শেষ দেখা


ঘটনাটা আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগের কিন্তু আজও এর কোনও সঠিক ব্যাখ্যা আমি পাই নি | আমি তখন একটা বই-এর দোকানে কাজ করতাম | হঠাৎ একদিন নিধিরাম পিওন আমার হাতে একটা 'রেজিস্ট্রি' করা চিঠি ধরিয়ে দিয়ে বলল ~ “জরুরি মনে হয় , এই নে পড়” । আমি চিঠির ঠিকানা দেখেই বুঝলুম এটা পিসেমশায়ের চিঠি | আমি মহা আনন্দে হড়বড় করে চিঠিখানা খুলে ফেললাম -- আর চিঠিখানা পড়েই আমার সব আনন্দ মুছে বিষাদে পরিণত হল | পিসেমশাই গুরুতর অসুস্থ , আর হয়তো বাঁচবেন না | আমায় একবার শেষ দেখা দেখতে চেয়েছেন | চিঠিতে তারিখটা দেখে বুঝলাম তিন দিন আগে লেখা |


আমি আর কাল বিলম্ব না করে , দোকানের মালিককে জানিয়ে বেরিয়ে পড়লাম | বাড়ি গিয়ে নিতান্ত প্রয়োজনীয় কয়েকটি জামা-কাপড় আর কিছু টাকা-কড়ি নিয়ে রওনা দিলাম স্টেশন অভিমুখে | এই গত কয়েক বছরে পিসেমশাই-দের সাথে চিঠির আদান-প্রদান হয়েছে বার কয়েক কিন্তু যাওয়া হয় নি একবারও | তাই জানা নেই ট্রেনের সঠিক সময়ও | স্টেশনে পৌঁছে শুনলাম , ট্রেন সেই তিনটেই | ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ১টা ৩০ | দুপুরের খাওয়াটা আগেই সেরেছিলাম তাই আর খিদে পায় নি | স্টেশনের একটা দোকান থেকে এক কাপ চা নিলাম | সেটা নিঃশেষ করে একটা চেয়ারে পা তুলে বসলাম |


সময় যেন কাটতেই চায় না | বারবার না চাইলেও চোখ চলে যাচ্ছিল স্টেশনের প্রাচীন ঘড়িটার দিকে | ও যেন আজ আরও আস্তে আস্তে চলছিল | এদিকে মেঘের অবস্থাও ভালো নয় | শ্রাবণ মাস | এই বৃষ্টি নামল বলে | হঠাৎ মনে পড়ল ছাতা তো নেওয়া হয় নি -- সেই সময় এতো কিছু মনেও পড়ে নি | বিশেষ তাগিদও অনুভব করলাম না | তখন যেন-তেন-প্রকারেণ পিসেমশায়ের কাছে পৌঁছাতে চাইছিলাম |


রাজগাঁ | এই গ্রামেই থাকেন আমার পিসেমশাই | আমি ছোট থেকে পিসেমশায়ের কাছেই মানুষ | বলাই ওনাদের একমাত্ৰ সন্তান --আমার থেকে বছর তিনেকের ছোট | ওকে নিয়ে কত কাণ্ডই না করেছি একসময় | বর্ষাকালে ক্ষেতে ক্ষেতে মাছ ধরা , পুকুরে ছিপ ফেলা , গরম কালে আম চুরি , পেয়ারা চুরি ! …… তারপর হঠাৎ পুরো পৃথিবীটা পাল্টে গেল | আমি তখন সদ্য মাধ্যমিক দিয়েছি , হঠাৎ একদিন আমার গ্রামের কয়েক জন আত্মীয়- স্বজন এসে হাজির | বাবার নাকি কিছু জমি জমা আছে , একটা পৈতৃক বাড়ি আছে , কেউ না থাকায় সে সব বেদখল হয়ে যাচ্ছে | আমাকে এবার ওখানে থাকতে হবে | শুনে রক্ত হিম হয়ে গেল | এখান থেকে চলে যেতে হবে !


অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে ওখান থেকে চলে যেতে হল | সমস্ত সাম্ৰাজ্য , খেলার সরঞ্জাম সব বলাই-এর হাতে তুলে দিয়ে বিদায় নিয়ে ছিলাম | পিসেমশাই আমাকে খুব ভালোবাসতেন তিনি কিছুতেই আমাকে যেতে দিতে রাজী ছিলেন না | ওইটুকু একটা ছেলে একা ওখানে থাকবে কি করে ! পিসিও কেঁদে ভাসাতে লাগলেন | কিন্তু যেতে হলই !

প্রথম প্ৰথম মন টিকত না | কত যে চোখের জল ফেলেছি ভগবানই জানেন | সে সব কথা মনে পড়লে আজও চোখ ছল ছল করে ওঠে ।


যাক সে সব কথা । অবশেষে ট্রেন এলো মাত্ৰ দশ মিনিট লেট করে | টিকিট কাটাই ছিল হুড়মুড়িয়ে উঠে পড়লাম | জানালার পাশে একটা সিট নিয়ে বেশ জাঁক করে বসে পড়লাম | আরও দু'ঘণ্টা , মানে সিরজাম স্টেশন পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্ৰায় ৫ টা | অগত্যা সিটে হেলান দিয়ে একটু বিশ্রামের জোগাড় করছি -- এমন সময় দেখি চারপাশ অন্ধকার হয়ে এলো আর খানিক পরে ঝমঝমিয়ে নামল বৃষ্টি | জানালার পাশেই বসেছিলাম, জলের ঝিট আসছিল তাই বাধ্য হয়ে ওটা বন্ধ করলাম | এরপর সব অন্ধকার | কোন স্টেশন আসে , কোন স্টেশন যায় কিছুই বোঝা যায় না | বুঝলাম গিয়ে আদ্রা স্টেশনে | ওখানে মিছেমিছি ট্রেন আরও মিনিট কুড়ি দাঁড় করিয়ে দিল | 'লাইন-ক্লিয়ার' নাকি পাওয়া যায় নি |


তারপর যখন সিরজাম স্টেশনে গিয়ে নামলাম তখন ঘড়িতে ৫:৩০ | ঘন কালো মেঘে চারপাশ দেখলাম চেয়ে ফেলেছে । শুধু স্টেশন চত্বরটা বাদ দিয়ে বাকি চারদিকেই চাপ চাপ অন্ধকার | স্টেশনে নেমেই বুঝলাম শুধু ছাতা নয় আরও একটা জিনিষ ভুলেছি , যা এই অন্ধকারে অতি অবশ্যই আনা উচিৎ ছিল ……টর্চ !


স্টেশনটা ফাঁকা ফাঁকা | ঠিক যেমনটা দেখে গেছিলাম তেমনই আছে ; পরিবর্তন বলতে শুধু বসার চেয়ারগুলো নতুন হয়েছে | স্টেশনের সামনে একটাই চায়ের দোকান-কাম-সাইকেল স্ট্যান্ড | এই অন্ধকারে তার হ্যারিকেনটার মতই সে দোকান টিম টিম করে জ্বলছে | দোকানদার পরিচিত | সামনে যেতেই অবাক হয়ে হারুদা বলল ~"ও , চিন্টু যে ! তোর পিসের তো শুনলুম বেশ শরীর খারাপ " | আমি জিজ্ঞেস করলুম ~"এখন কেমন আছেন , জান ?" সে ফ্যাকাসে মুখে জানাল ~"তা তো বলতে পারব না | লোকমুখে শুনলুম তার নাকি খুব শরীর খারাপ "|


তেলেভাজার ঝুড়িতে দেখলাম বেশ কয়েকটা পকৌড়ি পড়ে আছে | খিদেও পেয়েছে | বসে বসে চা আর পকৌড়ি খেতে খেতে হারুদার সাথে নানা কথাবার্তা বলতে লাগলাম | আর সাথে সাথে লক্ষ্য করছিলাম যদি কোনও সহযাত্রী পাওয়া যায় ! কিন্তু বিধি বাম | এর মাঝে আবার কখন বৃষ্টিটাও নামিয়েছে , তবে বেশি জোরে নয় এই রক্ষে | আর সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না | আমি উঠে দাঁড়ালাম , স্টেশনের ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখলাম ৬ টা বেজে গেছে | হারুদা বলল ~"এই অন্ধকারে বৃষ্টিতে যাবি কি করে ! রাতটা এখানেই থেকে যা , কাল সকাল সকাল তখন বেরিয়ে পড়বি -- আমিও আজ যাব না |" ব্যাগটা কাঁধে তুলতে তুলতে বললাম ~"যেতে আমায় হবেই হারুদা…" |


আমি বেরিয়ে পড়লাম | কাল, ঘন অন্ধকারে আমি ক্রমে মিলিয়ে গেলাম | অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না -- কোনটা রাস্তা , কোনটা নালা , কোনটা ক্ষেত কিছুই বোঝা যায় না | বারবার শুধু পিছলে , হোঁচট খেয়ে পড়ছি | শেষটায় নিজেরও মনে হতে লাগল রাতটা হারুদার ওখানে থেকে গেলেই বোধহয় ভালো হত | বিদ্যুৎ চমকানোর আলোয় রাস্তাটা একবার করে দৃশ্যমান হয়ে আরও যেন কোনও ঘন কালো চাদরে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে | আমি জুতো জোড়া খুলে বাঁ হাতে ধরে নিয়ে অন্ধের মত চলতে লাগলাম | স্টেশন থেকে রাজগাঁ পাক্কা ৪০-৪৫ মিনিটের হাঁটা পথ ; এখন তো মনে হয় ২ ঘণ্টাতেও পৌঁছাতে পারব না !


হঠাৎ বাঁকটা ঘুরতেই বিদ্যুতের ঝলকে এক চটকা দেখলাম কে যেন ছাতা নিয়ে এদিকেই আসছে | বুকে ভয় এবং ভরসা দু'টোই একসাথে উদয় হলে মানুষের যেরকম অবস্থা হয় আমরাও সেই অবস্থা | একটু এগোতেই ছায়ামূর্তি খুবই চেনা গলায় ডাকলো ~"চিন্টু..." | কেন জানি না বুকের রক্ত যেন জমাট বেঁধে গেল সে ডাকে | আমি ভয়ার্ত কণ্ঠে বললাম ~"কে ! পিসেমশাই ! " ছায়ামূর্তি জবাব দিলে ~"হ্যাঁ " |


আমি ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করলাম ~" আপনি তো অসুস্থ ; আপনি এলেন কেমন করে ?"


"তুই আসছিস শুনে আর থাকতে পারলুম না | এই অন্ধকারে , বর্ষায় কি করে যাবি , সেই সব ভেবে নিজেই চলে এলুম | কতকাল তোকে দেখিনি !"


"…কিন্তু এই অসুস্থ শরীরে না এলেই পারতেন | ঠাণ্ডা লাগিয়ে আরও তো অসুখ বাড়িয়ে ফেলবেন | পাঠালে বলাইকে পাঠালেই তো হত |"


" আমার আর কিছু হবে না | চল্…" ~ বলে সর্বাঙ্গে চাদর মুড়ি দেওয়া এক ছায়ামূর্তি ছাতা নিয়ে আমার পাশে এসে দাঁড়াল | অন্ধকার এতই ঘন যে চাদর মুড়ি না দিলেও তাকে চেনার কোনও উপায় আমার ছিল না | তাছাড়া এই অন্ধকারে ত্রাতা হয়ে আসা পিসেমশায়ের উপর সন্দেহ করার মত অবস্থাতেই আমি তখন ছিলাম না | তখনও ঝির ঝির বৃষ্টি পড়ছে | জলে সর্বাঙ্গ ভিজে গেছে কিন্তু ঠাণ্ডা লাগছে না | বরং বেশ একটা গুমোট ভাব | বোধহয় আরও জোর দিয়ে বৃষ্টি নামবে | আমি পিসেমশায়ের ছাতার নীচে ঢুকে পড়লাম | তারপর দু'জনে অন্ধকারে ভূতের মতো চলতে লাগলাম | খানিক ক্ষণ দু'জনেই নীরব | বৃষ্টির ঝির ঝির শব্দ , ব্যাঙ আরও কতরকম পোকা-মাকড়ের ডাক , আশে পাশের বড় ছোট গাছের কালো কালো ছায়ামূর্তি --- সম্পূর্ণ পরিবেশটাকে কেমন যেন ভৌতিক করে তুলেছিল | আমি তখন পিসেমশায়ের সাথে মন্ত্ৰমুগ্ধের মতো চলেছি , কোন দিকে কোথায় চলেছি কিছুই বুঝছি না | খানিক পর সম্বিত ফিরে পেতে আমিই নীরবতা ভঙ্গ করলাম ~ " পিসেমশাই আমি যে আজ আসব আপনি জানলেন কি করে ?"


এই অন্ধকারেও , এতসব শব্দের মাঝেও বেশ বুঝলাম পিসেমশাই খানিক ইতস্ততঃ হয়ে বললেন ~ "আমাদের গাঁয়ের মণি ময়রাও এই ট্রেনে নেমেছিল | ও…ও…সাইকেলে গেছে | ওর মুখেই শুনলুম |"


উত্তরটা আমার মনোমতো হল না | কারণ এই রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে এত তাড়াতাড়ি পৌঁছান কোনও মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় | কিন্তু পিসেমশায়কে সে কথা জিজ্ঞেস করার আর সাহস পেলুম না । আমি আবার প্রশ্ন করলাম ~" পিসেমশাই , আপনি এই অন্ধকারে রাস্তা কি করে বুঝছেন ?"


উত্তর দেবার আগে পিসেমশাই আমাকে সাবধান করলেন ~"সামনে গর্ত ! …এদিকে আয় |" এই অন্ধকারে এদিক আর ওদিক ! আমি অস্পষ্ট ছাতাটা লক্ষ্য করে সরে এলাম | কিন্তু বুঝলাম এদিকেও জল হাঁটুর কাছে পৌঁছেছে |


"ভয় নেই আর একটু পেরোলেই ডাঙা | এখানের রাস্তা-ঘাট সব আমার নখদর্পণে |"


বিদ্যুতের আলোয় একবার ক্ষণিকের জন্য চারপাশ দৃশ্যমান হল | তারপর আবার সেই অন্ধকার | এরপর সারা রাস্তা আমরা নানারকম কথাবার্তা বলতে বলতে চলতে লাগলাম | পিসেমশাই আমার ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ খবরাখবর নিতে লাগলেন | পথে কোনও অসুবিধা হয়েছে কিনা সে সব জিজ্ঞেস করতে লাগলেন | আমিও সেসবের উত্তর দিতে দিতে নির্দ্বিধায় তাঁর সাথে চলতে লাগলাম |


আরও বেশ কিছুক্ষণ চলার পর , হঠাৎ একসময় গ্রামের ঘরবাড়ি থেকে দু'একটা আলোর রশ্মি পাতার ফাঁকে অসাবধানবশতঃ আমার চোখে এসে পড়ল | " পিসেমশাই , গ্রাম এসে গেছে " বললাম আমি | পিসেমশাই কোনও কথা বললেন না | বৃষ্টি থেমে গেছে | ব্যাঙের ডাক আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার শব্দ রাতের নিস্তব্ধতাকে খান খান করে এক অন্য জগতের সৃষ্টি করে রেখেছে | আর একটু এগিয়ে যেতেই গ্রামে ঢোকার মূল রাস্তাটা দেখা গেল | লাইট পোস্টের মাথায় ঝোলানো ঝাপসা বাল্বগুলো দেখলাম তাদের সর্বশক্তি দিয়ে অন্ধকার দূর করার চেষ্টা করছে | গ্রামের মাথায় পৌঁছে পিসেমশাই এক মর্মভেদী গলায় বললেন ~ "ভালো ভাবে থাকিস...বাবা , ...আর বলাইকে একটু দেখিস " ! সেই কথা আজও আমার কানে প্রতিধ্বনিত হয় | আমি তখন কিছুই বুঝিনি , হতবাক হয়ে শুধু অস্পষ্ট ছায়ামূর্তিটির দিকে চেয়েছিলাম | আর একটু এগোতেই পিসেমশাই বললেন ~ "চিন্টু তুই যা | এবার আমায় যেতে হবে |" আমি কিছু প্রশ্ন করার আগেই ছায়ামূর্তিটি অন্ধকারে যেন মিলিয়ে গেল |


পিসেমশাই এসময় আবার কোথায় গেলেন ! আমি বার কয়েক ডাকলাম কিন্তু কোনও সাড়া পেলাম না । শেষটায় নিজেই চলতে লাগলাম । এই গ্রামের রাস্তা আমার জানা , যতই হোক জীবনের দশটা বছর এখানে কেটেছে । তবে পিসেমশায়ের মতো ওই রকম অন্ধকারে আসতে পারব না । আমি ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে চললাম । অবাক স্তব্ধতা সারা গ্রামময় । ফাঁকা হরি মন্দিরটা পেছনে ফেলে গলিটা পেরিয়ে ঘরে ঢুকতে যাব হঠাৎ কানে এল পিসিমার কান্নার আওয়াজ | আমি ভেতরে ঢুকলাম , পিসিমা আমার দিকে একবার তাকিয়েই দ্বিগুন জোরে কান্নায় আছড়ে পড়লেন | তারপর আমি যা শুনলাম জীবনে কখনও এরকম ঘটনার মুখোমুখি হই নি | পিসেমশাই মারা গেছেন বিকেলের দিকেই ! বলাইরা মৃতদেহটা নিয়ে ঘন্টা খানেক আগে বেরিয়ে পড়েছে সামনের শ্মশানের উদ্দেশ্যে | আমার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যেতে লাগল | চোখে অন্ধকার দেখতে লাগলাম । তবে যাঁর সাথে এতটা পথ এলাম তিনি কে ? আমি ধপাস করে ওখানেই বসে পড়লাম | আমার কানে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল পিসেমশায়ের সেই কথা গুলো ~ "ভালো ভাবে থাকিস...বাবা , ...আর বলাইকে একটু দেখিস " !

bengali@pratilipi.com
+91 9374724060
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.