দাল বাটি চুরমা


আগুন গরম বালি। ধূ ধূ হাওয়া দিচ্ছে। চোখে নাকে যেন সীসে গলা হলকা লাগে। জল ফোস্কা পড়ে পড়ে পা অসার। মাথা-মুখ লাল, হলুদ, গোলাপী ওড়নায় পেঁচিয়ে ধীরে ধীরে চলছে মেয়েমানুষের দলটা। মাথার বিড়ায় একটা মাটির কলসি তার উপর স্টীলের জালার তিন থাক সাজিয়ে চলেছে ওরা। কাঁটা ঝোপ, উচুঁ নীচু বালির ঢিবি পেরিয়ে চলেছে পথ। এক কুয়াঁ শুকোলে খুঁজে বের করতে হবে আর এক কুয়াঁধার।


ঝুরো ঝুরো বালি হাওয়ায় পাক খেয়ে খেয়ে ওঠে। রঙ্গীন ওড়নার ফাঁকে চারিদিক নীলী, গুলাবী, কেসরিয়া দেখায়। যদি সত‍্যি অমন রঙ্গীন স্বপ্নময় হত এই ভুবন! পাথর, কাঁকর, কাঁটা গাছ আর মরুঝড়। এই তো বাস্তব!


গৌরী ওর রঙীন ওড়নার ফাঁকে চামেলীর মুখটা ভালো করে জরীপ করে নেয়। আজ কী হল মেয়েটার! চলতেই পারছে না, ধুঁকছে যেন। কিন্তু তা বলে গৌরীর তো দাঁড়ালে চলে না। ডাগর ভরতেই যদি বেলা চলে যায়, ওদিকে তার মরদ কি ছেড়ে কথা কইবে? বালির হাওয়ায় মিলিয়ে যায় গৌরীর দীর্ঘশ্বাস। হায় রে, কি ভেবেছিল আর কি হল! বেহা, ঘর পরিবার, আঙ্গনভরা শিশু কে না চায়! মরদের দুটো সোহাগ, অবরে সবরে খুচরো কিছু নটখট, মান অভিমান, মান ভাঙা — এই সবই তো হওয়ার কথা বেহাওয়ালী ঔরতের জীবনে। কিন্তু গৌরীর দিন-রাত! ভাবতেও আতঙ্ক চেপে ধরে ওকে।


“থোড়া জলদী চল্! আজ তোর হল কী?”


চামেলী মাথার ঘড়া সামলে বললো, “ক‍্যা পতা! দিন দাহাড়ে এতো নিদ্ লাগে আজকাল! রাতে কি সব উলট পুলট খোয়াব দেখি। গা গতর বহুৎ ব‍্যথা!”


শুনে চিন্তা করে গৌরী। “তুই নতুন এসেছিস। জায়গা মানাতে টেইম লাগে।” বলেই থেমে যায় গৌরী। জানে অনজানে চামেলীর কোন ক্ষতে ঘা পড়েছে, সে বোঝে। কথা ঘুরিয়ে বলে, “চল্। কুয়োতে গেলেই কি জল পাবো? হয়তো ওরা আমাদের নিতেই দেবে না আগে। মাজা ধোওয়া আর খাওয়ার জল সবে মাত্র ভরা হয়েছে পরিন্দোয়। এখন আসবো আরও দু’ বার। কাল জিজি বললো, ‘গায় ভৈঁসের পেট ছাড়ে টিউবকলের জলে। ওদের জন‍্য কুঁয়ার জলই আনিস্।’”


গৌরীর কথাই সত‍্যি হল। দূর থেকে দেখা যায় উচুঁ উচুঁ খিলান, লোকে যাতে বুঝতে পারে বালিয়াড়ি বুকে কুঁয়া আছে। গ্রামের মেয়ে বৌরা জল ভরতে ব‍্যস্ত। কেউ বা কুয়োতলাতেই বসে গেছে বিড়ি টানতে। কেউ নিজেদের নতুন বোরলো, বিলিয়া দেখাতে ব‍্যস্ত। বাদামী মরুর বুকের উপর ফরফরাচ্ছে যেন একদল নীল হলুদ গুলাবী তিতলিয়াঁ।


প্রথম প্রথম এদের সাজ পোষাকের এত রং দেখে অবাক হত গৌরী। তখন তার বয়েসটাই বা কি! বড় বড় নাথানি নাকে, গোটা গোটা বাহু-হাত ভরা চুড়ি পরা ঘাগরা চোলির ঔরত আর গালপাট্টা, কানে গুরদো পরা পুরুষদের হাঁ হয়ে দেখতো। একদিন জোর লাত দিয়ে বাসন মাজার পৈঠোতে ফেেল দিয়েছিল মরদ। “আঁখ ফাড় ফাড়কে পরপুরুষ দেখা? বেশরম! ইয়ে গুজরিগাওঁ হ‍্যায়। আজ পাথওয়াড়ি ডেকে বলেছে, কাল মুখিয়া সরপঞ্চ বলবে। গাওঁতে আমার ইজ্জত নেই? মালজাদী! লড়কি, পৈসা ঔর খেতি — সমহালকে না রাখা যায় তো লুঠ ছো জায়েগা!”


ন’ বছরের কচি মেয়েটা ফ‍্যালফ‍্যাল করে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছিল তার গুনাহ্টা কী। আর এই পাথওয়াড়িটাই বা কে?


সেদিনটার কথা আজও মনের পুকুরে বীজকুড়ি কাটে গৌরীর। উঠোনের একধারে কামলো গায়ে জড়িয়ে সারাদিন চারপাইতে শুয়ে থাকে এক ঔরত। ঘং ঘং কাশে। সেই প্রথম দিন থেকেই দেখেছে গৌরী। নাকে এত্তো বড় ফাঁদা নথ। চুল এলো ঝোলো। হলুদ উড়নীর ঘোমটা। নীল-সবুজ ঘাগরা চোলি। দু’ হাতে বাবন সফেদ চুড়িয়াঁ সেই হাত থেকে কাঁধ অব্দি উঠে গেছে। কাজল লেপা নীল নীল মণির চোখ। ওই তার সতীন। এ বাড়ির আসল মালকীন। দিদি সা।


দিদি সা’র নীল চোখে তাকে নিয়ে কৌতুক দেখেছে গৌরী, ঘৃণা দেখেনি। ভাবটা যেন, “কেমন বুঝছিস?” ফি মাসে কুড়ি দিন রক্তপাতে দিদি সা’র সারা শরীর সফেদ। হাঁপায়। পড়ে থাকে চারপাইতে। “তাই তো তোকে আনলো। ওর খিদে মেটাবে পারো দিয়ে!” হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে বলেছিল দিদি সা।


বরের লাত খেয়ে কুয়োঁতলে রাঙা পেতলের ডাগরের কোনা লেগে ঠোঁট কেটে দরদর রক্তে ভেসে গেল চোলি। দিদি সা বললো, “আরে মারারি, এরা খোত্লো। জাঠ্। পারলে আমাদের এই কামলো দিয়ে ঢেকে রাখে।” বলে চারপাই থেকে নিজের সাদা কালো চৌখুপী রজাই তুলে দেখায় দিদি সা। “তুই দেখিস না, আম ঔরতের চলন বলন? তেমনি চলতে হবে তো! কাল থেকে ঘুঙ্গটের উপর সাদা চাদর লপেটকে বেরোবি। আর ওই শালা এক পাথওয়াড়ি! শালার কাজ কেবল চৌরাহার বেদীতে বসে হাত গোনা, পাঁজি চাখা। সবার পেটের চারাদানার খবরি একটা!”


কুয়াঁধারের কিছু দূরে গৌরী চামেলীর কানে কানে বলে, “আজ আর পানি তোলা হয়েছে! দ‍্যাখ একবার তাকিয়ে।”


ওদের দেখে হুল্লোড়ে ফেটে পড়ে গ্রামের মেয়ে বৌগুলো। “অরি রি রি, মেহমানরা এসেছে কুণ্ড্ থেকে পানি নেবে। তোরা আরতি উতার! জাগা খালি কর!” একে অন‍্যের গায়ে হেসে ঢলে পড়ে মেয়েরা। ওদের মধ‍্যে গুঞ্জন ওঠে, “দীসাবর! মরিলীয়া!” এই রুক্ষ মরুর বুকে হাসি মজাকের খোরাক কমই জোটে। কাজেই মওকা পেলে ছাড়ে কে?


কারোর চোখের ভাষায় অভ‍্যর্থনা নেই। গৌরীরা কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। পানি তো নিতে হবেই। এর মধ‍্যে চামেলীর কী হল কে জানে, পাক খেয়ে বালিতে পড়ে গেল মেয়েটা। মহিলাদের মধ‍্যে সাড়া পড়ে গেল। তারা দূর থেকেই চ‍্যাঁচাতে লাগলো, “কামীন! মারজানা! কুয়োঁতলায় মরতে এলো? মরতে হয় তো বালিয়াড়ি রেগিস্তানে যা!”


এক বুড়ি চেঁচিয়ে বললো, “আমাদের খেতিতেও বাজরা ফলে রে! মরদগুলোর তাও ভিন্ দেশী বাজরায় রুচি!”


গৌরী তখন ওদের কথার হুল শুনবে না চামেলীকে দেখবে বুঝতে না পেরে কুয়োঁপাড়ে এগিয়ে গেল। একটু পানি ছিড়কালে যদি উঠে বসে চামেলী। ঘড়ার লাবে হাত দিতেই এক মর্দাঙ্গী ঔরত এসে হাত চেপে ধরলো। হিসহিসিয়ে বললো, “যতই তোরা দেখাস তোরা বেহাদার ঔরত, আসলে সবাই জানে তোরা কুলটা। পাঁচ হাত ঘোরা, দশ বিস্তরায় শোয়া! তোদের থেকে তো ওই গায় ভৈঁসের জীন্দেগীও অনেক বেহতর। তোর এতো হিম্মত! আমরা গাওঁয়ালি শাদিশুদা ঔরতরা এখনও কুণ্ড্ ছেড়ে যাইনি, আর তুই লাবুতে হাত দিস!”


“না, মানে, ও তো বেহুঁশ হয়ে গেলো, তাই…” আমতা আমতা করে গৌরী।


“খামোশ!” তড়পে ওঠে মহিলা। “তোকে আমি খুব চিনি। কোত্থেকে এসেছিস বল?” গৌরীকে ধাক্কা দিতে দিতে বলে মহিলা। “বঙ্গাল, না ওড়িয়া তুই?”


মাথা নীচু করে থাকে গৌরী। মনের স্মৃতি পুকুরে অজস্র পানা। কিছু মনে কি আছে যে মুখ খুলে বলবে ওর পরিচয়।


অশেষ দুর্ভোগ ভুগে, কোনো মতে জলের ছিটায় চামেলীকে হুঁশে আনে গৌরী। তিন ঘড়া জল ভরে ঝোপড়িতে ঢুকতে না ঢুকতেই রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে বেরিয়ে এল গৌরীর মরদ। আজ ক্ষেতের সব আগাছা সাফ করে, শস‍্য থেকে কুশ বার করে রাখার কথা ছিল ওর। কুয়োঁতলার তাণ্ডব সেরে ঘরে ফিরতেই বেলা কাবার। আজ জলও কম ভরতে পেরেছে ও। কোন কথা না বলে হিড়হিড় করে হাত বেঁকিয়ে মরদ টেনে নিয়ে চললো উঠোনে। মাথার চুলে মোচড় খেতে খেতে ঘাড় বেঁকে গেল গৌরীর। চ‍্যালাকাঠের উপর্যুপরি সদব‍্যবহার সেরে ওর মরদ যখন রুটি গিলতে বসলো, তখনও চিৎ হয়ে ধুলোতে পড়ে আছে ও। মাথার ওপর নীল ধোওয়া আকাশ। ওগুলো কী ঘোরে? অতো উচুঁতে? চিল না শকুন!


গৌরী দেখেছে, হাজার মার খেয়ে রক্তাক্ত হলেও দিদি সা একটা বাধা দেয় না। একমনে চারপাইতে বসে গুঁদড়ী বোনে, নয়তো গৌরীরই তুলে আনা মীঞ্জরের ফল দাঁতে কাটে দুলে দুলে।


— “ও হে, বড়মানুষের ছোরি! ওঠ্। দশ হাজার টাকায় তোকে খরিদ্দার করেছে আমার মরদ। তোর গতর দিন দাহাড়ে এলো করে শুয়ে থাকার জন‍্য?” এক সময় বলে ওঠে দিদি সা। “রুটি দে! নিজেও গেল্!”


রক্তচক্ষুতে একবার নিজের চারপাই আসীন বৌ-এর দিকে তাকিয়ে গটগট করে বেরিয়ে যায় ওদের মরদ।


খাবার বলতে রুটি, খিরার কাচড়ো আর পেঁয়াজ লঙ্কা। তবু করতে তো হয়। হাতটা এমন চুমড়েছে, এখন কাচাধোওয়া করতে পারলে হয়। রসোইতে উনুনে কাঠ গোবরের চুলা জ্বালাতে জ্বালাতে ভাবে গৌরী, সে তো আখেরে লুঠ হওয়া মাল-ই! যব যব তার জীন্দেগীতে দখলদারদের লুকসান হয়েছে, চোখের পলক ফেলার টাইম পায়নি সে। বেহাত হয়ে গিয়েছে।


তবে সব ঝোপড়িই এক। একবার ঝোপড়িতে মাথা গলালেই হল। কাজের শেষ নেই। সেই কোন মুর্গা ডাকা ভোরে ওঠো। তারপর গায়-ভৈঁসকে চারা-দানা দেও, গোঠাল ধোওয়া পোছা, গোবর কুড়নো। খড়বিচালি দিয়ে গোবর মেখে যতক্ষণে বাইরের দেওয়ালে প্রথম ঘুঁটে মারে গৌরী, সূর্য‍্য উঁকি দেয় বালিয়াড়ির ফাঁকে। তারপর ঝড়ের মতন উনুন জ্বেলে নাস্তার চা-রুটি করা। জয়সলমের বসঅড্ডাতে ফলের দোকান দেয় মরদ, তার রোটি সবজি টিফিন দেওয়া। জল আনতে যাওয়া। দুপুরে দুটো গিলেই ছোটো মাঠে। মাঠের কাজে কোমর ছিঁড়ে পড়ে। আর ধূপের তমক ধমক থাকলে তো কথাই নেই। খেতির বুকে জলের নল লাগানো। টাইমের হিসেব করে পানির পাম্প না চালালে রোওয়া সর্ষে পুড়ে হবে রাখ।


এখানেও শেষ নয়। দিনের মধ‍্যে একবার যেতেই হয় ভাঁড়ারে। তবে এখানে আসতে ভালোই লাগে গৌরীর। সারাদিন রোদে পুড়ে ভাজা ভাজা হয়ে কাজ। বালিতে পুড়ে পায়ে যে কত অসংখ‍্য ফোস্কা তার হিসেব নেই। এই কাদা গোবর লেপা আঁধারি আঁধারি ঘরটাতে ঢুকলেই কাঁচা গোবর, আলকাতরা আর নীমপাতার গন্ধ। বোরি বস্তায় রাখা জোয়ার বাজরা, যব ছতু। দানা শস‍্য হাত দিয়ে উল্টে পাল্টে আরও বেশ নীমের পাতা ঠেসে ঠেসে দিতে হয়।


সাঁঝ নামে। আকাশে ফুটি ফুটি হয় তারা। তখন আবার চুলা ধরাও, খানা পকাও। তারপর আসে রাত অন্ধকার, অপমান, অত‍্যাচার আর লাঞ্ছনা নিয়ে। একটা রাত রেহাই মেলে না গৌরীর। নিজের মনপুকুরের পানাগুলো সরিয়ে একটু উঁকি দেবার সময় নেই। তাই ধোঁয়া ধোঁয়া হয়ে গেছে কতগুলো দিন-রাতের ছবি। লাল ফিতের বেড়াবিনুনী, এক্কা দোক্কা খেলা, নদীর পাড়ে উচুঁ উচুঁ জমি, নদীর বুকে জাল, জালে মাছ আর সেই মাছ ধরায় কি পটু ছোট্ট একটা মেয়ে। এক একদিন ওই নোনা জলে ঘণ্টা ঘণ্টা চুবে পাঁচশ মাছ ধরা মেয়েটা কবে নিজেই যে জালে ফেঁসে গেল! আধমরা মাছ হয়ে ভেসে গেল এক জাল থেকে আর এক জাল, সেখান থেকে আরও এক জালের ঠাস বুনটে।


এত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও কারও মুখে হাসি ফোটাতে পারে না গৌরী। সে দলিদর দীসাবর। গরীব পারো। তার জীবনের মূল‍্য কী? কুয়োঁপাড়ের ঔরত ঠিকই বলেছে, গায় ভৈঁসও অনেক বেশী সম্মান পায় তাদের থেকে।


“ঘুমোলি না কি?” চারপাই থেকে হাকেঁ দিদি সা। দিনের মধ‍্যে এই সময়টুকুই যা দু’দণ্ড জিরেন মেলে। মরদ বসঅড্ডার ফল দোকান বন্ধ করে যায় কখনো দোস্ত ঘরে মুভি দেখতে, কখনো সরপঞ্চ আপিস, কখনো চৌরাহার মোড়ে গাওঁয়ের মুখিয়াদের সাথে হুঁকা করতে। এই সময় চরাচর স্তব্ধ হয়ে থাকে। ঘরে ঘরে কেরোসিনের কুপি জ্বলে। এক একটা ঘর যেন এক একটা রহস‍্যে মোড়া।


“না, দিদি সা।” তুরন্ত জবাব দেয় গৌরী।


“কি দেখিস?”


“বালুভূমির ওই পাড়ে বহুৎ দূরে পাকিস্তান, না দিদি সা?”


“হাঁ। বডার। মারো গাওঁ ইণ্ডিয়ার শেষ সীমানা।”


হুঃ, গাওঁ বলতে কী, ভাবে গৌরী। গোল গোল ক’টা গোবর মাটির কুঁড়ে। খড়বিচালির চালা, রাস্তার ধুলো ঘরের আঙ্গনে এসে মিশেছে। কাঠের লকড়ি পুঁতে পুঁতে এক ঝোপড়ি থেকে অন‍্য ঝোপড়ির সীমানা আলাদা করা। না ছিরি, না ছাঁদ! মরদগুলো বেশীর ভাগই খেতি করে। উট দিয়ে জমি উগায়ে। গম যব চারা রোয়। জোয়ার বাজরা সর্ষে করে। শশা ফলায়। আলুও করে কেউ কেউ।


bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.