পুরুষত্ব


প্রকাশ সিগারেটটা শেষ করে পড়ন্ত বেলার আলোয় গঙ্গার মৃদু ঢেউ খেলে যাওয়া জলের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো, আজ তার জীবনে যে ঘটনা ঘটে গেছে সেটা কোন দুঃস্বপ্নের থেকেও কম নয়। সে এক চরম সত্যের থেকে মুখ লুকাতে এই গঙ্গার ধারে চলে এসেছে।

প্রকাশ এক সরকারি চাকুরে,সুঠাম চেহারা , তামাটে রঙ এক কথায় বলতে গেলে সুপুরুষ, এহেন ছেলের জন্য বাড়ির লোক একটু সুন্দরী মেয়েদের দিকেই ঝোঁকে , যদিও সেই ঝোঁকাটা তাৎক্ষনিক হয় কারন ভবিষ্যতে বাহ্যিক সৌন্দর্য কতটা কাজে লাগে সেটা অনেক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতই জানান দেয়। আর বিয়ের বাজারে সরকারি চাকুরের চাহিদা চিরদিনের, তাই বাড়ির লোক অনেক দেখেশুনে প্রকাশের সাথে ঝুমার বিয়ে ঠিক করলো। ঝুমাকে শুধু সুন্দরী বললে ভুল বলা হবে তার সাথে অপূর্ব সুন্দরী তকমাটা খুব ভালো মিলে যায়। বিয়ের সময় লোকে বলল বটে একেবারে রাজযোটক । প্রকাশও মহা খুশী , নিজেকে নিয়ে তার একটা চাপা অহঙ্কার ছিল সেটা বেড়ে আরও দুগুন হোল ঝুমার সাথে তার বিয়ে হয়ে। ফুলশয্যার রাতে প্রকাশ আরও বুঝল ঝুমার চিন্তা ভাবনার সাথে তার অনেকাংশে মিলে যায় আর এটাই জীবনে চলার পথে মূল মন্ত্র। প্রকাশ ,ঝুমা নিজেদের নিয়ে অনেক রঙ্গিন স্বপ্ন দেখা শুরু করলো।

কিন্তু দাম্পত্যের সুখের সাগরে যদি পরিবারের সুখের মিলন না ঘটে তাহলে একটা চোরাস্রোত বোয়ে যায়, আর প্রকাশের ক্ষেত্রে সেরকমই ঘটলো। কদিনের মধ্যে সে বুঝল সে যেমন ঝুমা কে ভালোবাসে ঝুমাও তার থেকে কম যায় না আর সে জন্যই বোধহয় আরও একটা কথা তার কানে এলো, প্রকাশ স্ত্রৈন , সে বউ ছাড়া কিছু চেনে না, জানে না। সময় সুযোগ পেলেই সে বউয়ের সাথে সময় কাটায়। বাড়িতে তার বাবা , মা আর এক ভাই আছে, তাদের সাথে সময় কাটানো টা এখন তার অনেক কমে গেল, তার মনে হোল নতুন বউ, তাকে এখন বেশী সময় দেওয়াটা দরকার। কিন্তু তার চিন্তা ভাবনার সাথে তার নিজের পরিবার গেলো না, তার বাবা মার মনে হোল প্রকাশ পাল্টে গেছে কিন্তু প্রকাশ নিজে জানে সে পাল্টায় নি।

এদিকে ঝুমা খুব খুশি হোয়েও খুশি হতে পারলো না, বর তার এতো খেয়াল রাখে, তার কোন দরকারি জিনিস সে না চাইতেই পেয়ে যায় , প্রায় ছুটির দিনে তারা ঘুরতে বেরিয়ে পরে, ঝুমার কোন অভাব প্রকাশ রাখে না, কিন্তু বিয়ের পরের প্রথম মাস যে শাশুড়ি তাকে এতো খেয়াল রাখতেন, খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু কোরে এমনকি তার স্নানের জল পর্যন্ত এগিয়ে দিতেন , তিনি যেন এখন কেমন গুটিয়ে গেছেন , খুব দরকার না পরলে তিনি কথা বলেন না, , তার ঘরে আসেন না,ঝুমা অবাক হোয়ে ভাবে কি তার দোষ? সেতো চেয়েছিল সবাইকে নিয়ে সুখে থাকতে।

প্রকাশও জিনিস টা খেয়াল করেছে, ছোটবেলা থেকেই সে তার মাকে খুব ভালোবাসে এবং সেটা বিয়ের পরেও বিন্দুমাত্র কমেনি, শুধু ঝুমার প্রতি তার মনোযোগ টা এখন বেশী , সে কারণেই কি তার সাথে মা সেভাবে কথা বলে না। প্রকাশের মনে এটা নিয়ে একটা অসহায় ভাব কাজ করে কিন্তু সে জানে এটা নিয়ে কথা বোলতে গেলে সংসারে শান্তি বাড়বে না। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার প্রকাশ বা ঝুমা এ নিয়ে কোন আলোচনাও করে না হয়তো উভয় উভয়ের ব্যাপারে খুব স্পর্শ কাতর বলে।

সুখ , দুঃখ আর সম্পর্কের টানাপোড়নে এভাবে দেখতে দেখতে প্রকাশ আর ঝুমার বিবাহিত জীবন দেড় বছর পার করে দিল, আর এই দেড় বছরে দাম্পত্য জীবনে অনেক বন্ধন তৈরি হলেও পারিবারিক বন্ধন অনেক কমে গেল। ঝুমার মনে হতে লাগলো সে এ বাড়িতে ভাড়া থাকে , কালে ভদ্রে তার শ্বশুর, শাশুড়ি তার সাথে কথা বলে, শুধু প্রকাশ এলে মনে হয় তার জীবনে এখনো রঙিন স্বপ্ন আছে কারন প্রকাশ অদ্ভুত ভাবে পরিবারের দুর্বলতা চেপেও তার প্রতি ভালোবাসার খামতি রাখে না।

কিন্তু প্রকাশ অফিসে চলে যাবার পর ঝুমা খুব একাকী হয়ে যায়, বিয়ের আগে সে স্বপ্ন দেখেছিল স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি আর দেওর নিয়ে তার মজায় দিন কাটবে কিন্তু এই দেড় বছরে সে বুঝে গেছে এ তার জীবনে হওয়ার নয়, কিন্তু একাকীত্ব তার জীবনকে গ্রাস করছে , মাঝে মাঝে ঝুমা অসহায় হয়ে ভাবে , কি ভাবে সে তার জীবনকে সামনে নিয়ে যাবে, কি ভাবে তার এই একঘেয়ে একাকীত্ব কাটবে ? এ প্রশ্নের একটা সমাধান তার মাথায় এলো , একমাত্র একটা বাচ্চাই পারে তার এই একাকীত্ব কাটাতে।

ঝুমার ইচ্ছে থাকলেও প্রকাশের জন্যই ওরা সন্তান নেওয়া নিয়ে কোন তাড়াহুড়ো করে নি, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে বিয়ের পরপরই ঝুমা পিল নেওয়া শুরু করেছিল, সন্তানের ইচ্ছাটা মনে আসার পর থেকে কোন কোন দিন ঝুমা সেটা খেত না অনেকটা ইচ্ছা করে আবার অনেকটা ভুল বশত। প্রকাশ কে সন্তানের কথা বোলতে প্রকাশ যেন একপ্রকার রে রে করে ঊঠলো, আদর করে জড়িয়ে ধরে বৌকে বলল –আরো বছর খানেক যাক , তারপর। ঝুমার মনে হোতো প্রকাশ যেন শুধু তার বউকে ভালবাসতেই বিয়ে করেছে , কিন্তু সে মনে মনে একটা উপায় বার করলো । ঝুমা এবার ইচ্ছে করেই পর পর তিনদিন পিল খেলনা। আর তার কদিন পর সে তার শরীরে কি রকম একটা অস্বস্তি অনুভব করা শুরু করলো।

সেদিন রাতে ঝুমা প্রকাশের বুকে মুখ লুকিয়ে বলল –

এই জানো আমার না কদিন ধরে গাটা কেমন বমি বমি করছে।

প্রকাশ বউকে জরিয়ে ধরে বলল –কেন কিছু খেয়েছ নাকি? কদিন ধরে হচ্ছে?

ঝুমা আস্তে করে বলল- গত পরশু থেকে । আমার তো ভয় লাগছে , যদি কিছু হয়ে যায়?

প্রকাশ একটু হেসে বলল – বিয়ের পর এতে ভয় পাবার কি আছে? কিন্তু হিসাবে তো হবার তো কথা নয় ?

ঝুমা মুখটা আরেকটু লুকিয়ে বলল- সব কি আর হিসাবে হয় গো?

প্রকাশ বউকে আরও কাছে টেনে বলল – না গো , আরও কয়েকদিন যাক তারপর আর হিসাবে চলবো না।

ঝুমা কিছু বলল না , মনে মনে হেসে পাশ ফিরলো।

পরদিন প্রকাশ একটু আগে অফিস থেকে এলো , দেখল তার মায়ের মুখে একটা অদ্ভুত পরিবর্তন, মুখে একটা হাসির রেখা দেখতে পেল। তার বিয়ের পর পর মা যেন হাঁসতে ভুলে গেছিল , আজ হটাত মার মুখে হাসি দেখে প্রকাশ অবাক হয়ে কিছু জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলো, কিন্তু তার আগেই মা বলে উঠলেন – ওপরে যা, বউমার শরীর টা খারাপ, আজ দু তিনবার বমি করেছে , পারলে একটু ডাক্তারের কাছে নিয়ে যা।

প্রকাশ কিছু বুঝলো না ,সে আর কোন কথা না বলে উপরে চলে গেল তার ঘরে।

ঘরে ঢোকার পর ঝুমা হাসি হাসি মুখ করে বলল – তোমার হিসাবে মনে হয় কোন গণ্ডগোল হয়েছে, চলো বিমল ডাক্তারের কাছে যাই।

বিমল ডাক্তার মেয়েদেরই ডাক্তার আর তার চেম্বার টা প্রকাশদের বাড়ি থেকে আধ ঘণ্টার পথ।

ডাক্তার খানায় যেতে যেতে প্রকাশ ঝুমাকে জিজ্ঞেস করলো – তোমার কি সত্যিই মনে হয়?

ঝুমা লাজুক মুখে বলল – সত্যি বলেই মনে হচ্ছে গো।

তারপর একটু আদুরে গলায় বলে উঠলো- এই জানো আমার না এখন খুব টক জাতিয় জিনিস খেতে ইচ্ছে করে, হ্যাঁগো শুনেছি এটাও নাকি এক ধরনের লক্ষণ?

প্রকাশ যেন একটু অসহায় মুখে বলল – দেখি , ডাক্তার বাবু কি বলেন।

বিমল ডাক্তার খুব রাশ ভারী, সব শুনে ঝুমা কে বললেন – ক বছর বিয়ে হয়েছে?

ঝুমা উত্তর দেওয়ার আগেই প্রকাশ বলল – ডাক্তার বাবু এই দু বছর হতে চলল।

বিমল ডাক্তার পাল্টা জিজ্ঞেস করলেন – এর মধ্যে কোন ইস্যু এসেছিল?

প্রকাশ উত্তর দিল - না ডাক্তার বাবু।

বিমল ডাক্তার একটু অবাক কণ্ঠে বললেন – দেড় বছরে একবারও আসেনি? কড়া প্রোটেকশন নেওয়া হয় বুঝি?

প্রকাশ একটু গর্বিত স্বরে বলল – হ্যাঁ ডাক্তার বাবু, ঝুমা পিল খায়।

বিমল ডাক্তার মুখ থেকে হুম বলে আওয়াজ বার করে ঝুমাকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন, প্রেশার মাপলেন , ওজন করালেন তার পর গম্ভীর মুখে বললেন – দেখো আমার তো মনে হচ্ছে এটা হজমের সমস্যা, তা লাস্ট পিরিয়ড কবে হয়েছে?

ঝুমা বলল – দিন পনেরো আগে।

বিমল ডাক্তার বললেন – তাহোলে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না, দ্যাখো , যদি এটা মিস হয় তবে একটা প্রেগ কার্ড কিনে বাড়িতে টেস্ট করে নিও। যদি পসিটিভ হয় তাহলে এসো।

যাওয়ার পথে প্রকাশ দেখল ঝুমার মনে খুশীর বন্যা , ঝুমার আব্দারে সে অনেক দিন পর ফুচকা খেল, আঁচারের দোকান থেকে অনেক ধরনের আচার কিনল।

সে রাতে ঝুমা আবেগ ভরে বলল –এই জানো আমাদের বাচ্চা কে খুব ভালো করে মানুষ করবো, অনেক খেলনা, জামা কিনে দেব। হ্যাঁগো দেবে তো?

প্রকাশ বুঝল ঝুমা মনে প্রানে মা হতে চায়, সে শুনেছিল সব মেয়েদেরই নাকি জীবনের এটা একটা লক্ষ্য , মা হওয়া, মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া, সেটা ছাড়া যেন জীবন অপূর্ণ। প্রকাশ ঝুমার হাত টা নিজের কাছে টেনে নিয়ে বলল – তুমি যা চাইবে তাই হবে ঝুমা। প্রকাশের মনে একটা গর্বও হোল, ঝুমার জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পাওয়া এখন তারই হাতে।

প্রকাশের মা, বাবাও যেন ধরে নিলো , সংসারে নতুন অতিথি আসছে, ডাক্তারের পুরো কথা কেউ জানার চেষ্টাও করলো না ।

পরের দিন ঝুমা একটা বায়না ধরল- হ্যাঁগো একটা বাচ্ছার ছবি নিয়ে আসবে ? টাঙ্গিয়ে রাখবো, এই সময় বাচ্ছাদের ছবি দেখা মনের পক্ষে খুব ভালো।

প্রকাশ একটু বিরক্ত স্বরে বলল – এতো ব্যস্ত হয়না, আর কদিন সবুর করো।

ঝুমার কথাটা মনে ধরলনা, সে অভিমান করে বলল – তোমাকে আনতে হবে না যাও, আমিই আনবো।

প্রকাশ একটু হেসে বলল – আরে আমি আনবো না কখন বললাম, কিন্তু আর কদিন যাক, টেস্ট করাও , তারপর না হয় আনা যাবে।

ঝুমা কোন কথা বললোনা।

পরেরদিন সকালে অফিস যাওয়ার পথে প্রকাশ ভাবল আজ একটা বাচ্ছার ছবি এনে সে ঝুমাকে চমকে দেবে, কিন্তু অফিসে গিয়ে কাজের চাপে সে ছবির কথা ভুলে গেল।

রাতে বাড়ি এসে ঘরে গিয়ে দেখল তাদের বিছানার সামনের দেওয়ালে একটা বাচ্ছার ছবি, ছবিটা দেখে প্রকাশেরও যেন মন টা ভরে গেল , সত্যিই ছবিটা মন কাড়ানো, ঘরটা যেন ভরে গেছে , প্রকাশের মনের থেকে কেউ যেন বলে উঠলো – তোর এই ঘর এবার পূর্ণ হোল। প্রকাশের মনে একটা পিতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার বাসনা এই প্রথম বার তীব্র ভাবে এলো। প্রকাশ বুঝল জীবনে বাবা হওয়াটাও একটা বিশাল প্রাপ্তি।

প্রকাশ ঝুমাকে জিজ্ঞেস করলো –ছবিটা কি তুমি আনলে?

ঝুমা হেসে বলল – না গো , মা এনে দিয়েছে বাবা কে বলে।

প্রকাশের মন টা আরও ভালো হয়ে গেল, বিয়ে পরে তার সাথে যেন তার বাবা মায়ের মধ্যে একটা অদৃশ্য দেওয়াল গড়ে উঠেছিল সেটা সে এখন মিলিয়ে যেতে দেখল।

সে রাতে ঝুমা প্রকাশের পাশে শুয়ে বলল – হ্যাঁগো তুমি ছেলে চাও না মেয়ে?

প্রকাশ বলল – তোমার কোনটা পছন্দ?

ঝুমা বলল – না তুমি বলো , তোমার পছন্দই আমার পছন্দ।

প্রকাশ বউকে জরিয়ে ধরে বলল – মেয়ে , তোমার মতন মিষ্টি একটা মেয়ে চাই।

ঝুমা বলল – আমি কিন্তু তোমার মতন একটা ভালো মনের, বিশাল মনের ছেলে চাই, তবে মেয়ে হলেও আমার কোনও আপত্তি নেই।

প্রকাশ এই প্রথম ঝুমার মুখ থেকে তার সম্বন্ধে প্রশস্তি শুনল, সে বলল আমি ভালো মনের না খারাপ মনের তুমি বুঝলে কেমন করে।

ঝুমা বলল – মেয়েরা সব বোঝে, বিয়ের পরে যেমন মেয়েরা পরের বাড়িতে এসে চেষ্টা করে সব কিছু মানিয়ে নিতে , সেরকমই ছেলেদের ও দায়িত্ব থাকে বউকে বোঝার, জানার, তাকে সময় দেওয়ার, বাড়ির লোকের সাথে একটা সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখার। তোমাকে দেখেছি তুমি আমার জন্য সেই প্রথম দিন থেকে এসব করছো , এর জন্য যে তুমি অনেক কষ্ট সহ্য করেছ , অনেক দুর্নাম পেয়েছ সেটা আমি জানি গো। আমি যেন জন্ম জন্মান্তর তোমার মতন স্বামী পাই।

প্রকাশের মনটা গর্বে ভরে উঠলো, এভাবে তাকে কেউ সন্মান দেয়নি, এভাবে তাকে নিয়ে কেউ ভাবেনি, ছেলেরা যেন কোনদিনই কারো নিজের হতে পারে না, বিয়ের পরে বাবা মা ভাবে ছেলে পর হয়ে গেল আর বউ ভাবে স্বামী মায়ের নেওটা । প্রকাশের মন টা খুশিতে ভরে উঠলো – বউ তার শুধু সুন্দরিই নয়, বুদ্ধিমতীও বটে।

এভাবে আরও দিন দুই চলে গেল, বাড়িতে এখন একটা বেশ খুশী খুশী ভাব, সাড়া বাড়িতে ঝুমা এখন বিশেষ অতিথি হিসাবে গন্য হচ্ছে, সবার নজর শুধু তারই দিকে।

কিন্তু মানুষ ভাবে এক হয় আরেক , ছন্দটা কাটল তৃতীয় দিনে এসে। প্রকাশ অফিস থেকে আসার পথে একটা বুকস্টল থেকে বাচ্ছাদের নামকরনের বই কিনে নিয়ে এসে বাড়ি ঢুকলো, বাড়িতে ঢুকে প্রকাশের একটু অন্য রকম লাগলো, বসার ঘরে আলো নিভানো, কেউ নেই, সে মাকে ডাকল, কয়েকবার ডেকে সাড়া না পেয়ে সে উপরে উঠে এলো, তার ঘরে ধিমিতালে একটা আলো জ্বলছে, দরজা টা ভেজানো, প্রকাশের বুক টা একটু ছ্যাঁত করে উঠলো, মনটা তার একটু কু ডাকলো। সে আস্তে করে দরজাটা খুলল, ঘরে ঢুকে দেখল ঝুমা বিছানায় পাস ফিরে শুয়ে আছে। প্রকাশ আস্তে করে ডাকল – ঝুমা।

বিছানা থেকে কোন সাড়া এলনা, প্রকাশ বিছানার সামনে গিয়ে ঝুমার গায়ে আস্তে করে ধাক্কা মারল, ঝুমা মুখ ফিরিয়ে প্রকাশের দিকে চাইলো, প্রকাশ দেখল ঝুমার মুখটায় একটা বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে, চোখ মুখ শুকনো , যেন সাড়া শরীরের ওপর দিয়ে একটা ঝড় বয়ে গেছে। প্রকাশ বিছানায় তার পাশে বসে জিজ্ঞেস করলো – কি হয়েছে , ঘর অন্ধকার করে শুয়ে আছো কেন?

ঝুমা চোখ তুলে তার দিকে চেয়ে রইলো, প্রকাশ সেই আবছা অন্ধকারে দেখল ঝুমার চোখে জলের ধারা গড়িয়ে যাচ্ছে , প্রকাশ ঝুমার মাথায় হাত দিয়ে বলল – কি হয়েছে ঝুমা, কাঁদছ কেন?

ঝুমা এবার প্রকাশের বুকের ওপর মাথা রেখে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলো, প্রকাশ অসহায় ভাবে জিজ্ঞেস করলো – কিছু বলো ঝুমা , কাঁদছ কেন?

ঝুমা কাঁদতে কাঁদতে অস্ফুট স্বরে বলল – আমার যে স্বপ্ন ভেঙে গেল আজ , আমি যে বড় স্বপ্ন দেখেছিলাম , সব শেষ হয়ে গেল।

প্রকাশ এতক্ষণে ব্যাপারটা বুঝতে পারলো, হেসে বলল – আরে বোকা এ স্বপ্ন তো আমাদেরই হাতে, তুমি মা হতে চাও আর আমি বাবা, দেখো সব ঠিকঠাক থাকলে সন্তান আসার তো কোন বাঁধা নেই, তোমাকে আর পিল খেতে হবে না।

ঝুমার গলাটা ধরে আসছিলো, সে বলল – কিন্তু আমি যে পুরো ঠোকে গেলাম, মা বাবাও ঠোকে গেল, আমিই ঠকালাম, মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে।

প্রকাশ বলল ধুর পাগল, বাবা মা কি জানেনা, এটা সব সময় মানুষের হাতে থাকে না, ঠিক জানেন, ও তুমি চিন্তা করোনা।

চিন্তা কিন্তু করতেই হোল প্রকাশদের, এর পরে তারা পাঁচ ছয় মাস অনেক প্ল্যান পরিকল্পনা করলেও সন্তান তাদের এলো না। প্রকাশের সেই পরিবারের সম্পর্কে আবার ভাঙ্গন ধরল, বাবা মা কেমন যেন আবার আড়াল হয়ে গেল, ঝুমা যেন দিনে দিনে শুকিয়ে যেতে লাগলো , আর প্রকাশ মনে মনে নিঃস্ব।

প্রকাশ আবার ঝুমাকে নিয়ে বিমল ডাক্তারের কাছে গেল, বিমল ডাক্তার কত গুলো টেস্ট লিখে দিলেন , সেগুলো করিয়ে তারপর তার সাথে দেখা করতে বললেন।

আজ প্রকাশ টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে সরাসরি বিমল ডাক্তারের কাছে গেছিল, বিমল ডাক্তার সব দেখে একটু চুপ থেকে প্রকাশ কে বলল –

তোমাদের উচিৎ ছিল আরও আগে আসা, দেড় দু বছরে যতই প্রোটেকশন নাও এক বার না এক বার ইস্যু আসারই কথা, না আসাটাই সমস্যা। যা হোক, আজ না হয় কাল তোমাদের এই সমস্যার সন্মুখিন হতেই হতো।

প্রকাশের মুখটা ফ্যকাশে হয়ে গেল। সে কিছু বলার আগেই বিমল ডাক্তার বলে উঠলেন-

জানোতো , আমরা সন্তান না হোলে প্রথমেই মেয়েদের দোষ দি, ওদের কে বাঁজা বলতেও ছারিনা, কিন্তু সন্তান না হবার জন্য চল্লিশ শতাংশ যেমন মেয়েদের দোষ থাকে তেমনি চল্লিশ শতাংশ আমাদের মানে পুরুষ জাতির। আর বাকীটা অজানা।

প্রকাশ অতিকষ্টে বলল – এ ক্ষেত্রে সমস্যা কার ডাক্তারবাবু ?

বিমল ডাক্তার বললেন- শুনতে হয়তো তোমার খারাপ লাগবে, কারন আমরা পুরুষ মানুষ, আমরা পরাজয় স্বীকার করতে পারিনা, আমরা আমাদের পুরুস্বত্ব নিয়ে অহংকার করি, আমরা পুরুষত্ব নিয়ে মাঝে সাঝে ছেলেখেলা করি, মেয়েদের ভোগ্যপন্য বানাই। কিন্তু আসল পুরুষত্ব কি জানো? আমার কাছে সেই সফল পুরুষ যে জীবনের সব অন্ধকার দিক কে স্বীকার করে আর উজ্জ্বল দিক কে আরও উজ্জ্বল করার চেষ্টা করে।

বিমল ডাক্তার এবার উঠে দাঁড়িয়ে প্রকাশের কাছে গেলেন, তার মাথায় হাত দিয়ে বললেন- তোমার শুনতে খারাপ লাগলেও এখানে কিন্তু তোমার বউয়ের কোন সমস্যা নেই, সমস্যা টা তোমারই, এবং সেটা খুবই গুরুতর।

প্রকাশের মনে হোল তার গলাটা পুরো শুকিয়ে গেছে, সে সামনে রাখা জলের গ্লাস থেকে জল খেয়ে কোনরকমে বলল – কি সমস্যা ডাক্তার বাবু?

বিমল ডাক্তার একটু চুপ করে বলল – সন্তান হওয়ার জন্য মেয়েদের ডিম্বাণুর সাথে ছেলেদের শুক্রানুর মিলন আবশ্যক , কিন্তু দুটিকেই সজিব, সচল হতে হবে এবং তাতে থাকতে হবে আরেকটা প্রানের উপাদান। আর তোমার রিপোর্ট বলছে, এক্ষেত্রে তোমার শুক্রে প্রানের কোন উপাদানই নেই, আরেকটু খুলে বললে -তোমার বীর্যে শুক্রানু নেই প্রকাশ, তোমার দ্বারা সাধারন ভাবে তোমার বউকে বাচ্ছা দেওয়া কোনদিনই সম্ভব নয়।

প্রকাশের মাথায় যেন কেউ লোহার হাতুরির ঘা বসিয়ে দিল, মুখ থেকে তার কথা বেরোলোনা, তার মনে হোল সে কথা বলতে পারেনা।

বিমল ডাক্তার বলতে থাকলেন – এ কে বলে এজস্পারমিয়া, পৃথিবীতে শতকরা পাঁচ শতাংশ ছেলেদের এই সমস্যা আছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় তুমি তাদের মধ্যে একজন। এই সমস্যা জন্ম থেকেও হতে পারে আবার ছোট বেলার অনেক রোগ থেকেও হতে পারে, এর সম্পূর্ণ চিকিস্থা এখনো বেরয়নি, তবে যদি তোমার শুক্রাশয়ে শুক্র যদি থেকে থাকে তবে নলজাতক উপায়ে তুমি বাবা হতে পারবে । আমি তোমাকে একটা ঠিকানা দিয়ে দিলাম তুমি ওখানে যোগাযোগ করে দেখো। দুঃখ পেয়না , এতো তোমার তো কোন হাত নেই, নিজেকে একদম দোষী ভাবার কারন নেই।

প্রকাশের মাথায় আর কোন কথা ঢুকলনা, সে ঠিকানার কাগজটি নিয়ে বেরিয়ে এলো। তারপর আর প্রকাশ বাড়ি যায়নি, গঙ্গার এই ধারে বসে সে ধাবমান জলের দিকে চেয়ে তার নিজের কথাই ভাবছিল, কি ভাবে সে ঝুমাকে বোলবে তার এই সমস্যার কথা, স্বভাবিক ভাবে তাদের বাচ্ছা না হবার কথা সে কি ভাবে বোঝাবে ? কি ভাবে সে ঝুমার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে ? প্রকাশের চোখের কোনায় জলে ভরে গেল, পুরুষ মানুষ সে, অথচ তাকে এখন সাড়া জীবন নিজের কাছে, ঝুমার কাছে একটা গ্ল্যানি নিয়ে কাটাতে হবে, তার সব কিছু থাকতেও সে ঝুমার সাথে সহবাস করে ঝুমাকে তার অতি কাঙ্ক্ষিত একটা সন্তান দিতে পারবে না। সে এক ক্ষুদ্র মানব , তার হাতে কোন জাদুকাঠি নেই যে সে এর থেকে বেরিয়ে এসে ঝুমা কে বলতে পারে – ঝুমা আমি এক নিখুঁত পুরুষ যে তোমাকে পৃথিবীর সব সুখ দিতে পারে।

********* সমাপ্ত ************************


প্রকাশ সিগারেটটা শেষ করে পড়ন্ত বেলার আলোয় গঙ্গার মৃদু ঢেউ খেলে যাওয়া জলের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো, আজ তার জীবনে যে ঘটনা ঘটে গেছে সেটা কোন দুঃস্বপ্নের থেকেও কম নয়। সে এক চরম সত্যের থেকে মুখ লুকাতে এই গঙ্গার ধারে চলে এসেছে।

প্রকাশ এক সরকারি চাকুরে,সুঠাম চেহারা , তামাটে রঙ এক কথায় বলতে গেলে সুপুরুষ, এহেন ছেলের জন্য বাড়ির লোক একটু সুন্দরী মেয়েদের দিকেই ঝোঁকে , যদিও সেই ঝোঁকাটা তাৎক্ষনিক হয় কারন ভবিষ্যতে বাহ্যিক সৌন্দর্য কতটা কাজে লাগে সেটা অনেক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতই জানান দেয়। আর বিয়ের বাজারে সরকারি চাকুরের চাহিদা চিরদিনের, তাই বাড়ির লোক অনেক দেখেশুনে প্রকাশের সাথে ঝুমার বিয়ে ঠিক করলো। ঝুমাকে শুধু সুন্দরী বললে ভুল বলা হবে তার সাথে অপূর্ব সুন্দরী তকমাটা খুব ভালো মিলে যায়। বিয়ের সময় লোকে বলল বটে একেবারে রাজযোটক । প্রকাশও মহা খুশী , নিজেকে নিয়ে তার একটা চাপা অহঙ্কার ছিল সেটা বেড়ে আরও দুগুন হোল ঝুমার সাথে তার বিয়ে হয়ে। ফুলশয্যার রাতে প্রকাশ আরও বুঝল ঝুমার চিন্তা ভাবনার সাথে তার অনেকাংশে মিলে যায় আর এটাই জীবনে চলার পথে মূল মন্ত্র। প্রকাশ ,ঝুমা নিজেদের নিয়ে অনেক রঙ্গিন স্বপ্ন দেখা শুরু করলো।

কিন্তু দাম্পত্যের সুখের সাগরে যদি পরিবারের সুখের মিলন না ঘটে তাহলে একটা চোরাস্রোত বোয়ে যায়, আর প্রকাশের ক্ষেত্রে সেরকমই ঘটলো। কদিনের মধ্যে সে বুঝল সে যেমন ঝুমা কে ভালোবাসে ঝুমাও তার থেকে কম যায় না আর সে জন্যই বোধহয় আরও একটা কথা তার কানে এলো, প্রকাশ স্ত্রৈন , সে বউ ছাড়া কিছু চেনে না, জানে না। সময় সুযোগ পেলেই সে বউয়ের সাথে সময় কাটায়। বাড়িতে তার বাবা , মা আর এক ভাই আছে, তাদের সাথে সময় কাটানো টা এখন তার অনেক কমে গেল, তার মনে হোল নতুন বউ, তাকে এখন বেশী সময় দেওয়াটা দরকার। কিন্তু তার চিন্তা ভাবনার সাথে তার নিজের পরিবার গেলো না, তার বাবা মার মনে হোল প্রকাশ পাল্টে গেছে কিন্তু প্রকাশ নিজে জানে সে পাল্টায় নি।

এদিকে ঝুমা খুব খুশি হোয়েও খুশি হতে পারলো না, বর তার এতো খেয়াল রাখে, তার কোন দরকারি জিনিস সে না চাইতেই পেয়ে যায় , প্রায় ছুটির দিনে তারা ঘুরতে বেরিয়ে পরে, ঝুমার কোন অভাব প্রকাশ রাখে না, কিন্তু বিয়ের পরের প্রথম মাস যে শাশুড়ি তাকে এতো খেয়াল রাখতেন, খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু কোরে এমনকি তার স্নানের জল পর্যন্ত এগিয়ে দিতেন , তিনি যেন এখন কেমন গুটিয়ে গেছেন , খুব দরকার না পরলে তিনি কথা বলেন না, , তার ঘরে আসেন না,ঝুমা অবাক হোয়ে ভাবে কি তার দোষ? সেতো চেয়েছিল সবাইকে নিয়ে সুখে থাকতে।

প্রকাশও জিনিস টা খেয়াল করেছে, ছোটবেলা থেকেই সে তার মাকে খুব ভালোবাসে এবং সেটা বিয়ের পরেও বিন্দুমাত্র কমেনি, শুধু ঝুমার প্রতি তার মনোযোগ টা এখন বেশী , সে কারণেই কি তার সাথে মা সেভাবে কথা বলে না। প্রকাশের মনে এটা নিয়ে একটা অসহায় ভাব কাজ করে কিন্তু সে জানে এটা নিয়ে কথা বোলতে গেলে সংসারে শান্তি বাড়বে না। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার প্রকাশ বা ঝুমা এ নিয়ে কোন আলোচনাও করে না হয়তো উভয় উভয়ের ব্যাপারে খুব স্পর্শ কাতর বলে।

সুখ , দুঃখ আর সম্পর্কের টানাপোড়নে এভাবে দেখতে দেখতে প্রকাশ আর ঝুমার বিবাহিত জীবন দেড় বছর পার করে দিল, আর এই দেড় বছরে দাম্পত্য জীবনে অনেক বন্ধন তৈরি হলেও পারিবারিক বন্ধন অনেক কমে গেল। ঝুমার মনে হতে লাগলো সে এ বাড়িতে ভাড়া থাকে , কালে ভদ্রে তার শ্বশুর, শাশুড়ি তার সাথে কথা বলে, শুধু প্রকাশ এলে মনে হয় তার জীবনে এখনো রঙিন স্বপ্ন আছে কারন প্রকাশ অদ্ভুত ভাবে পরিবারের দুর্বলতা চেপেও তার প্রতি ভালোবাসার খামতি রাখে না।

কিন্তু প্রকাশ অফিসে চলে যাবার পর ঝুমা খুব একাকী হয়ে যায়, বিয়ের আগে সে স্বপ্ন দেখেছিল স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি আর দেওর নিয়ে তার মজায় দিন কাটবে কিন্তু এই দেড় বছরে সে বুঝে গেছে এ তার জীবনে হওয়ার নয়, কিন্তু একাকীত্ব তার জীবনকে গ্রাস করছে , মাঝে মাঝে ঝুমা অসহায় হয়ে ভাবে , কি ভাবে সে তার জীবনকে সামনে নিয়ে যাবে, কি ভাবে তার এই একঘেয়ে একাকীত্ব কাটবে ? এ প্রশ্নের একটা সমাধান তার মাথায় এলো , একমাত্র একটা বাচ্চাই পারে তার এই একাকীত্ব কাটাতে।

ঝুমার ইচ্ছে থাকলেও প্রকাশের জন্যই ওরা সন্তান নেওয়া নিয়ে কোন তাড়াহুড়ো করে নি, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে বিয়ের পরপরই ঝুমা পিল নেওয়া শুরু করেছিল, সন্তানের ইচ্ছাটা মনে আসার পর থেকে কোন কোন দিন ঝুমা সেটা খেত না অনেকটা ইচ্ছা করে আবার অনেকটা ভুল বশত। প্রকাশ কে সন্তানের কথা বোলতে প্রকাশ যেন একপ্রকার রে রে করে ঊঠলো, আদর করে জড়িয়ে ধরে বৌকে বলল –আরো বছর খানেক যাক , তারপর। ঝুমার মনে হোতো প্রকাশ যেন শুধু তার বউকে ভালবাসতেই বিয়ে করেছে , কিন্তু সে মনে মনে একটা উপায় বার করলো । ঝুমা এবার ইচ্ছে করেই পর পর তিনদিন পিল খেলনা। আর তার কদিন পর সে তার শরীরে কি রকম একটা অস্বস্তি অনুভব করা শুরু করলো।

সেদিন রাতে ঝুমা প্রকাশের বুকে মুখ লুকিয়ে বলল –

এই জানো আমার না কদিন ধরে গাটা কেমন বমি বমি করছে।

প্রকাশ বউকে জরিয়ে ধরে বলল –কেন কিছু খেয়েছ নাকি? কদিন ধরে হচ্ছে?

ঝুমা আস্তে করে বলল- গত পরশু থেকে । আমার তো ভয় লাগছে , যদি কিছু হয়ে যায়?

প্রকাশ একটু হেসে বলল – বিয়ের পর এতে ভয় পাবার কি আছে? কিন্তু হিসাবে তো হবার তো কথা নয় ?

ঝুমা মুখটা আরেকটু লুকিয়ে বলল- সব কি আর হিসাবে হয় গো?

প্রকাশ বউকে আরও কাছে টেনে বলল – না গো , আরও কয়েকদিন যাক তারপর আর হিসাবে চলবো না।

ঝুমা কিছু বলল না , মনে মনে হেসে পাশ ফিরলো।

পরদিন প্রকাশ একটু আগে অফিস থেকে এলো , দেখল তার মায়ের মুখে একটা অদ্ভুত পরিবর্তন, মুখে একটা হাসির রেখা দেখতে পেল। তার বিয়ের পর পর মা যেন হাঁসতে ভুলে গেছিল , আজ হটাত মার মুখে হাসি দেখে প্রকাশ অবাক হয়ে কিছু জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলো, কিন্তু তার আগেই মা বলে উঠলেন – ওপরে যা, বউমার শরীর টা খারাপ, আজ দু তিনবার বমি করেছে , পারলে একটু ডাক্তারের কাছে নিয়ে যা।

প্রকাশ কিছু বুঝলো না ,সে আর কোন কথা না বলে উপরে চলে গেল তার ঘরে।

ঘরে ঢোকার পর ঝুমা হাসি হাসি মুখ করে বলল – তোমার হিসাবে মনে হয় কোন গণ্ডগোল হয়েছে, চলো বিমল ডাক্তারের কাছে যাই।

বিমল ডাক্তার মেয়েদেরই ডাক্তার আর তার চেম্বার টা প্রকাশদের বাড়ি থেকে আধ ঘণ্টার পথ।

ডাক্তার খানায় যেতে যেতে প্রকাশ ঝুমাকে জিজ্ঞেস করলো – তোমার কি সত্যিই মনে হয়?

ঝুমা লাজুক মুখে বলল – সত্যি বলেই মনে হচ্ছে গো।

তারপর একটু আদুরে গলায় বলে উঠলো- এই জানো আমার না এখন খুব টক জাতিয় জিনিস খেতে ইচ্ছে করে, হ্যাঁগো শুনেছি এটাও নাকি এক ধরনের লক্ষণ?

প্রকাশ যেন একটু অসহায় মুখে বলল – দেখি , ডাক্তার বাবু কি বলেন।

বিমল ডাক্তার খুব রাশ ভারী, সব শুনে ঝুমা কে বললেন – ক বছর বিয়ে হয়েছে?

ঝুমা উত্তর দেওয়ার আগেই প্রকাশ বলল – ডাক্তার বাবু এই দু বছর হতে চলল।

বিমল ডাক্তার পাল্টা জিজ্ঞেস করলেন – এর মধ্যে কোন ইস্যু এসেছিল?

প্রকাশ উত্তর দিল - না ডাক্তার বাবু।

বিমল ডাক্তার একটু অবাক কণ্ঠে বললেন – দেড় বছরে একবারও আসেনি? কড়া প্রোটেকশন নেওয়া হয় বুঝি?

প্রকাশ একটু গর্বিত স্বরে বলল – হ্যাঁ ডাক্তার বাবু, ঝুমা পিল খায়।

বিমল ডাক্তার মুখ থেকে হুম বলে আওয়াজ বার করে ঝুমাকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন, প্রেশার মাপলেন , ওজন করালেন তার পর গম্ভীর মুখে বললেন – দেখো আমার তো মনে হচ্ছে এটা হজমের সমস্যা, তা লাস্ট পিরিয়ড কবে হয়েছে?

ঝুমা বলল – দিন পনেরো আগে।

বিমল ডাক্তার বললেন – তাহোলে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না, দ্যাখো , যদি এটা মিস হয় তবে একটা প্রেগ কার্ড কিনে বাড়িতে টেস্ট করে নিও। যদি পসিটিভ হয় তাহলে এসো।

যাওয়ার পথে প্রকাশ দেখল ঝুমার মনে খুশীর বন্যা , ঝুমার আব্দারে সে অনেক দিন পর ফুচকা খেল, আঁচারের দোকান থেকে অনেক ধরনের আচার কিনল।

সে রাতে ঝুমা আবেগ ভরে বলল –এই জানো আমাদের বাচ্চা কে খুব ভালো করে মানুষ করবো, অনেক খেলনা, জামা কিনে দেব। হ্যাঁগো দেবে তো?

প্রকাশ বুঝল ঝুমা মনে প্রানে মা হতে চায়, সে শুনেছিল সব মেয়েদেরই নাকি জীবনের এটা একটা লক্ষ্য , মা হওয়া, মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া, সেটা ছাড়া যেন জীবন অপূর্ণ। প্রকাশ ঝুমার হাত টা নিজের কাছে টেনে নিয়ে বলল – তুমি যা চাইবে তাই হবে ঝুমা। প্রকাশের মনে একটা গর্বও হোল, ঝুমার জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পাওয়া এখন তারই হাতে।

প্রকাশের মা, বাবাও যেন ধরে নিলো , সংসারে নতুন অতিথি আসছে, ডাক্তারের পুরো কথা কেউ জানার চেষ্টাও করলো না ।

পরের দিন ঝুমা একটা বায়না ধরল- হ্যাঁগো একটা বাচ্ছার ছবি নিয়ে আসবে ? টাঙ্গিয়ে রাখবো, এই সময় বাচ্ছাদের ছবি দেখা মনের পক্ষে খুব ভালো।

প্রকাশ একটু বিরক্ত স্বরে বলল – এতো ব্যস্ত হয়না, আর কদিন সবুর করো।

ঝুমার কথাটা মনে ধরলনা, সে অভিমান করে বলল – তোমাকে আনতে হবে না যাও, আমিই আনবো।

প্রকাশ একটু হেসে বলল – আরে আমি আনবো না কখন বললাম, কিন্তু আর কদিন যাক, টেস্ট করাও , তারপর না হয় আনা যাবে।

ঝুমা কোন কথা বললোনা।

পরেরদিন সকালে অফিস যাওয়ার পথে প্রকাশ ভাবল আজ একটা বাচ্ছার ছবি এনে সে ঝুমাকে চমকে দেবে, কিন্তু অফিসে গিয়ে কাজের চাপে সে ছবির কথা ভুলে গেল।

রাতে বাড়ি এসে ঘরে গিয়ে দেখল তাদের বিছানার সামনের দেওয়ালে একটা বাচ্ছার ছবি, ছবিটা দেখে প্রকাশেরও যেন মন টা ভরে গেল , সত্যিই ছবিটা মন কাড়ানো, ঘরটা যেন ভরে গেছে , প্রকাশের মনের থেকে কেউ যেন বলে উঠলো – তোর এই ঘর এবার পূর্ণ হোল। প্রকাশের মনে একটা পিতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার বাসনা এই প্রথম বার তীব্র ভাবে এলো। প্রকাশ বুঝল জীবনে বাবা হওয়াটাও একটা বিশাল প্রাপ্তি।

প্রকাশ ঝুমাকে জিজ্ঞেস করলো –ছবিটা কি তুমি আনলে?

ঝুমা হেসে বলল – না গো , মা এনে দিয়েছে বাবা কে বলে।

প্রকাশের মন টা আরও ভালো হয়ে গেল, বিয়ে পরে তার সাথে যেন তার বাবা মায়ের মধ্যে একটা অদৃশ্য দেওয়াল গড়ে উঠেছিল সেটা সে এখন মিলিয়ে যেতে দেখল।

সে রাতে ঝুমা প্রকাশের পাশে শুয়ে বলল – হ্যাঁগো তুমি ছেলে চাও না মেয়ে?

প্রকাশ বলল – তোমার কোনটা পছন্দ?

ঝুমা বলল – না তুমি বলো , তোমার পছন্দই আমার পছন্দ।

প্রকাশ বউকে জরিয়ে ধরে বলল – মেয়ে , তোমার মতন মিষ্টি একটা মেয়ে চাই।

ঝুমা বলল – আমি কিন্তু তোমার মতন একটা ভালো মনের, বিশাল মনের ছেলে চাই, তবে মেয়ে হলেও আমার কোনও আপত্তি নেই।

প্রকাশ এই প্রথম ঝুমার মুখ থেকে তার সম্বন্ধে প্রশস্তি শুনল, সে বলল আমি ভালো মনের না খারাপ মনের তুমি বুঝলে কেমন করে।

ঝুমা বলল – মেয়েরা সব বোঝে, বিয়ের পরে যেমন মেয়েরা পরের বাড়িতে এসে চেষ্টা করে সব কিছু মানিয়ে নিতে , সেরকমই ছেলেদের ও দায়িত্ব থাকে বউকে বোঝার, জানার, তাকে সময় দেওয়ার, বাড়ির লোকের সাথে একটা সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখার। তোমাকে দেখেছি তুমি আমার জন্য সেই প্রথম দিন থেকে এসব করছো , এর জন্য যে তুমি অনেক কষ্ট সহ্য করেছ , অনেক দুর্নাম পেয়েছ সেটা আমি জানি গো। আমি যেন জন্ম জন্মান্তর তোমার মতন স্বামী পাই।

প্রকাশের মনটা গর্বে ভরে উঠলো, এভাবে তাকে কেউ সন্মান দেয়নি, এভাবে তাকে নিয়ে কেউ ভাবেনি, ছেলেরা যেন কোনদিনই কারো নিজের হতে পারে না, বিয়ের পরে বাবা মা ভাবে ছেলে পর হয়ে গেল আর বউ ভাবে স্বামী মায়ের নেওটা । প্রকাশের মন টা খুশিতে ভরে উঠলো – বউ তার শুধু সুন্দরিই নয়, বুদ্ধিমতীও বটে।

এভাবে আরও দিন দুই চলে গেল, বাড়িতে এখন একটা বেশ খুশী খুশী ভাব, সাড়া বাড়িতে ঝুমা এখন বিশেষ অতিথি হিসাবে গন্য হচ্ছে, সবার নজর শুধু তারই দিকে।

কিন্তু মানুষ ভাবে এক হয় আরেক , ছন্দটা কাটল তৃতীয় দিনে এসে। প্রকাশ অফিস থেকে আসার পথে একটা বুকস্টল থেকে বাচ্ছাদের নামকরনের বই কিনে নিয়ে এসে বাড়ি ঢুকলো, বাড়িতে ঢুকে প্রকাশের একটু অন্য রকম লাগলো, বসার ঘরে আলো নিভানো, কেউ নেই, সে মাকে ডাকল, কয়েকবার ডেকে সাড়া না পেয়ে সে উপরে উঠে এলো, তার ঘরে ধিমিতালে একটা আলো জ্বলছে, দরজা টা ভেজানো, প্রকাশের বুক টা একটু ছ্যাঁত করে উঠলো, মনটা তার একটু কু ডাকলো। সে আস্তে করে দরজাটা খুলল, ঘরে ঢুকে দেখল ঝুমা বিছানায় পাস ফিরে শুয়ে আছে। প্রকাশ আস্তে করে ডাকল – ঝুমা।

বিছানা থেকে কোন সাড়া এলনা, প্রকাশ বিছানার সামনে গিয়ে ঝুমার গায়ে আস্তে করে ধাক্কা মারল, ঝুমা মুখ ফিরিয়ে প্রকাশের দিকে চাইলো, প্রকাশ দেখল ঝুমার মুখটায় একটা বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে, চোখ মুখ শুকনো , যেন সাড়া শরীরের ওপর দিয়ে একটা ঝড় বয়ে গেছে। প্রকাশ বিছানায় তার পাশে বসে জিজ্ঞেস করলো – কি হয়েছে , ঘর অন্ধকার করে শুয়ে আছো কেন?

ঝুমা চোখ তুলে তার দিকে চেয়ে রইলো, প্রকাশ সেই আবছা অন্ধকারে দেখল ঝুমার চোখে জলের ধারা গড়িয়ে যাচ্ছে , প্রকাশ ঝুমার মাথায় হাত দিয়ে বলল – কি হয়েছে ঝুমা, কাঁদছ কেন?

ঝুমা এবার প্রকাশের বুকের ওপর মাথা রেখে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলো, প্রকাশ অসহায় ভাবে জিজ্ঞেস করলো – কিছু বলো ঝুমা , কাঁদছ কেন?

ঝুমা কাঁদতে কাঁদতে অস্ফুট স্বরে বলল – আমার যে স্বপ্ন ভেঙে গেল আজ , আমি যে বড় স্বপ্ন দেখেছিলাম , সব শেষ হয়ে গেল।

প্রকাশ এতক্ষণে ব্যাপারটা বুঝতে পারলো, হেসে বলল – আরে বোকা এ স্বপ্ন তো আমাদেরই হাতে, তুমি মা হতে চাও আর আমি বাবা, দেখো সব ঠিকঠাক থাকলে সন্তান আসার তো কোন বাঁধা নেই, তোমাকে আর পিল খেতে হবে না।

ঝুমার গলাটা ধরে আসছিলো, সে বলল – কিন্তু আমি যে পুরো ঠোকে গেলাম, মা বাবাও ঠোকে গেল, আমিই ঠকালাম, মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে।

প্রকাশ বলল ধুর পাগল, বাবা মা কি জানেনা, এটা সব সময় মানুষের হাতে থাকে না, ঠিক জানেন, ও তুমি চিন্তা করোনা।

চিন্তা কিন্তু করতেই হোল প্রকাশদের, এর পরে তারা পাঁচ ছয় মাস অনেক প্ল্যান পরিকল্পনা করলেও সন্তান তাদের এলো না। প্রকাশের সেই পরিবারের সম্পর্কে আবার ভাঙ্গন ধরল, বাবা মা কেমন যেন আবার আড়াল হয়ে গেল, ঝুমা যেন দিনে দিনে শুকিয়ে যেতে লাগলো , আর প্রকাশ মনে মনে নিঃস্ব।

প্রকাশ আবার ঝুমাকে নিয়ে বিমল ডাক্তারের কাছে গেল, বিমল ডাক্তার কত গুলো টেস্ট লিখে দিলেন , সেগুলো করিয়ে তারপর তার সাথে দেখা করতে বললেন।

আজ প্রকাশ টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে সরাসরি বিমল ডাক্তারের কাছে গেছিল, বিমল ডাক্তার সব দেখে একটু চুপ থেকে প্রকাশ কে বলল –

তোমাদের উচিৎ ছিল আরও আগে আসা, দেড় দু বছরে যতই প্রোটেকশন নাও এক বার না এক বার ইস্যু আসারই কথা, না আসাটাই সমস্যা। যা হোক, আজ না হয় কাল তোমাদের এই সমস্যার সন্মুখিন হতেই হতো।

প্রকাশের মুখটা ফ্যকাশে হয়ে গেল। সে কিছু বলার আগেই বিমল ডাক্তার বলে উঠলেন-

জানোতো , আমরা সন্তান না হোলে প্রথমেই মেয়েদের দোষ দি, ওদের কে বাঁজা বলতেও ছারিনা, কিন্তু সন্তান না হবার জন্য চল্লিশ শতাংশ যেমন মেয়েদের দোষ থাকে তেমনি চল্লিশ শতাংশ আমাদের মানে পুরুষ জাতির। আর বাকীটা অজানা।

প্রকাশ অতিকষ্টে বলল – এ ক্ষেত্রে সমস্যা কার ডাক্তারবাবু ?

বিমল ডাক্তার বললেন- শুনতে হয়তো তোমার খারাপ লাগবে, কারন আমরা পুরুষ মানুষ, আমরা পরাজয় স্বীকার করতে পারিনা, আমরা আমাদের পুরুস্বত্ব নিয়ে অহংকার করি, আমরা পুরুষত্ব নিয়ে মাঝে সাঝে ছেলেখেলা করি, মেয়েদের ভোগ্যপন্য বানাই। কিন্তু আসল পুরুষত্ব কি জানো? আমার কাছে সেই সফল পুরুষ যে জীবনের সব অন্ধকার দিক কে স্বীকার করে আর উজ্জ্বল দিক কে আরও উজ্জ্বল করার চেষ্টা করে।

বিমল ডাক্তার এবার উঠে দাঁড়িয়ে প্রকাশের কাছে গেলেন, তার মাথায় হাত দিয়ে বললেন- তোমার শুনতে খারাপ লাগলেও এখানে কিন্তু তোমার বউয়ের কোন সমস্যা নেই, সমস্যা টা তোমারই, এবং সেটা খুবই গুরুতর।

প্রকাশের মনে হোল তার গলাটা পুরো শুকিয়ে গেছে, সে সামনে রাখা জলের গ্লাস থেকে জল খেয়ে কোনরকমে বলল – কি সমস্যা ডাক্তার বাবু?

বিমল ডাক্তার একটু চুপ করে বলল – সন্তান হওয়ার জন্য মেয়েদের ডিম্বাণুর সাথে ছেলেদের শুক্রানুর মিলন আবশ্যক , কিন্তু দুটিকেই সজিব, সচল হতে হবে এবং তাতে থাকতে হবে আরেকটা প্রানের উপাদান। আর তোমার রিপোর্ট বলছে, এক্ষেত্রে তোমার শুক্রে প্রানের কোন উপাদানই নেই, আরেকটু খুলে বললে -তোমার বীর্যে শুক্রানু নেই প্রকাশ, তোমার দ্বারা সাধারন ভাবে তোমার বউকে বাচ্ছা দেওয়া কোনদিনই সম্ভব নয়।

প্রকাশের মাথায় যেন কেউ লোহার হাতুরির ঘা বসিয়ে দিল, মুখ থেকে তার কথা বেরোলোনা, তার মনে হোল সে কথা বলতে পারেনা।

বিমল ডাক্তার বলতে থাকলেন – এ কে বলে এজস্পারমিয়া, পৃথিবীতে শতকরা পাঁচ শতাংশ ছেলেদের এই সমস্যা আছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় তুমি তাদের মধ্যে একজন। এই সমস্যা জন্ম থেকেও হতে পারে আবার ছোট বেলার অনেক রোগ থেকেও হতে পারে, এর সম্পূর্ণ চিকিস্থা এখনো বেরয়নি, তবে যদি তোমার শুক্রাশয়ে শুক্র যদি থেকে থাকে তবে নলজাতক উপায়ে তুমি বাবা হতে পারবে । আমি তোমাকে একটা ঠিকানা দিয়ে দিলাম তুমি ওখানে যোগাযোগ করে দেখো। দুঃখ পেয়না , এতো তোমার তো কোন হাত নেই, নিজেকে একদম দোষী ভাবার কারন নেই।

প্রকাশের মাথায় আর কোন কথা ঢুকলনা, সে ঠিকানার কাগজটি নিয়ে বেরিয়ে এলো। তারপর আর প্রকাশ বাড়ি যায়নি, গঙ্গার এই ধারে বসে সে ধাবমান জলের দিকে চেয়ে তার নিজের কথাই ভাবছিল, কি ভাবে সে ঝুমাকে বোলবে তার এই সমস্যার কথা, স্বভাবিক ভাবে তাদের বাচ্ছা না হবার কথা সে কি ভাবে বোঝাবে ? কি ভাবে সে ঝুমার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে ? প্রকাশের চোখের কোনায় জলে ভরে গেল, পুরুষ মানুষ সে, অথচ তাকে এখন সাড়া জীবন নিজের কাছে, ঝুমার কাছে একটা গ্ল্যানি নিয়ে কাটাতে হবে, তার সব কিছু থাকতেও সে ঝুমার সাথে সহবাস করে ঝুমাকে তার অতি কাঙ্ক্ষিত একটা সন্তান দিতে পারবে না। সে এক ক্ষুদ্র মানব , তার হাতে কোন জাদুকাঠি নেই যে সে এর থেকে বেরিয়ে এসে ঝুমা কে বলতে পারে – ঝুমা আমি এক নিখুঁত পুরুষ যে তোমাকে পৃথিবীর সব সুখ দিতে পারে।

********* সমাপ্ত ************************


bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.