বাবা

পূজনীয় বাবা,

পত্রের প্রথমে আমার প্রনাম নিও আর মাকেও দিও।চিঠি পেয়ে হাসছো?কি বা করি বলো এতোদূরে থেকে শুধু তো গলাটাই খুব কাছের লাগে আর তার জন্য লাগে ফোনের ব্যালেন্স।তুমিই বলো ওভাবে কি ঠিকমতো কথা বলা যায়?তাই এই চিঠি।আমরা ভালোই আছি।শুধু শুধু আমাদের কথা ভেবে শরীর খারাপ করোনা।মায়ের যত্ন নিও মনে করে ওষুধগুলো খেও।আমি তোমার বেকার মেয়ে কোন কর্তব্যই পালন করতে পারিনি। নিজের সুখের কথা ভেবে অনেক কষ্ট দিয়েছি তোমাদের।স্বেচ্ছায় বিয়ে ভেঙ্গেছি আবার তাকেই বিয়ে করতে চেয়েছি এইসব পাগলামী তোমরা বলেই সহ্য করেছো।আমি যখন কষ্ট পেয়ে ভেঙ্গে পড়েছি মেরুদন্ড সোজা করে চলতে শিখিয়েছো। পাশে ছিলে তাই মরে যাওয়ার ইচ্ছেটা হয়নি।জানো সেই দৃশ্যটা আমি আজো ভুলতে পারিনা আমার বিয়ে ভেঙ্গে গেছে বলে যখন কাঁদছি তখনই হঠাৎ মা কে কাঁদতে দেখি,জিগ্গেস করতে বলে তোর কষ্ট হচ্ছে তাই কাঁদছি।বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া একটা মেয়ে বাবা মায়ের কতো বড়ো দায় আমি জানি বাবা।তোমরা কি করতে সমাজটাই এমন....চাকরি খোঁজাটা সময় চাওয়ার বাহানা ছিলনা আমি সত্যি চেষ্টা করেছিলাম কারন তখন আমার অস্তিত্ব সংকটে।জানোই তো চাকরি ব্যবস্থা কেমন আর আমি তথাকথিত বিদূষী বুদ্ধিমতী নই।তাহলে বলবে আজ কেন চেষ্টা করিনা আসলে চাকরি করতে আদপেই ভালো লাগেনা.. সারাদিন একা একা কেটে যায় এখানে।তোমার জামাইও আমাকে ভালোবাসে খুব।খুব খেয়াল রাখে যত্ন করে।হ্যাঁ বাবা আমি ভুল বুঝেছিলাম ওকে।ও তো আমার সাথে মজা করে বলেছিল নতুন প্রেমের কথা না জেনেই ভুল বুঝেছি।দ্বিতীয়বার ওকে কাছে টেনে একটুও ভুল করিনি।মিথ্যে বলবোনা মাঝে মাঝে তোমাদের জন্য মন খারাপ করে।তোমাদের ছেড়ে এতোদূরে।শ্বশুর শাশুড়ীর কাছে থাকলেও হয়তো বাবা মায়ের অভাব কিছুটা কমতো।তোমার জামাইয়ের এতোদূরে চাকরি কি করা যাবে.... আচ্ছা বাড়ির পাশের নিম গাছটায় আবার সবুজ পাতা গজাচ্ছে তাই না? পশ্চিমের মাঠটা পেরিয়ে পলাশ গাছটাও লাল হয়েছে?আর দুটো চাঁপা গাছে আবার ফুল ফোটা শুরু করেছে না?...ইশশ এবারে আর মালা করে মন্দিরে দিয়ে আসা হবেনা...জানো বাবা এদিকে কোকিল এর গলাই পাইনা তাই বসন্ত যেন এসেও আসেনি।বাড়িতে তো সারাবছরই বসন্ত ছিল।চাঁপা গাছের ডালে বসে সবদিন ডাকতো।কি বিরক্ত হতাম।আজকাল ফোনে যখন ওর গলা শুনি মনে হয় বসন্ত ছুঁয়ে গেলো।খাওয়ার শেষে যখন মাছের কাঁটা জড়ো করি গুবলুর মুখটা খুব মনে পড়ে....শয়তানটা একটু ভাত রেখে দিত শেষে কাঁটা দিয়ে মেখে খাবে বলে...ভাবছো তো আমি ভালো নেই..পড়ছো আর কাঁদছো? এই জন্য তোমাকে কিছু বলতে ইচ্ছে করেনা কিন্তু কি জানো তোমার সাথে কথা বলায় যে তৃপ্তি আছে অন্য কিছুতে পাইনা... বি.এস.এন.এল এর রাতের ফ্রি কলটার জন্য সারাদিন মুখিয়ে থাকি...মনে হয় কত কিছু বলবো দুর কিছুই বলা হয়না এক তো লাইনের ডিস্টার্ব তার ওপর সব কিছু তালগোল পাকিয়ে যায়।চুপ দেখে যখন বলো আর কিছু বলবি না রেখে দেবো।মনে হয় বলি কিছুনা বললেও ফোনটা ধরে থাকো ভালো লাগে।কিন্তু পারিনা।চিরকালই গুছিয়ে কথা বলতে পারিনা।তাই এই চিঠি... আজ এখানেই শেষ করছি।এরপর থেকে চিঠি লিখবো মাঝে মধ্যে। পারলে তুমিও চিঠি দিও।ভালো থেকো।দুজন দুজনের খেয়াল রেখো....

ইতি,

তোমার মেয়ে...

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.