(১)

ভূষ আঁধারে ঢাকা ঘুপচি একটা ঘর l তিনদিকে মজবুত দেওয়াল আর একদিকে ততোধিক মজবুত মোটা লোহার খাঁচা l ঘরটার মাটি থেকে অনেকটা ওপরে , প্রায় ছাদের কাছে একটা মাঝারি মাপের ফোঁকর l আলো আর বাতাস ওই পথ দিয়েই মিলেমিশে যাতায়াত করে l
ঘরের মেঝেতে একটা মোটা কম্বল পড়ে আছে l আর একপাশে জলের একটা কুঁজো l ব্যস ...জীবনধারনের জন্য বাকি সব কিছুই এখানে অপ্রয়োজনীয় l
এমন একটা বাতাবরণ ,পরিবেশ যে কোন সাধারন মানুষের দম বন্ধ হয়ে যাবার পক্ষে যথেষ্ট ;কিন্তু এই ঘরটাই বিগত চৌদ্দ বছর ধরে নীলেশের স্থায়ী ঠিকানা l
ঘরের মেঝেতে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দুহাঁটুর মাঝখানে মাথা গুঁজে বসে আছে নীলেশ l আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের তিপান্ন নম্বর সেলের সদ্য মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত আসামি সে l রায় ঘোষণা হয়ে গেছে সাত দিন আগেই l কোর্টে পেশ করা সমস্ত তথ্য প্রমাণ তার বিরুদ্ধেই l তার অপরাধ নাকি বিরলের মধ্যে বিরলতম l নিম্ন আদালতও একই রায় দিয়েছিলো ;কিন্তু গয়নাগাঁটি ,ঘটিবাটি সব বিক্রি করে স্ত্রী পারুল হাইকোর্টে কেস চালিয়েছে l আজ সে সর্বশান্ত l
মেয়েদের কাছে সিঁথির সিঁদুর বড় স্পর্শকাতর জিনিস l ওই একচিলতে সিঁদুরের জন্য সমাজ ,সংস্কার ,জীবন, এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে কখনো কখনো নিজের সতীত্ব কে ও তারা বাজি রাখতে পারে l
পারুল গ্রাম্য অশিক্ষিত মেয়ে l এর বেশি ও আর কি ই বা করতে পারতো !পাড়া -প্রতিবেশী ,আত্মীয় -স্বজন সবার কাছেই আজ নিলেশ ব্রাত্য l একজন ধর্ষকের সাথে কে ই বা আত্মীয়তা রাখতে চায় ?কিন্তু পারুল পারেনি নীলেশকে ছেড়ে যেতে l স্বামীর কৃতকর্ম হেতু ঘরে বাইরে এক চরম লজ্জাকে হেলায় একপাশে সরিয়ে রেখে প্রাণপণে চেষ্টা করেছে নীলেশকে বাঁচাতে ;বিচারকের কাছে আর্ত কণ্ঠে ভিক্ষা চেয়েছে মুক্তি নয় .....শুধুমাত্র স্বামীর প্রাণটুকু ------"হুজুর ,যাবজ্জীবন দিন ,অন্তত বেঁচে থাকুক ;আমার সিঁদুরটা মুছে দেবেননা l"
হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে তীব্র গতিতে বেরিয়ে আসা একরাশ যন্ত্রণা ,হতাশা ,গ্লানি আর অপমানবোধ মেশানো পারুলের সে কান্না শুনে সেদিন সেই মুহূর্তেই এক চরম বিবেক দংশনে মরে যেতে ইচ্ছে করছিলো নীলেশের l কিন্তু জীবন থাকা আর না থাকার মধ্যে ব্যবধান যেমনই সূক্ষ ,এক মুহূর্তের ;তেমনি আবার ফারাক বিস্তরও হয় l
রায় ঘোষণার পর নিলেশের হাতে আর মাত্র পনের দিন সময় ছিলো l জেলের এই অন্ধকুঠুরিতে বসে সেই পনের দিনের সাত দিন ইতিমধ্যেই কাটিয়ে ফেলেছে সে l হাতে আর মাত্র আটটা দিন l তারপর এক ভোরে ফাঁসির দড়িতে একটা টান ,একটু ছটফটানি ;ব্যস সব শান্ত l এই কথাটা মনে হওয়া মাত্র ভিতরে ভিতরে কেঁপে উঠলো নীলেশ l জীবনতো পদ্ম পাতায় থাকা জলবিন্দুর মতো ,এই আছে আবার এই নেই l কিন্ত মৃত্যুর দিনক্ষণ জেনে তার জন্য নিরন্তর অপেক্ষা করার মতন মর্মান্তিক আর ভয়াবহতা বোধহয় আর কিছুর মধ্যেই নেই l তাই জীবনের অন্তিম সাতদিন মেয়াদের দোর গোড়ায় দাঁড়িয়ে আজ আবার ভীষণ বাঁচতে ইচ্ছে করছে তার l কনে দেখা আলোয় ,সেই প্রথমবার দেখা পারুলের কচি ,নিষ্পাপ ,লজ্জারঙ্গা মুখটা আর একবার ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে নীলেশের l ভগবান যদি আর একটা সুযোগ দেন তাহলে পারুলের কাছে সে প্রমাণ করে দেবে যে তার অপরাধ সাময়িক একটা অহংবোধের বহিঃপ্রকাশ মাত্র ,কোন নারী মাংসের প্রতি লোলুপতা নয় l
(২)
কিছুক্ষণ আগে দুইজন মানবধিকার কর্মী তার সাথে দেখা করে গেছে l তার ভিতরে জ্বালিয়ে দিয়ে গেছে একটা আশার আলো l তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবে তারজন্য ,প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দেবে l বিদ্বজ্জন ,বুদ্ধিজীবী ,বিরোধীদল সবাই তার পাশে l হোক সে ধর্ষক ,হোক সে খুনি ,হোক সে মৃতদেহ ধর্ষণকারী ,হোক তার অপরাধ বিরলের মধ্যে বিরলতম ;তবু তো সে মানুষ l একজন মানুষ যখন কারুর প্রাণ দিতে পারে না তখন প্রাণ নেবার অধিকারও তো নেই l তাছাড়া মৃত্যুদণ্ড দিলেই তো আর সমাজ থেকে ধর্ষণ বা ধর্ষক মুছে যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই l তাই প্রতিটি সংবেদনশীল মানুষ প্রশাসনের এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্ছার হবে ,প্রয়োজনে পথে নামবে প্রতিবাদে l তাছাড়া ইতিমধ্যেই সে চোদ্দ বছর জেল খেটেছে ,এক অপরাধের দুটো সাজা হয় নাকি !গণতন্ত্রিক দেশের গণতন্ত্র তার পাশেই আছে l নেতাদের এহেন ভাষণে নীলেশের মনের কোণে সুপ্ত হয়ে থাকা বাঁচার ইচ্ছেটা দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো ;আর সেই আগুনে পুড়তে থাকলো তার অপরাধের দৃঢ়তা ,গুরুত্ব l ঝাপসা আর নিস্তেজ হয়ে গেলো একটি হতভাগ্য নারীর বাঁচতে না পারার যন্ত্রণা l
(৩)
রাস্তা জুড়ে বুদ্ধিজীবীরা মিছিলে নেমেছে l সবার হাতে একটা করে জ্বলন্ত মোমবাতি l প্রশাসন একটা তরতাজা ছেলেকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে ,তাতেই স্তম্ভিত এরা l স্তম্ভিত আরতিও l সে ও পা মেলায় ঐ মৌনী মোমবাতিধারীদের সাথে l
ফাঁসির আগের কটাদিন নীলেশকে প্রায় ভি .আই .পি .র মর্যাদা দিয়েছে দেশবাসী l সংবাদ মাধ্যম গুলো তো তার নাওয়া ,খাওয়া ,শোয়া ,ঘুমোনো ,বসেথাকা ,পায়চারি করা সব কিছুর চুল চেরা বিশ্লেষণ করেছে l টিভি চ্যানেলে ঘন্টা খানেকের টক শো ও হয়েছে l সমাজের তাবড় তাবড় ব্যক্তিত্বরা বসে আপন মতামত দিয়েছে তার সাজার পক্ষে -বিপক্ষে l আজকের মৌনী মিছিলে ওরাও এসেছে দামী ক্যমেরা গলায় ঝুলিয়ে l প্রাক ফাঁসি থেকে ফাঁসি পরবর্তী আজ এই মিছিলেই বোধহয় সমাপ্তি ঘটবে সংবিধানের সাম্য আর মৈত্রী বাণীর তামাশা l দুফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো আরতির দুগাল বেয়ে l হাজার হাজার মোমবাতির আলোয় ঝলমল করছে চারপাশ l সেই আলো খানিকটা এসে ঢুকলো আরতির ভিতরেও l অগুনতি ম্লান আলো একত্রিত হয়ে তার ঝাপসা হয়ে যাওয়া স্মৃতিটাকে ছায়াছবির মতো স্পষ্ট করে তুললো l আরতি দেখতে পেলো .........
দিনটা ছিলো ২০শে এপ্রিল l ক্লাস টেস্টে বেশ ভালো নম্বর পেয়েছিলো আরতি l মনটা তার তাই বেশ খুশি খুশি ছিলো l তার ওপর মা আজ চাইনিজ বানিয়েছে ,স্কুল থেকে ফিরে আরতি খাবে বলে l উফফ চাইনিজ ওর ভীষণ প্রিয় l
মা অফিস যাবার আগে সব গুছিয়ে যায় টেবিলের ওপর l স্কুল থেকে ফিরে আরতি সেগুলো মাইক্রোওভেনে গরম করে খেয়ে নেয় l মায়ের চাকরির কারণে চোদ্দ বছরের আরতি এর মধ্যেই বেশ সাবলম্বী হয়ে উঠেছে l মা সবসময় বলেন যে ,ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে সকলেরই সাবলম্বী হওয়া উচিত l যে কাজটা নিজেই করতে পারবে ,সবসময় চেষ্টা করবে সেটা নিজে করে নিতে l মায়ের কথা মনে পড়তেই মুচকি হাসি খেলে যায় আরতির ঠোঁটের কোণে l মাকে সে বড্ড ভালোবাসে l
ঝাঁকুনি দিয়ে স্কুল গাড়িটা থেমে গেলো l ওহ ,বাড়ি এসে গেছে l দরজাটা খুলে লাফিয়ে গাড়ি থেকে নামলো চোদ্দ বছরের উচ্ছল এক কিশোরী l এই আবাসনে প্রায় পঁচিশটি ফ্ল্যাটবাড়ি আছে l কম্পাউন্ডে ঢোকার গেটটা বিশাল বড় l সেখানে সবসময় সিকিউরিটি থাকে l কিন্তু সিকিউরিটি গার্ড নীলেশকে সে একদম পছন্দ করে না l ওকে দেখলেই আরতির বিরক্ত লাগে l জাস্ট বিরক্ত লাগে l সারাক্ষণ বোকার মতন তাকিয়ে থাকে l কারণে ,অকারণে গায়ে পড়ে কথা বলতে আসে l ওকে দেখলেই কেমন একটা অস্বস্তি হয় আরতির l নীলেশকে সে তাই এড়িয়েই চলে l কিন্তু ছেলেটা নাছোড়বান্দা l একদিন জোর করে আরতির হাতটা ও ধরার চেষ্টা করেছিলো ,রাগের চোটে আরতি দিয়েছে এক থাপ্পড় l তারপর থেকে নীলেশ কেমন অদ্ভুত চোখে তাকায় ওর দিকে l কি যেন আছে ওই দৃষ্টিতে ;রাগ ?ক্ষোভ ?ঘৃণা ?হিংসা ?নাকি এক চরম নিষ্ঠুরতা ??অনুভূতিটাকে আরতি ঠিক ধরতে পারে না l এসব কথা ভাবতে ভাবতেই সে আবাসনের গেট পেরিয়ে দ্রুত পায়ে নিজের ফ্ল্যাটের দিকে এগিয়ে যায় কারণ ,গেটে আজ নীলেশ দাঁড়িয়ে আছে l ওর চোখের দৃষ্টি আরতিকে যেন তীরের ফলার মতন বিদ্ধ করে l নীলেশের দৃষ্টির বাইরে এসে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো সে l তারপর তরতর করে সিঁড়ি বেয়ে উঠে পড়লো চার তলায় ,নিজেদের ফ্ল্যাটে l
হাজার স্কোয়ার ফিটের ফ্ল্যাটে এখন আরতি একা l ঘরে ঢুকেই টিভি আর ফ্যানের সুইচটা টিপে ব্যাগটা সোফার একপাশে রেখে ধপ করে বসে পড়লো সে l টিভিতে একটা দারুণ মুভি হচ্ছে ,অক্ষয় কুমারের l আরতির পছন্দের হিরো l নিমগ্ন হয়ে টিভি দেখতে দেখতে সে ভুলেই গিয়েছিলো খাবারের কথা l আচমকা ডোর বেলের শব্দে চমক লাগে তার l
এই অসময়ে কে রে বাবা !বিরক্তভরে মন আর চোখটা টিভির স্ক্রিনে রেখেই তিন লাফে সোফা ছেড়ে দরজার কাছে পৌঁছে গেলো আরতি l দরজাটা খুলেও দিলো l তারপরই একটা জোর ধাক্কা ,দরজাটা আবার বন্ধ হয়ে গেলো l বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে আরতি দেখলো তাকে ঠেলে নীলেশ ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েছে l ওর দুচোখে হিংস্র চাহনি l
বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠলো আরতির l কাঁপাকাঁপা স্বরে ঢোক গিলে কোনোমতে বলল ---তুমি !!তারপর কয়েক মুহূর্তের নিস্তব্ধতা l এবার ক্ষিপ্রগতিতে একটা চকচকে ছোরা সমেত নীলেশের হাতটা এগিয়ে এল আরতির দিকে l ব্যথায় কোকিয়ে উঠল আরতি l নিলেশ প্রথম আঘাতটা হেনেছে তার গলা লক্ষ্য করেই l ফিনকি দিয়ে বেরোনো রক্তে আস্তে আস্তে ভিজে যাচ্ছে তার সাদা স্কুল ইউনিফর্মটা l প্রচন্ড যন্ত্রণা আর তীব্র আতঙ্কে নীলেশের দিকে চেয়ে আছে সে l চোদ্দ বছরের একটা তরতাজা প্রাণ কি চাকুর একটা কোপে বেরোয় !!
নীলেশ স্থির তীক্ষ্ণ চোখে দেখছে আরতিকে ,ঠিক যেমন শিকারের আগে শিকারী শিকারের প্রতি মনঃসংযোগ করে তেমন ভাবে l এবার আচমকা ছুটে এলো তার দিকে l আর পাগলের মতো ছুরি চালাতে লাগলো l
ব্যস ,আর কিচ্ছু মনে নেই তার l যখন সম্বিত ফিরেছিল তখন আরতি দেখেছিল তার প্রাণহীন নিস্পন্দ শরীরটার ওপর জৌন ক্ষিদে মেটাচ্ছে নীলেশ l অবাক হয়ে দেখেছিলো আরতি ,তার ক্ষতবিক্ষত মৃত দেহটাকে আঁচড়ে ,কামড়ে ,খুবলে ছিন্নভিন্ন করছে নীলেশ l ব্যথার অনুভূতি তখন আর আরতির ছিল না ;কিন্তু ঘটনার নৃশংসতায় ,নীলেশের বীভত্স নিষ্ঠুর আচরণে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিলো l নীলেশকে সেদিন সে যে চড় মেরেছিল তা নীলেশের অহংবোধে ঘা দেয় ,তার প্রতিশোধই নীলেশ এতক্ষণ ধরে নিলো l তারপর কেটে গেছে প্রায় চোদ্দটা বছর l কেস চলেছে l বিচারের আশায় আরতিও উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেরিয়েছে l সমাজের ছোঁড়া কাদা মেখেছে তার এই সূক্ষ্ম শরীর ও l কখনো তার পোশাক আশাক কখনো জীবনযাত্রা উজ্জল করেছে সংবাদ পত্রের শিরোনাম l গলার কাছে দলা পাকানো কান্না আর অপমান কে সাথী করে তার অতৃপ্ত আত্মা হাহাকার করে উঠেছে বারবার l সমাজের নিচু তলার মানুষ তথা গরীব মানুষ নিপীড়িত হলে ,বঞ্চিত- শোষিত -অত্যাচারিত হলে যতটা সহানুভূতি পায় সেই সহানুভূতি সমাজের ওপর তলা অবধি প্রায়শই পৌঁছয় না l তাই ভরা আদালতে বারবার খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে নীলেশের অপরাধের গুরুত্ব l তার বয়েস কম তাই তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত !বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেছিল আরতি l আচ্ছা আরতির ও তো বয়েস কম ছিলো ,বাঁচার অধিকার তো ওর ও ছিল !নাকি মেয়েদের ,বিশেষত ধর্ষিতা মেয়েদের বেঁচে থাকতে নেই !?নিজের প্রশ্নবানে নিজেই জর্জরিত হয়েছে সে দিনের পর দিন l আরতি ভাবে নীলেশ যদি দুটো অপরাধ করতে পারে তাহলে দুটো শাস্তি কেন পেতে পারেনা সে ?আজ যারা নীলেশের বেঁচে থাকার ,সুবিচার পাবার অধিকার নিয়ে চিত্কারে গলা ফাটাচ্ছে তাদের এই অমানবিকতা আরতির মনের ধর্ষণ করে চলেছে নিরন্তর l আচ্ছা বেঁচে থাকার অধিকার ,সুবিচার পাবার অধিকার কি শুধু ধর্ষকেরই থাকে ?ধর্ষিতার থাকে না ?নীলেশের জন্য কিছু মানুষের উঠলে পড়া সহানুভূতিতে আরও একবার গুলিয়ে যায় আরতির ঠিক ভুলের হিসেব l
মোমবাতি মিছিল এতক্ষণে পৌঁছে গেছে তার গন্তব্যে l নীলেশের একটা বড় ছবির সামনে জ্বলছে অগণিত মোমবাতি l
একটা আবছা অবয়ব জমাট বাঁধছে ধীরেধীরে l কেবল আরতিই দেখতে পায় তাকে l অবয়বটা নীলেশের l প্রাণদন্ড সাজা পেয়েও তার ঠোঁটের কোণে আজ তৃপ্তির হাসি l কলির অসুররা দুর্গা বধ করে ,কলির অসুররা পুজো পায় l আরতির অতৃপ্ত আত্মা কেবল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিলিয়ে যায় শহরের বাতাসে ll
সমাপ্ত
(ব্যক্তিগত ভাবে কাউকে আক্রমণ করা আমার উদ্দেশ্য নয় l একটি সত্য ঘটনার সাথে কিছুটা কল্পনার সংমিশ্রনে আমার এই উপস্থাপনা l কারুর ভাবাবেগে আঘাত লাগলে আমি আন্তরিক ভাবে দুক্ষিত l )


bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.