আজ বড্ড একা অনুভব করছে দীপক। মানসিক ভাবে অনেকদিন আগেই একা হয়ে গিয়েছে, তবে হঠাৎ করে আজকেই কেন মনের ভেতরটা উসখুস করছে বুঝে উঠতে পারছে না সে। অবশ্য বুঝতেও চায়না। একাকিত্ব নিয়ে ভাবতে গেলেই মনে পরে যায়, সেদিনের দিপীকার চলে যাওয়ার মুহূর্তটা। শুরু হয়ে যায় স্মৃতি খুঁড়ে খুঁড়ে রক্তাক্ত হৃদয়ে যন্ত্রনায় আর্তনাদ করে ওঠার ইচ্ছাকে ক্রমাগত বুকের মধ্যে চেপে রাখার প্রচেষ্টা।
তাই এসব নিয়ে আজ ভাববে না দীপক। আজ একটু ঘুরতে বেরোবে সে। শহরের শেষপ্রান্তে তিস্তানদীর কোল ঘেসে তৈরি সারি সারি বাধঁগুলোর মধ্যে নির্জন দেখে কোনো একটায় বসে পড়বে। নিজেকে একা করে নিয়ে মনের কথাগুলো একটু আওয়াজ করে বিরবির করবে নিজের সাথেই। তাতেই যেন তার একাকিত্বটা দূর হয়ে যায়।
যাওয়ার পথে একটি দোকানে দাঁড়াতে হলো, সদ্য সখ্যতা হওয়া জিনিসটা নিতে। তাকে দাঁড়াতে দেখে আচমকাই দোকানদার বলে উঠল...
-আরে, ভাই যে! এতদিন পর! বলো আজ কোন চকলেট টা দেবো?
কথাটা তিরের মতো বিদ্ধ করলো দীপককে। স্মৃতিগুলো দমকা হাওয়ার মতো উড়ে এসে জাঁকিয়ে বসল তার হৃদয় জুড়ে। সদ্য পাওয়া আঘাতের বহিঃপ্রকাশে হওয়া মুখের বিকৃতি আটকাতে একটু হাসি হাসি মুখ করলো সে। তারপর, প্রসঙ্গটা এড়িয়ে বললো...
-চারটে গোল্ড ফ্লেক দিন।
লোকটা কিঞ্চিত অবাক হলো। দীপকের মুখমন্ডল থেকে চোখ না সরিয়েই সিগারেট গুলো বাড়িয়ে দিলো তার দিকে। তারপর পুনরায় জিজ্ঞাসা করলো...
-আজ চকলেট লাগবে না???
এবার যেন ইচ্ছে করেই লোকটা ছুরিকাহত করলো দীপককে। দীপক মুখ ফুটে বলতে চাইলো, চকলেট দেওয়ার সেই মানুষটাকে হারিয়ে ফেলেছে সে। সেই একটা ভুলের জন্য আজও ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে আছে। আজও একটি বাক্যের আশায় দিন কাটায় দীপক। হয়তো কোনদিন দিপীকা ফিরে আসবে আর বলবে, "চল সব ভুলে আবার নতুন করে শুরু করি সম্পর্কটা"।
তবে ভাবনাগুলোর অভিব্যক্তি ঘটল না। সিগারেটটা মুখে পুড়ে নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখল। দেশলাইটা উঁচিয়ে ধরে সিগারেটটা জ্বালিয়ে একটা দীর্ঘ সুখটান দিলো। তারপর ধোঁয়ার সাথে আকাশ-কুসুম কল্পনা গুলোকে উড়িয়ে দিয়ে স্বাধীনতা প্রদান করলো।
দোকানদার তখনও প্রত্যুত্তরের আশায় জিজ্ঞাসু চাহনিতে তাকিয়ে আছে দীপকের দিকে। উত্তরে কি বলবে জানা নেই দীপকের। তবে বুক ফেটে বেরিয়ে আসতে চাইছে বিমর্ষ চিৎকার। সেটাকে আটকাতে 'হা হা' আওয়াজ করে হেসে উঠল সে। তারপর বুকপকেট থেকে জীর্ণ হওয়া ২০টাকার নোটটা এগিয়ে দিয়ে নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে চলতে শুরু করলো। কষ্ট লুকানো হাসিটা ঠোঁটের সাথে লাগিয়ে রেখেই, সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে এগিয়ে চললো সে।

লোকটা দোকানের ভেতর থেকে যতটা সম্ভব মাথা বের করে চেয়ে রইল দীপকের পথের দিকে। অনতিদূরে রাস্তার বাঁকে অট্টালিকার পিছনে হারিয়ে গেল দীপক। তাৎক্ষনিক ঘটে যাওয়া ঘটনার কিছুই বুঝতে পারলো না দোকানদার, শুধু বুঝলো তার চকলেটের খদ্দেরটা আজ সিগারেটের খদ্দেরে পরিণত হয়েছে....॥


------------------------------------------------------------------------------

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.