নৈঋতের আলো

আই সি ইউ-র কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন ডক্টর. অনিরুদ্ধ সোম।সিস্টারের কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়ে পেসেন্টকে একবার দেখে বেরিয়ে গেলেন আই সি ইউ ছেড়ে। কাল সকাল দশটায় ওটি হবে তার আগে একটু চোখ বুলিয়ে নিতে হবে রিপোর্ট গুলোতে।

আই সি ইউ-র বেডগুলোতে এক একটা অসাড় শরীর শোয়ানো আছে পাশে রাখা মনিটর গুলো শুধু শরীরে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমান দিচ্ছে; বাইরের ওয়েটিং রুমে কিছু মানুষ আশায় বুক বাঁধছেন।কিছু মানুষ সারা দিনরাত জাগছে একটা মিরাকেলের আশায়। বিগত পাঁচ দিন ধরে একই কন্ডিশনে আছেন মিস্টার.অধিকারী কোনো ইমপ্রুভমেন্ট নেই। তবুও ডাক্তাররা আশা ছাড়তে নারাজ একটা শেষ চেষ্টা করে দেখতে চান যদি প্রেসেন্টকে বাঁচানো যায়। কাল সকাল দশটায় আরো একটা অপরেশন হবে।ওয়েটিং রুমে আনাউশমেন্ট শোনা যাচ্ছে - আই সি ইউ-র বেড নম্বর দুই এর বাড়ির লোক রিসেপশনে যোগাযোগ করুন..
পরদিন দুপুর তিনটে......
প্রায় কয়েক ঘণ্টা অপারেশনের পর ওটি থেকে বেরিয়ে এলো অনিরুদ্ধ;অপারেশন সাকসেসফুল কিন্তু চব্বিশ ঘন্টা কিছু বলা যাচ্ছে না এই সময়টা পার হয়ে গেলেই আর কোনো চিন্তা নেই।ডাক্তারের আশ্বাসবাণী পেসেন্ট এর বাড়ির লোকেদের একটু আশ্বস্ত করলো।
নার্সিংহোমের লন দিয়ে হেটে যেতে যেতে ওর মনে পড়ে গেল ওর বাবার কথা, অনিরুদ্ধ তখন সবে ক্লাস সেভেনের স্টুডেন্ট পরীক্ষা সবে শেষ হয়েছে ওদের বাইরে বেড়াতে যাবার প্ল্যান ছিলো আগেরদিন সব গুছিয়ে রেডি সবাই; রাতে বাবার খুব শরীর খারাপ এম্বুলেন্স,হসপিটাল, ডাক্তার... তারপর সব শেষ দশ দিন পরে সাদা কাপড়ে ঢাকা একটা শরীর ফিরেছিল বাড়িতে।
-অনিরুদ্ধ...
খুব চেনা একটা গলার স্বর কানে আসতে ভাবনায় ছেদ পড়লো...এখানে তো ওকে কেউ ওর নাম ধরে ডাকেনা হয় স্যার বলে আর নাহলে ডাক্তারবাবু বলে অবাক হয়ে পিছনে তাকালো অনিরুদ্ধ ;
- ধন্যবাদ অনিরুদ্ধ।
-রূপসা, তুমি এখানে??
-তুমি আজকে যার অপরেশন করলে উনি আমার স্বামী। অনেক ধন্যবাদ তোমাকে অনি আজ তুমি ওকে বাঁচিয়ে দিয়ে আমাকে বিধবা হবার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিলে। কেমন আছো তুমি??
-ভালোই আছি(একটা অদ্ভুত হাসি হেসে বললো)। আর ধন্যবাদ দেবার কিছু নেই আমি একজন ডাক্তার আমার প্রথম কর্তব্যই হলো পেশেন্টের প্রাণ বাঁচানো আমি শুধুমাত্র আমার কর্তব্য করেছি।বরং আমার তোমাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত ভাগ্যিস সেদিন তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেছিলে তানাহলে তো অনিরুদ্ধর কোনো দিনই ডাক্তার অনিরুদ্ধ সোম হয়ে ওঠা হতো না।আমি তোমাকে সেদিনই দেখেছিলাম বুঝতে সবই পেরেছিলাম কিন্তু কিছু বলিনি।
-অনি, তুমি জিজ্ঞাসা করলে না তো আমি কেমন আছি??
-প্রথম কথা-আমাকে অনি বলে ডাকার অধিকার তুমি হারিয়েছো।প্লিজ অনি বোলো না।
দ্বিতীয় কথা-তুমি নিজেই এই জীবনটা বেছে নিয়েছো।এরপর থেকে তোমার স্বামীকে বেশি মদ,সিগারেট খেতে নিষেধ করো যা দেখলাম ওনার লিভার এর অবস্থা খুবই খারাপ।
এবার আমি আসি আমার অনেক কাজ আছে।
অনিরুদ্ধ সিঁড়ি দিয়ে নিচে রুমের দিকে চলে গেল রূপসা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র একটা মানুষের হারিয়ে যাওয়া দেখতে থাকলো। যে রূপসা এক সময় ওর সব কিছু ছিল আজ সেই রূপসাকে একা দাঁড় করিয়ে ও চলে গেল বা বলা ভালো ভবিষ্যতের দিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো।
(২)
প্রায় সপ্তাহ তিনেক বাদে...
কাল রাতে একজন সিরিয়াস পেসেন্ট ভর্তি হয়েছে তাই আজ খুব সকাল সকালই আসতে হচ্ছে অনিরুদ্ধকে। পেসেন্ট ওর এক বন্ধু সুমনের শাশুড়িমা; সুমনও এই নার্সিংহোমেরই ডাক্তার।সুমনেরই একান্ত অনুরোধে অনিরুদ্ধ এই কেসটা হাতে নিয়েছে।আজকে অনিরুদ্ধ গাড়ি পার্ক করে ওয়েটিং রুমের ভেতর দিয়ে ঢুকে এলো এই সময় রুমটা মোটামুটি ফাঁকাই থাকে আজও তার ব্যাতিক্রম হয়নি।অনিরুদ্ধ ঢুকতে গিয়েও থমকে দাঁড়িয়ে গেল হঠাৎ করেই কাউকে দেখে; খুব চেনা কিন্তু কিছুতেই চিনতে পারছে না মেয়েটিকে।
-এই অনিরুদ্ধ এখানে দাঁড়িয়ে কেন?? ওপরে চলো।
-আরে সুমন,গুড মর্নিং। কাল রাত থেকে কি এখানেই আছো নাকি??
-হ্যাঁ,ভাই তা তো থাকতেই হবে। শাশুড়ি মা বলে কথা (হাসতে হাসতে দুজন লিফটের দিকে এগিয়ে গেলো)|
আই সি ইউ এর কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো অনিরুদ্ধ আর সুমন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে একটা ঠান্ডা হওয়ার ঝটকা এসে লাগলো শরীরে।ওরা এগিয়ে গেল বেড নাম্বার চারের দিকে...
-কি বুঝছো??
-ঠিক হয়ে যাবে চিন্তা নেই।
-ভুলে যেও না আমিও একজন ডাক্তার।
-সমস্যাটা কোথায় জানো সুমন আমরা ডাক্তার,তাই আমরা সবই বুঝে যাই।আমরা আমাদের প্রিয় মানুষ গুলোকে নিজেদের চোখের সামনেই একটু একটু করে শেষ হয়ে যেতে দেখি কিন্তু কিছু করারও থাকে না আমাদের।
-হুম,আমিও বুঝতে পেরেছিলাম তাই একবার তোমার সাথে কন্সাল্ট করলাম।
-যাইহোক এখুনি কাউকে কিছু বলার দরকার নেই।শেষ চেষ্টাটা করতে দাও তারপর দ্যাখো কি হয়.... তবে একটা কথা যে কোনো রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরী থাকো।
সারাদিনে কাজের মধ্যে থেকে ভুলেই গেছিলো সেই মেয়েটির কথা।আজ নার্সিংহোম থেকে বেরোতে একটু দেরি হয়ে গেছে তাড়াতাড়ি করে ওয়েটিং রুমের মধ্যে দিয়েই বেরোতে গিয়ে আবার চোখে পড়লো মেয়েটিকে কিন্তু যথারীতি এখনো চিনতে পারলো নামেয়েটি সকালের মতো এখনো মাথায় হাত দিয়ে চিয়ার এ হেলান দিয়ে বসে আছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে মেয়েটি কোনো রুগীর আত্মীয় আর সম্ভবত রুগীটির অবস্থা খুব একটা ভালো নয়।

পাঁচ দিন পরে..

ডাক্তারদের একটার পর একটা চেষ্টাকে ব্যর্থ করে মিসেস সেন চলে গেলেন আজ। নার্সিংহোমের কাজ মিটিয়ে সুমন বডি নিয়ে চলে গেল,অনিরুদ্ধ একবার ভেবেছিলো যাবে বার্নিং ঘাটে কিন্তু আরো একবার সত্যের মুখোমুখী দাঁড়ানোর সাহস নেই তার। প্রথমে বাবা তারপর মা আর সব শেষে জীবনের একমাত্র শেষ সম্বল দিদিমা এক এক করে সবাইকে নিজের হাতে সাজিয়ে তুলে দিয়েছে চিতায়।আজ মনটা ভালো নেই তাই একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এলো। আজ খুব বেশি করে মনে পড়ছে সেই মেয়েটির কথা বার বার ওর মুখটাই মনে পরে যাচ্ছে, এই কদিনে একটা ছোট্ট পরিবর্তন ঘটেছিলো অনিরুদ্ধর জীবনে সারাদিনে একবারও মেয়েটিকে দেখতে না পেলে কিরম যেন অস্বস্তি হতো।সেদিন অপরেশনের আগে বন্ডে সই করার সময় ও জেনেছিল মেয়েটি আসলে সুমনের একমাত্র শালী।আজ খুব অদ্ভুত আচরণ করছিল ও যে মেয়েটির চোখে সারাক্ষন জলে ভরা থাকতো আজ পেপারে সই করার সময় তার চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জল পর্যন্ত গড়ায় নি কিরম যেন পাথর হয়ে গেছে মেয়েটি।

(৩)

মিসেস সেন যাবার পর প্রায় দুমাস কেটে গেছে।আজ সুমনের বাড়ি ডিনারের জন্য ইনভাইট করেছে ওর স্ত্রী;অনিরুদ্ধর মনে আজকে একটাই কথা বার বার ঘুরে ফিরে আসছে সেই মেয়েটি....ও ঔ কি থাকবে আজকে সুমনের বাড়িতে নাকি ও ফিরে গেছে নিজের বাড়িতে। আজকে সুযোগ পেলে একবার অন্তত জিজ্ঞাসা করবে মেয়েটির সাথে আগে ওর কোথাও দেখা হয়েছে কিনা..

সব ভাবনায় ছেদ পড়লো যখন বেল বাজাতেই মেয়েটি দরজা খুলে ভেতরে আসতে বললো।মেয়েটিকে দেখে সব কথা ভুলে গেছে ও যা যা মনে করে এসেছিলো সব ভুলে গেছে কিছুই জিজ্ঞাসা করা হয়নি..

কিন্তু ও গেল কোথায়??সেই যে ওকে বসতে বলে রান্নাঘরে ঢুকেছে একবারও বেরোয় নি।এমনকি চা জল খাবারও সুস্মিতা মানে সুমনের স্ত্রীই নিয়ে এসেছে।

-ডিনার রেডি, চলে এসো সবাই..

ডিনার টেবিলেই দেখা পাওয়া গেল মেয়েটির সুমন পরিচয় করিয়ে দিলো..

-অনিরুদ্ধ এই আমার শালী সূচিস্মিতা সেন।

আর সূচি ইনিই ডক্টর.অনিরুদ্ধ সোম যিনি মায়ের চিকিৎসা করেছিলেন।

পরিচয় পর্ব শেষ হবার পর সবাই খাওয়াই মন দিলো...এ কথা সে কথার পর অনিরুদ্ধ হঠাৎ সূচিকে জিজ্ঞাসা করে বসলো

- কিছু মনে করবেন না সূচিস্মিতা,আচ্ছা আমাদের কি আগে কোথাও দেখা হয়েছে??

-আপনি আমাকে নার্সিংহোমে দেখে ছিলেন বোধহয়।

-না না, তার আগে অন্য কোথাও??

-জানি না..

নিজের মনের ভুল বুঝতে পেরে অনিরুদ্ধ পটল পোস্ততে মন দিলো..লাউয়ের কোপ্তাটা টেস্ট করার পর সুস্মিতাকে বলে উঠলো

-বাহঃ! বৌদি আপনার রান্নার তো জবাব নেই, দারুন রান্না করেন আপনি।এইটা তো পুরো আমার মায়ের মতো হয়েছে।

-এগুলো কিছুই আমি বানাইনি সবই সূচি করেছে।

সূচির দিকে না তাকিয়েই বললো "বাহঃ! বেশ ভালো রান্নার হাত তো আপনার।"

সূচি উত্তরে ধন্যবাদ জানিয়ে হঠাৎ প্রশ্ন করে বসলো,

-ঢাকুরিয়ার বাড়িতে কি এখন একাই থাকেন আপনি??

অনিরুদ্ধ উত্তর দিতে দিতেও দিলো না..সবাই খাওয়া থামিয়ে সূচির মুখের দিকে তাকিয়ে আছে হাঁ করে আর অনিরুদ্ধর ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি.. উত্তরটা দিলো সুমন -অনিরুদ্ধ তো ঢাকুরিয়াই থাকে না ওতো যাদবপুর এর ওদিকে থাকে।

-ম্যাডাম, এবার তো বলুন আমি আপনাকে প্রথম কোথায় দেখেছি?? কারণ আমার যে ঢাকুরিয়ায় বাড়ি ছিলো সেটা জানার কথা আপনার নয়।

এবার শুধু অনিরুদ্ধই নয় সুমন ও সুস্মিতাও একই কথা জানতে চাইলো সূচির কাছে..

-আপনি আমাকে চিনবেন না।আপনার বাবা আর আমার বাবা একই অফিসে চাকরি করতেন ওনারা খুব ভালো বন্ধু ছিলেন।আমি বহুবার আপনাদের বাড়ি গেছিলাম আসলে তখন অনেক ছোট্ট ছিলাম তো তাই আপনি আমাকে দেখে এখন চিনতে পারেন নি।আপনার বাবা মারা যাবার পর কাকিমা কাকুর চাকরিটা পান তখন তাই সেই সময় আমার যাওয়া আসা কমে যায় আপনাদের বাড়িতে।আপনি যখন ডাক্তারি পড়তে বাইরে চলে যান সেই সময় কাকিমাও রিটিয়ার করে যান,কাকিমার নিঃসঙ্গ জীবনের একমাত্র সঙ্গী ছিলাম আমি আসলে আমার যাতায়াত ও বাড়িতে কমে গেছিলো ঠিকই কিন্তু আপনার মায়ের সাথে আমার সম্পর্কটা আরো গভীর হয়ে গেছিলো তাই আপনার অবর্তমানে ওই বাড়িতে আমার একছত্র অধিকার ছিলো।আপনার সাথে দেখা হয়ে ভালোই হলো আপনার মায়ের কিছু জিনিস আমার কাছে রয়ে গেছিলো আসলে কাকিমার শরীর বেশ কিছুদিন ধরেই খারাপ ছিলো তাই কাকিমা আপনাকে দেবার জন্য আমার কাছে কিছু জিনিস রেখে গেছিলেন।কাকিমার মৃত্যুর কিছুদিন পর আমি যখন ওই বাড়িতে যাই বাড়িতে তালা দেওয়া ছিল রূপসাদির মা বলেছিলেন আপনি নাকি বাইরে পড়তে চলে গেছেন।এতো বড়ো পৃথিবীতে আপনাকে আমি কোথায়ইবা খুজতাম তাই সব জিনিস যত্ন করে তুলে রেখেছিলাম যদি কখনো দেখা হয়ে যায় আপনার জিনিস আপনাকে ফেরৎ দিয়ে দেবো।

-হ্যাঁ, এইবার মনে পড়েছে আমি আপনার ছবি আমাদের বাড়ির অ্যালবামে দেখেছি। মার কাছে আপনার কথা অনেক শুনেছি ,ও এইবার বুঝলাম লাউয়ের কোপ্তাটা এত চেনা স্বাদ কেন লাগলো?? মা শিখিয়েছিল না আপনাকে??

-হ্যাঁ,সাথে আরো অনেক খাবার। আপনার পছন্দেরই আজকে সব রান্না করেছি।

-আচ্ছা,আপনি আমাকে চিনতে পারলে কি করে??

-কিছুদিন আগে আমার রূপসাদির সাথে দেখা হয়েছিল ওই বললো আপনি কলকাতায় আছেন এখন, কিন্তু তারপর মায়ের অসুস্থতা মায়ের এভাবে হঠাৎ আমাকে একা করে দিয়ে চলে যাওয়া এইসব এর মধ্যে আমি জড়িয়ে ছিলাম তাই আপনার সাথে দেখাও করা হয়নি আর আপনার মায়ের জিনিসপত্র আপনাকে দেওয়াও হয়নি।আপনি যদি কাইন্ডলি আপনার ঠিকানাটা আমাকে দিয়ে যান তাহলে আমি সব জিনিস গুলো আপনার কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে পারি।

-হ্যাঁ,কালকে আমি ফ্রি আছি আমি এসে সব নিয়ে যাবো।

(৪)

-শোনো তোমার সাথে একবার দেখা করতে চাই....কিছু কথা ছিল তোমার সাথে..

- আচ্ছা, আমি আজকে বাড়িতেই আছি বলুন কোথায় আসবো??সুমন দা বললো আমাকে আপনার নাকি খুব শরীর খারাপ ??কি হয়েছে??

-তুমি বাড়িতেই এসো আমি আজকে বেরোইনি।

-আচ্ছা আসছি।

খানিকক্ষণ পর বেল বাজাতে অনিরুদ্ধ নিজেই দরজা খুলে দিলো। ওকে ভীষণ ক্লান্ত দেখাচ্ছে আজকে শরীরটা মনে হয় খুবই খারাপ।গিয়ে ঘরে বসো আসছি। বেশ অনেক্ষন পর অনিরুদ্ধ ওর নিজের ঘরে ঢোকে সূচি তখন বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় ছিলো অনিরুদ্ধকে ঢুকতে দেখে সোজা হয়ে বসে প্রশ্ন করে..

-হঠাৎ জরুরি তলব??কি হয়েছে??দেখে তো মনে হচ্ছে শরীরটা খুবই খারাপ।

-আলসার ধরা পড়েছে।পেট এ ভীষণ যন্ত্রনা হচ্ছে।

-তা হবে না ?? রোজ রোজ বিরিয়ানি খেলে বাইরের খাবার খেলে পেটে আলসার হবে না তো কি হবে??

-আমি আর বাঁচবো নাগো... এই সেদ্ধ খেয়ে খেয়ে কি আর বেশি দিন বেঁচে থাকা যায় তুমিই বোলো??

-ও মা ওইসব কি কথা?? আর সারাজীবন কি সিদ্ধ খাবেন নাকি এই কদিন একটু কষ্ট করে নিন তারপর আবার ভালো মন্দ এটা সেটা খেতে পারবেন।

-তারপর তো আবার সেই একই পেটে ব্যথা বাড়বে আর আবার সেদ্ধ খেতে হবে।তার থেকে বরং একটা কথা বলি??এই তুমিও রান্না করতে ভালোবাসো আর আমিও খেতে ভালোবাসি তুমি যদি আমার খাবার দায়িত্বটা নিতে আমি একটু নিশ্চিন্তে খেতে পারতাম আর কি......

-ও মা এ আবার কি কথা?? আমি আপনার খাবারের দায়িত্ব নিতে যাবো কেন?? আমি আপনার বউ নাকি??

-এই তো এত দিনে একটা সঠিক কথা বলেছো।দীর্ঘ ছ'মাস ধরে আমি তোমাকে ঠিক এই কথাটাই বার বার বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম।প্রতি বারই ব্যর্থ হয়েছি ভাগ্যিস আমার শরীর খারাপটা হলো..তানাহলে যে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হতো ভগবানই জানে।

আমাকে বিয়ে করবে সূচী??

-কি?? আপনি পাগল নাকি??

-হ্যাঁ, তোমার প্রেমে।আর এইবার এই পাগলটার দায়িত্ব তুমি না নিলে যে এই পাগলটা সত্যিই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে।

-ধ্যাত....

সূচি বিছানা থেকে উঠে ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের জানলাটা খুলে দিলো,অনিরুদ্ধ ওর পাশে এসে দাঁড়াই..

-মা মারা যাবার পর আমিও ফিরে যাই হোস্টেলে তারপর বাড়িতে একটা বড় চুরি হয় সমস্ত কিছু নিয়ে চলে যায় চোর।সেদিন তোমার কাছে মায়ের ওইসব জিনিস গুলো পেয়ে আমি রীতিমত হাতে স্বর্গ পেয়েছিলাম। আমার কি মনে হয় জানো তো সূচি মা মনে মনে তোমাকেই বৌমা হিসেবে ঠিক করে রেখেছিল তাই তো তোমাকে সব কিছু নিজের হাতে শিখিয়ে দিয়ে গেছিলো।তোমাকে এতটাই বিশ্বাস করতো যে নিজের ব্যাঙ্কের লকারের চাবি পর্যন্ত তোমার হাতে দিয়ে গেছিলো।

-রূপসা দির বিয়ে হয়ে যাবার পর কাকিমা ভীষণ ভেঙ্গে পড়েছিলেন।খালি বলতেন অনি যখন জানতে পারবে রূপসার অন্য কোথাও বিয়ে হয়ে গেছে ও নিজেকে কি ভাবে সামলাবে??কাকিমা আপনাকে নিয়ে খুব টেনশন করতেন সারাক্ষণ।

কথায় কথায় সূচি খেয়ালই করেনি কখন অনি আলমারি খুলে ওর মায়ের গয়নার বাক্স নিয়ে এসেছে,

-এটা ধরো আমি অনেক সামলেছি বাবা আর পারবো না এবার নিজের জিনিস নিজের দায়িত্বে রাখো।

লাজুক চোখে মুখ ফিরিয়ে জানলায় মাথা ঠেকালো সূচি,নৈঋতের কনে দেখা আলো ওর মুখে এসে পড়েছে আরো মায়াবী লাগচ্ছে ওকে। অনি নিজের মোবাইলে একটা ছবি তুলে নিয়ে ফেসবুকে আপলোড করলো আর সাথে লিখলো

-"রাত্রি এনে দাও তুমি দিবসের চোখে

আবার জাগাতে তারে নবীন আলোকে"......

--সমাপ্ত---

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.