এক প্রত্যন্ত গ্রাম শিবপুর। চারিদিকে অনেকদূর পর্যন্ত ধানক্ষেত। তার মাঝে গাছপালা ঘেরা সুন্দর মাঝারি আকারের গ্রাম। একটা মোরামের রাস্তা চলে গেছে গ্রামের মাঝ দিয়ে। সেই রাস্তা দিয়েই স্টেশন যেতে হয়। স্টেশন এখান থেকে পনেরো কিলোমিটার দূরে। এই গ্রামে বলার মত বিশেষ কিছুই নেই শুধু এক পুরনো মন্দির ছাড়া। গ্রামের শ্মশানে আছে সেই মন্দির। এখন অবশ্য সেটা ভেঙে চুরে গেছে। মন্দিরের পাশেই বিশাল দিঘি আর দিঘির পাড়ে বিশাল এক গাছ। সে গাছের নাম কেউ জানে না। এরকম গাছ এই তল্লাটে ওই একটাই আছে। গ্রামের সবথেকে বয়স্ক মানুষও গাছটাকে জন্মে থেকেই দেখছে। গ্রামবাসীরা একে খুড়ো গাছ বলে। দিঘির পাড়ে খুড়ো গাছ তারপর একটা ফাঁকা জায়গা তারপর থেকেই বাঁশবাগান। ওই গাছ আর বাঁশঝাড়ের মাঝে ফাঁকা জায়গাটায় মড়া পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। এদিকটায় গ্রামের লোকজন বড় একটা আসে না। গ্রামের কেউ মারা গেলে এই শ্মশানে দাহ করা হয়। তাও খুব কম, কারণ এখন কারোর কোন রোগ হলেই শহরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সুস্থ হয়ে ফিরলে ভাল নয়ত হাসপাতালে মারা গেলে শহরেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। নেহাতই গরীব বা হঠাৎ করে কেউ মারা গেলে গ্রামের এই শ্মশানে দাহ করা হয়। যেহেতু কম ব্যবহার হয় তাই শ্মশানের চেহারা খুব খারাপ। প্রাচীন ভাঙা মন্দিরটা ছাড়া সেখানে আর কিছুই নেই। বৃষ্টি বাদলায় লোকে ওই মন্দিরে আশ্রয় নেয়। শ্মশানে চারিদিকে আগাছার জঙ্গল হয়ে আছে। ওই খুড়ো গাছকে লোকে পুজো করে। কাণ্ডে অনেক সুতো টুতো জড়িয়ে, গোড়াতে নানা রকম শিলা এনে রেখে, সিঁদুর চন্দন লেপে একটা দেবমাহাত্য তৈরি করেছে মানুষ। মড়া পোড়াতে এসে লোকে ধুপ জ্বালিয়ে আর বাতাসা ছড়িয়ে যায় । গ্রামের লোকজন বেশিরভাগই চাষি। তারা কোন সাতে পাঁচে থাকে না। একদিন চৈত্র মাসের এক বিকেলে প্রচণ্ড কালবৈশাখীর ঝড় উঠল। অনেক গাছ পড়ল অনেক বাড়ির চাল উড়ে গেল তার সঙ্গে মুহুর্মুহু বাজ পড়তে লাগল। শিবপুরের মানুষ এরকম ঝড় বৃষ্টি দেখেনি। হঠাৎ কড়াৎ করে ভীষণ এক বাজ পড়ল। শ্মশানের যে খুড়ো গাছ ছিল সেই গাছের ওপরেই বাজটা পড়ল। পরেরদিন গ্রামবাসীরা দেখল ওই গাছটা ঝলসে গেছে। সেই থেকে খুড়োগাছটা মরেই গেলে। শুকিয়ে গিয়ে তার সব পাতা ঝরে গিয়ে কঙ্কালের মত দাঁড়িয়ে রইল। এর পর দু তিন বছর কেটে গেছে।
শিবপুর গ্রামে রামপ্রসাদ বলে এক খুব কিপটে লোক ছিল। একদিন সে হটাৎ করে মারা গেল। দিব্যি সুস্থ লোক রাত্রে শুল কিন্তু সকালে উঠল না। পাশের গ্রামের শশাঙ্ক ডাক্তার এসে বলল ঘুমের মধ্যেই হার্টফেল করে মারা গেছে। রামপ্রসাদের বছর পঞ্চাশ বয়স হয়েছিল। বিয়ে থা করেনি, দাদার সংসারে সে থাকত। ঘটকালি আর সুদে টাকা খাটানো ছিল রামপ্রসাদের পেশা। রোজগারপাতি ভালোই হত কিন্তু একটা পয়সাও সে খরচ করত না। খাইখরচা বাবদ সংসারে সামান্য কিছু টাকা দিত এছাড়া তার আর কোন খরচ ছিল না। বাড়িতে বা পাড়ায় সে একটা খাটো ধুতি আর কাঁধে একটা গামছা ফেলে ঘুরে বেড়াত আর কোথায় গেলে টেলে একটাই ভাল পাঞ্জাবি আর ধুতির সেট ছিল সেটা পরে যেত। গ্রামবাসীরা তাকে গ্রামের শ্মশানেই দাহ করল। রামপ্রসাদ মারা গেলে সবাই ভাবল সে অনেক টাকা রেখে মারা গেছে। কিন্তু তার ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও একশ বত্রিশ টাকার বেশি পাওয়া গেল না। রামপ্ৰসাদের দাদা গঙ্গাপ্রসাদ খুব সরল মানুষ, সে গ্রামের লোকদের সাথে আলোচনা করতে লাগল যে ভাইয়ের ঘর থেকে সে কিছুই পাইনি এদিকে সৎকার ও শ্রাদ্ধেরও তো একটা খরচ আছে। সবাই ভাবতে লাগল রামপ্রসাদ কোথায় টাকা রেখে যেতে পারে। কেউ বলল নিশ্চয়ই বাড়ির উঠোনে পুঁতে রেখেছে। কেউ বলল ওর ঘরেই টাকা আছে। তখন গ্রামের এক বিজ্ঞ বলল গদির মধ্যে লুকোনো থাকতে পারে, গদি চিরে দেখতো। বালিশ তোষক গদি সব চেরা হল কিন্তু কিছুই পাওয়া গেল না। যাই হোক রামপ্রসাদকে দুপুরের মধ্যে সৎকার করে এসে বিকেলে আড্ডা বসল। গ্রামের মাঝখানটায় এক বট গাছ ছিল তার নীচে একটা মাচায় বসে ছেলে বুড়ো সবাই আড্ডা দিত। সেখানে এক বুড়ো বলল রামপ্রসাদ এত কিপটেমি করে টাকা জমালো কিন্তু সে টাকা কেউ ভোগ করতে পারল না এতে রামপ্রসাদের আত্মা শান্তি পাবে না। বাকিরাও সায় দিল। এর পরের দিন দনু গোয়ালা শ্মশানের দিকে গেছিল গরু বাঁধতে। হটাৎ দিঘির দিকে তাকাতে সে দেখল সেই খুড়ো গাছটা হেলে গেছে। সে একটু অবাক হল। গাছটা হেলল কি করে? কাল অব্দি তো সোজা ছিল। তখন তার গতকালের সেই বুড়োর কথা মনে পড়ে গেল। কাল বিকেলের সেই আড্ডায় সে ছিল। বুড়ো বলেছিল যে রামপ্রসাদের আত্মা শান্তি পাবে না। কালই রামপ্রসাদ মারা গেছে আর আজই গাছ হেলে গেছে এটা তো এমনি এমনি হয় না। তার মানে ওই গাছের মাথায় নিশ্চয়ই রামপ্রসাদের ভূত বসে আছে। এই ভাবাও যা ওমনি গরুর দড়ি ধরে টান মেরে দৌড়ও তাই। গরু বেচারা বেশ কচি ঘাস খাবে বলে যাচ্ছিল, মালিকের দড়ি ধরে টান মারাতে সেও মালিকের পিছনে দৌড় লাগল। দিনু এক্কেবারে গ্রামের সেই বটতলায় গিয়ে থামল। ওখানে কিছু লোক সব সময়েই থাকে। তাদের গিয়ে ব্যাপারটা বলল। দেখতে দেখতে সারা গ্রামে রটে গেল যে রামপ্রসাদের ভূত খুড়োগাছে বসে আছে। সবাই দল বেঁধে দেখতে গেল। হ্যাঁ সত্যিই তো তাই। ঝড় নেই জল নেই গাছটা হেলে গেল কেন?
গ্রামে একটা চাপা আতংক ছড়িয়ে গেল। গ্রামের বয়স্করা ওঝা ডাকার পরামর্শ দিল। ওঝা এসে সেই জায়গায় অনেক মন্ত্র টন্ত্র পরে নিদান দিল- ভুত আমি তাড়িয়ে দিয়েছি কিন্তু এই গাছ অপবিত্র হয়ে গেছে। এই গাছ কেটে ফেলতে হবে। গ্রামের লোকেরাও তাই মেনে নিলো। কারণ একে গাছটা মড়ে গেছে দ্বিতীয়ত হেলেও গেছে। যদিও রামপ্রসাদের আত্মা চলে গেছে কিন্তু গাছটা যে কোন সময় পুরনো মন্দিরের ওপর পড়ে মন্দিরের ক্ষতি করতে পারে। সেই মত পঞ্চায়েত থেকে গাছ কাটার ব্যবস্থা করা হল। প্রথমে গাছ কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। শিবপুর ও আশেপাশের গ্রামের কেউ এই গাছ কাটতে রাজি হচ্ছিল না। শেষে অনেক দূরের এক কাঠ ব্যবসায়ীকে ডেকে এনে বাজার দরের তুলনায় খুব অল্প দরে পঞ্চায়েত থেকে গাছটা তাকে বিক্রি করে দেওয়া হল। কেউ কিচ্ছু বলল না তাকে আর সেই ব্যবসায়ী ভাবল বাহঃ। এই গ্রামের লোকগুলোকে বোকা পাওয়া গেছে নয়ত এত জলের দরে এই গাছ পাওয়া যায়? একদিন গাছ কাটা শুরু হল। বিশাল গাছ। এত বড় গাছ তো একদিনে কাটা যায় না তাই প্রথমদিন গাছের ওপরের ডালপালা গুলো কাটা হল। সেগুলো কাটতেই সন্ধে হয়ে গেল। পরেরদিন শাখাগুলো কেটে গাছের কাণ্ডটা করাত দিয়ে কাটা সরু হল।

দিনের আলো যখন পড়ে আসছে তখন গাছের গোড়াটা কেটে দিঘির জলে ঝপাং করে পড়ে যারা গাছ কাটা দেখছিল তাদের ভিজিয়ে দিল। পরের দিন গুড়ি জল থেকে তুলে কাটা হবে ভেবে কাঠুরের দল ফিরে গেল। এর পরের দিন মদন বলে এক চাষি ওই শ্মশানের সামনে দিয়ে নিজের জমিতে যাচ্ছিল। তার চোখ দিঘির দিকে পড়তেই চমকে গেল। তার ভিরমি খাওয়ার জোগাড়। সে দেখে কি দিঘির জলে খুড়ো গাছটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে! এ কি কাণ্ড! কাল এই গাছ জলে আছড়ে পড়ে সবাইকে ভিজিয়ে দিল আর সেই কাটা গাছই জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে কি করে। মদনের দাঁতি লেগে যাবার মত অবস্থা হল। সে ভূ ভূ ভূত বলে দিল ছুট। গ্রামের মাঝে বট গাছের নিচে কয়েকজন বসে ছিল। মদন তাদের কাছে গিয়ে খবরটা দিল। দেখতে দেখতে সারা গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ল। সবাই দল বেঁধে শ্মশানে এসে দেখল সত্যিই তো কাটা গাছটা সোজা হয়ে দিঘির জলে দাঁড়িয়ে আছে। আশেপাশের গ্রামেও খবর রটে গেল। দলে দলে লোক এই ভুতের গাছ দেখতে চলে এলো। সবাই মেনে নিলো এটা ভৌতিক কান্ড এবং এটার পিছনে আছে রামপ্রসাদের ভুত। কারণ রামপ্রসাদের অত টাকার হিল্লে না হলে তার আত্মা শান্তি পাবে না এই ব্যাপারে সবাই মোটামুটি নিশ্চিত। সবাই এবার আতঙ্কে ভুগতে লাগল। কেউ আর শ্মশানের দিক মাড়ায় না। ঘরে ঘরে রামপ্রসাদের ভূত নিয়ে আলোচনা চলতে লাগল। ওঝা বামুন ডেকে ঝাড়ফুঁক পুজো আচ্চা শুরু হয়ে গেল শ্মশানে কিন্তু সবাই দিঘির পাড় থেকে পঞ্চাশ হাত দূরে রইল। সামনে ঘেঁষার কারোর সাহস হল না। বিকেল হতে না হতেই শ্মশান চত্বর ফাঁকা হয়ে গেল। ওঝা বলে গেল। মন্তর দিয়ে গেলুম কাল বেটা পালাবে। বামুনও বলল বেটা কে বেঁধে ফেলেছি মন্তর দিয়ে আর কিছু করতে পারবে না। সব্বাই কিন্তু সেই যে সন্ধের আগেই ঘরে ঢুকল আর বাড়ির বাইরে বেরোল না। পুরো গ্রাম শুনশান।

ইতিমধ্যে গ্রামের ছেলেদের মাধ্যমে শিবপুরের একমাত্র স্কুলের বিজ্ঞানের স্যার অধীরবাবুর কানে খবরটা গেছে। অধীরবাবু প্রথমে বিষয়টাকে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু পরে যখন দলে দলে লোক খুড়ো গাছ দেখতে ছুটছে যখন, তখন স্কুলের অন্যান্য স্যারেরাও যাবেন ঠিক করলেন। অধীরবাবুও গেলেন। প্রথমে ব্যাপারটা দেখে তিনি একটু অবাকই হলেন। সত্যিই তো গাছটা জলে লম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাড়ার কয়েকজন অতি উৎসাহী যুবক জায়গাটা দড়ি দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। কাউকে কাছে যেতে দিচ্ছে না। অধীরবাবু এগিয়ে গেলেন। স্কুলের স্যার বলে তার আলাদা খাতির গ্রামে। দড়ি তুলে তার নীচ দিয়ে গেলে দিঘির দিকে এগিয়ে গেলেন। দিঘির পাড়ে গিয়ে দেখলেন পাড় থেকে হাত তিনেক দূরে গাছটা জলের উপর দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাপারটা ভাল করে দেখতে লাগলেন। কিছুক্ষণ দেখার পর তাঁর মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি দড়ির এপারে এসে বললেন। এটা কোন ভূত টুত নয় এর পিছনে বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। পঞ্চায়েতের প্রধান ওখানেই ছিলেন । তাঁর কাছে গিয়ে বললেন এই গাছ কাটার ব্যবস্থা করুন সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। ভিড়ের মধ্যে থেকে কে বলে উঠল। ওই গাছে হাত দেওয়া মানে ভূতের গায়ে হাত দেওয়া। যে গাছের গায়ে হাত দেবে সেই মরবে। এক বুড়ো ভিড়ের মধ্যে থেকে এগিয়ে এসে প্রধানকে বললেন। সুধাময়, এই শ্মশানে অপদেবতা আছে। ওই গাছে হাত দিও না।

পঞ্চায়েত প্রধান দোটানায় পড়েছেন। কোনদিকে যাবেন বুঝতে পারছেন না। এদিকে শ্মশানে মেলা লেগে গেছে আর ওদিকে সন্ধের পরও গ্রামে কেউ বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে না , এর একটা প্রতিকার না করলেও নয়। আবার অধীরবাবু যখন নিজে বলেছেন তাই সুধাময়বাবু অধীরবাবু কে বললেন- স্যার আপনি কি করতে চান? অধীরবাবু বললেন- গাছটা জল থেকে তুলে কাটাতে হবে। সুধাময় তখন বললেন। কিন্তু যারা কাটছিল তার তো এই গাছে আর হাত দেবে না বলে দিয়েছে। এখন উপায়? অধীরবাবু বললেন। গাছ কাটার লোকের অভাব নাকি? আমি ফোন করে দিচ্ছি এক্ষুনি বর্ধমান থেকে লোক এসে যাবে। অধীরবাবুর বাড়ি বর্ধমান। তিনি এই গ্রামের স্কুলে রোজ ডেলি প্যাসেঞ্জারি করেন। অধীরবাবু তার চেনা এক কাঠুরেকে ফোন করে দিলেন। ঘণ্টা দুয়েক পর সেই কাঠুরে একটা টেম্পো করে জন্য পাঁচেক লোক নিয়ে চলে এলো। শ্মশানে এত লোকজন দেখে সে তো অবাক। তাকে বলা হল এই গাছ জলে খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেই জন্য লোকে দেখতে এসেছে। ভুত টুতের কথা তাকে বলা হল না। একটা মোটা দড়ি বেঁধে গাছটাকে শোয়ানো হল। গুড়িটাও বিনা বাধায় জলে ভাসতে ভাসতে শুয়ে পড়ল যেন কোন ওজনই নেই। কিন্তু ওজনটা বোঝা গেল গুড়িটাকে পাড়ে টেনে তোলার সময়। ওই পাঁচজন লোক ছাড়াও গ্রামের জনা পঞ্চাশ লোক মিলে টেনে কোন রকমে পাড়ে তুলল গুড়িটাকে। বিশাল করাত দিয়ে গাছটার গুড়ি কাটা শুরু হল। সবাই দেখছে আগ্রহ নিয়ে কি হয়। কেউ কেউ ইষ্টনাম জপ করছে। গাছটা যেই একটু কাটা হয়েছে তখনই এক কান্ড হল। গল গল করে গাছের গুঁড়ি থেকে জল বেরোতে লাগল। পুরো গাছটা দু আধখানা করে দেখা গেল। গাছের গুড়িটা পুরো পোকায় ফোঁপরা করে দিয়েছে। ভেতরটা পুরো ফাঁকা। অধীরবাবু হাসতে লাগলেন। তিনি যা অনুমান করে ছিলেন ঠিক তাই। সবাই চেয়ে আছে অধীরবাবুর দিকে। তিনি এবার চেঁচিয়ে সবাইকে বলতে লাগলেন। শুনুন আপনারা, এই গাছে কোন ভূত টুত নেই। গাছটায় বাজে পড়ার পর সেটা মরে যায়। এই ক’বছরে গাছটা পোকায় ফোঁপড়া করে দেয়। রামপ্রসাদ বাবুর মারা যাওয়ার পরদিনই গাছ হেলে যাওয়াটা নেহাতই কাকতালীয় ঘটনা। এর সাথে ভূত বা আত্মার কোন সম্পর্ক নেই। গাছটার ডালপালা কাটার পর গাছটা একটা ছিপি আটকানো খালি বোতলের মত হয়ে যায়। ভিতরটা হওয়া ভর্তি। জলে পড়ার পর কাণ্ডের সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে জল চুঁইয়ে ঢুকতে শুরু করে। গাছের ওপর দিকটা ছিল সরু কিন্তু নিচের দিকটা মোটা। মাথাটাও ডালপালা কাটার পর হালকা হয়ে গেছিল তাই কিছুটা জল ঢোকার পরই মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে জল নিচের দিকে নেমে গাছের গুঁড়ি কে জলে লম্ব ভাবে খাড়া করে দেয়। ঠিক মাছ ধরার চিপের ফাতনার মত। আমি কাছ থেকে দেখেই বুঝেছিলাম ফাঁপা গাছ ছিপের ফাতনার মত দাঁড়িয়ে আছে। হালকা হালকা দুলছে দেখেই বুঝেছিলাম ফাঁপা কান্ড জলে ভাসছে। অধীরবাবুর কথা শুনে সবাই ব্যপারটা বুঝতে পারল। কেউ কেউ হতাশ হল। কি সুন্দর রোমাঞ্চকর একটা ঘটনা যে এরকমভাবে শেষ হবে সেটা তারা ভাবেনি। সুধাময়বাবুও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। রামপ্রসাদের দাদাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। যাক তার ভাই ভুত হয়নি, গয়ায় গিয়ে পিন্ড দান টান আর করতে হবে না। সেদিন সন্ধ্যায় গঙ্গাপ্রসাদ ভাইয়ের ঘরে এটা সেটা নাড়াচাড়া করে দেখছিলেন ভাইয়ের একটা ভাল ছবি পাওয়া যায় কিনা। শ্রাদ্ধে লাগবে তো। একটা পুরনো পাঁজির ভেতর ভাইয়ের একটা ছবি পেলেন বটে সাথে একটা পাতলা নোটবই ও ব্যাংকের বইও পেলেন। নোটবইয়ে খুলে দেখলেন রামপ্রসাদ যাদের টাকা ধার দিয়েছে সেই হিসাবে লিখে রেখেছে। আর ব্যাংকের বই খুলে দেখলেন ব্যাংকের খাতায় জমা আছে পুরো চুরাশি হাজার টাকা!

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.