শেষ থেকে শুরু......

‘চরণে ধরিয়া তব কহিব প্রকাশি

গোপনে তোমারে সখা কত ভালোবাসি’...... (theme song)

গল্পের শুরু ৯০ র দশকের র মাঝ বরাবর...

‘দূর দূর ভোম্বল নামের ছেলেরা কি কখনও গল্পের নায়ক হতে পারে? এইরকম একটা বিদঘুটে নাম এখনকার দিনে কারও হয়?’ বিড়বিড় করতে করতে কলেজ থেকে বেরোলো ‘ভোম্বল’ ওরফে বিমলেন্দু ঘোষ। আজ কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানের নাটকের সহ-নায়কের পাঠটি অনেকদিন ধরে চেষ্টা চালিয়েও ওর কপালে জুটলো না। আর সব কিছু খারাপের জন্য ও সব সময় ওর এই ‘ভোম্বল’ নামটিকে দায়ী করে যায়। ভোম্বলের এইরকম নামকরণের পিছনেও একটা কারন আছে।

ওর ঠিক পৃথিবীতে আসার দুদিন আগে ওর ঠাকুর্দার গ্রামের জমি বিক্রি করার ৫ লক্ষ টাকা হারিয়ে যায় । সেটা অবশ্য পুরোপুরি ওর দাদুর ‘বয়সোচিত’ ভুলের কারনে। ঠিক ‘ভোম্বলের’ জন্মের দিন সকালবেলা একটি মাঝবয়সি লোক প্রায় আলাদিনের মতোই আবির্ভুত হয়ে ভোম্বলের দাদু যামিনী ঘোষের হাতে টাকাটি ফিরিয়ে দিয়ে ওনাকে দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাক থেকে অল্পের জন্য বাঁচায়। সেই মাঝ-বয়সি লোকটি আসলে ছিল একজন বাসকন্ড্রাক্টর।

৪ ফুট ৮ ইঞ্চির কোঁকড়ানো চুলের কৃষ্ণবর্নের লোকটির নাম ছিল ‘ভোম্বল মণ্ডল’ । সে কিছু কাগজপত্র সমেত ওই ৫ লক্ষ টাকার ব্যাগটি খুঁজে পায় বাসের সিটের নীচে। তাতে যামিনী ঘোষ এত্টাই খুশীতে আত্মহারা হয়ে পড়েন যে নাতির জন্মের সাথে সাথেই নাতির ডাকনাম ‘ভোম্বল’ ঠিক করে ফেলেন বৌমার নীরব আপত্তি সত্তেও।

এবং এই ‘ডাকনামটি’ পরবর্তীকালে এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে স্কুল, পাড়া, বন্ধু-বান্ধব , আত্মীয়স্বজন, স্কুলের মাস্টারমশাই সবার কাছে ছড়িয়ে পড়ে। ‘ডাকনামটি’ র জনপ্রিয়তায় ঢাকা পড়ে যায় ‘ভালোনামটি’।

এই হলো নামকরণের মোটামুটি ইতিহাস।

স্কুলের গন্ডি অব্দি ঠিক ছিলো, সমস্যাটি হলো এই ‘ডাকনামের’ জনপ্রিয়তা এখন কলেজ অব্দি গড়িয়েছে।সেই জনপ্রিয়তা ‘অপ্রস্তুতেই’ ফেলে বেশিরভাগ সময়।

ভোম্বল পড়াশোনায় মাঝারি মানের। ভোম্বলরা দুই ভাই। দাদা অমল অর্থাৎ অমলেন্দু ঘোষ মেধাবী ছাত্র ,জয়েন্টে ইঞ্জিনিয়ারিং এ ৭০০ র মধ্যে rank করে একটি সরকারী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়েছে কয়েক বছর হলো। দাদা দেখতে শুনতেও মন্দ না। মার মতো দেখতে হয়েছে দাদা।ফর্সা ,ছিপছিপে অনেকটা ‘তিন ভুবনের পারে’ র young সৌমিত্র চ্যাটার্জীর মতো। ভোম্বলের মা আসলে খুব সুন্দরী।

আর ভোম্বলকে দেখতে হয়েছে ওর বাবার মতো। ৫ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতা, গায়ের রং চাপা আর যথেষ্ট মেদবহুল শরীর ভোম্বলের। কিন্তু এইসব মেধা বা ছিপছিপে চেহারার জন্য দাদার উপর কোনো হিংসে হয় না ভোম্বলের , হাল্কা একটা হিংসে হয় দাদার বেশ সুন্দর ‘অমল’ ডাকনামটির জন্যে।

ইতিহাসে অনার্স নিয়ে মসস্বলের একটি মাঝারি মানের কলেজে ভর্তি হয় ভোম্বল। ওর শুধু মনে হয় ওর তো ভালো কোনো কিছুই নেই। ও না মেধাবী ছাত্র, না ওকে ‘উত্তম কুমারের’ মতো দেখতে। ‘শাহরুখ খান’ র সিনেমা গুলো দেখে আর ভাবে ‘আমি কি কোনোদিন কোনো গল্পের নায়ক হতে পারবো?’ আমার কারনে কি কোনোদিন দুটো লোকও হাততালি দেবে?’ ভোম্বলের মনে হয় ও কোনো কিছুই ঠিক করে করতে পারবে না।

‘লর্ডসের মাঠে যেদিন সৌরভ গাঙ্গুলী টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলো’ ও ক্রিকেটর হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলো, ‘ব্যাকহেমের গোল করা দেখে ফুটবলার হতে চেয়েছিলো। আবার টিভিতে ‘মিঠুন চক্রবর্তী’ র দশটা লোককে একটা punch মেরে উড়িয়ে দেওয়া দেখে বাংলা সিনেমার নায়ক হওয়ার কথাও ভেবেছিলো। তবে শেষ অব্দি কোনোটাই আর হয়ে ওঠা হয়নি।

অবশেষে মোটামুটি একটা মাঝারি মানের নাম্বার নিয়ে অনার্স টা শেষ করে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। অনেক বন্ধুবান্ধব কে কলেজ লাইফে প্রেম করতে দেখলেও ওর নিজের তা সাহসে কুলোয় নি। ক্লাস ১১ এ পড়ার সময় সমাপ্তিকা বসু নামের একটি মেয়েকে খুব ভালো লেগেছিলো। সমাপ্তিকা ছিলো বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী, পড়াশোনায় ছিল ভীষণই ভালো। অদ্ভুত এক ব্যক্তিত্বময়ী মেয়ে, নজরকাড়া সুন্দরী না হলেও শ্যামবর্ণা, মাঝারি গড়নের সমাপ্তিকার চোখ দুটো ছিলো অদ্ভুত সুন্দর। না বলেও অনেক কথা বলতো যেন চোখ দুটো। আর ওর presence টা ছিলো চোখে পড়ার মতো।

ভোম্বল আর্টসের মাঝারি মানের ছাত্র, কোনোদিন আড়ষ্টটায় ঠিক করে বন্ধুত্ব তো দূর, ঠিক করে কথাও বলে উঠতে পারেনি সমাপ্তিকার সাথে।

বাংলা, ইংরেজির জয়েন্ট ক্লাসগুলোতে পিছনে বসে প্রথম সারিতে বসা সমাপ্তিকাকে খেয়াল করতো বারে বারে ক্লাসের মাঝে ভোম্বল। ২ বছরে ৪-৫ লাইন বাক্য বিনিময় হয়েছিলো কিনা সন্দেহ আছে।

তবে সমাপ্তিকার বাবার সাথে ওর বাবার একটা বন্ধুত্ব আছে জানে।

ক্লাস ১২ র রেসাল্ট বেরোনোর পর ও যখন একটা মাঝারি মানের কলেজে ইতিহাসে অনার্স নিয়ে ভর্তি হলো তখন বাবার কাছে শুনেছিলো সমাপ্তিকা জয়েন্ট দিয়ে ডাক্তারীতে চান্স পেয়ে জেলার একটি সরকারী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে। ওদের এলাকায় সমাপ্তিকাই প্রথম জয়েন্টে মেডিকেল পায় মেয়েদের মধ্যে। ভোম্বল শুনে খুব খুশী হয়েছিলো।

কালের নিয়মে সময় এগোতে থাকে......

সাড়ে সাত বছর পর...

৪-৫ বছর ধরে অনেক প্রস্তুতি নিয়ে অনেক ব্যার্থতা অতিক্রম করে মাঝারি মেধার ভোম্বল অবশেষে বাড়ি থেকে ১৭ কিলোমিটার র মধ্যে একটা হাইস্কুলে শিক্ষকতার চাকরিটা জোগাড় করেছিলো school service commission পরীক্ষায় পাশ করে।

সিনেমার নায়ক,ফুটবোলার,ক্রিকেটার কোনোটাই আর হয়ে ওঠা হয়নি ভোম্বলের। ‘দাদু’ কয়েক বছর হলো মারা গেছেন কিন্তু দাদুর দেওয়া নামেই এখন বিখ্যাত হয়েছে খুব ‘ভোম্বলস্যার’ তার প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের কাছে।

ইতিমধ্যে ভোম্বলের দাদা অমল ইঞ্জিনীয়ারিং পাশ করে আমেরিকায় ক্যালিফোর্নিয়াতে পাকাপাকি ভাবে থাকতে শুরু করেছে।দাদা পাশ করার পরই পরপর বেশ কয়েকটি মোটা মাইনের চাকরীর offer পায়। তবে বিদেশের চাকরীর সুযোগ টা অমলেন্দু ঘোষ ফেরাতে পারেনি। দাদা ওরই ক্লাসমেট মালবিকা সেনগুপ্তকে বিয়ে করে। ভোম্বলের বৌদি সুন্দরী এবং ছাত্রী হিসেবেও ভীষন মেধাবী ছিলো। দাদার কাছেই শুনেছে। ভালোবেসে দাদা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলে দুই বাড়ির পক্ষ থেকেই কেউ আপত্তি জানাইনি। আসলে ‘আপত্তি’ জানানোর মতো কোনো কারনও ছিলো না। দাদা দেশ ছাড়ার সময় ওর সাথে আলাদা করে অনেকক্ষণ কথা বলেছিলো। ওর হাত চেপে বলেছিলো ‘বাবা-মাকে খেয়াল রাখিস’। দাদার মধ্যে সেদিন অদ্ভুত একটা ‘নীরব’ কষ্ট খুঁজে পেয়েছিলো ভোম্বল।

দাদা বৌদি দুজনেই ওই দেশে চাকরী করছে আর কয়েকদিনের মধ্যেই পাকাপাকিভাবে থাকার ‘ভিসা’ টাও হাতে এসে যাবে শুনেছে। ওদের একটা ফুটফুটে মেয়ে হয়েছে কিছুদিন হলো। ইন্টারনেটে ভোম্বলের 'Mail' এ মেয়ের ফোটো পাঠিয়েছিলো দাদা।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় দাদার জীবনটা পুরো সিনেমার ‘নায়কের’ মতো যার জীবনে সবকিছুই সাজানো গোছানো ,সুন্দর, পরিপাটি । যদিও ভোম্বল এটা খুব ভালো করে জানে এসব কিছু পেতে গিয়ে ওর মেধাবী পরিশ্রমী দাদাকে ঠিক কতটা অধ্যাবসায় করতে হয়েছিলো।

ভোম্বল মাঝে মাঝে ভাবে ‘আচ্ছা ‘নায়ক’ দের জীবনে কি শুধুই সাফল্য থাকে ?? একটা সাদামাঠা ,অল্প মেধাবী, অসুন্দর , ৯৫% ব্যার্থতা আর ৫% সাফল্যে ভরা কোনো ছেলের জীবন একটা ‘নায়কের’ জীবন হতে পারে না????’

ভোম্বল বেশ কয়েক বছরেই চাকরী জীবনে বেশ সুখ্যাতি অর্জন করেছে। ভালো ভাবে শিক্ষকতার পাশাপাশি অনেক সামাজিক কাজকর্মে নিজেকে যুক্ত করেছে। গ্রামে গ্রামে পানীয় জলের ব্যাবস্থা করা, বিদ্যুতের ব্যাবস্থা করা, পাশাপাশি গ্রামের গরীব মেয়েদের পড়াশোনার ব্যাবস্থা করা, তাদের বিয়েতে অর্থনৈতিক ভাবে পাশে থাকা, অযাচিত ভাবে গজিয়ে ওঠা মদের দোকান উৎখাত করতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে মারধোর খাওয়া প্রায় সব ব্যাপারেই ‘ভোম্বল’ তথা ভোম্বলস্যার কে নেতা হিসেবে পাওয়া যায়।

এইভাবেই ভোম্বলের জীবন এগোতে থাকে। বাবা-মার অনেক জোরাজুরি সত্ত্বেও ভোম্বল বিয়েতে রাজি হয় না।

বছর তিনেক পর...

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এলাকায় বিরোধী দলের হয়ে নির্বাচনে দাড়াতে বাধ্য হচ্ছে ভোম্বলস্যার এলাকার লোকেদের বিশেষ অনুরোধে। নিজের চরম অনিচ্ছা সত্ত্বেও নির্বাচনে দাড়ালেও ভোম্বলের একটা হাল্কা চিন্তা ছিলো কারন সরকার পক্ষের হয়ে ওর বিপরীতে যে আছে সে ওই এলাকায় পরপর গত চারবছর জিতেছে।

ভোটের রেজাল্ট বেরনোর দিন টিভিতে বারবার চোখ রাখছিলো ভোম্বলের বা-মা। দাদা বিদেশ থেকে দু-একবার ফোন ও করেছে ইতিমধ্যে।

ফল ঘোষনার পর পরই এলাকার লোকেরা দলে দলে ভোম্বলের বাড়ির রাস্তায় আসতে থাকে বাজি-পটকা ফাটিয়ে, আবির উড়িয়ে,ফুলের মালা নিয়ে। বাড়ির চারপাশ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। বাড়ির ছাদে গিয়ে দেখতে দেখতে ভোম্বলের চোখ ভিজে গেছিলো। জেতার খুশীতে না, এটা ভেবে যে একটা ‘অসুন্দর’ ‘মাঝারি মেধাবী’ ‘বিদঘুটে’ নামের ছেলেকে এতো লোক ভালোবাসে!!!! যাই হোক, ভালো কাজ করলে সততরা সাথে সধারন মানুষ, আমজনতা ভোলে না।

অভিনন্দন জানাতে বাড়ির ল্যান্ড লাইনে অনেক ফোন আসছিলো বিকেল থেকে। তেমনি একটা ফোন আসে ‘বিশ্বনাথ বসু’ নামে এক ভদ্রলোকের কাছ থেকে। নামটা খুব চেনা চেনা লাগলো ভোম্বলের। তারপর মনে গেলো ভোম্বলের...... সেও কি শুনেছে তার এই অপ্রত্যাশিত ভাবে বিপুল ভোতে জিতে যাওয়ার কথা??...

ভোম্বলের বাবাই ফোনটা ধরে ছিলো। অনেকক্ষণ কথা বলতে দেখেছিলো বাবাকে।

কিন্তু বাবার কাছ থেকে যা শুনলো তাতে জেতার আনন্দ নিমেষে মিলিয়ে গেলো ভোম্বলের......!!!

বিশ্বনাথ বসু সমাপ্তিকার বাবা। সমাপ্তিকার দিন কাটে এখন হুইল চেয়ারে। কিছু বছর আগে ডাক্তারী পাশ করে বেরোনোর পর ও যে হসপিটালে চাকরী পেয়েছিলো, সেখানেই এক সহকর্মী ডাক্তার বন্ধুর সাথে ওর বিয়ে হয়েছিলো। সবই ঠিক চলছিলো। দুবছর আগে এক ভয়ংকর গাড়ি দুর্ঘটনায় এক বছরের ছেলে আর স্বামীকে একসাথে হারায়। আর হারায় নিজের পায়ের ৭৫ %। এবার আর চোখের জল বাঁধ মানলো না ভোম্বলের।

বেশ কিছু বছর পর......

ভোম্বলের দল এখন সরকারে এসেছে। দিন পাল্টেছে , সময় পাল্টেছে, অনেক পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন ভোম্বল তথা বিমলেন্দু ঘোষের জীবনেও অনেক পরিবর্তন এনেছে। ভোম্বল এখন আর শুধু M.L.A নেই। দু একবছর হলো রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছে। রাজনৈতিক ভাবে অনেক বেশি ব্যস্ত হয়েছে ভোম্বল। তবে পুরোনো স্কুল, গ্রামগুলোতে নিয়মিত আসে সে। পুলিশ মানেই ‘ঘুষ’ নেবে বা রাজনৈতিক নেতা মানেই খারাপ , প্রতিশ্রুতিহীন এই কথাটা কিছুটা হলেও মুছে দিতে চায় সে।

শহরে একটা বাড়িতে উঠে এসেছে ভোম্বল। বাবা কিছুদিন হলো পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। মা আর স্ত্রী কে নিয়ে থাকে । এই শত ব্যস্ততার মধ্যেও মা এবং স্ত্রীর দেখাশোনা করে যতটা পারে ভোম্বল। মার জন্যে একটা ২৪ ঘণ্টা দেখাশোনা করার Nurse রেখেছে। তবে স্ত্রীর দেখাশোনা যতটা পেরেছে এই ক-বছরে একাই সামলেছে ভোম্বল। যদিও কাজে মাসি অনেকটা সামলে নেয়। সকালে বিছানা থেকে নামিয়ে সমাপ্তিকাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে breakfast করানো অব্দি পুরো দায়িত্ব টা যতটা সম্ভব নিজে করার চেষ্টা করে ভোম্বল। ডাক্তার বলেছে হয়তো আর কয়েক বছরের মধ্যে সমাপ্তিকা হাঁটতে পারবে। সমাপ্তিকা এখন সপ্তাহে তিনদিন একটি নার্সিংহোমেও যায় । সমাপ্তিকাকে কর্মজীবনে ফেরাতে যতরকম ভাবে চেষ্টা চালানো যায় করে যাচ্ছে ভোম্বল।

এখন সমাপ্তিকাও অনেকটা ভালো আছে। তবে এটা ভেবে সারাক্ষণ কষ্ট পায় কেন ওকে বিয়ে করে নিজেকে সবকিছু থেকে বঞ্চিত করলো ভোম্বল। সমাপ্তিকা কিছুতেই চাইনি ভোম্বলের জীবনটাকে এভাবে নষ্ট করতে। দুএকবছর বন্ধুত্ব হওয়ার পর ভোম্বল একদিন এক বিকেলে সাহস করে বলেছিলো ‘ আমি তোকে মানে তোমাকে খুউউউউউব ভালোবাসি সমাপ্তিকা, আজ নয় সেই বাংলা-ইংরেজির ক্লাসগুলোর দিন থেকে, আমাকে চাইলে না করতে পারো, আমি জোর করবোনা। আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই’।

সমাপ্তিকা সেদিন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো আর সারারাত কেঁদেছিলো । তার কিছুদিনপর নিজের মাকে ভোম্বল রাজি করিয়ে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে সমাপ্তিকাকে বাড়িতে নিয়ে আসে।

সমাপ্তিকার জীবনটা ‘সমাপ্ত’ করতে দেয়নি ভোম্বল।

শুধু আমজনতার কাছে নয়, সমাপ্তিকার জীবনেও এক নীরব ‘নায়ক’ হয়ে ওঠে ভোম্বল.........



bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.