পুরুষ দুর্গা


সুজয় অনেক কষ্টে টাকাটা জোগার করেছে। ওর বাবা স্বপনবাবুর কেমো করানোর টাকা। সুজয়ের মা বছর দুয়েক আগেই মারা গেছেন।বাবাকে নিয়ে সুজয় একা থাকে।মাস ছয়েক আগে বাবার ক্যান্সার ধরা পড়েছে।সুজয় একটা সামান্য সেলসম্যানের চাকরী করে।ওর বাবাও সামান্যই চাকরী করতেন তাই টাকা বিশেষ কিছু জমাতে পারেন নি।অনেক কষ্ট করে টার্গেট পূরণ করে তারপর আজ ইনসেন্টিভ পেয়ে সুজয় আনন্দের সাথে বাড়ী ঢুকল তারপর বিছানায় সুয়ে থাকা বাবাকে বলল,"বাবা টাকা জোগার হয়ে গেছে।কালই তোমার কেমো করিয়ে আনব"..।ঠিক এমন সময় দরজায় দুম্ দাম্ ধাক্কা পড়তে লাগল।সুজয় দরজা খুলে দেখল যে পাড়ার ক্লাবের ছেলেরা দাঁড়িয়ে আছে,ওদের নাম নীলয়,রাজু আর দেবু,তিনজনেই বড়লোকের ছেলে।নীলয় বলে উঠল,"পূজোর চাঁদা চাই।তিন হাজার টাকা"..।সুজয় কাঁদোকাঁদো গলায় বলল,"দাদা আমার কাছে একদম টাকা নেই।তোমরা তো জানই যে বাবা অসুস্থ,কেমো করাতে হবে।"...ছেলেগুলো এবার বেশ রেগেই বলে উঠল,"চাঁদা দিবি কিনা বল??নাহলে উদুম কেলিয়ে পাড়ার থেকে বের করে দেব"...।ভিতর থেকে সুজয়ের বাবা কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন,"ওদের চাঁদা দিয়ে দে রে বাবু।আমার কেমো করাতে লাগবে না"..

               অষ্টমীর দিন রাত বারোটা। বাহুবলী  থিমের কোটি টাকার পূজোর প্যান্ডেলের একটু সাইডে এক কোনে একটু অন্ধকারের মধ্যে বোসে পূজো কমিটির তিন মেম্বার নীলয় রাজু আর দেবু মদ খাচ্ছে। এদিকে সুজয়ের বাবা ঘন্টা খানেক আগেই মারা গেছেন।বাইরে ঢাক ঢোল বাজছে,সুজয় কাউকে জানায় নি।একা লাস নিয়ে নির্লিপ্তভাবে বসে রয়েছে।একটু বাদে সুজয় উঠল।দরজার পাশে রাখা হাতুড়িটা হাতে নিল তারপর সোজা দরজা খুলে বেরিয়ে গেল।এরপর  প্যান্ডেলের সামনে গিয়ে পাশে বসে থাকা নীলয় রাজু আর দেবুর দিকে সোজা এগিয়ে গেল। তারপর ওই হাতুড়িটা দিয়ে ওদের তিনজনের মাথায় হাজার হাজার লোকের সামনেই ধুমধাম করে বারি বসিয়ে দিল। তিনজিনের মাথা ফেটেই রক্ত বেরিয়ে এল,ওদের দেহ মাটিতে পড়ে গেল।কেউই শেষমেশ  আর বাঁচে নি।

                  আজ সুজয়ের বিসর্জন মানে ফাঁসি, কিন্তু তার মুখে হাসি।কারণ সে যে পুরুষ দূর্গা।

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.