বকুলের মালা

সজল গ্রামের ছেলে সেবার স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠানে সে প্রথম স্থান অধিকার করে। মাষ্টারমশাই সজলকে একটু বেশি ভালবাসেন কেননা সমস্ত খেলাতেই তার ভীষণ আগ্রহ ও প্রতিভা রয়েছে। একদিন মাস্টারমশাই ব্যক্তিগত ভাবে সজলকে ডেকে বললেন, আগামী মাসে ভারতীয় স্থল সেনা বাহিনীতে ভর্তির জন্য আবেদন পত্র নেওয়া হবে তুই যেন একটা আবেদন করে রাখিস সুযোগ ছাড়িস না। স্যার,...... আসলে মা বলেছে ওসব আর্মি,পুলিশ টুলিশ পছন্দ না বাপু অন্য কিছুতে আপত্তি নেই।

কেন আর্মি,পুলিশের ভর্তিতে তোমার মত সব নতুন যুবারাই যায়। কেন তুই শুনিস নি সুকান্ত ভট্টাচার্যর লেখা সেই বিখ্যাত কবিতার লাইন"#এদেশের_বুকে_আঠারো_আসুক_নেমে"।

হ্যাঁ স্যার। তবে মা চায়না আমি এইসব করি,তবে আমার তো খুব ইচ্ছা নতুন রাইফেল,পিস্তল আরো কত্ত কি। তবে দেরি করো না সজল আবেদন টা করেই আয়। সজল নতুন কলেজে ভর্তি হয়েছে,কিন্তু লেখাপড়া গুলিয়ে যাচ্ছে। মাস পাঁচেক হল সেনাবাহিনীর সমস্ত পরীক্ষায় সে সাফল্যলাভ করেছে। কিন্তু সেখান থেকে কোনো ডাক আসেনি বলে আবার মন দিয়ে লেখাপড়া শুরু করল সজল। মাস খানেক পরে কলেজ থেকে ফিরে সজলের মা ডেকে বলল দেখত এটা কি পোষ্ট মাস্টার এসেছিল এটা দিয়ে গেল।সজল খাম থেকে চিঠিটা বের করে পড়তে পড়তে আনন্দে লাফাতে লাগলো,মা বাবা আমার সেনা থেকে ডাক এসেছে। অশ্রুধার নিয়ে তার মা তাকে বলল কত্তবার বারণ করেছিলাম এইসবে যাস না।


কিছুদিনের মধ্যেই সজল আর্মিতে যোগদান করল। আঠারো মাসের কঠোর পরিশ্রমের পর যখন গ্রামের দিকে ফিরল তখন তাকে কেউ চিনতে পারছে না। মাথার চুল ন্যাড়া করে কাটা,রোগা পাতলা শীর্ণ দেহ ও বুকের পাঁজরা গুলো যেন সব গোনা যাচ্ছে। বাড়ি পৌঁছাতেই তার মা তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন। কি হাল করেছিস বাবা; আগেই বলেছিলাম এই সবের কোনো দরকার ছিল না।


সজলের প্রথম পোষ্টিঙ জম্মু ও কাশ্মীর কথাটি ফোন করেই জানালো তার পরিবারকে। এদিকে সজলের পরিবার তার জন্য সুন্দরী পাত্রী দেখে রেখেছে। বাড়ির অনুরধে প্রতিনিয়ত কথা হয় তাদের। তবে সে কখনো সচক্ষে দেখেনি তাকে, অবাধ্য হয়ে তার কাছে একটা ছবি চেয়ে বসল। সেও বাধ্য মেয়ের মত ডাকে ছবি পাঠিয়ে দিল। অন্তত দিন দশেক পর যখন সে ছবিটি হাতে পেয়ে সজল প্রিয়তমাকে বুঁকে আঁকড়ে ধরল।

প্রিয়তমাকে ফোনে জানিয়ে দিলো শোনো তুমি তো খুব সুন্দরী তবে আমার একটা কথা রাখবে?

★কি বলো.?

আমাদের বিয়ের সময় বকুলের মালাতে মালা বদল হবে। তুমি রাজি?

★হ্যাঁ আমি রাজি। তবে বকুলের মালাটা আমি নিজে হাতে গাঁথবো।


বিয়ের মাত্র দিন পনেরো বাকী সেদিন রাতের অন্ধকারে এক সামান্য গুলি যুদ্ধে পরাজয় স্বীকার করে শহীদ হয় সজল। তখনো অব্দি পরিবারের কেউ জানে না।পরদিন সজলের প্রিয়তমার ফোন বেঁজে চলেছে কিন্তু ফোনটিতে কথা বলবার মত আজ কেউ নেই। শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিল শহীদ সজল। যখন সজলের গ্রামে প্রবেশ করল তখন বাঁধ ভাঙা স্রোতের মত মানুষের ভিরে বীর যোদ্ধার সহমর্মিতা ও বিদায়ের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে এসেছে।

তখনো অশ্রুবিভোর চোখে #বকুলের_মালা_হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে তার প্রিয়তমা।

বিঃদ্রঃ ঃ-- ভালবাসা শুধু শুভদৃষ্টিতে নয় // চোখের অগোচরেও ভালবাসা গুলি নিবিড়ভাবে বেড়ে ওঠে। তবে গোপনে বেড়ে ওঠা ভালবাসা গুলি অত্যন্তই নিবিড় প্রকৃতির ও নিঃকাম।

bengali@pratilipi.com
+91 9374724060
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.