কবরে আলোর রহস্য - * ১ *

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর পরের দিন সকালে বেলা করে ঘুম থেকে উঠে পুজো প্যান্ডেলের দিকে উঁকি মারতেই খেয়াল হল এই বছরের মত ঘটনা শেষ ! তার উপর এবছর তিথি নক্ষত্রের সুত্রে গিঁট টিঁট পড়ে পুজোর দৈর্ঘ্য নাকি ছোট হয়ে গিয়েছিল ! নবমী দশমী জুড়ে গিয়ে একাকার ! এসব অনাসৃষ্টি ব্যাপার স্যাপার মনে পড়তেই যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে পড়ল ! সোজা ইউ-টার্ন আর তারপর বাড়ি ফিরে আবার শয্যা নেব এমন ভাবতে ভাবতে মুখ বেজার করে ফিরছিলাম, ঠিক এমনি সময় খ্যাঁক করে একটা সাইকেল এসে আমার সামনে পথ আটকে দাঁড়ালো আর ক্যারিয়ার থেকে সোজা আমার ঘাড়ে ঝাঁপ ! ছট্টু ! উফ্ আর একটু হ’লে ঘাড়টাই হয়তো মটকে যেত !

ছট্টু যে সাধারণ লোকজনের চেয়ে একটু কম বিবর্তিত প্রজাতির মানুষ সে সম্বন্ধে আর একবার আমার ধারণাটা জোরদার হ’ল । শেষে ছট্টু আমার ঘাড় থেকে আবার গুপির সাইকেলের ক্যারিয়ারে জাম্প দিতেই পালালো দু’জনে, আর যেতে যেতে বলে গেল –

– দুপুর তিনটে, আর্জেন্ট ! ভ্যাঁটাদার চিলের ঘরে, চলে আসিস্ !

বোঝো ! মাথামুন্ডুহীন নিরাকার একখানা ফতোয়া ধরিয়ে দিয়ে কেটে পড়লেন বাবুরা । তাও আবার যারতার ফতোয়া নয়, স্বয়ং ভ্যাঁটাদার আহ্বান, যেখানে ‘না’ করাটা সিলেবাসে পড়ে না । কিন্তু কথা হচ্ছে এরকম কার্যকারণহীন শমন ধরিয়ে দিলে মনের মধ্যে হাজার প্রজাতির আশঙ্কা আকাঙ্খা এমনভাবে কিলবিল করতে থাকে যে ঘটনাটা খোলসা না হওয়া পর্যন্ত মনে মনে বেজায় অম্বল হয়ে থাকে । এই মনে হয়, ভ্যাঁটাদা বুঝি সামনের রোববার ব্যাডমিন্টনের কোর্ট খোঁড়াবে আমাদের দিয়ে নয়তো বা ঘাড়ে করে নিয়ে গিয়ে ক্যারম বোর্ড পালিশ করিয়ে আনতে বলবে । আবার মনে হয়, হয়তো বা ফিস্ট টিস্ট কিছুর মিটিং অথবা বিজয়া সম্মিলনী গোছের কিছু ! কিংবা কে বলতে পারে, আসলে জেঠিমার নেমন্তন্ন ; জেঠিমার ব্রতট্রতর কল্যাণে ভ্যাঁটাদার বাড়ি মাঝেমধ্যে আমাদের পেটে চিরফাট ধরানোর বরাত টরাত জোটে, সেরকম কিছু হ’তেও তো পারে ! কিন্তু আগে থেকে কিচ্ছু বলা যায় না । যতটাই বিচিত্র-চরিত্র ঐ ভ্যাঁটাদা, ততোধিক খেয়ালী-হেঁয়ালিময় তার ভাবগতিক ।

যাই হোক, সেদিন খেয়েদেয়ে দুপুর পৌনে তিনটে নাগাদ সোজা ভ্যাঁটাদার বাড়ি হাজির হ’লাম । সিঁড়িতে উঠতে উঠতেই বুঝতে পারলাম বাকি সভাসদগণ ইত্যবসরেই যথাস্থানে হাজির হয়েছেন । মিনিট পনের পর রাজদরবারে রামশিঙার সতর্কনাদের অভাব খানতিনেক জলদগর্জনগম্ভীর ঢেঁকুরের সাহায্যে মিটিয়ে নিয়ে এবং পাশবালিশ আর মাদুরের মধ্যভাগ সহযোগে সিংহাসনের কাজ চালিয়ে নিয়ে ভ্যাঁটাদা বসল । আমরা কৌতূহল চেপে চুপ করে বসে আছি এইবার অন্তত খানিকটা অন্ধকার কাটবে আশা করা যায় ।

– আলেয়া ! –ভ্যাঁটাদা মুখ খুলল – দেখেছিস নাকি কখনো জিকো ? কি ছট্টু, আলেয়া সম্পর্কে কোনো ধারণা ?

জিকো অমনি হুড়মুড় করে বিদ্যের ঝুলি খুলতে যাচ্ছিল – আলেয়া ? ঐ তো মৃত গলিত বিভিন্ন বস্তু থেকে ফসফিন নামক গ্যাস …

– থাম্ থাম্ । “ফসফিন নামক গ্যাস” – শুধু বুকিশ নলেজ ! ওসব কে না জানে র‍্যা ? ভৌতবিজ্ঞান সহায়িকা ঝেড়োনা আর !

ভ্যাঁটাদা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে জিকোকে ভেঙিয়ে থামিয়ে দিল ।

– আমি বলছি নিজের চোখে দেখার অভিজ্ঞতা আছে কারো ? দেখেছিস কি কখনও কেউ আলেয়া ?

আমরা সবাই খুব নিরুৎসাহিত হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম । আমার তখুনি মনে পড়ল একটা ব্যাপার । বলে উঠলাম –

– আমার মামা দেখেছে আলেয়া ! আমায় বলেছিল গল্পটা, আমার দিব্যি মনে আছে । আলেয়া হয় নীল আর মাটির উপড়ে একটুক্ষণ ভেসেই মিলিয়ে যায় ।

তা শুনে ভ্যাঁটাদা চোখদুটোকে বড় বড় করে নাকটাকে খানিক ফুলিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল – এ কি রে ? নন্দ উয়িদ্ কারেক্ট ইনফর্মেশন ? স্ট্রেঞ্জ !

আমার ভয়ানক রাগ হল ! বিরক্তির একটা অভিব্যক্তি গুছিয়ে দিতে যাব ভেবে যেই না তাকিয়েছি দেখি কিনা বুদ্ধগয়ার বোধিবৃক্ষের ডালের মতো বিশাল একখানা হাত আকাশপথে আমার কাঁধের উপড়ে ল্যান্ড করছে । লোমশ হাতখানা আমার কাঁধে চাপিয়ে ভ্যাঁটাদা বলতে লাগল –

– তা তুই ঠিকই বলেছিস নন্দ । আলেয়ার রং নীল । ধোঁয়ার মতো ভুস্ ক’রে একটু জ্বলেই হাওয়া । কিন্তু এ তো সে জিনিস নয় । হলুদ বা লাল রঙের শিখা । রহস্য ! বুঝলি ? ঘোর রহস্য !

আমরা উত্তেজনা ফিরে পেলাম । গুপি চেঁচিয়ে উঠল – কী রহস্য ভ্যাঁটাদা ? কোথায় রহস্য ?

জিকো বলল – লাল হলুদ শিখা কোথায় দেখলে ?

ছট্টু বললে – আমিও দেখব । আমাদের দেখাবে ?

অমনি ভ্যাঁটাদা মহা বিরক্ত হয়ে কোঁচকানো স্বরে বলল – ওহ্ যত্তসব উচ্চিংড়ে জুটেছে । সমস্ত কিছুকে চিনি জল দিয়ে মুড়ির মত করে খাওয়া ছাড়া আর কিচ্ছু শিখলিনে তোরা । তোদের সাথে ডিসকাস করাই বৃথা ! ধোউরর্ !

আমরা হাঁ হাঁ করে উঠলাম । জিকো বলল – আহা ভ্যাঁটাদা খেপছ কেন ? আমরা নাহয় মুড়ি শুকনোই খাচ্ছি । তুমি বল রহস্যটা নিজের মত । তাতে নিরস্ত হয়ে ভ্যাঁটাদা এবার বলল – হ্যাঁ রে জিকো, নন্দ, তোদের কলেজ কবে খুলছে ?

আমরা জানালাম যে জগদ্ধাত্রী পুজোর পর । গুপি আর ছট্টুরও কলেজ কালী পুজোর আগে খুলছে না জেনে নিয়ে ভ্যাঁটাদা বললে – তবে চ’, রহস্যটা উদ্ধারে নেমেই পড়া যাক ।

আমরা বললাম – কি রহস্য ভ্যাঁটাদা ? একটু খুলে তো বল ?

– কবরে আলোর রহস্য ! শোন্ তবে । তোদের ব্যাকগ্রাউন্ডটা জানা দরকার । আমার ছাঁচি পিসি কে দেখেছিস ?

আমরা নাসূচক মাথা নাড়লুম, শুধু জিকো বললে – ঐ যে তোমার পিসি ভাগলপুর না কোথায় যেন থাকে ?

– ভাগলপুর নয় রে গবেট ! খড়গপুর । তবে ঠিক খড়গপুর শহরে নয় ।

তারপর বিবিধ অঙ্গভঙ্গি, ব্যাখ্যা এবং শ্রোতাগণের বহুবার কৌতূহল জনিত বক্তব্যে বাধাদান সমূহকে রহিত করে ভ্যাঁটাদা কবরে আলোর রহস্য বিষয়ক যে অনুচ্ছেদ পেশ করল তার জিস্টটা হ’ল এই –

কিরকম যেন এক দূরসম্পর্কের পিসি হন ভ্যাঁটাদার এই ছাঁচিপিসি ; কতটাদূর এবং কোনপথে যে সেই সম্পর্ক, সে সম্পর্কে ভ্যাঁটাদাও ঠিক পরিষ্কার নয় । সম্পর্কে পিসি হলেও সত্তরের ঘরে তাঁর বয়স । কবে কোন ছোটবেলায় বাপ মা মরা এই ছাঁচিপিসির মেদিনীপুরের এক হাবিলদারের সাথে বিয়ে হয় । তদবধি তাঁর বাস ভূরকুণ্ডি গ্রামে । ছাঁচিপিসি নিঃসন্তান এবং বিধবা, অথচ তাঁর নাকি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি প্রয়োজনের যথেষ্ট বেশিই আছে । বেশ খানিক জমিজমা, বিরাট পুকুর, ফলপাকুড়ের বড় বাগান ও একখানা কোঠাবাড়ি । হাবিলদারের গিন্নি বলে এখনও মান্যিগণ্যি করে এমন কিছু লোকজনদের দিয়ে জমিজমা পুকুর ইত্যাদি চাষবাস করিয়ে ছাঁচিপিসি দিব্যি ভূরকুণ্ডিতে বাস করছেন ‘বারোভূতের অত্যেচার’ ঠেকিয়ে একরকম স্বচ্ছন্দেই । এই প্রসঙ্গে চমৎকার ঘটনা যেটা সেটা হ’ল আমাদের মত শহর-মফঃস্বলের হেডফোন-জেনারেশানের অনেকের কাছেই অভাবনীয়, এরকম ধরনের অজ পাড়াগ্রাম আজকের দিনেও বর্তমান । না না, বিহার উত্তরপ্রদেশ – অতদূর নয়, এই দু’পা বাড়িয়ে মেদিনীপুরের কথাই বলছি – ছাঁচিপিসিদের ওখানে । ভ্যাঁটাদা নাকি সেই বছর বারো আগে একবার ছাঁচিপিসির গ্রামে গিয়েছিল, তখন দেখেছে, ঠিক গল্পে পড়া সব গ্রামের মত সন্ধ্যে হ’লেই ঘুটঘুটে অন্ধকার নামা, পোড়োবাড়ি, বুড়োবট, বুড়োশিব, যাত্রীবাহী গরুর গাড়ি, বর্ষায় একহাঁটু কাদা আর নদীর পাড়ে শাল তমালের গহীন অরণ্য সমভিব্যাহারে ইলেকট্রিকের পদচিহ্ন রহিত চমৎকার গল্পীয় ‘গাঁ-গেরাম’ খোদ মেদিনীপুরের ভেতর দিকে স্বমহিমায় বর্তমান । এবং আজকের দিনে গ্রামগুলোর সে পুরনো মহিমা খুব একটা বেশী বিপর্যস্ত হয়নি । বড়জোর এখানে ওখানে ইলেকট্রিকের খুঁটি দেখতে পাওয়া যাবে, বেশীরভাগ শায়িত, দু চারটে দাঁড়িয়ে কিন্তু তাদের মাথায় তার গজায়নি এখনও । কিছু কিছু জায়গায় লাল কাঁকড়ের রাস্তা করা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু যথারীতি প্রকৃতিদেবী তার সাধের খেলাঘরের মতো গ্রামগুলোর ওপর এসব অনাচার সহ্য করেননি । রোদ জল ঝড় ও বন্য লতা ঝোপঝাড়ের সাহায্যে রাস্তা গুলোকে তাদের আদিম চেহারার কাছাকাছিই করে নিয়েছেন ।

এসব শুনতে শুনতে আমরা তো বেজায় আপ্লুত হচ্ছিলাম কারণ আমরা সবাই গল্প, সিনেমা, ডকুমেন্ট্রি আর পথের পাঁচালীর মুখে ঝাল খেয়ে ঐসব অজ পাড়াগাঁয়ের স্বাদ পেয়েছি ; অথচ ভীষণ ইচ্ছে করে পোড়ো ভাঙা জমিদার বাড়িতে রাত কাটাই কিংবা ভাঙা শিব মন্দিরের উলটানো শিবলিঙ্গ সোজা করি কিংবা বুড়ো তেঁতুল গাছের ফোঁকড় থেকে টিয়ার ছানা পেড়ে আনি । নাহ্ ! এসব তো আর আসলে হওয়ার নয় ; আর এইসব অজ পাড়াগাঁ বেমালুম বিলুপ্ত হয়ে গেলে সেসবের আর কখনো সুযোগও থাকবে না । কিন্তু এরকম জায়গা টায়গা যে ঘরের পাশেই আছে তা কে জানত !

তো সে যাই হোক মোটামুটি এরকমই একটা এলাকায় ছাঁচিপিসির বাস । পিসির বাড়ি গ্রামের এক প্রান্তে । বাড়ির পিছনে নাকি খানিকটা মাঠ, মাঠের পর একটা বড় কবরস্থান । আশেপাশের বেশ কয়েক গ্রামের মুসলমানরা তাতে শবদেহ কবর দেয় । মূল ঘটনা হ’ল বিগত কয়েক কৃষ্ণপক্ষ ধ’রে বেশ কয়েক রাতে বুড়ি ছাঁচিপিসি তাঁর শোবার ঘরের জানালা দিয়ে ঐ কবরস্থানে এক অদ্ভূত আলো, আলো মানে একটা হলুদ শিখা দেখেছেন । মানুষের বাসস্থান হিসেবে ছাঁচিপিসির বাড়িই কবরের সবচেয়ে কাছে । আরও দূরে মাঠের পরে যেসব গ্রাম আছে সেখান থেকে এত দূরের কবরস্থান দেখা যায়না । পিসির বাড়ি আর কবরের মাঝে কেবল কয়েকশো মিটারের ব্যবধান । অমাবস্যার রাতগুলোতে নাকি অবশ্যই দেখা গেছে সে আলো ; তাছাড়া অন্য দু’এক রাতেও দেখা গেছে । পিসি তাঁর গাঁয়ের দু’এক জনকে বলেওছিলেন কিন্তু কেউই এ নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতে রাজী হয়নি । শুধু কপালে দু’বার হাত ঠেকিয়ে জানিয়েছে– গোর-কবর বলে কথা, ওসব কতরকম ‘ওনারা তেনারা’, পীড়, জীন প্রমুখের আনাগোনা থাকতেই পারে । ও আলো দেখলে চোখ ফিরিয়ে নেওয়াই ভালো । মুসলমানদের দুটো ছেলেকে বলতে তাদেরও এক কথা । কিন্তু ছাঁচিপিসি ছাড়বার পাত্রী নন । ভ্যাঁটাদার ভাষায়– “ছাঁচিপিসির স্বরূপ আর বললুম না, সাক্ষাৎ দর্শনেই সেটা বুঝবি । একবার পায়ের কাছে নাকি এক চন্দ্রবোড়া সাপ এসে জড়িয়ে ছিল । হঠাৎ ঘুম ভেঙে উঠে পিসি এমন এক ধমকি দিয়েছিল যে সাপ বাবাজী কামড়ানো ছেড়ে বিষ বমি করে ওখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল ! পরে পিসি তার মাথায় জল দিয়ে বনে ছেড়ে দিয়ে আসে’’ । তো এহেন ছাঁচিপিসি ব্যাপারটার হেস্তনেস্ত করবার মনস্থির করলেন । কিন্তু এই বয়সে রাতবিরেতে বনে বাদাড়ে ভূতপ্রেত ধরাটা কি আর খুব একটা কাজের কথা ? তাঁর অনুগত লোকজন বা কাজের লোকেরা কেউই ‘সুখে থাকতে ভূতের কিল খেতে’ রাজি হয় নি । অগত্যা ভ্যাঁটাদাকে ফোন ।

এই হল মোট প্রতিপাদ্য বিষয়, যা পেশ করার শেষে ভ্যাঁটাদা বলল – নন্দ, ছট্টু তোড়জোড় করে রাখ্ সামনের উইকে শুভদিন বৃহস্পতিবার রওনা দিচ্ছি ভূরকুণ্ডি । জিকোর মেজদা আর গুপির মা, মানে কাকিমার সাথে আমার কথা হয়ে গেছে । নন্দ আর ছট্টু তোরা বাড়িতে বলে রাখিস আমিও বলে দেব একবার । আমি একবার দিব্য দৃষ্টিতে বাবার অভিব্যাক্তিটা দেখে নিয়ে এবং মাথাটা একবার চুলকে নিয়ে বললাম – ইয়ে, মানে ভ্যাঁটাদা, বাবা যদি আপত্তি করে, তখন ?

মুখখানা বিস্ময় মেশানো বিরক্তিতে টানটান এবং দু’ ইঞ্চি লম্বা করে ভ্যাঁটাদা বলল – আপত্তি ! আপত্তির কথা আসছে কোত্থেকে ? ওরে মর্কট এ তো আর তুই স্কুল বাঙ্ক করে আড্ডা দিতে যাচ্ছিস না । যাচ্ছিস ভদ্রেশ্বরের ভবতোষ নন্দীর সাথে একটা এক্সপ্লোরেশনে ! আপত্তি করলেই হল ? আমি বলে দেব যা ।

আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলুম । ভ্যাঁটাদা বলতে লাগল – বৃহস্পতিবার রওনা দিয়ে কালীপুজো অবদি ছুটি কাটাব ওখানে । এক হপ্তা সময় । তার মধ্যে কেসটা অবসার্ভ করে অ্যানালিসিস অ্যান্ড দেন এক্সপ্লোর করে ফিরতে হবে, বুঝলি ?

ছট্টু অনেকক্ষন থেকে উসখুস করছিল, তারপর সাহস করে বলেই দিল – বলছি কিযে ভ্যাঁটাদা, ঘরের খেয়ে দিব্যি ছুটি কাটাচ্ছি । অতদূরে কোন্ অজ পাড়াগাঁয়ে গায়ে পড়ে ভূতের পাল্লায় পড়াটা কি ঠিক হচ্ছে ?

– জিকো, এক্ষুনি টিম থেকে নাম কাট এই পেঁয়াজকলি ভাজাটার । তুমি ঘরে বসে আরামসে ছুটি কাটাও আলু চচ্চড়ি দিয়ে মুড়ি খেয়ে । এদিকে বলে পোলট্রি আর চালানী খেয়ে খেয়ে আমার জিভে মস, ফার্ন জন্মে গেল ! ছাঁচিপিসির খামারের দেশি মুরগি পার হেড আস্ত একখানা করে, দেদার মটন, পুকুরের পাকা কাতলা, গাওয়া ঘী এর পোলাও, উফ আরও কত কী ! এরকম জিভেল অফারখানা অমনি ভূতের ভয়ে কবর দেব ? আলবাত নহি !

আমরা চোখ বড়ো বড়ো করে শুনছিলাম । ছট্টু হাইমাই করে উঠল – না মানে ভ্যাঁটাদা আমি তা বলিনি । আমি আছি টিমে !

আমার কেমন যেন মনে হল এক ঝলক মটনের গন্ধ নাকের সামনে দিয়ে উড়ে গেল । ভ্যাঁটাদা আরও বলল – তাও তো তোরা বোনাসের ব্যাপারটা জানিসই না । পিসিমার আচারের জায়েন্ট স্টক্ ! সে জিনিস অকুস্থলেই গিয়েই চাক্ষুষ কোরো । আর হ্যাঁ, কোন্ উচ্চিংড়ে বলছিলি যেন ভূতের ভয়ের কথা ? শুনে রাখ্, এই ভবতোষ নন্দী ভূতপ্রেত মানে না ও কিছুতে ভয় পায় না, বিশেষত যে ক্ষেত্রে পৌষ্টিকতন্ত্রের যোগব্যায়ামের যোগ আছে ! তাহলে গেট রেডি । চলো কবরে আলোর রহস্য উদ্ঘাটনে !

bengali@pratilipi.com
+91 9374724060
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.