মূল হিন্দি রচনাঃ एक्स गर्लफ्रेंड की कॉल

লেখকঃ विनायक शर्मा


গরিমা কলিং...

আমার স্যামসাঙ ফোনে পাক্কা এক হপ্তা পর এই লেখাটা ফুটে উঠল। এই লেখাটা যখনই আমার ফোনে ফুটে উঠত, আমার খুশির সীমা থাকত না। কোন অনাবৃষ্টি পীড়িত ক্ষেতে প্রবল বৃষ্টির পর কৃষকের মন যেমন আনন্দে ভরে ওঠে, আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনি হত। আমার ঠোঁটের সুদীর্ঘ হাসি মনে হয় দুদিকে কান পর্যন্ত পৌঁছে যেত। আমার ছোট চোখদুটো এই বড় হাসিতে যেন হারিয়ে যেত। আমি তৎক্ষণাৎ ফোনের সবুজ বাটনটা স্লাইড করলাম।

“হ্যালো...”

“হাই কুন্দন, কেমন আছো?”

“আমি খুব ভালো আছি। তুমি বলো...”

“আমিও একদম ঠিক আছি।“

“কিছু মনে করোনা, আমি আজকাল তোমাকে রোজ রোজ ফোন করতে পারছি না”

“আরে, কোন ব্যাপার না...”

গরিমাকে আমি প্রথমবার ক্লাস ইলেভেনে দেখেছিলাম। দেখতে কোন সিনেমার নায়িকার থেকে কম ছিল না। ভগবান ওর নাক-মুখ নিশ্চয়ই কোন দক্ষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কারিগর দিয়ে গড়েছিলান। মুখের ঔজ্জ্বল্য দেখে মনে হত যেন সূর্য্যরশ্মির আভা থেকে ধার করা। স্কুলের বারান্দায় ওকে প্রথমবার দেখেছিলাম আর দেখতেই থেকে গেলাম...। আমার চোখ কোন সুদক্ষ চিত্রশিল্পীর মত ওর দিকে আটকে গেল। কোন চিত্রশিল্পী যেমন কোন মনোরম দৃশ্য দেখলে দৃশ্যটির প্রত্যেক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলো ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলেন, ঠিক সেভাবেই ওর সৌন্দর্যের প্রতিটি খুঁটিনাটি আমার মনটাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। প্রথমবার ওকে দেখেই আমি ওর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমার মাথায় ও ছাড়া আর কিছু ছিল না। আমার মাথায় শুধু এটাই ঘুরছিল কিভাবে ওর সাথে বন্ধুত্ব করা যায়, কিভাবে এই অপূর্ব সুন্দরীর সাথে কথা বলা যায়।

ঐ দিন স্কুল শেষ হবার পর বাড়ি গেলাম। আমার মাথার মধ্যে বলিউডের গান বাজছিল। আমাকে কেউ কিছু বললে না কিছু আমার কানে ঢুকছিল না কিছু আমার বোধগম্য হচ্ছিল। এখনও আমি গরিমার সাথে কথাই বলি নি, তাতেই আমার এই হাল হয়েছিল। আমার বয়স ছিল মাত্র ষোল, এই বয়সে এরকম অবস্থা অনেকেরই হয়। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল আমি সবার থেকে আলাদা। সিনেমায় দেখানো দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছিল যেন আমাকে নিয়েই দেখানো হচ্ছে। ও কোনো সিনেমার নায়িকা আর আমি সিনেমার নায়ক এমনটাই মনে হচ্ছিল। কিছুক্ষণ তো মাথায় এই সিনেমার ভূত সওয়ার ছিল আর আমি নিজেকে কোন নায়কের থেকে কম ভাবতে কিছুতেই রাজি ছিলাম না, তখনই মাথায় একটা খেয়াল এল। এমনই খেয়াল হল যে এতক্ষণ যা ভাবছিলাম তা পুরোপুরি উবে গেল এবং আমার স্বপ্নভঙ্গ হল। জেগে জেগে দেখছিলাম তাতে কি...ছিল তো স্বপ্নই...। আমার তন্দ্রা ভাঙল আর আমার মন আমাকে প্রশ্ন করল, “আরে আয়নায় কখনও নিজের মুখ দেখেছিস...তুই কি ঐ নায়িকার নায়ক হওয়ার উপযুক্ত?”

আমি মনের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলাম না আর আমার মন যে এতক্ষণ আকাশে উড়ছিল এখন বাস্তবের মাটিতে এসে দাঁড়াল। আমি রোগা-পাতলা, চাপা গায়ের রঙ আর খুবই সাধারণ দেখতে। এমন একটা ছেলেকে কোন মেয়ে পছন্দ করবে? হুট করে মনে হল যদি একটু ফর্সা হতাম, তাহলে নিশ্চয়ই পছন্দ করত। ঠিক তখনই দ্বিতীয় মন যে এতক্ষণ আমাকে আকাশে উড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছিল, আমার মনোবল বাড়াল এবং প্রথম মনকে বলল, “আরে দেখতে ভালো না তাতে কি হয়েছে এখনও ক্লাসের সব মেয়ে নোট নেওয়ার বাহানায় আমার সাথে কথা বলতে আসে আর বন্ধুত্ব রাখতে চায়। কত ছেলে যে মেয়ের জন্য পাগল, সেই মেয়ে শুধু আমার সাথে কথা বলে”। এখনই যে কুন্দন একদম শান্ত হয়ে গেছিলো, তার ভেতরকার হিরো আবার জাগতে শুরু করল। ওর আশাবাদী চিন্তাধারার মন আবার জয়লাভ করল। আমি একটা দীর্ঘ শ্বাস নিলাম আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম কাল গরিমার সাথে কথা বলব। প্রতিজ্ঞা তো করে ফেলেছিলাম কিন্তু আজকের সন্ধ্যা আর রাত কাটানো আমার পক্ষে খুব কঠিন হয়ে উঠেছিল। কাল সকালের প্রতীক্ষায় আমি বিভোর হয়ে যাচ্ছিলাম। অনেক রাত পর্যন্ত আমি নিজের সাথেই কথা বলছিলাম এবং এই ভাবনায় আমার অনেক রাত পর্যন্ত ঘুম আসছিল না।

যাক, কোনভাবে রাত কাটল আর ভোর হল। আজ আমি একটু বিশেষভাবে স্কুল যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম। গরিমার ভাবনায় আমার মন খুব উৎফুল্ল ছিল। আজকের দিনটি আমার জন্য একটি বিশেষ দিন, এটা আমাকে দেখলে যে কেউ বুঝে যেত। যে কোন কাজ আমি খুব তাড়াহুড়ো করে করছিলাম। আমার শরীরে যেন আজ এক অন্য ভাব প্রকাশ পাচ্ছিল...। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে আমি ঐদিন এক ঘণ্টা আগেই স্কুলে পৌঁছে গেছিলাম। আমি স্কুলের গেটের দিকে নিষ্পলক চোখে প্রতীক্ষমাণ ছিলাম। অনেকক্ষণ হয়ে গেল কিন্তু গরিমা এল না। আমার মনে হল ও আসবে না আর আমি ভুলেই গেছিলাম যে ক্লাস শুরু হতে এখনও অনেক দেরি আর কোনো বেকুবই এত আগে এসে বসে থাকবে। একেক মিনিট পাহাড়প্রমাণ প্রতীত হচ্ছিল এবং অবশেষে গেট গিয়ে গরিমা পদার্পণ করল। লাল রঙের চুড়িদারে ও তেমনই সুন্দর দেখাচ্ছিল যেমনটা কাল দেখাচ্ছিল। গরিমা না আমাকে মারত, না গালি দিত এমনকি ও আমাকে জানত পর্যন্ত না তবু কেন জানি না ওকে দেখা মাত্র আমার বুকের ভেতর ধড়াসধড়াস করতে লাগল। মনে হচ্ছিল হৃৎপিণ্ডটা বুক ফেটে বাইরে বেরিয়ে আসবে। হাত-পা কাঁপছিল। বুঝতে পাচ্ছিলাম না ওকে দেখার পর এমন কেন হচ্ছিল। এখনও তো ওর সঙ্গে কথাই বলিনি, কথা বলতে গেলে কি হবে...। সারাদিন ভাবছিলাম ওকে ডেকে ওর সঙ্গে কথা বলি। সারাদিন চলে গেল কিন্তু ওকে ডাকার সাহস হল না। তখনও পর্যন্ত আমি কোন বন্ধুকেও বলিনি যে আমি গরিমাকে পছন্দ করি আর ওর সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই। আমি ক্লাসে বারবার গরিমার দিকে তাকাচ্ছিলাম আর ও নিশ্চয়ই এটা বুঝতে পেরেছিল। কিছুদিন এভাবেই কেটে গেল। না আমি কিছু বললাম না ওর তরফ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া এল। কিছুদিন পর ক্লাসে নোট জমা করার কথা ছিল। গরিমা হয়ত জানতে পেরেছিল যে ক্লাসে আমার নোট সবথেকে ভালো ছিল। একদিন ক্লাস শেষ হবার পর আমি একা ক্লাসের বাইরে বারান্দায় হাঁটছিলাম তখন গরিমা আমার সামনে এসে দাঁড়াল আর হাসিমুখে বলল,

“হাই কুন্দন...!”

গরিমা আমার সাথে কথা বলতে এসেছে এটা ভেবে আমার খুশি হওয়ার কথা কিন্তু আমি নার্ভাস হয়ে গেছিলাম আর আমার হার্টবিট রাজধানী এক্সপ্রেসের মত দৌড়াতে লাগল। আমি শুধু গরিমার দিকে তাকিয়ে ছিলাম আর গরিমা আমাকে বলল, “হ্যাল্লো...”

আমি নিজেকে একটু সামলে নিলাম আর থতমত খেয়ে বললাম , “হা...ই...ই...”

তারপর সরাসরি প্রশ্ন করল, “যে নোটস জমা করতে হবে, তুমি কি তৈরি করেছ?”

“হ্যাঁ...”

“আমার দরকার বন্ধু, দেবে কি?”

“হ্যাঁ ক্লাসে রাখা আছে, চলো দিচ্ছি”

আমি ক্লাস থেকে নোটস নিয়ে এসে ওকে দিয়ে দিলাম। ঐ সময় আমার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। ও নোটস নিয়ে চলে গেল আর আমি ক্লাসে আমার জায়গায় বসে গরিমার কথা ভাবতে লাগলাম। আমি ভাবতে লাগলাম এত সহজে ওকে নোটস দেওয়া ঠিক হয়নি, ওর সঙ্গে আরেকটু কথা বলা উচিত ছিল তখন নিজেই নিজেকে বললাম ঠিকভাবে “হাই” বলতে পারছিলাম না আর কথা কি বলতাম। নিজের সঙ্গে নিজেই কথা বলছিলাম হঠাৎ মনে পড়ল অভিষেক আমার কাছে নোটস চেয়েছিল। কিন্তু তখনই অভিষেক আমার চিন্তা থেকে উধাও হয়ে গেল আর গরিমার সঙ্গে হওয়া কথাবার্তাগুলো মাথার মধ্যে ঘুরতে লাগল। গরিমা যে দুএকটা কথা আমার সঙ্গে বলেছিল, সেই কথাগুলো আমার মাথার মধ্যে কোন সুরেলা গজলের মত বাজতে লাগল। ঐ কথাগুলো যেন মাথার হার্ডডিস্ক পুরোপুরি ফুল করে দিয়েছিল।

গরিমার কথা ভাবতে ভাবতে কখন দিন চলে গেল আর সন্ধ্যা হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না। সন্ধেবেলা অভিষেক আমার সঙ্গে দেখা করে বলল, “আজ নোটসগুলো দিস”।

“সরি বন্ধু, নোটস তো গরিমা নিয়ে গেছে”।

“ও হো......! তো মিস গরিমা আপনার নোটস নিয়ে গেলেন! ঠিকই তো ওকেই তো দিবি আমি আর কে...?”

“এরকম কিছু নয় রে”

“আমি জানি কি ব্যাপার”-অভিষেক কুটিল হাসি হেসে বলল। তারপর আমাদের মধ্যে অন্যান্য গল্প হতে লাগল আর অন্ধকার হবার পর আমরা যারযার বাড়ি চলে গেলাম।

কিছুদিন নোটস দেওয়া-নেওয়া আর কথাবার্তা হওয়ার পর আমার আর গরিমার মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব হতে লাগল। এখন ধীরে ধীরে ও আমার পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে জানতে লাগল আর আমিও ওর পছন্দ-অপছন্দ কিছু কিছু জানতে পেরেছিলাম। আমাদের কাছে এখন একে-অপরের মোবাইল নম্বর ছিল আর আমরা দূরে থাকলে মোবাইল আমাদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। ফোনে আমরা বেশি কথা বলতাম না কিন্তু ছুটির দিনে প্রত্যেক ঘণ্টায় যদি গরিমাকে ফোন না করতাম তাহলেই ওর ফোন এসে যেত। কলেজের বাকি স্টুডেন্টস আমাদের নিয়ে কথা বলাবলি শুরু করে দিয়েছিল। আমি এই কথাগুলো শুনে খুবই গৌরব অনুভব করতাম কারণ কলেজের সবচেয়ে সুন্দরী বাকী সব ছেলেদের ছেড়ে শুধু আমাকে ভালো বন্ধু বানিয়েছিল। কিন্তু আমি চিন্তিত ছিলাম এটা ভেবে ওরা আমাদের সম্পর্কটাকে বন্ধুত্বের থেকে বেশি ভাবত যেটা আমাদের মধ্যে আদৌ ছিল না। আমরা শুধু ভালো বন্ধু ছিলাম। সেজন্য আমি এসব কথা গরিমাকে বলে দিয়েছিলাম। গরিমা বেশ উদার চিন্তাধারার মেয়ে ছিল। ও আমাকে পরিস্কার বলে দিয়েছিল-“আমি এসব ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমরা জানি যে আমরা ভালো বন্ধু। তাই না?”

“হ...হ্যাঁ”

আমি একটু থতমত খেয়ে বললাম।

“ কোন ব্যাপার না তুমি ফোন করনি তো কি হয়েছে, দেখো আমি তো করলাম...?”

আমার কিছুটা খারাপ লাগল কেননা আমি অনেকদিন ধরে গরিমার সঙ্গে কোন যোগাযোগ করিনি। যেহেতু গরিমাই অনেকদিন পর ফোন করেছিল, সেজন্য ভাবলাম আমিই ব্যাপারটাকে এগিয়ে নিয়ে যাই আর এটা ভেবে গরিমাকে খুব সাধারণভাবেই জিগ্যেস করলাম- “হ্যাঁ। আর বলো আজকাল কি চলছে?”

সেই সময় এই প্রশ্ন ছাড়া আমার মাথায় আর কিছু আসছিল না।

“ আমার তো গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট হয়ে গেছে আর আমি পি.জি.-র জন্য দু’তিনটে ইউনিভারসিটিতে এন্ট্রান্সও দিয়েছি”।

“ওহ! দ্যাটস গুড...! আমি তো আবার গ্রাজুয়েশন করছি। এবছর আমার ফার্স্ট ইয়ার কমপ্লিট হল। ভালোই নম্বর পেয়েছি, এখন দেখি কি হয়...”

“ভালোই তো...! আচ্ছা কুন্দন আমি একটা কথা বলার জন্য তোমাকে ফোন করেছিলাম। খুব জরুরি কথা...”

আমি আর গরিমা ক্লাস টুয়েল্ভে খুব ভালো মার্কস পেয়েছিলাম। আমরা পাটনা ইউনিভারসিটির সমস্ত কলেজে ডিগ্রি কোর্সে ভর্তির জন্য অ্যাপ্লাই করেছিলাম। গরিমা পাটনা ওমেন্স কলেজেও অ্যাপ্লাই করেছিল। কিন্তু আমি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করছিলাম ওমেন্স কলেজে যাতে ওর সিলেকশন না হয়। যদিও আমি ওর সম্পর্কে খারাপ কিছু ভাবছিলাম না। ভগবানের কাছে আমার দ্বিতীয় প্রার্থনা ছিল আমাদের দু’জনের অ্যাডমিশন যেন একসাথে পাটনা সায়েন্স কলেজে হয়ে যায়। ভগবান হয়ত আমাকে ভালবাসতেন তাই আমার প্রথম ইচ্ছেটা তো মানলেন না আর গরিমার নাম ওমেন্স কলেজের ফার্স্ট লিস্টে ছিল। কিন্তু ওর নাম সায়েন্স কলেজের ফার্স্ট লিস্টেও ছিল। আমার নামও সায়েন্স কলেজের ফার্স্ট লিস্টে ছিল। ভগবান আমার দ্বিতীয় প্রার্থনা তো শুনলেন কিন্তু এর পরের সিদ্ধান্তটা গরিমা আর ওর অভিভাবকদের উপর ছিল। আমি একটু দুঃখী ছিলাম কারণ সব অভিভাবকই মেয়ের ভালোর জন্য ওমেন্স কলেজেই পাঠাত আর আমি গরিমার থেকে দূরে চলে যেতাম। আমি গরিমাকে বলেছিলাম ওর অভিভাবকদের বলতে যে সায়েন্স কলেজ ওমেন্স কলেজের থেকে ভালো। গরিমাও আমার সাথেই পড়তে চেয়েছিল আর আমি যা বলেছিলাম ও তাই করেছিল। গরিমার কাকা ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ছিলেন আর উনিও গরিমার বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন গরিমাকে সায়েন্স কলেজে ভর্তি করাতে। তারপর আর কি... গরিমা আর আমার অ্যাডমিশন পাটনা সায়েন্স কলেজে হয়ে গেল। সায়েন্স কলেজে পড়ার সুযোগ পাওয়া যে কোন পড়ুয়ার কাছে গর্বের ব্যাপার ছিল। এজন্য আমার আর গরিমার খুশির সীমা ছিল না। আমাদের খুশি তো দ্বিগুণ হয়ে গেছিল কারণ আমরা দুজন একসাথে সবচেয়ে ভালো কলেজে পড়ছিলাম।

আমি আর গরিমা পাটনাতে থেকেই পড়াশোনা করছিলাম। আমরা দুজন ভালো বন্ধু তো আগে থেকেই ছিলাম, এখানে আমরা আরো কাছাকাছি এলাম আর মেলামেশা করার আরো স্বাধীনতা পেলাম। এখানে আমাদের সম্পর্ক আরো গভীর হতে লাগল। আমরা এক-অন্যের সঙ্গ খুব পছন্দ করতাম। আমরা সন্ধেবেলা প্রায়ই সময় কাটাতে গান্ধী ময়দানে চলে যেতাম। এক তো গান্ধী ময়দান আমাদের কলেজ আর হোস্টেল থেকে খুব কাছে ছিল আর ওখানে আমাদের নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ ছিল। এমনিতে আমি অনেকবার গরিমার হাত ধরেছিলাম কিন্তু একদিন সন্ধেবেলা গান্ধী ময়দানে বসে গল্প করতে করতে যখন ওর হাত ধরলাম তখন এক অন্যরকম অনুভূতি হল। এখন হয়ত আমরা ভালো বন্ধুর থেকে কিছু বেশিই ছিলাম। এখন আমাদের আলাদা থাকতে একদম ভালো লাগত না। কলেজে আমরা একসাথে বসতাম। কিন্তু হস্টেলে একসাথে থাকা সম্ভব ছিল না। ঐ সময় আমরা একসাথে তো থাকতাম না কিন্তু কোন অদৃশ্য সুতো যেন আমাদের বেঁধে রাখত। আমাদের মধ্যে বোধ হয় কোন আকর্ষণ শক্তি ছিল যা আমাদের আলাদা হতে দিত না। যখন কারো প্রতি স্নেহ বা ভালোবাসা বাড়তে থাকে তখন মনে তার স্থায়িত্ব খুঁজে পাওয়ার প্রবৃত্তি জাগে আর এটা আমার সঙ্গে ঐ সময় হচ্ছিল। আমি জ্বালা অনুভব করতাম। যখনই অন্য কোন ছেলে গরিমার সঙ্গে কথা বলত আমি বিচলিত বোধ করতাম। এমনটা শুধু আমার ক্ষেত্রেই হত না। বলে না, প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে। গরিমাও কয়েকবার অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলতে দেখে আমাকে বকাবকি করেছিল। আমরা দু’জনের কেউই এখনও পর্যন্ত একে-অপরকে “আই লাভ ইউ” বলিনি। কিন্তু আমাদের মধ্যে একটা না-বলা প্রেমের বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল। বীজ থেকে চারা গজিয়েছিল আর আমাদের মধ্যে হওয়া প্রেমের বাদানুবাদের বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের প্রেমের চারা বড় হতে লাগল।


bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.