ভালোবাসার খেলা


হ্যালো ...... হ্যালো...... হ্যালো , কে বলছেন?

সেই সুমধুর কণ্ঠস্বর...ফোনের অপর প্রান্ত থেকেও ভেসে আসে অন্য এক কণ্ঠস্বর... “রুহি কেমন আছো?”

রুহি নামটা শুনে চমকে ওঠে রোহিণী । এক মুহূর্তের জন্য ফোনের এই প্রান্ত চুপ ।

অপর প্রান্তের কণ্ঠস্বর আবার “রুহি চিনতে পারছো না আমায় ? আমার কণ্ঠস্বর টুকুও তোমার মনে নেই !

আমি শুভম বলছি , তোমার শুভ ...... খুব আস্তে আস্তে বলে না এখন তো তোমার শুভ নই আমি ! রোহিণী শুনতে পায় কথা টা। কিন্তু কোন উত্তর দেয় না। পরক্ষণেই শুভ বলল “ শুভ জন্মদিন রুহি , এই দিনটা তোমার জীবনে বারবার আসুক , তুমি খুব ভালো থেকো”।

এতক্ষণে রোহিণী কথা বলল “ অনেক ধন্যবাদ” ।

শুভম বলে চলল ফোনের অপর প্রান্ত থেকে “আসলে তোমার কথা তো ভুলতে পারি নি , তাই ভাবলাম তোমার ফোনে ফোন করে দেখি কিন্তু তুমি যে ফোন নম্বর বদলে ফেলেছো সেটা আজ বুঝলাম, তাও ল্যান্ড- লাইন এ চেষ্টা করলাম, ভাগ্য টা আমার ভালো তাই পেয়ে গেলাম তোমায় ।

রোহিণী বলল “ তুমি কেমন আছো বলো ?” আমার ফোন নম্বর , আমার জন্মদিন এসব মনে রেখেছো এখনও ? কি লাভ এতে !

শুভম বলল “ আছি ভালো , লাভ ক্ষতি তো জানি না, শুধু জানি যে জিনিস মন থেকে মোছার নয় তাকে ভুলে যাওয়া যায় নাকি ! যাকগে অনেক বকে ফেললাম, তোমার অনেকটা সময় নষ্ট হলো , রাখছি , ভালো থেকো , বলে ফোন টা রেখে দিলো ।

রোহিণী রিসিভারটা ধরে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ । তারপর গিয়ে সোফায় বসে পড়ল ।

নিজেই ভাবল রোহিণী “ সাত আট মাস আগেও শুভম ফোন করেছিল, ঠিক এভাবেই বলেছিল রুহি......, কিন্তু পার্থক্য টা শুধু ছিল সম্পর্ক টেকানো নিয়ে , কিন্তু সেদিন রুহি ঝাঁঝিয়ে উঠেছিল , বলেছিল “ কেন ফোন করেছো তুমি ? আমি তো বলেছি তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই , তোমার মতো ছোট মনের মানুষের সাথে কথা বলতেও আমার ঘৃণা করে , আর কোনো দিন ফোন করে আমাকে ডিস্টার্ব করবে না”। শুভমকে কোনো রকম কথা বলার অবকাশ না দিয়েই সেদিন ফোন টা রেখে দিয়েছিল রোহিণী ।

আজ একটু খারাপ লাগছে সে কথা ভেবে। অথচ আজ সেই মানুষ টাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে তাকে ফোন করেছে ।

পিয়ার মাঙ্গা হে তুম হি সে...... মুজসে পিয়ার কারো...... ফোনের রিং-টোন টা চিন্তায় ব্যাঘাত ঘটালো । সমীরের ফোন ,রোহিণী ফোনটা রিসিভ করলো, “হ্যালো, হ্যাপি বার্থ ডে ডার্লিং , মেনি মেনি হ্যাপি রিটান্স অফ দা ডে । ইভনিং-এ রেডি থেকো , আমি তোমাকে আনতে যাবো।

রোহিণী বলল “ থাঙ্ক ইউ ডিয়ার, ওকে রেডি থাকবো”।

সমীর বলল “ওকে বেবি , একটু কাজ আছে এখন, দেখা হচ্ছে ইভনিং এ, বাই ।

রোহিণী বলল “ ওকে বাই”।

সমীর রয়, রোহিণীর বর্তমান প্রেমিক । লম্বা ফর্সা , বড়লোক মানুষ। নিজস্ব কোম্পানি আছে। যেখানে সে নিজেই বস । রোহিণীর মামা আর সমীরের বাবা দুই বন্ধু । আর সেই সূত্রেই দুজনের আলাপ, এবং ধীরে ধীরে প্রেমের উদ্ভব । অবশ্য শুভমও রোহিণীর প্রেমিক ছিল একসময় , তাদের তিন বছরের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার অন্যতম কারণ এই সমীর আর রোহিণীর সম্পর্ক । রোহিণীর অবশ্য কিছু আসে যায় না, কারণ সে এরকম বড়লোক মানুষ কেই চেয়েছিল।

টিং টং ............। দরজায় কলিং বেলের আওয়াজ, চিন্তায় ছেদ পড়ল। উঠে গিয়ে দরজা খোলে রোহিণী, এক রাশ লাল গোলাপ আর একটা গিফট এর বক্স দিয়ে লোকটা সই করিয়ে নিয়ে চলে গেলো। রোহিণী দরজা লাগিয়ে ভেতরে এসে বসলো ,ফুলগুলো রেখে গিফট বক্স টা খুললো ধীরে ধীরে, তাতে একটা চিঠি , রোহিণী চিঠি টা খুলে দেখলো শুভম এর চিঠি ।

রুহি,

শুভ জন্মদিন, আজ এই প্রথম বছর আমি তোমার জন্মদিনে তোমার সাথে নেই, হয়তো তোমার খারাপ লাগছে না, আসলে গত তিন বছর আমরা একসাথেই কাটিয়েছি তোমার আমার জন্মদিন গুলো। আমি তো এখনো থাকতে চাই তোমার পাশে...... যাকগে সে কথা , আজ আট মাস ১২দিন ৫ ঘণ্টা হলো তোমার সাথে আমার সম্পর্কের বিচ্ছেদ । তবু বোকা এই মন মানতেই চায় না, তাই হয়তো এতো অপমান উপেক্ষা করেও তোমাকে ফোন করেছি আর এই চিঠি লিখছি। কি করবো বলো বড্ড বেশি ভালবাসি যে তোমাকে, এখনো । ভাবতেই পারিনা যে এই আট মাস আগেও তুমি আমার-ই ছিলে ।

ভুলে যে যেতে পারি না সেই প্রথম পরিচয় , যুব সংঘ ক্লাবের বর্ষপূরণ অনুষ্ঠান , সেখানেই তো তোমার সাথে প্রথম দেখা , নাচের শুভ্র পোশাকে, শুভ্র সাজে তোমাকে অপরূপ এক দেবী বলে মনে হয়েছিল সেদিন, ইচ্ছে হয়েছিল সেদিন তোমার-ই চরণ পদ্মে নিবেদন করবো আমার হৃদয়ের প্রেম । কিন্তু সাহস টা জোগাতে পারিনি সেদিন । ভয়ও ছিল, প্রথম দর্শনেই যদি একটা চড় খাই ... অবশ্য ভগবান সেই চড় টা উপহার হিসেবে পড়ে দিয়েছেন ঠিক-ই ।

যাই হোক, তোমাকে আমার মা আমার বোনের নাচের শিক্ষিকা হিসেবে নিযুক্ত করলেন। ঈশ্বর-ই হয়তো সে সুযোগ করে দিয়েছিলেন ।

আমি তখন পড়াশুনার পর্ব শেষ করেছি সবে, চাকরির চেষ্টা চলছে। আর তুমি তখন কলেজ পর্বে । ধীরে ধীরে তোমার সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে। অপেক্ষা টা বেশি দিন করতে পারিনি , তিনটে মাস পর দুম করে তোমাকে আমার ভালোবাসা নিবেদন করেই ফেললাম , তোমার জন্মদিনেই ফুল আর কার্ড উপহার দিয়েছিলাম, সেই কার্ডেই আমার প্রথম প্রেম নিবেদন শুধু তোমাকেই ............

"আমার অন্তরের সমস্ত ভালোলাগা তোমার জন্য,

তোমার জন্য বাড়ে মনের ব্যাকুলতা।

তোমার জন্য আজ মনের ইচ্ছে গুলো বেপরোয়া,

তোমার জন্য আজ স্বপ্ন গুলো ভীষণ রঙিন ।

তোমার জন্যই আমার মনের ভাষা গুলো এলোমেলো ,

তোমার জন্যই আমার হৃদয় তোমাতেই ভালোবাসা খুঁজে পেলো" ......।।

মনে আছে নিশ্চয় এই কবিতা?

রোহিণী অস্ফুটে বিড়বিড় করলো “ মনে আছে শুভ, সব মনে আছে” ।

কি গো খুব ডিস্টার্ব করলাম বলো ! কিছু যে করার নেই আমার, আর কিছু দিন পর আমি বাইরে চলে যাবো, হয়তো আর ফেরা হবে না, হয়তো বা এই পৃথিবী থেকেই হারিয়ে যাবো । ততদিনে হয়তো তোমার আর সমীরের বিয়ে টা হয়ে যাবে, তার চেয়ে এই ভালো, মনের সব কথা তোমায় লিখে দিলাম, এই শেষ চিঠি, ভাববে হয়তো কেন তোমার জন্মদিনে এসব চিঠি পাঠিয়ে তোমায় বিব্রত করছি, কে জানে আবার ন্যাকামোও ভাবতে পারো । তোমার খুশীর এই দিনটাকে পুরনো স্মৃতি দিয়ে ঢেকে দিচ্ছি ,হয়তো ভাববে তোমায় শাস্তি দিচ্ছি, কিন্তু বিশ্বাস করো এগুলোর কোনটাই নয়, আমি শুধু ফেলে আশা দিন গুলোকে ভুলতে পারছি না, মনের আবেগে তাই সব কথা তোমাকে লিখছি ।

তোমার মনে আছে তো ? সেই আমার প্রেম নিবেদনের উত্তর টা, কিছুতেই ধরা দাওনি সহজে। আমিও তাই বিশেষ কথা বলতাম না তোমার সাথে, কি জানি হয়তো ভীষণ খারাপ ভাববে আমাকে ... তাই ভেবে। কিন্তু সেদিন চমকে উঠলাম , সেটা আবার আমার জন্মদিন ছিল, তুমিও কার্ড দিয়েছিলে আর সাথে মিষ্টি আর একটা কলম উপহার। কার্ডটা খুলে দেখি তোমার কবিতা ......

“তোমার-ই নয়নে নয়ন মেলিয়া দেখি ,

হৃদয়ের মাঝে আঁকিয়াছি তোমার-ই ছবি ।

দিবা রাত্রি হৃদয় হতে শুনি সে ধ্বনি ,

ভালোবাসি, ভালোবাসি , ভালোবাসি .........”।

সেই ছিল আমার জন্মদিনের শ্রেষ্ঠ উপহার ।

রোহিণীর ঠোঁটে লাজুক হাসি ।

তারপরে তো আরও দুটো জন্মদিন আমরা একসাথে কাটিয়েছি । তখন আমি টিউশন করি আর তুমি তখন এম.এস.সি (M.Sc) ফাইনাল ইয়ার । আমি হিস্ট্রিতে (history) এম.এ(M.A) , চাকরি টা জোটে নি তখনও , কিন্তু তখনও তো আমাকে ভালোবাসতে । তখন তো কোনো অভিযোগ ছিল না তোমার। যদি প্রথম দিন-ই উপেক্ষা করতে তবে এতটা কষ্ট পেতে হতো না আমাকে। আমাকে কি সত্যি ভালো লাগতো তোমার? সত্যি কি ভালোবেসে ছিলে? নাকি শুধুই মোহ ছিল তোমার?

মাঝে মাঝে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করি, “তুমি তো জানতে আমি অতি সাধারণ ,কবিতা লিখতে ভালোবাসি, পুরোনো দিনের গানে মন ভেজাতে ভালোবাসি , হয়তো আবেগী মানুষ, কিছুটা হয়তো খামখেয়ালী , তোমার মতো সাইন্স এর স্টুডেন্টও নই, কিন্তু আমার আমি টাকে তো তখন ভালোবেসেছিলে তবে কেনো করেছিলে সেদিন ওরকম ব্যবহার ? ৩ টে বছর আমরা ভালোবাসায় আবদ্ধ ছিলাম , তারপর থেকে তোমাকে একটু একটু করে পাল্টে যেতে দেখেছি । আমার কবিতা লেখা তোমার অপছন্দ হতে থাকে... কমিয়ে দিয়েছিলাম কবিতা লেখা। আমার অতিরক্ত বাংলা ভাষায় কথা বলা তাতেও তোমার ছিল আপত্তি, তুমি বলতে আমি স্মার্ট নই, ভীষণ নাকি ক্যাবলা হয়ে যাচ্ছি দিন দিন, তারপর থেকে কথা বলার মাত্রা টা কমিয়ে দিয়েছিলাম ।

চাকরি টা পাওয়ার পর থেকেই কি আমাকে এড়িয়ে গেছিলে? কারণ তুমি কলেজে পড়াও আর আমি তো তখন ছোট্ট একটা স্কুলের ইতিহাসের মাস্টার । লোক সমাজে নাকি আমার পরিচয় দিতে তোমার লজ্জা করে, কিন্তু যখন আমি টিউশন করে টাকা রোজগার করতাম তখন আমার ঐ টাকায় কেনা গিফট টাকে আঁকড়ে ধরে পার্কের বেঞ্চে বসে মাথা রাখতে আমার কাঁধে ,তখন কিন্তু তোমার লজ্জা করতো না ! বাড়ি থেকে বিয়ের কথা উঠলেও তুমি পাত্তা দিতে না, এড়িয়ে যেতে । এভাবে কেটেছে অনেকদিন। তারপর আমি হঠাৎ-ই আবিষ্কার করলাম সমীর রয় কে। বড়লোক মানুষ, টাকার কোন অভাব নেই, আর তোমার মন ওতেই মজেছে।

আমি গিয়েছিলাম সমীর রয়ের কাছে, কিন্তু সেখানে যে তুমি ছিলে সেদিন তা তো বুঝিনি, অধিকার বোধ ফলাতে গেছিলাম সেদিন, তুমি বলেছিলে আমাকে “শুভ এখানে কি করছো ? তোমাকে তো কেও ডাকেনি এখানে, তবে কেন এসেছো কুকুরের মতো ? সমীরের অনেক টাকা সেটা শুনেই বুঝি লোভ হয়েছে ! চুপচাপ অপমান টা সহ্য করেছিলাম সেদিন, প্রতিবাদের কোন ভাষা ছিল না আমার কাছে , তারপরেও নির্লজ্জের মতো অনেক চেষ্টা করেছি যোগাযোগ করার , কিন্তু প্রতিবার-ই তুমি এড়িয়ে যেতে, ফোন করলে ফোন কেটে দিতে ।

তারপর তুমি হঠাৎ একদিন আমাদের বাড়িতে এসে বললে “ আমার সাথে তোমার আর কোন সম্পর্ক নেই, আমি কোন সম্পর্ক রাখতে চাই না, আমি সমীর কে বিয়ে করতে চাই”।

আমি শুধু বলেছিলাম “ ভালো থেকো”।

বিশ্বাস করো এইটুকু বলতে আমার যা ভীষণ কষ্ট হয়েছিলো তোমায় বোঝাতে পারবো না। শুধু বুঝতে পারছিলাম না , তুমি কি দুটো ছেলের মন নিয়েই খেলা করছিলে নাকি আমি-ই ছিলাম তোমার টাইম পাস এর বস্তু । যেই বড়লোক একজন কে পেয়ে গেলে ওমনি আমাকে বাতিলের দলে ফেলে দিলে ! এটাই কি ভালোবাসার খেলা ছিলো তোমার কাছে? কি পাগল পাগল অবস্থা আমার তখন, ভাগ্যচক্রে চাকরিটা জুটেছিল তাই মনের মৃত্যু ঘটলেও প্রানের মৃত্যু ঘটেনি ।

মা সব-ই বুঝেছিল, কিন্তু কিছুই করার ছিল না, অনেক বোঝাতো আমায়, হয়তো ভয় পেয়েছিল সুইসাইড না করে বসি। আচ্ছা রুহি তোমার তো মা ছিল না, বাবা তো তোমার বাইরেই থাকে নিজের কাজে, তুমি আমাকে ঠকিয়েছিলে সাথে আমার মা কেও, তিনি তো তোমাকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবেসেছিলেন , তুমিও তবে তোমার মামার মতোই পাক্কা হিসেবি মানুষ। যাকগে যাক ... অনেক কথা বললাম, সমীরের সাথে এতো দিন নিশ্চয় খুব ভালো কাটিয়েছো । ভালো বড়লোক ছেলে, স্মার্ট, আমার মতো ছোটো মনের নয় সে , ক্যাবলাও নয় , তোমাকে সুখেই রাখবে সমীর । ঈশ্বরের কাছে কামনা করি ভালো থেকো।

সব কথা শেষ... রুহি.........

ইতি--- শুভম ।।


চিঠিটা ভাঁজ করে রাখে রোহিণী । বক্স এর ভেতর থেকে বের করে চকলেট আর মুক্তোর মালা , একসময় রোহিণী পছন্দ করে রেখেছিল কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় শুভম কিনে দিতে পারেনি। আজ সেটাই শুভম তাকে গিফট করেছে ।

রোহিণী চোখের জল মুছে ফোন টা হাতে তুলে নেয়, ২০ টা মিসড কল আর কত যে ম্যাসেজ । গুরুত্ব না দিয়ে পুরোনো ডাইরি খুঁজে শুভমের ফোন নম্বর টা বের করে ডায়েল করে, যান্ত্রিক ধ্বনি ......আপনি যাকে ফোন করেছেন সেই ফোন নম্বরের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই ......।

রোহিণী মলিন হাসে ... “ সত্যি-ই রুহির আর কোনো অস্তিত্ব নেই শুভর জীবনে”....।।


***************************************************************


bengali@pratilipi.com
+91 9374724060
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.