পাশের বন্ধুকে চুপি চুপি বললো , সৌগত ...জানিস ওই বোর্ডের শক্ত অংকটা আমি পারবো। ক্লাস ফাইভের ছেলের এমন ছেলেমানুষি এমন কিছু অন্যায় নয়। পাশের বন্ধু গৌরব হেসে বললো, পেরে আর কি লাভ, তুই তো বেঁটকু ,বোর্ডে নাগাল পাবি না।

ওদের ক্লাসের মধ্যে কথা বলতে দেখে ম্যাথের টিচার বেশ বিরক্ত হয়েই বললেন, সৌগত আর গৌরব দুজনেই আমার সামনে এসো।

ভয়ে ভয়ে স্যারের সামনে যেতেই স্যার বললেন, আমি বোর্ডে একটা অঙ্ক দিয়েছি। সামনেই মেরিট টেস্টের এক্সাম আছে, তোমরা অংকটা সমাধান করার চেষ্টা না করেই গল্প শুরু করেছো?

স্যার স্কেলের দিকে হাত বাড়াতেই সৌগত বললো, স্যার আমি অনেকটা পারবো।

স্কেলটা যথাস্থানে রেখে দিয়ে অংকের স্যার মৃন্ময় বাবু অবাক চোখে তাকালেন ক্লাসের মধ্যে সব থেকে বেঁটে ছেলেটার দিকে! পারবে! ক্লাস এইটের বই থেকে অংকটা দিয়েছেন উনি। ছেলেটা বলছে পারবে?

অবিশ্বাস্য ভাবে ঘাড় নেড়ে বললেন, তাহলে বোর্ডে করে দাও। স্কুলটা বেশ আগেকার দিনে তৈরি হয়েছিল তাই বোর্ডেটাও বেশ উঁচুতেই। ক্লাসে একটা হাসির রোল উঠলো। পিছন থেকে দুজন মন্তব্য করলো, স্যার নাটা সৌগত কি করে অঙ্ক করবে বোর্ডে!!

মৃন্ময় বাবু একটা ধমকে ছেলেদের থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, এই যে তুই চেয়ারে উঠেই কর।

সৌগত স্যারের পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম করেই চেয়ারে উঠলো। মৃন্ময় বাবু অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন।

সৌগত ঠিক তিনমিনিটের মাথায় অংকটা শেষ করে দিলো।

মৃন্ময় বাবু সৌগতর পিঠে হাত বুলিয়ে বললেন, বড় হ। লম্বায় নয় বুদ্ধিতে।

না, গোটা ক্লাসের বন্ধুদের কাছে সেদিনও সম্মান বাড়েনি সৌগতর। বন্ধুরা ওর ব্যাগ থেকে পেন্সিলবক্স বের করে ক্লাশের সব থেকে উঁচু জায়গায় রেখে দিতো।

সৌগত স্কুল থেকে ফিরেই মায়ের কোলে মুখ গুঁজে কাঁদতো। সৌগতর ছোট খাটো মা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বলতো, বোকারা কাঁদে, বুদ্ধিমানের হাসে।

তবুও কষ্টগুলো পাথরের মত শক্ত হয়ে বসে থাকতো সৌগতর বুকে।

বাবা জলপাইগুড়ি ব্যাংকের চাকরি করতো, বছরে একবার আসতো বাড়িতে। মা ই একমাত্র যন্ত্রনা রাখার জায়গা।

ক্লাস এইটেও কোনো সম্মান ছিল না ক্লাসের ফার্স্ট বয় সৌগতর। বন্ধুরা বলতো, সাইকেলে বসে দুদিকের পা মাটিতে ঠেকিয়ে দেখা। প্রথম দিন সৌগত ওদের কথা শুনে চেষ্টা করেছিল। শেষে সাইকেল সমেত হুমরি খেয়ে মাটিতে। বন্ধুদের উল্লাস। সৌগততো নিজের বাবার দেওয়া নামটাই ভুলতে বসেছিল। নাটা, বেঁটে ,বেঁটকু নামেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল ও। একমাত্র মা সেদিন যে মন্ত্রটা কানে কানে বলেছিল, সেটাই মূলধন করে বেঁচে ছিল সৌগত। মা বলেছিল এই মন্ত্রটা কাউকে বললেই নাকি এর গুন নষ্ট হয়ে যায়। সৌগত মাকে বিশ্বাস করত। ওর মন খারাপ হলেই মা ওই গুপ্ত মন্ত্র গুলো বলতো।

মাধ্যমিকের ঠিক আগে আগে ওদের স্কুলে ভলিবল ম্যাচ হবে। বন্ধুরা বললো, কিরে নাটা তুই খেলবি নাকি?

বিদ্যেবোঝাই বাবু মশাই শুধু রেজাল্টের নম্বর নিয়েই খুশি থাক। মাঠের এক কোনে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিল সৌগত। এতগুলো বছর ও এই স্কুলে কাটালো তারপরও একজন প্রানের বন্ধু হলো না ওর। যার কাছে মনের দুঃখগুলো বলা যেতে পারে।

খেলার স্যার ভলিবল টিমে ওকে আগেই বাদ দিয়েছিলেন। সৌগতকে নাকি কোনো দলই তাদের টিমে নিতে চায়না। বয়সের সাথে সাথে কেন যে অপমান বোধগুলো এত তীব্র হয়!!

ভলিবল খেলা দেখতে দেখতে নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগছিল। কেন ভগবান ওর উচ্চতা টা আরেকটু বাড়িয়ে দিলেন না?

কেন বন্ধুরা বলে, তুই আর কোনো চাকরি পাস আর নাই পাস সার্কাসে তোর চাকরি বাঁধা।

মা ,আমি আর বাঁচতে চাই না। দেব না আমি মাধ্যমিক পরীক্ষা। কি হবে ভালো রেজাল্ট করে ডাক্তার হয়ে!! লোকে তো বলবে নাটা ডাক্তারের কাছে যাবো না।

সৌগতর চোখের তারায় চঞ্চলতা, হাতে পায়ে অস্থিরতা। পাশের বাড়ির জেঠিমা বললেন, মনে দুঃখ হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। আহা রে, আমার ছোট নাতিটা মাত্র ক্লাস সিক্সে পড়ে তাই তো তোর থেকে লম্বা হয়ে গেছে রে। তুই একটু রড ধরে ঝুলে থাক দেখি,যদি হাফ ইঞ্চিও বাড়ে।

সমব্যথীরা সমবেদনা জানাতে এসেও সেই নরম ক্ষত বিক্ষত জায়গাটাতেই আঘাতটা করে।

রোডে ঝুলে ঝুলে সৌগত হাতে কড়া পরে গেছে সেটার খবর কেউ রাখে না।

সেদিনও মা কানে কানে আরেকটা গুপ্ত মন্ত্র বলেছিল। তাই হয়তো সৌগতর মরার ইচ্ছেটা চলে গিয়েছিল।

মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিকে খুব ভালো রেজাল্ট করেও সৌগতর উচ্চতা যেহেতু সেই অনুপাতে বাড়েনি তাই সেই স্কুলের বন্ধুরা ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দুটো চাটি মেরে চলে যায়। কলেজে গিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন সমস্যা। সবে উঠতি যৌবনের সৌগতর ও একটা তরুণ উচ্ছল মন আছে এটা প্রায় সকলেই ভুলে গিয়েছিল। মেয়েরা ওকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতো, লাভার হবে টল , ডার্ক এন্ড হ্যান্ডসাম। ©অর্পিতা সরকার

ফার্স্ট ক্রাইটেরিয়াতেই বাতিল সৌগত। তবুও বয়সের নিয়মেই ভালো লেগে গিয়েছিল কমলিকা নামের একটি মেয়েকে। হয়তো নিজের অসাবধানেই সৌগতর দুটো অবাধ্য চোখ বারেবারে তাকিয়ে ফেলেছিল কমলিকার দিকে। দুদিন মিষ্টি করে হেসেছিল কমলিকা। প্রশ্রয়ের হাসিতে সৌগত ভুলে গিয়েছিল, টল আর শর্টএর মধ্যে মনের বিশেষ তফাৎ হয়না।

কমলিকা দেখা করবে আজ কলেজের একেবারে শেষ গাছটার নিচে। না, এক্সট্রা হিলওলা জুতো পরে আজ আর লম্বা হওয়ার লড়াইয়ে মাতেনি সৌগত। ও যেমন ঠিক তেমন ভাবেই কমলিকার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে।

5.2" রমেয়েকে লোকে বেঁটে বলে না, কিন্তু সৌগতকে বামন বলে।

লম্বা হবার হেল্থড্রিংক খেয়ে খেয়ে শেষে মোটা হয়ে যাচ্ছিল সৌগত। তাই ওসব ছেড়েছে অনেক দিন আগেই।

ব্ল্যাক জিন্স আর লেমন টিশার্টএ আজ সৌগতকে বেশ সুন্দর লাগছে। দুটো বুদ্ধি দৃপ্ত চোখের চাহনিতে গভীরতা আর সরলতা এক সাথেই বিরাজ করছে।

থার্ড ইয়ারের ম্যাথের অনার্স ক্লাসে ঢুকেই সৌগত খেয়াল করলো, ওর দিকে সবাই তাকাচ্ছে। না সৌগত কখনো কারোর ক্ষতি করেনি,বরং কেউ কোনো অঙ্ক বুঝতে না পারলে ও সহজ ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে ওকে। তবুও যে কেন ওর সেরকম কোনো বন্ধু জুটলো না কে জানে।

এতদিনে একটা প্রেম এসেছে জীবনে, খুব সযত্নে রাখতে হবে কমলিকাকে।

কলেজের একেবারে শেষ গাছটার নীচে কমলিকার জন্য হাতে দুটো রেড গোলাপ নিয়ে অপেক্ষা করছে সৌগত।

কমলিকা একা নয় ওর সাথে বিজয়, সুদীপ্ত, নীহারিকা আরো কয়েকজন বন্ধু আসছিল দেখে গোলাপ দুটো পিছনে লুকালো ও।

হয়তো একা আস্তে লজ্জা পাচ্ছিল কমলিকা, তাই এদের...

সুদীপ্ত এসেই বললো, কিরে নাটা তোর নাকি কমলিকাকে খুব পছন্দ! তুই নাকি ওর দিকে তাকিয়ে থাকিস, চোখে চোখে ইশারাও করিস!!

কমলিকা মুচকে মুচকে হাসছে।

বিজয় বললো, চল আজ তোর টেস্ট হয়ে যাক, তুই যদি একটু না খুঁড়িয়ে নীহারিকাকে একটা চুমু খেতে পারিস তাহলে কমলিকা তোর।

নীহারিকা ওদের কলেজের সব থেকে লম্বা মেয়ে, হয়তো 5.8" হবে। মুখটা নিচু করে সৌগত বলেছিল, আমি কমলিকাকে ভালবাসি।

সুদীপ্ত বেশ জোরেই চরটা মেরেছিলো সৌগতর গালে। কমলিকা আমার লাভার চার ফুটিয়ে। ওর দিকে যদি আর একবারও তাকাতে দেখি তো প্যান্ট খুলে হাতে ধরিয়ে দেব।

বিজয় মজা করে বললো, তোর ওটার সাইজও নিশ্চয় বাচ্চা ছেলের ওলেবাবালে র মত।

ওরা চলে যাচ্ছিল , অপমানিত, লজ্জিত মাটিতে মিশে যাওয়া সৌগতকে একা ফেলে রেখে।

ঘটনাটা কলেজে রটতে বেশি সময় লাগেনি। ভাইরাল ফিবারের মতোই গোটা কলেজে ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্রিলিয়ান্ট ছেলে সৌগতর অপমানের খবরে অনেকেই সেদিন আনন্দিত হয়েছিল।

সৌগতর অশোকনগরের বাড়ির পাশাপাশিও কেউ রটিয়ে দিয়েছিল।

অশোকনগরের প্রাণকেন্দ্র

সূর্যশেখর ক্লাবের সামনে সেদিন ওর স্কুলের বন্ধুরা বললো, হ্যারে তুই নাকি গোটা কলেজ প্যান্ট খুলে ঘুরেছিস!

রটনা কি বিশাল আকার ধারণ করতে পারে তার কোনো ধারণাই ছিল না সৌগতর।

ওর স্কুলের বন্ধু গৌরব বলেছিল, তুই তো অশোকনগরের কলঙ্ক রে। শেষ পর্যন্ত কলেজে গিয়ে আমাদের পাড়ার মান ডুবিয়ে এলি !!

একলা অন্ধকার ঘরে দুচোখ যখন জলে ভরে গিয়েছিল, সেদিনও মা এসে কানে কানে আরেকটা গুপ্ত মন্ত্র বলে গিয়েছিল। তবুও আর এখানে থাকা সত্যিই সৌগতর পক্ষে সম্ভব নয়। কোনো মতে ম্যাথে অনার্স কমপ্লিট করে অশোকনগরের নিজেদের বাড়ি ছেড়ে সৌগত আর মা চলে গিয়েছিল ওর বাবার কাছে জলপাইগুড়িতে।

সৌগত চলে যাবার পরেও অনেকদিন পর্যন্ত ওদের বাড়িটাকে দেখিয়ে সূর্যশেখর ক্লাবের ছেলেরা ব্যঙ্গ করে বলতো, চার ফুটিয়াটা পাড়া ছেড়ে বেঁচেছি , ওই নাটা সৌগত জ্বালায় বাবা মায়ের কাছে হ্যাটা খেতে হতো।

প্রায় সকলেরই একমত। প্রত্যেকের বাবা মা ই বলতো সৌগত সাথেই তো ওরা প্রাইমারি থেকে পড়ছে তাহলে ও ডিস্ট্রিক্ট এর মধ্যে সর্বোচ্চ নাম্বার পাচ্ছে আর ওরা কেন নয়!! যাক বেঁটকু চলে গিয়ে বেঁচেছে পাড়ার ওরই সমবয়সী ছেলেগুলো।

বছরে একবার সৌগতর বাবা মা অশোকনগরের বাড়িতে এলেও সৌগত আর ফেরেনি।

হেরে যাওয়া, লজ্জায় , অপমানে ক্ষত বিক্ষত মন নিয়ে আর ফিরতে ইচ্ছে করেনি জন্মভূমিতে।

সময় কেটে গেছে...সে কোনোদিনই কারোর জন্য অপেক্ষমান নয়। নিজের নিয়মে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৃথিবীর প্রদক্ষিনের মতোই সময়ের স্রোতে ভেসে গেছে অনেক পুরোনো নাম।

নাটা সৌগতও তখন অশোকনগরে বা বিজয়নাথ কলেজে একটা ভুলে যাওয়া নাম।

সুদীপ্ত আর কমলিকা বিয়ে করেছে, নীহারিকা আপাতত পুলিশ কনস্টেবল। গৌরব ওর বাবার মুদির দোকানটা দেখাশোনা করে। তবে

সূর্যশেখর ক্লাবের আরো বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। পঞ্চাশ বছরে পা দিয়েছে ক্লাবটি। প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গোটা অশোকনগর ও তার আশে পাশের সমস্ত স্কুল কলেজে নিমন্ত্রন করা হয়েছে। বিজিত সিং আসবে তার গানের ডালি নিয়ে। নতুন ব্লিডিংএর ফিতে কাটবে অভিনেত্রী এলিনা।

বিশেষ অতিথির আসন অলঙ্কৃত করবেন, ডি এম।

নীহারিকাও উপস্থিত থাকবে অনুষ্ঠানে। মহিলা পুলিশ কনস্টেবলদের দায়িত্বে পড়েছে মেন গেটের। আগত সমস্ত অতিথিদের চেক করতে হবে। আজকাল চারিদিকে যা ঘটেছে, তাতে বেশ লোক এক জায়গায় জমায়েত হতেও ভয়। বলা তো যায়না, অশোক নগরের কোনো পুরোনো শত্রু হয়তো স্বশস্ত্র ভাবে প্রবেশ করে ফেললো, অনুষ্ঠানের চৌহদ্দির মধ্যে। তাই পুলিশরা সজাগ।

সন্ধ্যা থেকেই সেজে উঠেছে অশোকনগর। অভিজাত পাড়ায় চাঁদা তুলতে বেগ পেতে হয়নি সূর্যশেখর ক্লাবের সদস্যদের। জমকালো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে চায় সকলেই। বিশেষ করে অভিনেত্রী এলিনাকে দেখার আগ্রহ তো সকলেরই।

এলিনা যদিও খুব কম সময়ই থাকলো অনুষ্ঠানে ফিতে কেটে একবার স্টেজে উঠে হাত নেড়েই সে বিদায় নিয়েছে।

মূল অনুষ্ঠান শুরু হলো একটি উদ্বোধনী সঙ্গীত দিয়ে।

তারপর বক্তব্য রাখতে উঠলেন বিশিষ্ঠ অতিথি ডি এম। ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বলে কথা , তার গলায় মালা পরিয়ে, হাতে ফুলের বুকে দেবার জন্য হুড়োহুড়ি পরে গেছে সুন্দরী মেয়েদের।

ডি এম সাহেব স্টেজে উঠেই বললেন, আমি মাত্র দিন পনেরো হলো এই জেলার দায়িত্ব নিয়েছি। তবে

সূর্যশেখর ক্লাবটা আমার অপরিচিত নয়।

প্রায় ই এই ক্লাবের সিনিয়র সদস্যরা একটা ছেলেকে রাগিয়ে, কাঁদিয়ে, অপমান করে আনন্দ পেতো , সেই ছেলেটিকে আমি চিনি। তবে আজ আর কোনো মলিনতা নেই আমার মনে। আমি শুধু আমার মায়ের বলা কটা গুপ্ত মন্ত্র শিখিয়ে দিতে চাই অশোকনগড়ের নাটা বেঁটে ছেলেদের।

১.ব্যাঙ্গের হাসিকে উপেক্ষা করতে শেখ। সেও একদিন ব্যাঙ্গ ফিরিয়ে দেবে।


২.অপমানকে শক্তি ভাবতে শেখ অপমানকারীরা ভয় পাবে।

৩. সামনে এগিয়ে চল, পিছন ফিরে তাকিও না, পিছনে যারা পরে থাকলো তার তোমাকে অনুসরণ করুক।


৪. যন্ত্রনাগুলোকে জমাট বাঁধতে দাও, যাতে সেগুলো হাতিয়ারের মতোই ধারালো হয়।


ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্টেট সৌগত রায়চৌধুরী আজও কোনো লম্বা হওয়ার জুতো পরেন নি। আই এ এস পাশ করার জন্য তাকে লম্বা হতে হয়নি,তার ক্ষুরধার বুদ্ধিটুকুই যথেষ্ট ছিল।

সামনের সারিতে বসে থাকা কমলিকা ,সুদীপ্ত , বিজয়ারা বুঝতে পারছে সত্যিই পরিহাসের হাসি ফিরে আসে।

গৌরবের ওপরেই দায়িত্ব পড়েছিল সৌগতর টিফিন পৌঁছে দেবার।

5.8"র কনস্টেবল নীহারিকাকে আজ মাথা নিচু করেই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে।

কমলিকা বললো, শুনছিলাম সৌগতর বউ নাকি ডাক্তার !!

দেখতেও নাকি বেশ সুন্দর।

কলেজের শেষ গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মুখ কালো করা চার ফুটিয়া ছেলেটা নয়, ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মাথা নোয়ালো গোটা অশোকনগরের বাসিন্দা।


সমাপ্ত

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.