ভালবাসাটা বুঝিনি

ভালবাসাটা বুঝিনি

মনের ডায়েরিতে অনেক কাল অনেক প্রেম লিখেছি। জানি না তা রঙীন না ধূসর। তবে প্রেমগুলো, কাঁদিয়ে তবে হাসিয়েছে। সে সব প্রেম গাঁথা তো উপন্যাসের মতো শোনায়। সুখ যাপনের প্রেম কথা আসলে কী....তা তখন বুঝতে শিখেছি। আর আমিও শুধু কালবোশেখি ছেড়ে সদ্য বৃষ্টির মৌসুমীতে পা দিয়েছি। সে যখন বারান্দায় এসে দাঁড়াত -- কাদা মাখা পায়ে ফুটবলগুলো তখন সেকেলে মনে হত। ক্রিকেটের ছক্কাগুলো ফিকে হয়ে যেত। হারিয়ে যেতাম। যদিও সেই প্রেমিকা শিক্ষিত হতে চাইত। পরে হয়েওছিল। তাই অনুভূতির বহির প্রকাশে সুর কেটে যেত। পাশে এসে বসত। তার বাড়িতেও যেতাম। মনে পরে যখন বাবা মারা গেল...কাকীমা এগিয়ে এসেছিল। পরে মেধা ভেদাভেদ বুঝলাম। অর্থের স্বপ্নরা বিপথে ঠেলে দিল। আমি যখন ভালবাসতে চাইতাম ও তখন উড়তে চাইত। আমি যখন উড়তে চাইতাম ও তখন রেস্তোরা। সেই সব পরিস্থিতি পেরিয়েছে কতকাল। বিয়েতেও গিয়েছিলাম। বলেছিল “একইরকম রয়ে গেলি।” আমি হেসে ছিলাম। আসলে আমি ভালবাসাটা বুঝিনি।

এখনও ছোটবেলার ছবিগুলো আমার প্রিয়

বড়লোক বরের কাছে চুমুটা বুঝেই নিও...

সময় পেরিয়েছে। একবার বেরু বেরু গেলাম পুরী। আমার বন্ধুর বোনের সাথে আলাপ। তখন ফোন এসে গেছে। মুরগী হলাম বটে। অনেকগুলো বসন্ত আমিই সব কিনে দিলাম। করে দিলাম। ঘুরতে নিয়ে গেলাম। সিনেমা দেখালাম। সবই লুকিয়ে লুকিয়ে। তার দাদা নাকি বোনের ভালবাসা পছন্দই করে না। তারপর শুনলাম আমি নাকি নীচু জাত। যা কেলো। একবিংশের দুনিয়ায় মানুষের আবার রকমফের হয়!! মন বলে বস্তুটি আমি চিনলাম না। তিনি বললেন পরিপক্কতা নেই। ফেলে দিতে চায় সিম। অবশ্য তার আগে ফ্রি-তে অনেক কথা বলা হয়ে গেছে। পরে অবশ্য যোগাযোগ করল বটে কিন্তু ততদিনে আমি পরিপক্ক। আমিও বোঝালাম এক পক্ষের ভালবাসাটা বুঝিনি।

আমার বাড়ির পথ তুমি চিনে নিয়েছ সে বহুকাল জানি

ভালবাসা যে হিসেব কষা সিঁড়ির অঙ্ক নয় সেটাই মানি...

একটা মিসকল। কিন্তু সেই মিসকলের উত্তরে মেসেজ। মেসেজগুলো হৃদয় স্পর্শ করল। হৃদয় থেকে দেখা হল গড়িয়াহাটায়। তারপর কথা হল। মেসেজ হল। আবার সিনেমাও এলো। পপকর্ণ হল। সেই এক কেস। টাকা চাই সেই কন্যের। এদিকে বলে বিশাল বাড়িতে থাকে অথচ বাড়িতেই নিয়ে গেল না। ভয় দেখায় ব্রেক আপ...ব্রেক আপ...ব্রেক আপ....আমি অন্য মহিলার সাথে কথা বলি বলে ফেবু-তে আমার অ্যাকাউন্ট দেখত। আর আমাকে সন্দেহ করত। চড় মেরেছিল। আমি আবার ভালবাসার শেষ দেখতে ভালবাসি। চলল ক্ষমা। সময়ের সাথে টাকার চাহিদা বেড়ে গেল। জানলাম তিনি মদ, সিগারেটও খায়। ভালই হল। চিনলাম। জন্মদিনে আমি ড্রেস কিনে দিলাম সকাল সকাল। বিকেলে আমাকে না নিয়েই বেরু বেরু....হি হি...ধরলাম হাতেনাতে...পরে অবশ্য ক্ষমা চেয়েছে। জীবনে যা বলেছি মিলিয়েছে ঐ খারাপ বন্ধু সঙ্গের সাথে। মরতেও গেছে। তবে সেই একই উপসংহার ভালবাসাটা বুঝিনি।

তোমার ছবিরা আজও আমায় উত্তেজিত করে

এ ভাবেই বুঝি সত্য প্রেম অসার্থকতায় মরে...

আমি আবার কাব্যচর্চা করি। আরেক বন্ধু কলেজ থেকে আমার কবিতার ডায়েরি বাড়ি নিয়ে গেল। আবার কেলো। সে ডায়েরি পরে গেল তার বোনের হাতে। একবার তার বাড়ি গেলাম। কিন্তু মুশকিল হল তার বোন আমার প্রেমে তখন রাধা। কী আর করা। আমি তো ভাল মানুষ নই। চললুম প্রেম করতে, কখনও নন্দন, কখনও ভিক্টোরিয়া...কখনও লেক। একটু চুমু উষ্ণতার নোনাতা স্বাদ। কিন্তু কালো ছিল, চোখে চশমা মোটা...আমার মনটা দোনা মনা...তাই দূরত্ব। তারপর আবার দেখা করল এক পুজোর অষ্টমীতে। দুজনের কেমিষ্ট্রি যেন মিসিং। আমি বললুম বিয়ে করে নাও। বিয়েও হল। অনেক পরে দেখা হল না...তবে মেল পেলাম। চ্যাট করত। বিয়ে হয়ে দুবাইয়ে থাকে। বর ভাল। আদুরে। আমি বললাম বাচ্চা হলে জানিও। সে জানাল...তবে আমি যে নাম দিতে চেয়েছিলাম তা রাখল না। গ্যারেন্টি পেলাম ভালবাসাটা বুঝিনি।

মা হওয়ার স্বাদ পেয়েছ, আমি হয়নি বাবা

প্রেম তো ত্যাগ প্রিয়া কালাপাহাড়ের থাবা।

এতগুলো রঙিন প্রেম করে আমি হাফিয়ে যাইনি। আর আপনারা পড়তে পড়তে ঘুরিয়ে দেবেন ভাবছেন! দাড়ান দাড়ান, ভালবাসাটা বুঝিনি তো কী হয়েছে রঙগুলো তো পড়ুন। আমি তখন উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে শুরু করেছি প্রাইভেট টিউশন। পাড়ার এক বোনকে পড়াই। ব্যস নতুন ফোন এসেছে। একদম জমে ক্ষীর। তখন এক টাকা ম্যাসেজ, তাও ১৬০ শব্দে কত কিছুই লিখতাম। মেয়েটি প্রথমে ভালও বেসেছিল। পরে বুঝলুম সে অন্য কাউকে...মজার হল সে এখনও বিয়ে করেনি। আমিও করিনি কিন্তু। তা বলে বলব না হামে তুমসে পেয়ার কিতনা...ভালবাসাটা বুঝিনি।

আজও ভালবাসি বললে অবাক হয়ে যাও

কি জানি কেন তুমি আজও আমায় ভাবাও...

আগেই বলেছি আমি কবিতা লেখার পাবলিক। ছেড়া জামা প্যান্ট পরে কলেজ জেতাম। একটা মোটা, বেটে মেয়ে আসত। আলাপ হল। জানেনই তো আমার প্রজেস্ট্রনটা বেশি। আবার প্রেম। সল্টলেক, শুধু লেক। পথে-ঘাটে- ক্লাসে। বড়লোক নারী। তাই বামুন হয়ে নাই বা দিলাম ওখানে হাত। কলেজ শেষের সাথে মিলিয়ে গেল সেই ইন্টুপিন্টু...পরে আমায় যোগাযোগ করল হোয়াটসঅ্যাপে...বলল আমায় অনেক খুঁজেছে। সত্যিই বলছি খুঁচরো

ভালবাসাটা বুঝিনি।

অনেক খুঁজেছিস তাই পাশনি অরূপ রতন

তোর ভালবাসাদের রেখেছি রে হৃদয়ে যতন...

অনেক গুলো প্রাইভেট টিউশন করতাম। দেখতে মন্দ না আমি। নিজের ডাক নিজে না পেটালেও অনেকগুলো মেয়ে প্রেমে পড়েছে আমার। আমিও অঙ্কের জটিল ধাঁধায় ভুলিনি। কিছু ঘটি বান্ধবী আমায় নিজের করেচেয়েছে। তারা আবার শিক্ষিত। তাই বুঝেছি দাড়ি শক্ত হয়েছে যে...শুধু মনে মনে বলেছি ভালবাসাটা বুঝিনি। কিছু বান্ধবী হয়তো খুব ভাল ছিল তবে আমি তার যোগ্য নই। কারণ একটাই সে যেমন ভাবে আমায় বুঝেছিল হয় তার বাড়ির লোকের শিক্ষা তেমন নয় অথবা শিক্ষার সেই আধার সে স্পর্শ করেনি। অথবা আমি সে ভালবাসার মিথ্যাদের বুঝতে ভুল করেছি। পরে সেই সব বান্ধবী ও ছাত্রীদের বিয়েও হয়েছে। মজা হল বিয়ের পরও তারা বলেছে কাশ তোর সাথে বিয়েটা হত....। মজা হল সেই সব বান্ধবী, ছাত্রী মোটা হয়েছে, ঝগড়াকরে শুনেছি বরদের সাথে।

ভাগ্যিস, ভুল করেনি আমার রাশিচক্র

ভালবাসা সত্যই সোজা, নয় সে বক্র।

এরপর আসা যাক অন্য প্রেমে। ঐ যে বললাম বুড়ো না হলে অর্ধ জীবন ব্যাচেলর। চির কুমার পার্ট টু লিখব। তবে আবার প্রেম এলো নোনা জলে। সন্দুরবন যাত্রা। অনেক কম বয়স। কিন্তু বলেই ফেললাম প্রথম দেখাতেই...কেস গুবলেট। মেয়েটি শিক্ষিত বলল worthless। আমি আবার মূর্খ। ভাবলাম ভালবাসার নতুন প্রকাশ। ডিকশেনারী জানান দিল চোখে জল মুখে হাসি। তবে....তবে পরে মেয়েটি...এখনও আমার ভালবাসাই চায়। আমি আবার রিজেক্ট হলে ফিরি না। আসলে ভালবাসাটা বুঝিনি যে...

আর আমি তোমাকে নিয়ে লিখব না কবিতা

তুমি নিজেই স্পষ্ট করেছ চুমু দেওয়ার ছবিটা।

আর শেষ প্রেম করছি বলে যে নারী আমার জীবনে এসেছিল। সেই প্রেমটা খুব শর্ট পিরিয়েডের ছিল। ডুয়ার্স ভ্রমণে আলাপ। ট্যাটু করা মেয়ে। আমার মায়ের না পসন্দ। কিন্তু সেই হট প্যান্ট আমাকে শেষ বারের জন্য বলেছিল...এ যে নন্দিনী...রক্তকরবী নিয়ে দাঁড়িয়ে। ব্যস কলকাতায় ফিরেই প্রেম। একে অপরকে তখন খাইয়ে দিই বিরিয়ানি। এক সাথে ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট করে দিই সেই শিক্ষিকাকে। তার গবেষণা পত্রের সব কাজ করে দিই। আসলে ইনি আবার অনেকগুলো পুরুষের গন্ধ শুকে এসেছিলেন তো...তাই আমার সাদামাটা জীবন পছন্দের ছিল না। কী আর করা...প্রায়শই কথা বলা বন্ধ করে দিত। আসলে এ হল ফেলে দিয়ে আমায় পরখ করতে চায়....ভালবাসি নাকি....কিন্তু আমি তো সেই বান্দা নই। গরীব হতে পারি আত্মসম্মান আছে। পরে অনেকবার ফোন করেছে...আমার স্মৃতি ছবিদের নিয়ে প্রোফাইল পিকস করেছে...তবু আমি যোগাযোগ করিনি।

বিয়ের কার্ডের বয়ান আজও তোমার জন্য তোলা

সত্য যদি অন্ধকার মুক্তি দেয়, দরজাটা আজও খোলা...

ভালবাসার প্রেম তো হিসেব করে হয় না। ভালবাসা তো ভাল-মন্দকে আপন করে নেওয়া। সেটা কত নারীকে বোঝাতে পারিনি সেটা আমার অক্ষমতা। অনেক কথা বলা বন্ধ করেছে, আবার আমি অনেকের সাথে কথা বলা বন্ধ করেছি। কিন্তু ভালবাসা তো চিরকালীন। জ্ঞান আমি দিতে পারি না কারণ আমার নানা রঙগুলি...সত্যই নানা নানা রঙের প্রেমিক হৃদয়ের ভালবাসাই...আপনারা যাই বলুন ভালবাসাগুলো আঁকড়ে থাকতে হয়। কোনও এক জীবনে রেফারেন্স পেয়ে যাব যে। সে আপনি বা আপনারা যতই বলুন দুঃশ্চরিত্র, ভালবাসতেই জানে না। মেয়েদের মনটা বুঝতে হয়....তবু আমি বলব আমি রাগী, বদরাগী নই। আমি জানি ভুল ঠিকের ভবিষ্যতের ক্যানভাস। তাই এ যুগের পারু দেবদাসের ভালবাসাটা বুঝিনি। তবে আমার নেশা কিন্তু কবিতা। সব প্রেম চলে যাক, আসুক, ভালবাসুক। কবিতা আমাকে বা আমি কবিতা ছাড়ব না।...কি বা গেল এলো চিরকুমারের ভালবাসাটা বুঝিনি দিয়ে...আসলে আমি ভালবাসার শান্তিটাই বুঝেছি...যা আপনাদের পাঠক মন আমায় দেবে...কী দেবেন না!!

অনুভব করে আত্মা আমার প্রিয় মনে দহন

ভালবাসার অমরত্ব চেতনালোক করবে বহন...

***********************************************************************

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.