আরটিজি ভার্সন-ও

স্পেস বাইকটাকে সতেরোতলায় পার্ক করতে রাহুলের অসুবিধা হলো না। পাহাড়ের ওপর ঝাঁ-চকচকে মেন্টাল হেলথ সেন্টার। শর্মিলা আর রাশ আগেই পৌঁছে গেছিল। আজ রাশের এবিলিটি চেকাপ। রাহুলের আসবার কথা ছিল না, ভেবেছিল শর্মিলাই সামলে নিতে পারবে। যদিও শর্মিলাও খুব খুশীমনে আসে নি। গতকাল বেশ বিরক্তিই জানিয়েছে। -কাল পারবো না! আমার একটা বড়ো প্রোজেক্ট চলছে! -বাট শমি, দে ওয়ান্ট দ্য মাদার টু অ্যাকম্পানি দ্য চাইল্ড! -উফফফ... ডিসগাস্টিং। কেন যে এই চেক আপ গুলো কন-কল এ করে না... -জানোই তো, ইন পার্সন না গেলে সব ডেটা ঠিকমতো পাওয়া যায় না... প্লিজ কাল রাশকে নিয়ে যেও! এটা একটা ফর্মালিটি, অ্যাডমিশনের আগে। জাস্ট যাবে আর আসবে। হ্যাঁ, রাহুল এটাকে ফর্মালিটিই ভেবেছিল। রাশের বয়স তিন বছর, এখনই ওকে স্পেশালাইজেশন ঠিক করে ফেলতে হবে। রাহুলের ইচ্ছা ও ন্যানোটেকনোলজি নিয়ে পড়ুক। কিন্তু অ্যাডমিশনের আগে মেন্টাল হেলথ চেক করিয়ে একটা সার্টিফিকেট নিতে হয়। আর সেখান থেকেই একটু আগে এল দুঃসংবাদটা। দুঃসংবাদ তো বটেই! রাশের ইমাজিনেশন স্কিল নাকি পুয়োর! মানে এতই পুয়োর, যে হি কান্ট পসিবলি টেক আপ রিসার্চ ওয়ার্ক!! জাস্ট টু থিঙ্ক, যার বাবা মা দুজনেই লিডিং সায়েন্টিস্টস, সে রিসার্চ করতে পারবে না! সামথিং মাস্ট বি রঙ!! উত্তেজিত রাহুল চেম্বারে ঢুকল। শর্মিলা কিছু ডেটা ক্রস চেক করছে, রাশ সাদা মুখে বসে আছে। বেচারা ভাবছে ওরই কোনো ভুলের জন্য আজ সকলে চিন্তিত। -ডক্টর... -ডঃ রাহুল! প্লিজ কাম ইন! -বাট হাউ ইজ দিস পসিবল! -নাথিং টু উয়োরি, হি ইস আ ফাইন চ্যাপ। প্রবলেমটা হলো, হিজ ইমাজিনেশন স্কিলস... -বাট আমরা তো ওকে ফ্রম বার্থ ইমোগ্রো খাইয়েছি! -ইমোশন আর ইমাজিনেশন একেবারে এক নয় ডঃ! হি হ্যাজ অল দ্য ফিলিংস, বাট... -নো, দিস কান্ট বি ট্রু! প্লিজ টেল মি... শর্মিলা একবার একটা ডেটা শিট তুলে বললো, “বাট ডঃ, এই দেখুন, স্টোরি টেলিং এ ও ভালোই...” -ডঃ শর্মিলা, হি ক্যান মেমোরাইজ আযণ্ড রিসাইট ভেরি ওয়েল, কিন্তু হি কান্ট মেক এ স্টোরি অফ হিস ওন! রাহুলের ধৈর্য হারিয়ে গেল। “ওঃ কাম অন! আই ডোন্ট ওয়ান্ট রাশ টু বি এ স্টুপিড নভেলিস্ট অর এন ইডিয়ট পোয়েট! হোয়াই উড হি এভার নিড টু...” -রিল্যাক্স, ডঃ রাহুল। এই ইমাজিনেশনের দরকার আছে বৈকি! রিসার্চের কাজে ল্যাটারাল থিংকিং ইজ এ মাস্ট! জানেনই তো, আমরা কম্প্যুটারে আই-কিউ ক্রিয়েট করেছি, কিন্তু ইমাজিনেশন পারিনি এখনো! শর্মিলা রাহুলকে সামলাবার জন্যে বলে, “ওক্কে, বাট দেয়ার মাস্ট বি এ ওয়ে আউট। রাইট?” - অফ কোর্স দেয়ার ইজ, ডঃ শর্মিলা! আই উড সাজেস্ট আরটিজি ট্রিটমেন্ট ফর আ কাপ্ল অফ মান্থস। -আরটিজি! রাহুল আর শর্মিলা দুজনেই একসাথে বলে উঠলো। -ইয়েস। রকিং টকিং গ্র্যানি। এ রোবট স্পেশালি ডিজাইনড ফর... -“হ্যা জানি।“ বিরক্ত হয়েই রাহুল বলল। “যত্তো ওল্ড কনসেপ্টস...” -মে বি, বাট এফেক্টিভ নেভার দ্য লেস। সাইকোঅ্যানালিস্ট হিসেবে আমি এটাই রেকমেণ্ড করছি। -“বাট ডক্টর” শর্মিলা প্রশ্ন করে, “হোয়াট অ্যাবাউট ইটস সাইড এফেক্টস?” -নাথিং কুড বি প্রুভন সো ফার। ও, দেয়ার্স ন হার্ম ইন ট্রাইং! টু মান্থস পর আমি আর একবার চেক আপ করব, আর যদি ইম্প্রভমেন্ট হয়, আই ক্যান স্টিল রেকমেণ্ড রাশ ফর এ কেরিয়ার ইন রিসার্চ! এই কথাটা রাহুলের পছন্দ হলো। ওয়েল, দুই মাস দেখাই যেতে পারে। শর্মিলা আর রাশকে নিয়ে সে সেখান থেকেই চলে গেল আরটিজি অর্ডার দিতে। একটা মডেল রাখা, একেবারে যেন একজন বয়স্কা মহিলা হাসিমুখে বসে আছে। তার কোলে বসা বা শোওয়া যায়, দোল খাওয়া আর গল্প শোনা যাবে। রাশের খুব পছন্দ হলো মডেলটা। -মাম্মি, আমি এটা নেব? -ইউ লাইক ইট? -ইয়া! -গ্রেট, দেন লেটস টক টু দ্য শপ ইন চার্জ! কিন্তু আত সহজে মিটল না ব্যপারটা। -ওয়েল্কাম। আপনারা কী ধরনের প্রোগ্রাম করে এনেছেন? প্রথম প্রশ্ন শুনেই ঘাবড়ে গেল রাহুল। “প্রোগ্রাম... মানে! সেতো আপনি করে দেবেন!” -না, আমরা জেনারেল কিছু লালাবি আর স্টোরি ভরে দিতে পারি, কিন্তু আমি সাইকোঅ্যানালিস্টের প্রেস্ক্রিপশন দেখলাম, আপনাদের কেসটা ডিফারেন্ট। কাস্টমাইজ করতে হবে। ইয়ু হ্যাভ টু প্রোভাইড আস উইথ দ্য থীম, অ্যাণ্ড... -অ্যাণ্ড ইউ উইল কাস্টমাইজ দিস মডেল অ্যাকর্ডিংলি। রাইট? -রাইট, ডঃ রাহুল। -হাউ সিলি! আমরা যদি সাপোর্ট দিতে পারতাম তাহলে হয়াই ডিদ উই কাম টু ইউ! -ওয়েল, দ্য চয়েস ইজ ইয়োর্স! রাগে গজগজ করতে করতে রাহুল বেরিয়ে এল শর্মিলা আর রাশকে নিয়ে। বাকি দিনটা তার মাথায় চিন্তা ঘুরতেই থাকলো। অন্য দু’জন ডাক্তারকে কন্সাল্ট করেও কিছু ওয়ে আউট পেল না। রাতে শর্মিলা বলল, “রাহুল, আমার একটা আইডিয়া এসেছে, বলব?” -হ্যাঁ হোয়াই নট! -না, মানে, তুমি ঠিক কীভাবে নেবে... -লুক শমি, ইউ নো, উই ডোন্ট হ্যাভ মাচ চয়েস। আমার মাথায় তো কুছুই আসছে না, যদি আমাদের ছেলে রিসার্চ করবার যোগ্য না হয়... -রিল্যাক্স রাহুল! এভ্রিথিং ইজ নট ওভার ইয়েট! আমি বলছিলাম কি... -ইয়েস, কী বলছ বলো, ফর রাশ’স সেক। তোমার সব কথা শুনব আমি। -প্রমিস? ঠিক শুনবে? -প্রমিস। -তাহলে তোমার মা কে কিছুদিন আমাদের বাড়িতে এনে রাখো। -হোয়াট!!!! -ইয়েস রাহুল, আমাদের তাহলে আরটিজি-র প্রগ্রামিং নিয়ে ভাবতেই হবে না। -বাট মা ইজ অ্যান ওল্ড লেডি, অ্যাণ্ড ইউ নো, অল ওল্ড পিউপল আর ইউজলেস স্টাফ! আনপ্রোডাক্টিভ, ন্যাগিং, ওহ শিট! -রাহুল তুমিই বলেছ, উই ডোন্ট হ্যাভ মাচ চয়েস। ভেবে দেখো, ওই মহিলা হ্যাড ব্রট ইউ আপ, আর তোমার আজকের সাক্সেসের পিছনে কিন্তু ওনার ইনফ্লুয়েন্স আছে! -বাট... বাট টাইমস হ্যাভ চেঞ্জড! -ইয়েস, মাই ডিয়ার, অ্যাণ্ড আনফর্চুনেটলি সো। লেটস অ্যাক্সেপ্ট দ্য ফ্যাক্ট, ডেস্পাইট অল টেকনোলজিক্যাল অ্যাণ্ড মেডিক্যাল সাপোর্টস, আমরা রাশের ইমাজিনেশন গড়ে তুলতে পারিনি। উই হ্যাভ ফেইলড রাহুল, অ্যান্ড উই হ্যাভ সামওয়ান হু ডিড সাক্সিড ইন দিস, সো হোয়াই নট! অগত্যা পরদিন রাহুল তার মা-কে ওল্ড এজ হোম থেকে নিয়ে এল। রাশ তো ভীষণ অবাক! প্লে স্টেশন ছেড়ে সে গ্র্যানির কাছে বসে আছে! তার হাসি দেখে শর্মিলা খুব খুশী, এমনকি রাহুলও খুশী। হেলথ সেন্টার থেকে ভিডিও কলটা তার একটু পরেই এল। “হ্যালো ডঃ রাহুল, আপনি কি আরটিজি ইন্সটল করতে পেরেছেন? প্লিজ নোট দ্যাট উই ডোন্ট হ্যাভ মাচ টাইম!” -“ইয়েস ডক্টর, আরটিজি ভার্সন-ও।“ মুচকি হেসে জবাব দিল রাহুল। -“ভার্সন-ও? সেটা আবার কী!” সাইকোঅ্যানালিস্ট এবার নিজেই অবাক। -“আই নো দ্য আন্সার!” ঠাম্মার কোলের ভিতর থেকে, সকলকে অবাক করে রাশ বলে উঠল। “ও ফর অরিজিনাল, রাইট ড্যাডি?” রাহুলও আর তার আনন্দ চাপতে পারল না আর। “রাইট, মাই সন! থ্যাংকস ডক্টর, থ্যাঙ্কস এ লট শমি, অ্যাণ্ড... থ্যাংকস মা!”

=======================================================================================

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.