-.ও বুলি, বুলি--?

--বলো দিদা।

--আবার ঘুমিয়ে পড়লি?আমি বলে সেই থেকে বকবক করে যাচ্ছি।

--কোথায় ঘুমোলাম।শুনছি তো তোমার কথা।

--তবে সাড়া দিস নে কেন?

--নাগো,ভাবছিলাম তোমাদের সময়ে মানুষগুলোর মন কেমন সুন্দর ছিল। এত জটিলতাও ছিল না বোধহয়।

--কে বলে তোকে এ কথা?আমাদের সময়ে মেয়েরা সমাজের বেড়িতে কিভাবে আটকে থাকতো তা জানিস?আজকের সমাজ কত আধুনিক,মানুষ কত খোলা মনে মানুষকে বিচার করে।টিভিতে দেখি এখনকার ছেলেমেয়েরা ঐ যে কী বলে লিভিং না কী যেন করে,তাও তো সমাজ মেনে নিচ্ছে।আমাদের সময়ে ছেলেদের দিকে মুখ তুলে তাকালে বেহায়া আখ্যা জুটতো।কত ভালোবাসা যে সমাজের হাড়িকাঠে গলা দিয়ে অকালে শেষ হয়ে গেছে।

--ওমা!দিদা তুমি লিভ ইন বোঝো!তা তোমাদের সময়ের একটা গল্পই শোনাও না।

--শুনবি?একটা সত্যি ঘটনা?এতদিন বুকে বয়ে বেড়াচ্ছি।এখন তো মরার সময় হয়ে গেছে। বলে দিয়ে যাই।

--বেশ তো। বলো না।শুনছি।


আমি বুলা সরকার।মথুরাপুর উচচ বিদ্যালয়ের ইংরাজির শিক্ষিকা।বয়স বত্রিশ বছর।

আমার একটি ছয় বছরের পুত্র আছে,নাম শুভ। আর ইনি আমার বাড়িওয়ালি।বয়স আশির উপরেই হবে।এখনো কর্মক্ষম।মাসছয়েক হল স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে একাই থাকেন। অর্থের চেয়ে লোকজন দরকার ছিল তাঁর বেশী।আর আমার দরকার ছিল একটা আশ্রয়।দুজনেই দুজনের পরিপূরক হয়ে উঠেছি তাই দ্রুত।


আজ রবিবার।এই দিনটাতে সারা সপ্তাহের কাচাকাচি,ঘর সাফসুতরো করা,একটু বেশী করে বাজার করা এসব কাজ থাকেই।বাকী ছ'দিন তো অন্য কোনও কাজের অবসর খুব একটা থাকে না।এই বাড়িটায় এসেছি মাস চারেক হল।আগের বাড়িটা স্কুল থেকে দূরে হচ্ছিল।তাছাড়া আমার ঐটুকু ছেলেকে সারাদিন আয়ার হাতে ছেড়ে দিতে তেমন ভরসা পাচ্ছিলাম না।এই বাড়িটার খোঁজ দিয়েছিল আমার কলিগ সুনয়না।আমার স্কুল থেকে এই বাড়িটা সাত আট মিনিটের হাঁটা পথ।কলকাতা থেকে অবশ্য বেশ অনেকটা দূরে।তবে কলকাতায় আর আমার জন্য কিই বা আকর্ষণ পড়ে আছে।সাত বছরের বিবাহিত জীবনের পর গৌতম যেদিন আমাকে আর আমার ছেলেকে অবহেলায় ফেলে রেখে আরেকজনের হাত ধরে নিলো,সেদিন লজ্জায় অপমানে মুখ লুকোনোর জায়গা না পেয়ে জীবনটাই শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম। তখন পাশে থেকে শক্ত হাতে আমার হাল ধরেছিল সুনয়না।ছেলের জন্য বাঁচতে শিখিয়েছিল।যখন আমার নিজের লোকেরা দায়িত্ব এড়িয়ে বেঁচেছিল তখন ঐ আমাকে পরামর্শ দিয়েছিল মথুরাপুরে চলে আসার জন্য।শেষমেশ এই দিদার একতলা বাড়ীর একটা ঘর,একচিলতে বারান্দা আর কমন বাথরুম খুবই অল্প টাকায় ভাড়া পাই।এখানেই ছেলেকে আমার স্কুলের জুনিয়র বিভাগে ভরতি করেছি।জীবনটা আবার অনেকটা গুছিয়ে নিতে পেরেছি।এজন্যে মনেমনে সুনয়নাকে ধন্যবাদ দিই।

দিদা একেবারেই একলা মানুষ। একাকিত্বের মধ্যে আমার ছেলেকে পেয়ে তার বাৎসল্য যেন শতধারায় বিকশিত হয়েছে।আমিও মোটামুটি নিশ্চিন্ত।শুধু একটা প্রশ্ন মাঝেমাঝে খোঁচা দেয় এই হাসিখুশি মানুষটির এতবড় পৃথিবীতে কেউ নেই?যদিও নাগরিক সভ্যতায় নিজের থেকে অযথা কৌতুহল কখনো দেখাইনি।আরো একটা ব্যাপারে আমার একটু খটকা লাগে। তাহলো ওনার ঘরে একটা সুন্দর কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো ছোটো হাত আয়না আছে। সেটাকে তিনি প্রায় একটা দামি গয়নার মতো যত্ন করেন।ভেবেছি মজা করে হলেও একদিন ওটার ব্যাপারে জিগ্যেস করবো।

আজ সন্ধ্যের আগে থেকেই লোডশেডিং।আকাশে ঘন মেঘ।গাছের পাতা নড়ছে না।ভীষণ গুমোট।সারাদিনের কাজের পর ক্লান্তিতে গা এলিয়ে দিয়েছিলাম মাদুরের ওপর খোলা বারান্দায়।যে জীবন আমি ফেলে এসেছি,সেখানকার মানুষেরা এ দৃশ্য দেখলে চমকে যাবে।গ্রামের দিকে বড়ো বড়ো গাছ থাকার কারনে ঝড়ের সম্ভাবনা দেখা দিলেই কারেণ্ট চলে যায়। কোলের কাছে এসে বসেছে ছেলে।এই সময় তালপাতার এক পাখা হাতে দিদা পাশে এসে বসলেন।সারা সপ্তাহ তিনি আমার নাগাল পান না। আজ আমাকে বাগে পেয়ে অনেকক্ষণ ধরেই বকবক করে যাচ্ছেন।আমিও দায়সারা ভাবে হুঁ হাঁ করে যাচ্ছি।এমন সময় গল্প শোনার সুযোগ পেয়ে নড়েচড়ে উঠে বসলাম।আজ সুযোগ বুঝে আয়নার কথাটা জিগ্যেস করবো ভেবে নিলাম।


এ গল্পটা শুরু করবার আগে দিদা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। মনে হল নিজের মনে নিজেকে গুছিয়ে নিলেন। তারপর বলতে শুরু করলেন --এ গল্পটা বঙগভঙ্গের আগের।যশোর জেলার নড়াইল নামের এক গ্রামে বড় হওয়া দুটি ছেলেমেয়ের কথা।ধরে নে তাদের নাম আয়েশা বানু আর তপন দে।যখন এ গল্পের শুরু তখন মেয়েটির বয়স নয় বছর আর তপনের বয়স সতেরো ।এই দুই অসমবয়সীর বন্ধু হবার কারণ তপন একটু হাবা গোছের,তাই তার বন্ধু নেই বললেই চলে আর আয়েশা মুসলমান ঘরের স্বামী পরিত্যক্তা।তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পণ এবং চাহিদামত দান সামগ্রী না পেয়ে তাকে তালাক দিয়ে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।এই দুজনকে কখনো দেখা যেত ভরদুপুরে নদীতে মাছ ধরতে গেছে।কখনো বা মাঠের চাষে জলসেচ করছে। কখনো সরকারদের বাগান থেকে পেয়ারা চুরি করছে।মোটকথা সারাদিন তাদের মোটামুটি একসঙ্গেই দেখা যেত।

--তবে যে তুমি বললে তখনকার দিনে ছেলেদের দিকে চোখ তুলে তাকালেও মেয়েদের খারাপ কথা শুনতে হত?--শুধোলাম আমি।

--হতইতো।কিন্তু এখানে ছেলেটি হাবাগোবা আর মেয়েটি এতই নগন্য ছিল যে সমাজ বোধহয় ওদের নিয়ে ভাববার সময় পায় নি। তাছাড়া ঐ মেয়ে বরাবরই গেছো ছিল।

--ও,বুঝলাম।তারপর?

--তারপর আর কী?এমন করে চলে গেল আরো চারটে বছর।মেয়ে উঠলো ডাগর হয়ে। মেয়ের বাবাকে পাড়ার লোকেরা এসে গঞ্জনা দিতে লাগলো মেয়ের আবার বিয়ে দেবার জন্য।অসহায় গরীব বাবাও তখন যেমন তেমন একটা পাত্র পেলে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে এমন সময় বেধে গেল বাংলাভাগের জন্য হিন্দু মুসলমানে মারামারি কাটাকাটি।গ্রামকে গ্রাম মানুষ তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে চোখের জলে বুক ভিজিয়ে পাড়ি দিল অদেখা ভবিষ্যতের দিকে।তপনের বাবা মাও তাদের একমাত্র বোকাহাবা ছেলেকে নিয়ে সীমান্ত পেরোবার প্রস্তুতি নিলেন।

--তারপর?তারপর কী হল দিদা?দুই বন্ধুর বিচ্ছেদ হয়ে গেল তো? এরকম তো আমরা কতই পড়েছি।

ওহ্‌।তুই একটু চুপ করে শান্ত হয়ে বোস।আমাকে পুরো গল্পটা বলতে দে। --কাঁসার ঘটি থেকে একঢোঁকে অনেকটা জল খেলেন দিদা। আঁচলে মুখ মুছলেন।তারপর আবার শুরু করলেন।



তপনের বাবা মা পালাতে চাইলেও ভগবানের ইচ্ছে ছিল অন্য কিছু।যাওয়ার দিন ভোররাতে পুরো হিন্দু পল্লীতে আগুন লাগিয়ে দিল উগ্র মুসলমানের দল।তপনকে নিয়ে ওর মা কোনমতে বাড়ি থেকে বেরোতে পারলেও বাবা ঐ আগুনেই পুড়ে মারা যান।দিনভর পাটক্ষেতে লুকিয়ে থাকার পর সন্ধেবেলায় নদীপথে পালানোর প্রস্তুতি নিতে গিয়ে দেখা গেল তপনের আহত মা ও মরে পড়ে আছেন। আগুণ তাকেও রেহাই দেয় নি। তপন হাতে একটা ছোট্ট বোঁচকা নিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বাকিদের সঙ্গে নদীর পথে চললো। ঐ বোঁচকা টুকুই তার মা বাঁচিয়ে আনতে পেরেছিলেন।এই নদীর তীরে তপনের সঙ্গে দেখা হয় আয়েশার। বাকিরা ততক্ষণে তপনকে বোঝা ভেবে নিজেদেরকে নিয়ে সরে পড়েছে। এইটুকু বলে থেমে যান দিদা।হালকা অন্ধকারে বেশ বুঝতে পারি চিকচিক করছে তার চোখ।বলে ওঠেন দিদা --না:,অন্ধকার নেমে এসেছে।সন্ধ্যে দিয়ে আসি।উঠোনে নেমে যান দিদা।চুপ করে বারান্দায় মাদুরে বসে দেখি তুলসীতলায় প্রদীপ দেখান তিনি।বারান্দার কোণে স্টোভ জ্বেলে দু কাপ চা করেন৷একটা বাটিতে মুড়ি বাতাসা এনে শুভকে দেন৷ চা নিয়ে এসে আমার পাশে বসেন আবার।চা খেতে খেতে নির্বাক দিদাকে লক্ষ্য করে বলি --কী হল তারপর?


হাসলেন দিদা।বড় করুন সেই হাসি।বললেন--বুঝলি দিদিভাই।এ আজ প্রায় ষাট পঁয়ষট্টি বছর আগের কথা।তবু যেন ছবির মতো মনে আছে ঘটনাগুলি।ঐ যে তপনের সঙ্গে দেখা হল আয়েশার,আর সে তার বাড়ি ফিরে যায় নি। বস্তুত: সে সারাদিন তপনকেই পাগলের মতো খুঁজে বেড়িয়েছিল।বিপদের দিনে যখন সবাই তপনকে ছেড়ে পালালো তখন নির্দ্বিধায় আয়েশা তার ছোট মুঠিতে তপনের হাত চেপে ধরে।তারপর শুরু দুজনের কঠিন লড়াইয়ের।কি করে একবস্ত্রে দিনের পর দিন দেশছাড়া লোকেদের সঙ্গে মিশে, হেঁটে,নৌকায় চড়ে,ভীড় ঠাসা ট্রেনে চড়ে ভারত বর্ডারে এসে তারা পৌঁছায় তার সব বলতে গেলে আরো চারদিন লেগে যাবে।এই ক'দিন তারা দুজন দুজনকে আঁকড়ে ধরে বেঁচেছে।অবশেষে তারা ঠাঁই পায় ভারতের কাঁটাতার পেরিয়ে নারকীয় কুপার্স ক্যাম্পে।এখানেই ঘটে সেই চরম সর্বনাশ।


--কী হয়েছিল দিদা?প্রশ্ন করি আমি।--যা আরো শত শত মেয়ের সঙ্গে সেই সময় হয়েছিল।কয়েকজন নোংরা লোক সমাজসেবীর ছদ্মবেশধারী জানোয়ার এক রাতে আয়েশাকে ক্যাম্প থেকে বের করে নিয়ে সারারাত তার উপর অমানুষিক অত্যাচার চালায়।রক্তাক্ত অচেতন অবস্থায় পরদিন তাকে ক্যাম্পের লোকেরাই খুঁজে বার করে হাসপাতালে দেয়।পাগলপ্রায় তপন খুঁজতে খুঁজতে তাকে হাসপাতালে গিয়ে আবিস্কার করে। --তারপর?--তারপর আর কী।আয়েশা চেতনা ফিরে আসার পর আত্মহত্যা করতে চেষ্টা করে।কিন্তু ততদিনে লড়াই করতে করতে ধাতস্থ তপন তার মত করে একটু একটু করে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে সুস্থ করে আয়েশাকে।আশ্বাস দেয় সারাজীবন পাশে থাকার।--শেষ অবধি কি হল দিদা?ওরা দুজন বিয়ে করলো বুঝি?--না রে। তপন বিয়ে করতে চাইলেও আয়েশা তখন রাজি হয় নি।সে নিজেকে অশুদ্ধ ভাবতে শুরু করেছিল।--তবে?কী করলো তারা শেষমেশ?--দুজনে মিলে হাসপাতাল থেকে পালালো।তারপর নানা জায়গায় ভেসে বেড়াতে বেড়াতে চলে আসে এই মথুরাপুরে।যেখানে কেউ তাদের চিনবে না। কেউ জানতে চাইবে না তাদের ধর্ম কী।দুটিতে ঘর বাঁধলো সেখানে।তপন লোকের জমিতে খেটে,বাঁশের ঝুড়ি ধামা বানিয়ে সংসার চালাতে লাগলো। কিছু টাকা জমিযে একটা মুদির দোকানও খোলে সে৷ এরমধ্যে গর্ভবতী আয়েশার সন্তান জন্ম নেয়।যে ছেলে হওয়ায় তপনের কোনও ভুমিকা ছিল না,সেই ছেলের জন্মে তার খুশী দেখে আয়েশার চোখ জলে ভরে গেল।--বাহ্‌! যাই হোক একটা সম্পূর্ণ সংসার তো হল।তা এখন তারা কোথায়? --সংসার আর হল কই রে?ছেলেটা পড়াশোনা শিখে কলেজ পাস দিয়ে একটা চাকরী পেল।তারপর পছন্দের মেয়ে বিয়ে করে আলাদা থাকতে লাগলো। বউ শাশুড়ি নিয়ে ঘর করতে চায় নি।ছেলে অবশ্য বাবাকে নিয়ে যেতে রাজি ছিল। কিন্তু তার বাবা রাজি হল না।ছেলে চলে গেল দূরদেশ।পড়ে রইল দুই বুড়োবুড়ি। --দিদা,একটা কথা বলবো?--বল না।--বেশ বুঝতে পারছি যে তুমি তোমার জীবনের গল্পই শোনালে।এবার বলো তো,তোমরা কী আদৌ বিয়ে করেছিলে?--নারে। করিনি তো।আসলে বিয়েটা করার আর সুযোগই তো পেলাম না।হাসপাতাল থেকে পালানোর সময় শাশুড়ির বোঁচকা খুলে একটা আয়না,সিঁদুরের কৌটা আর দুগাছা সোনা বাঁধানো শাঁখা পেয়েছিলাম।সেগুলো নিজে নিজেই পরে নিয়েছিলাম।কিন্তু তুই দেখ তার জন্য জীবনে তো কিছুই আটকায় নি।কেউ জানতেও চায় নি আমার ধর্ম কী।তুলসীতলায় যখন প্রদীপ জ্বেলেছি,মনে মনে সেই দেবতার মতো মানুষটিকে প্রণাম করেছি, যিনি না থাকলে আমার এ জীবন অসম্পূর্ণ হত৷ আসলে ধর্ম ব্যাপারটাই তো মানুষের তৈরি।জানলে দোষ,না জানলেই কোনো সমস্যা নেই। --শেষ প্রশ্ন দিদা।তুমি যে আয়নাটা এত যত্ন করো সেটাই কী তোমার শাশুড়ির?--হ্যাঁ রে। আসলে শ্বশুরবাড়ির একমাত্র চিন্হ বলতে ঐ একটিমাত্র জিনিসই আমার কাছে আছে।তপন সবসময় বলতো আমি না থাকলে ঐ আয়নাটায় আমাকে খুঁজে পাবে। বড্ড ভালোবাসতো আমাকে। এখন যখন ও আর কোথাও নেই ঐ আয়নাটা আমাকে বেঁচে থাকার শক্তি দেয়।
আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে উঠে গেল দিদা।হতবাক আমি বসে রইলাম আমাদের দুজনের জীবনের কথা ভেবে।কী অসম্ভব বৈপরীত্য!!!!
আসলে আমার তো কোনো আয়না নেই।


bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.