ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট

ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট

তুমি কবিতা, গল্প লেখো তাই না! হ্যা লিখি তো।কেন? তোমার লেখা দেখেই ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম আমি। ও আচ্ছা।আমার ভালো লাগা থেকে যা মনে হয় সেগুলোই লিখি।কেমন হয় জানিনা। না না তুমি বেশ ভালোই লেখো। প্রথমদিন এই ভাবে শুরু হয়েছিল কথা পুজার সাথে। আচ্ছা তুমি ইছাপুর থাকো তো? না আগে থাকতাম।কলেজে পড়ার জন্যে। ও আচ্ছা।আমি ইছাপুরে থাকি।তুমি আনন্দমঠ নাম শুনেছ নিশ্চয়! হ্যা জানি আমি। আমি ওখানেই থাকি। ও আচ্ছা। এই ভাবে কথোপকথন চলা শুরু হল। বেশ কিছুদিন পর একদিন পুজা বলল আমাকে,তুমি ইছাপুরে আর আসোনা? হ্যা আসি তো। একবার দেখা করবে? কেন? তোমার সাথে কথা বলি,এখন তো বন্ধু আমরা।বন্ধুর সাথে বুঝি দেখা করতে নেই! না না তা কেন।আচ্ছা আসলে দেখা হবে। আচ্ছা জয়,তোমার গার্লফ্রেন্ড' আছে? বাঙলাতে যদি বলো আছে,তবে ইংরেজি তে সবাই যে মানে বোঝাই সেটা নেই। মানে? ওই তো মেয়ে বন্ধু আছে, কিন্তু প্রেমিকা নেই। হিহিহি। হাসছ যে বড়ো! এখনকার দিনে প্রেমিকা নেই ভাবা যায়! তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে তাহলে নিশ্চয়? না না আমারও নেই। ----------- এক মাস পর আজ ইছাপুর এসেছি।ইছাপুরের গঙ্গা আমার ভীষন প্রিয়।রাইফেল ফ্যক্টরির মধ্যে দিয়ে নবাবগঞ্জ যেতে বেশ ভালোই লাগে সাইকেলে।আজ আমার সাথে পুজার দেখা হওয়ার কথা গঙ্গার ঘাটে। পুজা এল নীল চূড়িদার পড়ে।কি সুন্দর দেখাচ্ছিল ওকে।আমি চিরকাল মেয়েদের সামনে একটু চুপচাপ হয়ে যায়।তাও বললাম খুব সুন্দর দেখাচ্ছে তো তোমায়। পুজার জন্যে ক্যাডবেরি ডেয়ারি মিল্ক কিনে এনেছিলাম।ওকে দিলাম সেটা। তুমিই জয় তাহলে,তোমাকে যে রকম ভেবেছিলাম সেই রকম নও তুমি। কি রকম ভেবেছিলে আমাকে? তোমার মুখ ভর্তি দাড়ি থাকবে,আত্মভোলা হবে। আমি হেসে উঠলাম। দুরে গঙ্গার ওই পারে লাইট গুলো সন্ধ্যের সময় বেশ জলের উপর পড়ছে।দারুন লাগছিল আমার। তুমি যেদিন বড়ো সাহিত্যিক হবে,আমায় মনে রাখবে জয়? হমম,মনে থাকবে না কেন? জানিনা। * আজ আমি কলকাতায় এসেছি আনন্দ সন্মান পেয়ে।আমায় পুরস্কার দেওয়া হবে আমার নতুন কাব্যগ্রন্থ "দিশেহারা পথিক " এর জন্যে।আমার প্রথম কোনো লেখাতে পাওয়া সন্মান। যথারীতি পুরস্কার মঞ্চে সঞ্চালক বলে উঠলেন,এইবারের আনন্দ পুরস্কার পাচ্ছেন শ্রদ্ধেয় শ্রী জয় রায়চৌধুরী। পুরস্কার নিয়ে ফিরছি বাসে।আমার ফেসবুকের আইডি খুলে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম স্টেটাস লিখে।একটা মেসেজ এলো,শুভেচ্ছা জানায় পুরস্কার পাওয়ার। প্রেরকের নাম-পুজা রায়চৌধুরী। আমি একটা স্মাইল দিলাম। আজ আবার ইছাপুরের সেই গঙ্গার ঘাটে আসবে জয়!বহু বছর আগে এই গঙ্গার ঘাটে প্রথম দেখা হয়েছিল মনে আছে তোমার? হ্যা তা আর থাকবে না.. তাহলে চলো আজ আবার বসি সেই সময়। আচ্ছা আসছি।তুমি চলে এসো। ---------- গঙ্গার ঘাটে এসে বসলাম।দশ মিনিটের মধ্যেই পূজা এসে হাজির।সেদিনের মতোই নীল চুড়িদার পড়ে এসেছে পুজা। আজকেও খুব সুন্দর লাগছে তোমাকে। পুজা হাসল। সেদিন আমি অচেনা ছিলাম তোমার কাছে জয়।প্রথমবার কাউকে দেখার অনুভুতি একদম অন্যরকম। আমার কিন্তু সেইদিনের মতোই মনে হচ্ছে। কি যে বলো তুমি, বলে হাসল পুজা। ওই দেখো সেদিনও ওই পারের আলোকবাতিগুলো জলের সাথে মিশে ছিল, আজকেও তাই। তুমি সাহিত্যিক জয়।তোমার কাছে সব কিছু ফিরে ফিরে আসে। আমরা দুইজন কথা বলতে লাগলাম।দূরের চাঁদ আমাদের দেখার জন্য আকাশে যেন আজ তাড়াতাড়ি উঠে পড়ল। ------------- সন্ধ্যে নামা প্রায় এক ঘন্টা হয়ে গিয়েছে।আমরা দুইজন পাশাপাশি বসে গঙ্গার হাওয়া খেতে খেতে গল্প করছি।হঠাৎ চারিপাশের বসে থাকা যুবক-যুবতীদের মধ্যে আলোড়ন।সবার ছুটে পালানোর চেস্টা।আমি আর পুজা হতভম্ব হয়ে গিয়েছি। রাস্তা থেকে দেখি পাঁচ-ছয়জন পুলিশ নেমে এইদিকেই আসছে। কি ব্যাপার সন্ধ্যে হয়ে গিয়েছে এখনো আপনারা বসে এখানে-একজন পুলিশ বলল আমাদের। এই তো চলে যাচ্ছি আমরা -আমি বললাম। কোথায় যাবেন!-হাজতে যেতে হবে তো আপনাদের। আমি রেগে বলে উঠলাম-কেন কি করেছি যে হাজতে যাব? গঙ্গার ঘাটে বসে নস্টামি করবেন আর হাজত যাবেন না-একজন পুলিশ বলল। জানেনে আপনি কাকে কি বলছেন! আমি সাহিত্যিক জয় রায়চৌধুরী। ওহ তাহলে তো এটা কালকের ব্রেকিং নিউজ হবে-পুলিশটা আবার বলে উঠল। পুজা এইবার আমার হাত ধরে পুলিশকে বলল,জানেন ইনি কে হন আমার? কি বলতে চান আপনি?-পুলিশটি বলল। আমরা দুইজন স্বামী স্ত্রী। মিথ্যে বলার জায়গা পান না-পুলিশ টি রেগে বলল। আচ্ছা নিয়ে চলুন তাহলে।প্রমান না করতে পারলে তারপর আপনার বিরুদ্ধে কোর্টে যাব আমরা। পুলিশটি দমে গেল।আচ্ছা তাহলে আপনারা আসুন।কিছু মনে করবেন না।জানেনই তো এই জায়গাটা আজকাল নোংরা হয়ে গিয়েছে।সন্ধ্যের পরে আর বসবেন না কোনোদিন। ----------- উফফ পুরানো দিনগুলো ফিরে পেতে গিয়ে আজ তো জেলে যেতে বসেছিলাম, বাড়ী ফিরে বললাম পুজাকে। হিহি ফেসবুক থেকে আলাপ হয়ে প্রথম দেখার জন্যে যদি এই রকম হতো তাহলে-পুজা বলল। আমি হেসে বললাম,কি আবার হত।তখন বলতে এই আমার ভবিষ্যৎ। তবে দেখ সেদিন বলেছিলে বড়ো সাহিত্যিক হয়ে মনে রাখবে কিনা-মনে পড়ছে-আমি বললাম। হিহি মনে আর সাথে সবসময় তো রেখে দিয়েছ তোমার বউ করে,যাতে তুমি ভুলে না যাও। পুজার কথা শুনে আমি খুব জোরে হেসে উঠলাম-হাহাহাহাহা।।

===================================================

bengali@pratilipi.com
+91 9374724060
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.