চিরন্তন ত্রিকোণ


পিয়ালি র কথা
-------------------------------------------
ফুলশয্যা র রাত টা র কথা আমার আজ ও মনে পড়ে।রাত তখন একটা।বিয়েবাড়ি র কলরব তখন থেমে গেছে।আমার স্বামী জানলার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।জানলা দিয়ে উঁকি মারছে মস্ত একটা চাঁদ।আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছি সেই অনিন্দ্যকান্তি পুরুষ কে।এই রাজপুত্র ও আমার ভাগ্যে ছিল!
হঠাৎ আমার শাশুড়ি ঘরে ঢুকে এক জগ জল রেখে ছেলেকে বললেন-জল টা রেখে গেলাম,খেয়ে নিস।শাশুড়ি বেরিয়ে গেলেন।দরজাটা খোলা ই রইল।আমি স্বামী কে ইশারায় দরজাটা বন্ধ করতে বললাম।ও দরজার কাছে গিয়েও দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ করতে পারলো না।কিছুক্ষন বাদে শাশুড়ি আবার দরজায় টোকা দিলেন।তার ওষুধের বাক্স টা এ ঘরে রয়ে গেছে!সারারাত দরজায় খিল পড়ল না।
কিছুদিন পরেই বুঝলাম ছেলেটির রূপের মোহেই ভুলেছিলাম।আসলে আমার স্বামী মায়ের আঁচলের তলায় থাকা একজন ব্যক্তিত্ত্বহীন পুরুষ।ওকে ওর মায়ের বশংবদ ভৃত্য ছাড়া আমার আর কিচ্ছু মনে হয়না।আজও প্রতি রাতে আমাদের দরজা টা খোলা ই থাকে।মায়ের ভয়ে ও দরজাটা বন্ধ করার সাহস পায়না।আমার শরীরে আমি আর ওকে হাত দিতে দিইনা।ওকে আমার স্বামী বলে ভাবিই না।ভাবি বাড়িতে থাকা কোনো একজন তৃতীয় ব্যক্তি।
////////////////////////////////////////////
ছন্দা র কথা
-------------------------------------------
আজকাল কার মেয়েগুলোর এত ধৈর্য কম কেন কে জানে! মাঝে মাঝে আমার নিজের কথা ভাবি আর নিজেকেই পিঠ চাপড়াই।কুড়ি বছরে বিয়ে হল।আগেকার দিনের যৌথ পরিবার।একগাদা লোকের মন যুগিয়ে চলা।ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে রাত পর্যন্ত একটানা খেটে যাওয়া।সারাদিন স্বামী র সঙ্গে দেখাই হতো না।যেটুকু কথা হত -ঐ রাতের বেলা।বয়সের অত পার্থক্য-সেভাবে বন্ধুতা ই হলনা।স্বামী একজন অভিভাবক হিসেবেই থেকে গেলেন।তারপর সোনা হল।ছেলেকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার একটা অন্য মানে খুঁজে পেলাম।একটা সময় পৃথক সংসার হল।একটু সুখের মুখ দেখতে না দেখতেই স্বামীকে হারালাম।তারপর শুধুই ছেলেকে আঁকড়ে বেঁচে থাকা।ওকে ছায়া দেওয়া,ওর নিশ্চিন্ত আশ্রয় হয়ে ওঠা।আজ ওর বিয়ে হয়ে গেছে-তবুও ও পুরোপুরি আমার উপর নির্ভরশীল।ওর গেঞ্জি,জাঙ্গিয়া,মোজা ও আমিই কেচে দিই।মেয়েটির তো এই ব্যাপারটা বোঝা উচিৎ।আমাদের দুজনের সম্পর্কের গভীরতা তো বোঝা উচিৎ ওর।সেই গভীরতাকে সম্মান জানানো উচিৎ ছিল।আমাদের দুজনের সম্পর্ক কে তো একটু স্পেস দেওয়া উচিৎ।তা না সারাক্ষন শুধু আমাকে হিংসে,বরের উপর রাগ,আমাদের দুজনকে গল্প করতে দেখলে থমথমে মুখ,সারাক্ষন শুধু বরকে কাছে পাওয়ার চেষ্টা!সেদিন অফিস থেকে ফিরে সোনা বলল-মা,কেমন জ্বর জ্বর লাগছে।আমি মাথা টিপে দিতে লাগলাম।তাই দেখে মুখের উপর দড়াম করে দরজা টা বন্ধ করে দিল।একী অসভ্যতা!
////////////////////////////////////////////
সৌম্য র কথা
-------------------------------------------
না,পিয়ালি কে সত্যিই দোষ দিতে পারিনা।সত্যিই তো,আমি সেভাবে ওর কাছে যেতে পারিনি কখনও।পিয়ালি চায়-আমি মা কে দুরে সরিয়ে দিয়ে পুরোপুরি ভাবে ওর হয়ে যাই।কিন্তু তা কী সম্ভব?বাবা মারা গেছেন সেই কোন ছোটোবেলায়।তারপর থেকে মা ই তো মানুষ করল।আজ মা মানে এক পরম নিশ্চিন্ত আশ্রয়।যে আমাকে ফেরাবেনা কখনও।যে আমাকে অপারেশন করবেনা।আমি আমার ঘরের দরজা টা বন্ধ করতে পারিনা।আমার কেন জানি মনে হয়-আমি মা কে তাহলে দুরে সরিয়ে দিলাম।আমি আঘাত দিলাম মা কে।আমার সেই মা-যে আমাকে বটের ছায়া দিয়েছে এতদিন।আমি কোনোভাবেই মা কে দুঃখ দিতে চাইনা কখনও।পিয়ালি দুঃখ পায়,ও রেগে যায়,আমাকে দুরে সরিয়ে দেয়...কিন্তু আমি কী করব!পিয়ালি র সঙ্গে একটু ঘনিষ্ট হলে যে মা দুঃখ পায়।আজ বড় কষ্ট পাই যখন দেখি বাড়িতে মা আর পিয়ালি কেউ কারো সাথে কথা বলেনা।ওদের দুজনের কথা বলার মাধ্যম হলাম আমি..আমার কষ্ট হয়..আমার কান্না পায়।মনে হয় চিৎকার করে কিছু একটা বলে উঠি।কিন্তু পারিনা,কোথায় যেন আটকে যাই।
আচ্ছা,অন্তত আমার কথা ভেবেও ওরা দুজন কী নিজেদের মধ্যে একটু মানিয়ে নিতে পারত না?

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.