**************************************

পরকীয়া পরকীয়া পরকীয়া

**************************************

এক বিয়ে, একঘেয়ে? প্রাণে ফোটে সানি লিওন!

এ জীবনের, কচু বনে - কিছু ফোঁটা Honey দিও -

মনে ফাগুন, শরীর আগুন, খামোখা ওয়েট করো কি ইয়ার?

আমি আছিই, কাছাকাছি - জুটে যাবেই পরকীয়া।

আপনি পুরুষ? আপনি মহিলা? আপনি বিবাহিত? আপনি পাঁচ-দশ বছর ধরে সারাদিন এক মুখ দেখে ক্লান্ত?

আপনার মনে হয়, এই বয়সে যদি আরেকটি সঙ্গী পাওয়া যায় তাহলে ভাল হয়?

ম্যাট্রিমনিয়াল সাইট তো অনেক দেখলেন, এবার একটু বিট্রেমনিয়াল হবার ইচ্ছে জাগে?

পরকীয়া করতে চান?

যোগাযোগ করুন "বিবাহোত্তর অভিযান" : ৯৮৭৬৫৪৩২১০

যেকোনো বয়সের পুরুষ ও মহিলা যোগাযোগ করুন, আপনার ঠিক মনমতো পরকীয়া পার্টনার আমরা খুঁজে দেব।

বিঃদ্রঃ শুধুমাত্র বিবাহিতদের জন্য প্রযোজ্য

**************************************



নাঃ বিজ্ঞাপনটা কিন্তু খাসা বানিয়ে দিয়েছে অফিসের বন্ধু অনিমেষ। নিজেই চোখ বুলিয়ে মুচকি হেসে উঠলেন অর্ণব। নতুন বিজনেস আইডিয়াটা একদিন একটি রদ্দি হিন্দি সিনেমা দেখতে দেখতে মাথায় আসে। কিন্তু করবো কি করবো না.. এই ভেবে প্রায় ছ'মাস নিজের আইডিয়া নিজের মাথাতেই চেপে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু গতসপ্তাহে মাল খেতে বসে নিজেদের একঘেয়ে লাইফের আলোচনা করতে করতে অনিমেষকে বলেই ফেললেন আইডিয়াটা। অনিমেষ বাধা তো দিলই না উল্টে আরও চাগিয়ে দিয়েছে, একখানা বিজ্ঞাপনও বানিয়ে নিয়ে এসেছে তাঁর নতুন বিজনেসের জন্য।

সপ্তাখানেকের মধ্যেই মাছের বাজার, ল্যাম্পপোস্ট, পাবলিক টয়লেট, "এখানে প্রস্রাব করিবেন না" অথবা "এই চিহ্নে ভোট দিন" লেখা দেওয়ালগুলো ভরে গেল "পরকীয়া" পোস্টারে। একমাসের মধ্যে বিজনেস তুঙ্গে, এত ক্লায়েন্ট মেন্টেন করতে রীতিমত বেগ পেতে হয় অর্ণবকে, শালা কে জানত, এই কলকাতার বুকে পরকীয়ার এত্ত চাহিদা! দিনে মিনিমান দশটা-পনেরোটা করে ফোনকল রিসিভ, তাদের নাম-ঠিকানা-বয়স-পছন্দ-অপছন্দ খাতায় নোট করতে করতে তিনখানা রেজিস্টার শেষ। অর্ণব নিজের নাম কাউকে জানান না, শুধু ক্লায়েন্টের ডিটেলস নিয়ে একজনকে আরেকজনের সাথে মোলাকাত করিয়ে দেন। তার ঘটকগিরি বাবদ প্রাপ্য টাকা ওই নম্বরেই পেটিএম একাউন্টে ঢুকে যায়। বিজনেস একটু বড় হতেই একটা হাবাগোবা সেক্রেটারি রেখেছেন,তাঁর অবর্তমানে সেই এই ফোনকলগুলো রিসিভ করে আর নোট করে রাখে। মদন নিতান্ত মাথামোটা, এসবের কিস্যু বোঝেনা, তা একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে, ব্যবসার কথাটা পাঁচকান হবে না।

এইতো সেদিন হুট্ করে বড়বাবু বলে বসলেন এক সপ্তাহের জন্য গৌহাটি ব্রাঞ্চে যেতে হবে, কয়েকটা টেন্ডার পাবার ব্যাপার আছে। মদনকে চোখ বুজে দায়িত্ত্ব দিয়ে অর্ণব গৌহাটি ঘুরে এলেন। এই কয়দিনে গোটাতিরিশ পরকীয়ার ক্লায়েন্ট জোগার হয়েছে, মদনই ডিটেলস নিয়ে অর্ণবকে ফোন করে, অর্ণব ডিটেলস শুনে কার সাথে কাকে ম্যাচ করাতে হবে জানিয়ে দেন, মদন সেইমত কাজ করে। এক্সট্রা ইনকাম ভালোই চলছে, অর্ণবের মাথায় ঘুরছে এবার একটা ওয়েবসাইট খোলা যায় কিনা - নামও ঠিক করে ফেলেছেন - "বিবাহোত্তর অভিযান - ভালবাসার ভাল বাসা"। কিন্তু ওয়েবসাইট খোলার আগে আইনি ব্যাপারস্যাপার গুলো একটু জেনে নিতে হবে, এটা ভাবতে ভাবতেই ফ্লাইট ল্যান্ড করল দমদমে। এখন ডিরেক্ট অফিসে গিয়ে কনট্র্যাক্ট এর কাগজপত্রগুলো বসের কাছে জমা করে, একবারে বাড়ি ফিরবেন।

অফিসের গেট দিয়ে ঢুকতেই অনিমেষের সাথে দেখা:

- কি গুরু, কেমন ঘুরলে গৌহাটি?

- ঘুরলাম আর কই, মিটিং করেই তো সারাদিন কেটে গেল, তবে একদিন ফাঁক পেয়ে কামাখ্যাটা দেখে এসেছি।

- বাহ্, যাও ভেতরে, বড়োবাবু তোমার জন্যই ওয়েট করছেন, তুমি নাকি সব কনট্র্যাক্ট তুলে নিয়েছ, কনগ্র্যাটস।

- হুম, এই সিগারেটটা খেয়ে নিয়ে ঢুকছি। তা তোমার মুখ এত হাসি হাসি কেন হে অনিমেষ? এত উৎফুল্ল তো কোনোদিন দেখিনি!

- ও কিছু না, এমনিই।

- দ্যাখো হে, আমার চোখকে ফাঁকি দিতে পারবে না? বলছি, প্রেমে-ট্রেমে পড়লে নাকি আবার? নাকি তুমিও পরকীয়া শুরু করলে?

অনিমেষকে উত্তর না দিতে দেখে এবার অর্ণব বললেন:

- ঠিকই ধরেছি, পরকীয়া। তা বলতে অত লজ্জা পাচ্ছ কেন?

- না না, অর্ণবদা, আসলে তোমার কোম্পানি থেকেই বুকিংকরে করলাম, তুমিই জান না এমন ভাব দেখাচ্ছ, তাই আর কি।

- আরে ভাই, আমি তো বাইরে ছিলাম কাজের মধ্যে, মদনই এদিকটা দেখছিল, ক্লায়েন্ট আসলে খবর দিত, আমিও হুঁ-হাঁ করে দিতাম, অত মন দিয়ে নাম-ধাম শুনিনি কারোরই। তা বলি, পার্টনারটা কে?

- কেন লজ্জা দিচ্ছ, নিজে রেজিস্টার খুলে দেখে নিও না।

- আরে, তুমি আমার ব্যবসার জন্য উৎসাহ দিলে, এখন তোমার কাহিনী আমায় রেজিস্টার খুলে জানতে হবে! কখন মদনের কাছে গিয়ে রেজিস্টার দেখব, অতক্ষণ তর সইছে না। বলে ফেল দিকি, কে সেই সুন্দরী? বয়স কত? তাঁর বাড়িই কোথায়?

- ভদ্রমহিলা ডানাকাটা পরী না হলেও যথেষ্ট সুন্দরী, স্বামী সেলস লাইনে বড় পোস্টে কাজ করেন, সারাদিন সময় দিতে পারেন না, এদিকে বিয়ের পাঁচবছর হয়ে গেছে সন্তানও নেই, তাই আর কি, বেচারি বড্ড একা।

- আহা, সে তো স্বাভাবিক! সবই ঠিকঠাক চললে লোকে পরকীয়া করবে কেন? সমস্যা আছে বলেই তো আমরা সমাধান বেচে ব্যবসা করছি তাই না? তা তিনি থাকেন কোথায়?

- এই তো লেকটাউনে থাকেন, নাম স্মিতা গাঙ্গুলি ... বয়স তেত্রিশ ... বাপের বাড়ি বেহালা ... আরে, ওকি ! ও অর্ণবদা, চললে কোথায় ???

ধুত্তোর নিকুচি করেছে তোর পরকীয়ার। কি হয়েছে বুঝে গেছেন অর্ণব গাঙ্গুলি। মনে মনে বসের কন্ট্র্যাক্টের একশো-আট, গৌহাটি ট্রিপের দুশো-ষোল, সাধের "বিবাহোত্তর" ওয়েবসাইটের চারশো-বত্রিশ বাপ্-বাপান্ত শাপ-শাপান্ত করতে করতে সটান ট্যাক্সি নিয়ে লেকটাউনে বাড়ির দরজায়।

কলিং বেল, দরজা পেটানো, মুখে চেঁচিয়ে "কোথায় গো? দরজা খোলো "- সব একসাথে শুরু করে দিয়েছেন অর্ণব, মাথা ভোঁ-ভোঁ করছে। নিজেকেই নিজে মনে মনে বলছেন- তোর পরকীয়া আইডিয়ার ইয়ে মারি।... দরজা খুলে বিরক্তমুখে দাঁড়ালেন মিসেস গাঙ্গুলি। স্বামীর হাবভাব দেখে বললেন:

- কি হল কি অ্যাঁ ? ওর'ম চিৎকার করছ কেন? বলি, মাথা-টাথা খারাপ হল নাকি? নাকি কামাখ্যা ঘুরতে গিয়ে তান্ত্রিকের কবলে পড়লে?

অর্ণব নীরব, ধপ করে সোফায় বসে পড়লেন।

- কই, কিছু বলছ না কেন? কি হয়েছে কি ?

- আরে দাঁড়া দাঁড়া, তুইও পারিস, লোকটা তো সবে এল ওই অতটা জার্নি করে।এট্টু ঠান্ডা হয়ে বসুক, জল-শরবৎ দিবি কোথায় তা না, খ্যাঁচ-খ্যাঁচ করে যাচ্চিস।

শাশুড়ি-মায়ের আওয়াজ শুনে চমকে উঠলেন অর্ণব, প্রণাম করে বললেন:

- আপনি কবে এলেন? ভাল আছেন তো?

- শুধু আমি কেন! স্মিতা, তোমার শ্বশুরমশাই, আমরা সবাই তো কলকাতা ফিরে একেনেই ঢুকলুম কালকে।

- কলকাতা ফিরে মানে?

- অ... তোমায় বলেনি বুঝি? দ্যাকো মেয়ের কান্ড, তুমি বাইরে যাবে শুনে, ওই তো আমাদের ফোন করে বলল যে কয়দিন হাত-পা ছাড়া। চলো, তোমাকে আর বাপিকে নিয়ে শান্তিনিকেতন ঘুরে আসি। তুমি যেদিন ভোরবেলা বেরোলে, সেইদিনই বিকেলে আমরা গাড়িতে রওনা দিলাম, এই কাল রাতে ফিরিচি।

টেবিলের উপরে রাখা জগটা থেকে ঢকঢক করে আধ-জগ জল খেলেন অর্ণব গাঙ্গুলি, একটা টাওয়েল নিয়ে গটগট করে বাথরুমে ঢুকে গেলেন।


(সমাপ্ত)


bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.