কাজলা দীঘি র জল টলমল।পদ্ম ফোটে জলে। দীঘি আর দীঘির জলের সংসার টা বেশ কাটছিল আনন্দে। কিন্তু জলের যে কি হয়েছে কে জানে। ভীষণ মন উচাটন তার। যবে থেকে তার বুকে ঐ আকাশের ছায়া এসে পড়েছে। জলের কোন কাজে তেমন মন লাগে না। ঘর করে বটে সে দীঘির। মন পড়ে থাকে আকাশের কাছে। বার বার মনে হয় ছুটে যাই আকাশের বুকে।

কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব। সে রোজ আকাশকে নির্নিমেষ দেখতে থাকে। আকাশ ও তাকিয়ে থাকে যেন জলের দিকে। এভাবে ধীরে ধীরে জন্ম নেয় এক পরকীয়ার। এক অমোঘ টান, সে টানে জলের ইচ্ছে হয় যাই চলে আকাশের কাছে। নিজেকে উজার করে এক হয়ে যাই।
শীত বসন্ত একে একে পার হয়ে যায়। তারপরে আসে প্রখর গরম। তাপদাহ তীব্র। এদিকে জল তাপে ধীরে ধীরে বাষ্পর ছদ্মবেশে আকাশে র দিকে ধাবিত হয়। তারপর সে কালো মেঘের রুপ ধারন করে আকাশ কে আস্টেপৃস্টে চেপে ধরে। তখন আকাশ মেঘবেষ্টিত হয়ে থাকে। আকাশও তার যথাসর্বস্ব দিয়ে মেঘ কে কাছে টেনে নেয়। একেবারে নিবিড় করে।

ওদিকে দীঘি বুঝে উঠতে পারে না। তার ভালোবাসায় কিসের খামতি থেকে গেল। যে জল এরকম করলো তার সাথে। তাকে ছেড়ে আকাশের বুকে। দীঘি ডাকতে থাকে জল কে চলে এসো। যদি কিছু ভুল করে থাকি শুধরে নেবো। তুমি সারাটা জীবন ওর সাথে ঘর বাঁধতে পারবে না। ও তোমাকে নিয়ে ঘর করতে পারবে না। শুধু ভালোবাসতেই পারবে। স্বীকৃতি দিতে পারবে না। সমাজের বুকে তুমি কলঙ্কিনি হয়ে যাবে। পরকীয়া বলে একে। পরকীয়া। চলে এসো তুমি। দীঘি র আকুল ডাকে জল বোধহয় সারা দিল। আকাশ মেঘরুপী জলকে বলে। আমার চাঁদ তারা দের নিয়ে সংসার। আমি ওদের ভাঙি কি করে। যাও তুমি দীঘি র কাছেই ফিরে যাও। আমি আছি চিরকাল তোমাকে ভালোবাসবো। কিন্তু সেটা পরকীয়া বলেই লোকে জানবে। মেঘ আরো ঘনীভূত হতে থাকে। আবেশে তার চোখ বুঁজে আসতে থাকে। আকাশের বুকে মিশে যেতে যেতে জল হয়ে ঝড়ে পড়ে আবার দীঘি র বুকে। আকাশ দূর থেকে দেখে আর একটা দীর্ঘশ্বাস তার অজান্তে ঝড় হয়ে কখন নেমে আসে, আকাশ জানতেই পারে না।

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.