ম্যাঁও


পিসি মনি আসবে , দারুন খুশি মিঠাইরা, এবার দিদি ভাইও আসবে , তার পুঁচকি কে নিয়ে , মিঠাই ও পিসি হয়েছে , সবাই খুব খুশি। , মিঠাই অনেক প্লান করেছে ,পুঁচকি কে চটকানো তার মধ্যে প্রধান ।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ম্যাঁও । ম্যাঁও এই বাড়িরই এক জন । পিসিমণি এলে,ম্যাঁও কে বিদায় দিতে হবে, আর নয় তো পিসিমণি কেই আর পাওয়া যাবে না। ম্যাঁও দের মত মহান প্রাণী রা বলে কয়ে আসে না ,"অমা কি মিত্তি" ! বললেই চলে আসে ।ম্যাঁও পাড়ার এক সুন্দরী মার্জারি , তার নীল্ নয়ন ও শুভ্র মসৃণ দেহ ও মধুর ধ্বনি তে পাড়ার সবাই মগ্ন , সে রাজকুমারী র মত সোফায় ,পাপোষে, চেয়ারে, বাবার কোলে, মিঠাই এর পড়ার টেবিল এর তলায় বিরাজ করে। কবে, কোথা থেকে এসে, সে ,সকলের মধ্যমণি হয়ে বসেছে, তা কেউ জানে না। পাড়ার সবাই তাকে ভালো বাসে, সেও প্রতি দিন বিকেল বেলা মোটামুটি সবাই এর বাড়ি ভিজিট দেয়। পলা দি, তো একদিন ওর অদর্শনে চলেই এলো খোঁজ নিতে, ম্যাঁও এর জন্য রোজই মাছ ও দুধ তোলা থাকে,মাঝে মাঝে স্পেশাল কাঁটার ব্যবস্থাও থাকে। সে আলাদা বাসনে খায় , ও ৫-৩০ বাজলেই দিদি নম্বর ১ দেখার জন্য টিভির র সামনে এসে বসে পড়ে ।পিসিমনি এ সবের বিন্দু বিসর্গ জানে না । দিদান কেও সে হাত করে ফেলেছে, এই তো সেদিন দিদান বলছিল "ও ম্যাঁও , ‘আয় রে তোর্ দেবের সিনেমা শুরু হয়ে গেল তো"। ম্যাও ও দৌড়ে এলো , সে দেবের বিশাল ফ্যান।

দিদান বলে, বিয়ের আগে নাকি , !পিসি মনি পায়রা পুষত , ছাদে , পায়রার খোপ ও ছিল ,তাতে দুটো সুন্দর সাদা কালো পায়রা থাকত । পিসি মনি তাদের খুব ভালবাসত,একবার ম্যাঁও এরই কোনো সম গোত্রীয় , পিসি মনির পায়রা গুলি কে নিষ্ঠুর ভাবে মেরে খেয়ে ফেলেছিল , সে ছিল এক পাজি হুলো ,,পায়রা গুলোর মৃত্যুতে পিসি মনি খুব কান্নাকাটি করেছিল। বাবা তখন মাত্র আট বছরের বাবাও খুব কষ্ট পেয়েছিল ।সেই থেকে পিসিমণি দু চক্ষে বেড়াল দেখতে পারে না। ,তবে ম্যাঁও মনে হয় না এ ধরনের কাজ করবে। আফটার অল ম্যাঁও এর একটা পরিচিতি আছে ,সে ভেটকি র কাঁটা খায় , টিকিটিকি তাড়া করে খেদিয়ে দিয়ে আসে কিন্তু তাদের হত্যা করে না , এবং কালেভদ্রে ভদ্রস্থ ইঁদুর দেখলে মারে। তবে সেটা খুব কম ।, সাদা সুন্দরী বেড়াল সে , পলা দি বলছিল-"মিঠাই আমাদের নীল্ নয়নি তো দিন দিন রূপসী হয়ে উঠছে রে! " সেই রূপসীর ই বেজায় সম্যসা হয়েছে , তার ও কি তসলিমার বেড়ালের মত করুন দশা হবে?কারণ পিসি মনি র বেড়াল নিয়ে ট্র্যাক রেকর্ড খুব খারাপ, যদি গায়ে জলটল ঢেলে দেয় তাহলে ম্যাঁও এর মুখ দেখানোর জায়গা থাকবে না । তা ছাড়া মা বলছিল পুচকি এতই ছোট যে বেড়াল এর লোম ওর জন্য ভালোও নয় ।তাই পলা দির বাড়তেই থাকবে ও, যতদিন পিসিমণি, ওদের কাছে থাকে। দিদিভাই কিছুদিন পর বেহালায় শশুরবাড়ি চলে যাবে, তখন দেখা যাবে কি করা যায়। ।ম্যাও এ ব্যপারে কিছুই জানে না ,এখন বললে কষ্ট পেতে পারে সে ।দিদি ভাই এর বেড়াল নিয়ে কোনো ছুত মার্গ নেই, বরং খুশি ই হত।তেই , যাই হোক বাবা পরশু স্টেশন এ যাবে, পিসি মনি কে আনতে। , পিসি মনি শেষ এসেছিল দিদিভাই এর বিয়ের আগে ,তারপর আর নানা ব্যস্ততায় আসা হয় নি ।
এ দিকে "ম্যাঁও যে এ ভাবে ঝোলাবে সেটা জানা ছিল না , মা রেগে বকেই দিল “পোড়ারমুখি" মা হবার আর সময় পেলি না""!দিদান বলল -"আহা ও কি আর ইচ্ছে করে করেছে!" মা বলল- "না! না! উনি চরতে গিয়েছিলেন , এমনি এমনি এসে গিয়েছে, তাই বলি , "বেটি র খালি উরু উরু মন" , ঘরের ডাল -ভাত কেন মনে ধরছে না ! ছেমরি একটা ! মায়ের কাছে কোনো দিন ই এরকম বকা খায় নি ও তাই শুধু করুন সুরে একবার "ম্যাঁও " বলেই বাবার রিডিং টেবিল র তলায় শুয়ে পড়ল। ।মিঠাই ও ভাবছে কি করা যায় , এ অবস্থায় পলা দি দের বাড়িতে ও কিছুতেই যাবে না। হলো ও তাই , মিঠাই এর খাটের নিচে বা বাইরের je ডিভান, তাতেই শুয়ে থাকছে ম্যাঁও। , পিসি মনিরা এসে গেছে। পুচকি কে নিয়ে বাড়িতে উৎসবের পরিবেশ। , কি মিষ্টি তুলতুলে পুচঁকি! , মিঠাই ডেটল দিয়ে , হাতধুয়ে , পুচকি কে চটকাবে বলে একদম রেডি , ম্যাঁও যে নেই, খেয়ালই হয় নি কারোর। পিসি মনি দের আসার উত্তেজনায় ম্যাঁও এর ব্যাপার টা ভুলেই গেছিল ওরা । পিসিমণি , দিদি ভাই মানে মৌ, আর মিঠাই র জামাই বাবু অয়নদার সঙ্গে গল্প জমে উঠেছে,দুপুরে ভাত খাবার পর। হঠাৎ দিদি ভাই বলল "ওলে বাবা লে""! এটা কে লে!! কি মিত্তি বেড়াল!” । মা প্রমাদ গুনলো -" বেগুন মুখী আসার সময় পেলি না? "ম্যাঁও ভ্রুক্ষেপ না করে বাবার পায়ের তলায় এসে শুয়ে পড়ল। পিসি মনি রাগী রাগী চোখে সবার দিকে তাকিয়ে , পাশের ঘরে চলে গেল। দিদিভাই ওপরে থাকবে, আর ম্যাঁও ও এখন খুব ওপরে ওঠে না, তাও , ব্যপারটা খুব বিশ্রী হলো। ,এতদিন পরে এসে , পিসিমনির মেজাজ এভাবে খারাপ হবে, কেউই চায় নি । বাবা বলল-"ইশ কি বাজে হলো বল্ তো বাবু “ !!মিঠাই বলল-""সত্যি""! পিসিমণি কে হাসলে খুব সুন্দর লাগে, ,কিন্তু দুপুরের পর থেকে পিসি মনি আর হাসছে না। বিকেলে চা খাবার সময় ,মিঠাই বলল-“পিসি মনি তুমি ভেব না, ও প্রেগনান্ট তো”! পিসি মনি বলল -"সে তো বোঝাই যাচ্ছে" ।,মিঠাই মুখ কাচুমাচু করে বলল্,”আজ রাত টা থাক” ,”আমি ওকে কাল পলা দি র বাড়ি দিয়ে আসব”। , দিদিভাই সিঁড়ি দিয়ে পুচকি কে কোলে নিয়ে নামছে , পুচকি কোলেই খুব হাত পা নাড়ছে , পুতুল একটা! পিসি মনি বলল-""না থাক!কোথায় আবার টানাটানি করবি!থাকুক এখানেই, দেখিস ওপরে যেন না যায় ।, “এই মৌ , পাশ কাটিয়ে সাবধানে আয় ।, ,মাড়িয়ে দিস না! পোয়াতি বেড়াল!” তারপর পুচকি কে হেসে কোলে নিয়ে বলল, ও মিঠাই, "বেড়ালটার বাচ্ছা হবার পর ওকে একটু চোখে চোখে রাখিস,” হুলো গুলো কিন্তু হাড় বজ্জাত হয়।



bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.