেট থেকে রুমাল বের করে দেখি, মুখের জল এ.সি.র হাওয়ায় শুকিয়ে গেছে, তা শুকনো-মুখই খানিক রগড়ালাম। এই করতে করতে ফোন করবে বলে বের করলাম যখন তখন, সেই রিন-রিনে ফোন বেজে উঠলো, তবে এবার আর ওদিক থেকে চিন-চিনে গলা এলো না, কেমন যেন মিন-মিন করেই বললো, আমি দাঁড়িয়ে আছি ক্যাফের সামনে, আপনি কৈ ?

৬।

আজ আমার গলা ততোধিক গাম্ভীর্য-পূর্ণ, বললাম, আধ-ঘণ্টার ওপর ধরে অপেক্ষা করছি। সাক্ষাৎ তো ভেতরে করার কথা, বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন কেন ? মানে আমি প্রথম-রাতেই বেড়াল-মারার চেস্টায় আর কি ! তো সে ভেতরে ঢুকে এসে আমার টেবিলে বসলে। চেহারা দেখে বেশ চমকে গেলাম, গরমে এক-দম পোড়া আমসি হয়ে গেছে। মাথার চুল-গুলি অবিন্যস্ত। ইনি আর যাই হন, আদরের-দুলালী নন, বেশ পরিশ্রমী-চেহারা। ওয়েটার আবার এসে ঠাণ্ডা-জলের গ্লাস দিয়ে সরে গেল। আবার আমি জল খাওয়া শুরু করলাম। চেয়ে দেখি সেও ধীরে-অতি- ধীরে জল খাচ্ছে আর আমার দিকে তাকাচ্ছে। এমন-ভাবে তো চাকরীর পরীক্ষার সময় তাকায়, যেন এক-দম ভেতরের জীর্ণ কঙ্কালটা দেখে ফেলতে চায়।

-- আপনার বাড়ি কি পাশেই ? হেঁটেই এলেন বুঝি, যা ঘেমে গেছেন। আমি নীরবতা ভাঙতে চাই, জানি বোকা বোকা প্রশ্ন,তবুও।

-- হ্যাঁ, এই তো পাশেই বাড়ি, আরে, যা গরম পড়েছে, এ.সি. র থেকে বেরোলেই ঘেমে-নেয়ে একসা।

আমি চমকে গেলাম, বাব্বা, সারাদিন ঠাণ্ডা-ঘরে কাটায়। আর বেরোলেই এমন ঘেমে যায় ! মনের মধ্যে সুন্দর-মুখ- টাকে যাও বা বসানোর চেষ্টা করছিলাম, সেটা সঙ্গে সঙ্গে মগজ নাকচ করে দিল। কারণ আমাদের তো ইনভারটারই নেই তো এ.সি.! আদতে আমরা খুবই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার। চারটে পয়সার মুখ দেখেছি কি ফুটানি করতে হবে এটা শিখি নি !

৭।

আমি ওর দিকে মেনু-কার্ড- টা এগিয়ে দিলাম। অনেক ফ্রি-নমুনা জল খাওয়া হলো, এবার টাকা দিয়ে কিছু কেনা যাক। ও দেখি মেনু কার্ড-হাতে নিয়ে বড়-বড় চোখ করে এক-বার আমার দিকে, এক-বার মেনু-কার্ডের দিকে তাকাচ্ছে, আর এক-শিপ করে জল খাচ্ছে। আমি মাথা নীচু করে চেয়ে রইলাম, এক্ষুনি কি বস্তু অর্ডার দিয়ে আমায় কতোটা কাটবে তার একটা আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছি। ছোট্ট-বেলা থেকেই মেয়েদের যে অঙ্গের দিকে চোখ করে আমি তাকিয়ে থাকতাম, সেই পায়ের দিকেই চোখ পড়ে গেল আমার ! এই গ্রীষ্মেও পায়ের গোড়ালি ফাটা! তার মানে নিজের শরীরের কোন যত্ন নেয় না আর জুতো-জোড়ার দাম তিন- শোর বেশী কক্ষনো নয়, মানে আমার অভিজ্ঞ-চোখ আমায় বললে, মেয়েটি গরীব, শুধু ফুটানি মারছে, মানে চোখ হৃদয়ের দলে। কিন্তু আমার মগজ সে কথা শুনতে নারাজ, বলে তোকে এ.সি.র গল্প দিলো না মানে বলতে চাইলো ঘরে মেসিন আছে তো ?

৮।

ঠিক এই সময়টা তে আমি ভাবতে শুরু করলাম আমি আর অন্যান্যরা কে কি ভাবছে, সেটা ভুলও হতে পারে আবার...

আমিঃ আমার দিকে অমন করে তাকিয়ে থেকে পরীক্ষা নিও না মা, ফেল করে গেছি সে অনেক আগেই বুঝে গেছি। এখন তাড়াতাড়ি চীনে-কফি(ক্যাপুচিনো) আর গরম-কুকুর( হট-ডগ) খেয়ে আমায় নিষ্কৃতি দাও।

সেঃ ছেলেটার ছবি দেখে যতোটা ভ্যাবলা মনে হয়েছিলো এ যে ঠিক ততোটা না, তার দশ-গুণ বেশী ভ্যাবলা। আর পাঁচটা ছেলের মতো নয়, ওরা হলে কখন কথা বলতে শুরু করে দিতো, আর একে দেখো মাথা-নীচু করে কি ভেবে যাচ্ছে !

ওয়েটারঃ দু-বার- -দু- বার ফেরৎ পাঠিয়েছে ছেলেটা, দেখে-শুনে এমন কিছু একটা বলোতো দিদি এবার ! আর কতো জল খেয়ে থাকবে কন্যে ?

আমিঃ কোন খেদ নেই গো, মনে, তোমাকে না পাওয়ার জন্য। পেলেই বেশী-চাপ, যা খেটে-খুটে ব্যবসাটা খোঁড়ার মতো চলছেসেটাও কেতরে যাবে, তোমার সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে।সেঃ বাবা বললো বলেই, ঐ আই.টি. র ছেলে ছেড়ে দিয়ে এর সাথে দেখা করতে এলাম। বলে, ‘ওতে নাকি ভবিষ্যৎ নেই, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের ইচ্ছা হলেই ট্রাম্প-কার্ড দিয়ে ভারতে লাল-বাতি জ্বালিয়ে দিতে পারে। কিন্তু ধূপ-ব্যবসায়ীর বিশাল ভবিষ্যৎ। ঐ আই.টি.র লোকেরাই তখন ওর ধূপ-জ্বালিয়ে পূজা করবে দেখবি ঈশ্বরের। এখন তুই বোঝ কোনদিকে থাকবি !’

ম্যানেজারঃ না ! এদের পাল্লায় পড়ে তো জলটাও আর ফ্রি-তে দেওয়া যাবে না। ওরও দাম নিতে হবে সঙ্গে অবশ্য করে ১৫% ভ্যাট !

৯।

অবশেষে আমার দিকে তাকিয়ে সে মিষ্টি হাসলো, খাবার খুঁজে পেয়েছে এত-ক্ষণে। আমি হাত নেড়ে ডাকলাম দীর্ঘ-প্রতীক্ষীয়মান সেই ওয়েটারকে। ও মোবাইল বের করে কি খুট-খাট করতে লাগলো। খুবই মাঝারি মানের সেট। সবে অর্ডার করবে বলে হাঁ করেছে, এমন সময় ফোন ! ওপার থেকে যেন কেউ বলছেন যে পরিচিত কেউ সিঁড়ি থেকে পড়ে চোট পেয়েছেন । এক্ষুণি যেতে হবে। আমারতো লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছা করছিলো, ইস ! আমি এতক্ষণ ধরে চাইছিলাম, যাতে না খাওয়াতে হয়, না খাওয়াতে হয়, তাই বোধহয় ঈশ্বর রাগ করে কাকে না কাকে সিঁড়ি থেকে ঠেলে ফেলে দিলেন।ও ক্ষমা-টমা চেয়ে আমার "হাত-চেপে " বাইরে নিয়ে এলো অতি-দ্রুততার সাথে। ভেতরে ছিল ২০ র আশেপাশে, বাইরে ৪০! বেরিয়েই বলে, ওঃ, বাঁচলুম। গরমে এতো শান্তি আগে জানতাম না, আর কিছু-ক্ষণ ভেতরে থাকলে তো ঠাণ্ডায় মরেই যেতাম। দূরে একটা ছোট রাস্তার পাশের দোকান দেখিয়ে বলে, এসো, এখানে বসে এবার অর্ডারটা দেওয়া যাক। আমি ভাবছিলাম এ কোন পাগলের পাল্লায় পড়লাম, একজন অসুস্থ, ওরকম ভাবে বেরিয়ে এসে, এখন কি রিল্যাক্সড !!!

১০।

পাউরুটি-ঘুগনি খেতে খেতে ওর মুখ থেকেই শোনা যাক গল্পের শেষটা। আমি হাঁ হয়ে গেছি। মুখে খাবার। চিবতেই পারছি না, তো আপনাদের গল্প কি বলব! আমার প্রোফাইলে থাকা ছবিটা বড়ই ঘ্যাম-চাক হয়ে গেছিলো। আসলে ঐ যে ভাড়া করা পোশাকটা পড়েছিলাম, ভীষণই দামী হয়ে গেছল। আর আমি বি.এ. কমপ্লিট করে এখানেই এক জায়গায় বিউটিশিয়ানের কোর্স করেছিলাম, সেখানেই আমার হাতের কাজ ভালো দেখে আমায় রেখে দেয় চাকরীতে। তো ওখানের ম্যাডামই ছবি তোলার আগে আমায় সাজিয়ে দিয়েছিলো, তাই অত জৌলুষ, যাতে দামী পাত্রেরাও এই অভাগার দিকে চোখ তুলে তাকায়। আমরা অতি নিম্ব-মধ্যবিত্ত পরিবারের লোক। কাজ করে বাড়ি ফেরার সময়, যখন রোজ এখানে বসে শুকনো পাউরুটি ঘুগনি চিবাই,তখন রোজ চোখে পড়ে ওই ক্যাফেটা। ইচ্ছা করে ভেতরে ঢুকতে। তাই যখন সুযোগ পেলাম, তখন ভাবলাম তোমার পয়সায় ভেতরে ঢুকে দেখি,আমি অনেক আগেই এসেছি এখানে, কিন্তু ওই, সাহসে ভর করে ঢুকতেও পারছি না, তোমার ছবি দেখে যা বুঝেছি, ভাবলাম তুমিও আমার মতো নার্ভাস বোধ করবে ভেতরে ঢুকতে, নিশ্চয় বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকবে, অথচ দেখতেও পাচ্ছি না। ফোন করবো ভাবতে ভাবতেই পনেরো মিনিট কেটে গেল। কিন্তু তুমি একদম অন্যরকম, মানে অন্য-ছেলেদের মতো একেবারেই নও, ওদের মতো স্মার্ট ও নও, আবার চালিয়াৎ ও নও, তুমি যেটা সেটা হল একটু ভ্যাবলা। ঠিক আছে চলে যাবে। গড়ে পিঠে নেবো আর কি ! তাই মায়ায় পড়ে মোবাইল ফেক-কল চালু করে দিলাম, খুব কাজের জিনিস কেটে পড়ার জন্য, তুমি যার নাম লিখে দেবে আর কতক্ষণ পরে ফোন করতে হবে লিখে দেবে, ও সেই নাম দিয়ে ততক্ষণ পড়ে কল করবে। ভাবলাম সত্যিই তো যে জিনিসটা বাইরে ৫০টাকায় পাওয়া যায়, সেটা কেন ভেতরে ঢুকে ঠাণ্ডা হাওয়ার লোভে ৫০০ টাকায় খেতে যাবো। যবে নিজেকে সেই পর্যায় নিয়ে যাবো, অবশ্যই খাবো। তাই না?

শুনে আমি হাঁ হয়ে গেছি, আমার সম-চিন্তার মানুষকে এত-তাড়াতাড়ি আমি পেয়ে যাবো, আমি সত্যিই ভাবতে পারি নি। আমি তো ভেবেছিলাম এমন চিন্তা আমি এই এক-পিসই করে থাকি। সত্যি ঈশ্বর মহান। আমরা উঠে পাশাপাশি হাটতে হাটতে বিভিন্ন কথা বলতে বলতে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে দেখতে পিছনের পথকে ফেলে রেখে এগিয়ে চললাম। পড়ে রইল ক্যাফেটা, চায়ের দোকানটা আর ফেলে আসা একটি মূল্যবান ঘণ্টা।

****************************************************************

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.