গতকাল রাত থেকেই টিভি আর নিউজ পেপারে খবর আসছে ঘণ্টায় একশো কিলোমিটার বেগে তীব্র গতিতে ঝড়ো হাওয়া বইবে, সাথে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। সাইক্লোন সমুদ্র উপকুলে আছড়ে পড়েছে, এখন গতি হারিয়ে শহরের দিকে ধেয়ে আসছে। কমলকান্তি বাবু নিউজ দেখতে দেখতে বার বার বলছেন- "আবার একটা সাইক্লোন, এখন বছরে দু তিনটে সাইক্লোন লেগেই আছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফল।" বার বার একই নিউজ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখাচ্ছিল বলেই জিনিয়া বুঝেছে যে দাদু ওই হাওয়ার খবরটাকেই সাইক্লোন বলছে। তাই আর থাকতে না পেরে চার বছরের ছোট্ট জিনিয়া ওর ওর মাকেই বার বার জিজ্ঞেস করছিল- "মা সাইক্লোন কি?" জিনিয়ার প্রশ্ন এমনিতেই খুব বেশী, সব ব্যপারেই ওর কৌতূহল। তা সে কার্টুন বিষয়ক হোক অথবা খেলার বিষয় হোক। আর এই কৌতূহল মেটানোর দায়ভার কমলকান্তি বাবু নিজের কাঁধে ইচ্ছাকৃত ভাবেই তুলে নিয়েছেন। কমলকান্তি মুখোপাধ্যায় কোলকাতা হাইকোর্টের উকিল ছিলেন, সম্প্রতি রিটায়ার করেছেন। জিনিয়াকে এখন কোলে বসিয়ে ভাত খাওয়াচ্ছিল জয়শ্রী। ভাত মুখে নিয়েই জয়শ্রীকেই তাই প্রশ্নটা করেছে জিনিয়া। জয়শ্রী কোন উত্তর দিলো না দেখে জিনিয়া আবার বলল- "মা বলোনা সাইক্লোন কি?"

জিনিয়ার প্রিশ্নে মুখ খুলতেই হোল জয়শ্রীকে- "সাইক্লোন হোল একটা ঝড়ের নাম।"

"ঝড়েরও নাম হয়? আচ্ছা মা ঝড় কেন আসে?"

জয়শ্রী এবার চোখ বড় করে তাকাল মেয়ের দিকে- "বলেছি না খাবার মুখে নিয়ে কথা বলতে নেই। তুমি খেয়ে নাও, দাদু তোমাকে ঝড়ের খবর বলবে।"

বাইরে আকাশ কালো করে মেঘ আসতে শুরু করেছে, সাথে ঠাণ্ডা জোলো হাওয়া। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় আসতে চলেছে এদিকে, প্রকৃতিতে তার পূর্বাভাস স্পষ্ট। কিন্তু জীবনে যে সমস্ত ঝড় আসে তার তীব্রতা ঘূর্ণিঝড়ের থেকেও প্রবল হয়, সেই ঝড়ের পূর্বাভাস বোধয় প্রকৃতির পক্ষেও দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে হয় জয়শ্রীর। পাঁচ বছর আগে এইরকম এক ঘূর্ণিঝড়ের বিকেলে পাড়ার রঞ্জনের হাত ধরে বেরিয়ে গেছিল জয়শ্রী, তখন কি আর জানতো যে বাইরের ঝড়ের ঝাপটা এসে তার সংসার জীবনকেও তছনছ করে দেবে। রঞ্জন তন্তুবাই আর্থিক আর সামাজিক দুই দিক থেকেই জয়শ্রীদের থেকে কমতি ছিল বলে জয়শ্রীর বাবা কমলকান্তি বাবু কিছুতেই সম্পর্কটা মেনে নেন নি। রঞ্জনও জয়শ্রীকে বলেছিল- "কতো বড় বাড়ির মেয়ে তুমি, আমার মতো সামান্য দশহাজার মাইনের বেসরকারি ফার্মের কর্মচারীর সাথে সারাজীবন কাটাতে পারবে কি?" সংসার চালানোর জন্যে অঢেল টাকার চেয়ে ত্যাগ ভালোবাসা আর বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় বলেই বিশ্বাস করতো জয়শ্রী, তাই বলেছিল- "মাসে পাঁচ হাজারের কম টাকা রোজগার করে এমন লোকেও তো সংসার করছে, আমিই বা পারব না কেন?" এরপর আর দেরি করেনি ওরা। একমাসের মধ্যে কোর্টের নোটিস দিয়ে রেজিস্ট্রি করে ফেলে। কমলকান্তি বাবু যখন জানতে পারেন তখন জয়শ্রীকে শুধু বলেছিলেন- "সংসারের অভাব তুমি চোখে দেখনি, আমি দেখেছি। যে বাড়িতে অভাব চিরস্থায়ী সেখানে প্রেম-পিরীতের বেশিদিন জায়গা হয়না। আশাকরি তুমি তোমার ভুল একদিন বুঝতে পারবে।" জয়শ্রী বাবার কথায় কিছু মনে করেনি, ভেবেছিল সময় গেলে বাবার রাগ একদিন পড়ে যাবে ঠিক। কিন্তু কমলকান্তি বাবুর রাগ পড়েনি, মেয়ে আর নাতনিকে মেনে নিলেও জামাইকে কোনদিন স্বীকার করেননি। এদিকে বিয়ের পরেই রঞ্জনের অফিস এই শহর থেকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে যায়, জয়শ্রী যখন পাঁচ মাসের গর্ভবতী রঞ্জন তখন নতুন চাকরির চেষ্টা করছে। বিয়ের পরে শাশুড়ি শ্বশুর ননদ তেমন আপত্তি না করলেও রঞ্জনের চাকরি চলে যাওয়ার পর ওরাও জয়শ্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করতে শুরু করে। খুঁটিনাটি ব্যাপার নিয়ে শাশুড়ি আর ননদের সাথে অশান্তি শুরু হয় জয়শ্রীর। প্রথম প্রথম রঞ্জন কিছু না বললেও একটা সময় পর জয়শ্রী দেখত রঞ্জনও মা আর বোনের কথায় প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিচ্ছে। জিনিয়ার এক বছর বয়স হতে হতেই অশান্তির মাত্রা তুমুল আকার ধারন করে, এদিকে সংসারে বাড়তি মেম্বার আসায় খরচা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়ি থেকে বেরনোর আগে যেটুকু গয়না নিয়ে এসেছিল জয়শ্রী সমস্তটাই এক এক করে বিক্রি করতে হয়েছে, কখনো হাসপাতালের খরচা আবার কখনো জিনিয়ার ওষুধের জন্যে। রঞ্জনের আর্থিক অক্ষমতা যেমন রঞ্জনকে বিব্রত করছিল, ঠিক তেমনি জয়শ্রীর মনেও অজান্তেই রঞ্জনের অপারগতার দাগ পড়েছিল। কথা কাটাকটির মাঝে একদিন জয়শ্রী বলেই ফেলেছিল- "তোমার এতো অক্ষমতা জানলে হয়তো কোনদিন বাড়ি ছেড়ে তোমার সাথে বেরিয়ে আসতাম না।" উত্তরে রঞ্জন শুধু বলেছিল- "এক্ষুনি বেরিয়ে যাও, আর এই বাড়িমুখো হবে না।" সেই রাত্রেই জয়শ্রী জিনিয়াকে নিয়ে বেরিয়ে আসে। জয়শ্রীদের বাড়ি থেকে রঞ্জনদের বাড়ি বেশী দূরে নয়, তবুও রঞ্জন কোনদিন আসেনি জয়শ্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। একবার শুধু জিনিয়ার কয়েকটা জামাকাপড় ব্যাগে ভরে বাড়ির সামনে দরজায় নামিয়ে দিয়ে গেছিল, দোতলার ব্যালকনি থেকে রঞ্জনের চলে যাওয়াটা দেখেছিল জয়শ্রী। কমলকান্তি বাবুও মেয়েকে অনেকবার বলেছেন- "অনেক তো হোল, এবার পাকাপাকি ডিভোর্সের ব্যাপারে কিছু ভাবো। এভাবে তো একা একা জীবন কাটানো যায়না। জিনিয়াকে নাহয় আমি রাখব।" জয়শ্রী কোন উত্তর দেয়নি, উত্তর যে খোঁজে নি সে তা নয়। তবে সম্পর্কের সুতো কোথাও যেন আটকে আছে, আজও জয়শ্রী সুযোগ পেলে রঞ্জনের ব্যাপারে এর ওর কাছে খুঁটিনাটি খবর নেয়, খবর নেয় ওই সুতোটা অবশিষ্ট আছে বলেই। এই যেমন আজকে রবিবার, আজকে বিকেলে পাঁচ কিলোমিটার সাইকেল ঠেঙ্গিয়ে দুটো ক্লাস সেভেনের ছাত্রকে পড়াতে গেছে রঞ্জন, এই কথা রঞ্জন না জানালেও জয়শ্রী ঠিকই খবর রেখেছে। এদিকে আকাশের অবস্থা ভালো নয়, যেকোনো মুহূর্তে ঝড় উঠবে, বাজ পড়বে, তারপর লোডশেডিং, রাস্তায় জল। রঞ্জন সন্ধ্যেবেলার অন্ধকারে বাড়ি কিকরে ফিরবে এই ভাবনাটাই জয়শ্রীর মনে ঘুরতে থাকে।


যেদিন থেকে চাকরি গেছে রঞ্জনের সেদিন থেকেই মাসের শুরু আর শেষ এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই ওর কাছে, অভাব লেগেই আছে। এদিকে বাবা মা আর বোন মিলিয়ে চারজনের সংসারে খরচা দিন দিন বাড়ন্ত। আজ এটা নেই কাল ওটা নেই। বাবার পেনশন দিয়ে মাসের সব্জি বাজারটুকুই আসে, বাড়তি খরচা রঞ্জন সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে শুধু। এর উপরে কেউ একজন অসুস্থ হলে তো আর কথাই নেই, হাজারটা ধার হয়ে যায়, সেই ধার মেটাতে আবার ধার। তাই কয়েকটা টিউশনই রঞ্জনের ভরসা এখন, তবুও আজকাল কোচিং সেন্টার ছাড়া কেউ পড়তে চায় না। পাশের পাড়ায় নীহারদার কোচিং সেন্টারের কাজটার জন্যে একজনকে বলে রেখেছে রঞ্জন, কিন্তু সেখানেও ট্রেন্ড গ্র্যাজুয়েট টিচার চায়। তবে রঞ্জনের যেহেতু টিউশন পড়ানোর অভিজ্ঞতা আছে তাই নীহারদা বলেছে আগে কাজ দেখবে তারপর পাকা করবে। গ্রীষ্মের ছুটি চলছে এখন, ছুটিটা পেরলেই কিছু একটা খবর দেবে নীহারদা। সেই আশাতেই আছে রঞ্জন। জয়শ্রী আর জিনিয়া চলে যাওয়ার পর কাজ খোঁজাটাই একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে রঞ্জনের, নাহলে সংসার থেকে আর কোনো আশা রাখে না সে। মেয়েকে একবার চোখের দেখা দেখতে চাওয়াও অধিকারটুকুও নেই রঞ্জনের। রবিবার বিকেলে জিনিয়াকে নিয়ে পার্কে যায় জয়শ্রী, একবার খবর পেয়ে রঞ্জন গেছিল দেখা করতে। জয়শ্রী দেখা করতে দেয়নি। এখন ইচ্ছে করেই রবিবার পার্কের সামনে দিয়ে ঘুর পথে বাড়ি যায় রঞ্জন, যাওয়ার পথে পার্কের সামনে রবিদার চায়ের দোকানের সামনে বসে কিছুক্ষণ। দূর থেকে হলেও দেখতে পায় জয়শ্রী আর জিনিয়াকে। রঞ্জন নিজে জানে সে ওদের ভালো রাখতে অক্ষম, তাই জোর করে ফিরিয়ে নিয়ে আসার অধিকার ফলাতে চায় না সে। আজকে আবার রবিবার, বিকেলে যখন টিউশন যাবার জন্যে বেরিয়েছিল রঞ্জন তখন আকাশে অতো মেঘ ছিল না, কিন্তু একঘন্তার মধ্যেই আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে গেলো। আজ আর জয়শ্রী নিশ্চয়ই জিনিয়াকে নিয়ে পার্কে আসবে না, কিছুক্ষণের মধ্যেই বজ্র বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি চালু হয়ে যাবে। সাইক্লোন যে আসবে সেটা আগে থেকেই খবরে বলছিল যদিও, তবুও একদিন টিউশন কামাই দিলে অন্য একদিন গিয়ে পুষিয়ে দিতে হয় বলে কামাই করতে চায়নি রঞ্জন। ভেবেছিল ঝড় আসার আগেই বাড়ি ফিরে যাবে। কিন্তু সে যা যা ভাবে কখনো সেরকম আজ পর্যন্ত হয়নি, আকজেও হোল না। বাইরে বজ্র বিদ্যুৎ সহ তুমুল ঝড় শুরু হয়ে গেলো, আর সাথে সাথেই লোডশেডিং। মোবাইলের ব্যাটারির চার্জ অর্ধেকের কম আছে, আজকের রাতে যদি কারেন্ট আর না আসে তাহলে রাতটুকু এই চার্জে চলে যাবে এই ভেবে মোবাইল অফ করে রাখল রঞ্জন। এমনিতে রঞ্জনকে খুঁজে সেরকম কেউ ফোন করে না, কাজের খোঁজ খবর নেওয়ার জন্যে যেটুকু ফোন করার সেটুকু রঞ্জন নিজেই করে।

ঝড় থেমে গেছে অনেকক্ষণ। লোডশেডিং হওয়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই রঞ্জন ফিরে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু টিউশন পড়াতে যায় যে ছাত্রকে সেই ছাত্রের মা মিসেস গাঙ্গুলিই বললেন- "আরে এখুনি যাবেন কিকরে, এতো ঝড়ের মধ্যে। অপেক্ষা করে যান, বাইরে কোন বিপদ হলে?" রঞ্জন না বলতে পারে নি, কিন্তু মনে মনে ভেবেছিল- বিপদ হলে আর খুব বেশী কি হবে? কিন্তু এভাবে বেকার বসে থাকাটাও একটা বিরক্তিকর অপশন রঞ্জনের কাছে তাই এমারজেন্সি লাইটের কৃত্রিম আলোতেই আরও দুটো এক্সট্রা চ্যাপ্টার শেষ করিয়ে দিয়েছিলো। ঝড়ের প্রকোপ কমে এলেও বাইরে তখনো তুমুল বৃষ্টি চলছেই, আজ রাতে আর বৃষ্টি থামবে না বলেই মনে হয়। কিছু কিছু জায়গায় এখনও লোডশেডিং আছে, কিছু কিছু জায়গায় কারেন্ট এসেছে। রাত্রি দশটা বাজছে, ভদ্রতার খাতিরে রঞ্জনকে যতোই অপেক্ষা করে যেতে বলুক কেউ, এতো রাত অব্দি আর কোন ছাত্রের বাড়িতে বসে থাকা যায়না। মিসেস গাঙ্গুলিকে রঞ্জন বলল- "এবার আমি আসি, বৃষ্টি আর কমবে বলে মনে হচ্ছে না।" সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে মোবাইলটা অন করতেই একটা মেসেজ ঢুকল রঞ্জনের ফোনে। এরকম তো কতো মেসেজ আসে- এই সার্ভিস নিন, ওই সার্ভিস নিন, আপনি এই লটারি জিতেছেন, এই জ্যোতিষ, ওই বন্ধু পাতান। সাইকেলটার স্ট্যান্ড সরিয়ে টানতে টানতে রঞ্জনের কি মনে হোল মেসেজটা খুলে দেখল- ইউ হ্যাভ সেভেন মিসডকল ফ্রম...... নাম্বারটা খুব চেনা চেনা লাগলো রঞ্জনের। এই অসময়ে কে আবার ওকে ফোন করলো! দু তিনবার দেখে শেষ তিনটে নাম্বার দেখেই চমকে উঠলো রঞ্জন- জয়শ্রীর ফোন! নাম্বারটা মনে রাখার সুবিধের জন্যে রঞ্জনই পছন্দ করে দিয়েছিলো জয়শ্রীকে, শেষ তিনটে নাম্বার পর পর- ১২৩। কিন্তু এই সময় জয়শ্রী কেন হঠাৎ ফোন করলো? এরকম ভাবতে ভাবতেই মোবাইলটা হাতের মুঠোর মধ্যেই কেঁপে উঠলো। রিসিভ বোতাম টিপেই রঞ্জন নির্লিপ্ত ভাবে বলল- "বলো।"

"হ্যালো, তুমি কোথায়? তোমার ফোন লাগছিল না কেন?"

"সবে বেরলাম টিউশন থেকে। কেন? কি হয়েছে?"

"ওই পাড়ার মোড়েই রাস্তার জমা জলে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়েছে, জলে কারেন্ট হয়ে আছে। একজন মারাও গেছে কারেন্ট লেগে। তুমি ওখানেই থাকো, আমি আসছি।"

"তুমি কিকরে জানলে জলে কারেন্ট? আর এই অন্ধকারে তুমি বেরোতে গেলে কেন?"

"আমি তো টিভিতে দেখলাম খবরটা। আর তোমার ফোন সুইচ অফফ বলছিল অনেকক্ষণ ধরে, তোমাকে ফিরতেও দেখিনি, ওখানেই আটকে পড়েছ নিশ্চয়ই। তাই বেরিয়ে এলাম।"

"তুমি বাড়ি যাও, এখানে আসবে কিকরে? আমি ঠিক চলে যাবো।"

"আমি পাশের মন্দির পাড়ার রাস্তা দিয়ে ঘুরে আসছি, তুমি ওখানেই দাঁড়াও। বেরোতে যেও না, ভিজে যাবে। আমি ছাতা নিয়ে এসেছি।"

রঞ্জন আর কিছু বলতে পারে না। অনেকদিন পর এইভাবে কেউ অপেক্ষা করতে বলেছে। মনেমনে ভাবে- এই বৃষ্টি কি ছাতায় মানবে?

মন্দির পাড়ার গলির রাস্তায় হ্যালজেনের আলো পড়ে রাস্তাটা হলুদ হয়ে আছে, সেই হলুদ আলোয় মুষল বৃষ্টির ধারা রাস্তাটাকে মায়াবী করে রেখেছে। সেই মায়াবী আলোর নীচ দিয়ে বহুদিন পর দুটো শরীর এক ছাতার তলায় আবার পাশাপাশি হেঁটে চলেছে পাঁচ বছর আগে ঠিক এরকম এক ঘূর্ণিঝড়ের শেষে শুরু হওয়া নতুন জীবনের এক অধ্যায়কে সম্পূর্ণ করতে।

(সমাপ্ত)

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.