চন্দন উধাও


নদীয়ার জাগুলী নিবাসী পবিত্র দাশগুপ্তের বাড়ীর বাগানে তেরোবছর ধরে লালিত শ্বেত চন্দন গাছটি রাত্রে চোরে গোড়া থেকে কেটে নিয়ে গেছে।তার পরিবারের কেউ টের পায়নি। দু একজন প্রতিবেশী রাত একটার সময় বাড়ীর গেটে একটি লরী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন। এই দুর্লভ চন্দন গাছ তার বাগানে আছে প্রতিবেশীরা জানতেন না।পবিত্রবাবু চারদিন হল পুলিশকে ও বন দপ্তরকে গাছ চুরীর ঘটনা জানিয়েছেন। চুরীর কিনারা হয়নি দেখে প্রাইভেট ডিটেকটিভ অরেশ চ্যাটার্জীর শরণাপন্ন হয়েছেন। অমরেশ তদন্ত করতে জাগুলীর পবিত্রবাবুর বাড়ীতে এসেছেন।পবিত্রবাবু তার একমাত্র স্কুল শিক্ষক ছেলে ও শিক্ষিকা পুত্রবধুর সাথে অমরেশের পরিচয়য় করালেন। তার স্ত্রী বীণাদেবী ও ছোট শ্য1লক চন্দন রায় এই বাড়ীতে থাকেন।বছর পঁয়ত্রিশের অবিবহিত চন্দন কল্যাণীর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষক। পবিত্রবাবু কেন্দ্রীয় আবগারী বিভাগের চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছেন। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের জেলা শহর চিট্টোরের অফিসে কাজ করতেন। মুখোমুখী বসে অমরেশ পবিত্রবাবুকে বললেন-" বাগানে চন্দন গাছ লাগালেন কেন? সরকারী বনদপ্তর ছাড়া চন্দন গাছ চাষ করা বা বিক্রী করা নিষেধ। এখন লাগাতে পারেন, তবে বিক্রী করতে বনদপ্তরকে ডাকতে হবে।।" বাষট্টি বছরের স্বাস্থ্যবান পক্ককেশ বৃদ্ধ বললেন-" আমি বারো বছর আগে বনদপ্তরকে জানিয়ে গাছটি সখ করে লাগিয়েছিলাম।অন্ধ্রপ্রদেশের চিট্টোরের বাগান থেকে শ্বেত চন্দনের বীজ কিনে এনেছিলাম। আগস্ট থেকে মার্চ মাসের মধ্যে বীজ পাওয়া যায়;যত্নে অঙ্কুরোদগম করে গাছটি বড় করেছি। বিক্রী করার উদ্দেশ্য ছিল না। চিট্টোরের মাটি এনে গাছের গোড়ায় দিয়েছি। গাছের ফলের আকর্ষণে সারা বছর টিয়া কোকিল নানা রঙীন পাখী বাগানে আসে।গাছের সুগন্ধ পাওয়া যায়; ঠাকুর পুজোর চন্দন পাওয়া যেত।"--"রাতে এতবড় একটা গাছ করাত দিয়ে কেটে নিয়ে গেল বাড়ীর কেউ দেখতে পেলেন না ভেবে আশ্চর্য্য লাগছে!" অমরেশের গম্ভীর বিস্ময় দুর করতে পবিত্রবাবু বললেন-' চিট্টোরে দেখতাম স্মাগলাররা বাগানের চন্দন গাছ কেটে চুরী করে নিয়ে যায়,সওয়েস্টবেঙ্গলেতো দক্ষিণের মতো চন্দন চাষ হয় না।আমার বাগানের চন্দন গাছটি কেউ চুরী করতে পারে ভাবিনি। প্রতিবেশী নির্মলবাবু নাকি দেখেছেন কাটাগাছের অংশ নিয়ে একটি লরী 34 নাম্বার জাতীয় সড়কের দিকে যায়" বীণাদেবী পরিচারকের হাতে কফি বিস্কুট সন্দেশ পাঠিয়ে অমরেশকে আপ্যায়ণ করে বললেন-' বড় পবিত্র গাছটা পরিবারের সদস্যদের মতো ছিল।চোরে ডালপালা সমেত নিয়ে গেছে।আপনি যদি চোরকে ধরতে পারেন তাহলে খুশী হব।" পবিত্রবাবুর বছর সাতাশের যুবক ছেলে অরুপ বলল- আমি আন্দাজ করে বাবাকে বলেছিলাম বনদপ্তরকে ডেকে গাছটা দিয়ে দাও। কোনদিন চন্দন দস্যু বাড়ীতে হানা দেবে।" অমরেশ বললেন-" পবিত্রবাবু চলুন বাগানে শ্বেত চন্দনের অবশিষ্টটুকু দেখে আসি।" বাগানে এসে অমরেশ লক্ষ্য করল দোতলায় অসমাপ্ত ঘরে মিস্ত্রি কাজ করছে। -" আপনি কি দোতলায় ঘর তৈরী করছেন?" অমরেশের প্রশ্নে পবিত্রবাবু বললেন-" দোতলাটা একটু বাড়ালাম।এখন কাঠের মিস্ত্রি উজ্জল দরজার কপাট লাগাচ্ছে।" -" উজ্জল রাতে কাজ করে নাতো? -" না ও সন্ধ্যা সাতটায় বাড়ী যায়।" ওর বাড়ী কোথায়?" - তা জানি না কাঁচরাপাড়া স্টেশন বাজারে ওর কাঠের দোকান আছে।" কথায় কথায় অমরেশ চ্যাটার্জী বাগানে এসে দেখলেন - মাটির একফুট উপরে থাকা গাছের হরিদ্রাভ কালচে রঙের বাইরের ত্বক। ভিতরে হলুদ রঙের একটি নয় ইঞ্চি ব্যাসের গোলাকার চন্দনগাছের গুঁড়ি রয়ে গেছে। অমরেশ বললেন --"গাছটির উচ্চতা কতটা ছিল? " পবিত্রবাবাবু হিসাব করে বললেন-" বাইশফুট হবে। চন্দন গাছ হরাইজেন্টাল ভাবে বাড়ে।" -" জানেনতো ভারতীয় বাজারে এক কিলোগ্রাম শ্বেত চন্দন কাঠের দাম দশহাজার টাকা। চীনে চন্দন কাঠের দাম অনেক বেশী । তাই দক্ষিণ ভারতে চন্দন কাঠ স্মাগলিং বন্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।" অমরেশের কথায় পবিত্রবাবু সরল হাসিতে বললেন-" গাছটির দামের কথা কখন ভাবিনি। বনদপ্তরের লোকেরা ওসব ঠিক করে।চন্দন কাঠ পুজোয় লাগে জানি।" অমরেশ গুড়ি পরীক্ষা করে বললেন -" ইলেকট্রিক করাত দিয়ে গাছের গুড়ি কেটে নিল আপনারা কেউ আওয়াজ পেলেন না?" -" অমরেশবাবু সেদিন কেন জানি আমরা সবাই বেশী ঘুমিয়েছি। সকাল সাতটায় আমাদের ঘুম ভেঙেছে।"--" বাড়ীর প্রথম কার চোখে পড়ল গাছ চুরী হয়ে গেছে?" - আমার শ্যালক চন্দন প্রথম দেখে গাছটা নেই।"--" আমি চন্দনবাবুকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করব।" সকাল দশটা বাজতে চলেছে। চন্দন তখনও কম্পিউটার সেন্টারের কাজে বেরোওনি। পবিত্রবাবু গিন্নিকে বললেন চন্দনকে বাগান সংলগ্ন ব্যালকনিতে পাঠিয়ে দিতে।গাছ দেখে এসে অমরেশ চেয়ারে বসতেই অরুপ বলল-" আমরাতো আর গাছটা ফিরে পাবো না।উদ্ধার হলে তার মুল্য সরকার পাবে।তবুও আমরা চাইছি আপনি চন্দন কাঠ চোরকে সনাক্ত করে শাস্তি দিন।" অমরেশ বললেন-" আমার অনুমান কোন স্থানীয় পরিচিত লোকের সাহায্যে চন্দন কাঠ স্মাগলার চুরী করেছে। চারদিন হয়ে গেছে।পাচারকারীরা গাছ নিয়ে উত্তর বঙ্গে নেপালের বর্ডারের কাছে চলে যেতে পারে। জেলার পুলিশ হাতেনাতে স্মাগলারদের ধরতে পারবে। তদন্ত করে অপরাধীকে ধরতে আমার সময় লেগে যাবে।" পবিত্রবাবু বললেন স্থানীয় থানার পুলিশ খবর পেয়েছে শিলিগুড়িতে চন্দন পাচারকারীদের একটা গুদাম আছে। কিন্তু এখনও গুদামের হদিশ পাওয়া যায়নি।" অমরেশ বললেন -" আমি থানায় গিয়েছিলাম। পুলিশ অফিসার বললেন অন্ধ্রপ্রদেশের পুলিশও দক্ষিণের স্মাগলারদের খোঁজে শিলিগুড়িতে তল্লাসী চালাচ্ছে। পাচারকারীদের উদ্দেশ গাছগুলি চীনে পাচার করা।" ইতিমধ্যে চন্দন রায় ব্যালকনিতে এসে গেছে।অফিসমুখী সুটেট বুটেড ভদ্রলোককে বসতে বলে অমরেশ বললেন-" পবিত্রবাবু আপনার গাছ যদি কদিনে নেপালে না ঢোকে আমি পাচারকারী ধরার চেষ্টা চালাব।" চন্দন বলল-" ডিটেকটিভ চ্যাটার্জী আপনি গাছ চোরকে ধরতে পারবেনতো? লরীতে চন্দন গাছ তুলে নিয়ে চোর কোথায় পালিয়েছে পুলিশ সেটাই বুঝতে পারছে না।" অমরেশ হাতের মোবাইলের অডিও রেকর্ডার চালিয়ে বললেন-" এর আগে অনেক অপরাধীকে আমি ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।চনন্দনবাবু গাছ চুরীর রাতের পর আপনি সকালে কখন দেখলেন বাগানে গাছ নেই।?" চন্দন ভেবে বলল - আমি সকাল সাতটায় ব্যালকনীতে বসে চা খাচ্ছিলাম।বাগান পেরিয়ে বাড়ীতে আসা দুধ বিক্রেতা মাধব ঘোষ আমাকে বলল বাগানের পিছনদিকের চন্দন গাছটা কেউ কেটে নিয়েছে।আমি সেটা দেখে দিদি জামাইবাবুকে ডেকে আনি।" --" শুনলাম সেদিন বাড়ীর সকলে দেরীতে সাতটা পর্যন্ত ঘুমিয়েছে, আপনি কটায় ঘুম থেকে উঠেছেন? অমরেশের কথায় চন্দন স্মৃতিতে ডুব দিয়ে ঘুম ভাঙার সময় ভাবছে। --" অত ভাবনার কি আছে! মোটামুটি সময় বলুন?" অমরেশের কথায় অপ্রস্তুত হয়ে চন্দন বলল-" আমারতো মনে হয় সেদিন অন্যদিনের মতোই সবাই ঘুম থেকে উঠেছে।আমি সকাল ছটায় পরে উঠেছি। আমার ভাগনা অরুপ ও ওর স্ত্রীকেও দোতলার ব্যালকনীতে ঘুরতে দেখেছি।" অরুপ বলল-" সে যাই বলো মামা ঘুমটা আমাদের গভীর হয়েছিল।বাড়ীর পিছনের পাঁচিল টপকে লোক এসে গন্ধমাদন তুলে নিয়ে গেল কারোর চোখে পড়ল না।" স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে লাল পার সাদা তাঁত সিল্ক শাড়ী পরা অরুপের স্ত্রী সুদীপা এসে বলল-" অমরেশবাবু আমার মনে হয় সেদিন রাতে আমাদের ঘরে কেউ ক্লোরোফর্ম স্প্রে করেছিল। আমি রাত সাড়ে বারোটার পরে দোতলার জানালায় কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা কাউকে যেন সরে যেতে দেখলাম।আর তার পরে ঘুমে অচেতন হয়ে গেলাম।" -" ঠিকই দেখেছেন সুদীপাদেবী। চোর আপনাদের ঘুমের মধ্যে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অচেতন করে কাজ সেরেছে। " অমরেশ গগলস খুলে চন্দনের চোখের দিকে চেয়েছিল।অস্বস্থিতে চন্দন রায় বলল-" আর কিছু জানার থাকলে বলুন? আমি কম্পিউটার সেন্টারে কাঝে যাব।" অমরেশ বললেন-" আপাততঃ আর কিছু জানার নেই আপনি যেতে পারেন।" চন্দন বেরিয়ে গেলে অমরেশ কাঠের মিস্ত্রী উজ্জলের দোকানের ঠিকানা পবিত্রবাবুর কাছে জেনে নিলেন। উজ্জলের সহকারী মিস্ত্রী বাড়ীতে কাজ করছে। উজ্জল এখন দোকানে আছে। অমরেশ পবিত্রবাবুর ফোন নাম্বার নিয়ে বললেন-" আমি লোক্যাল থানার পুলিশের ইনফরমেশন নিয়ে আগামী কাল তদন্তের জন্য আবার জাগুলী আসব।প্রয়োজনে লরীর পালানোর পথ অনুসরণে উত্তর বঙ্গে যেতে হতে পারে।চন্দন চোরকে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করব।" পবিত্রবাবু বললেন-" আপনি শুধু চোবদের ধরতে পারলে মনে শান্তি পাবো। বাগানের চন্দনের পবিত্র গন্ধটা এখনও যেন ভেসে আসে।" অমরেশ ফেরার পথে কাঁচড়াপাড়া বাজারে উজ্জলের কাঠের আসবাবের দোকানে হাজির হল। তিনি জাগুলী থেকে অটো রিক্সায় উঠে কাঁচরাপাড়া আসার সময় টাইট গেঞ্জী ও জিনসের প্যান্ট পরা একটি যুবক মোটর সাইকেলে অনুসরণ করে আসছিল , সে এখন দোকানটির পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। তিনি তাকাতে যুবকটি ব্যস্ততা দেখিয়ে রাস্তার বিপরীতে মিষ্টির দোকানে ঢুকল। অমরেশ চৈতালী ফার্ণিচার কাঠের দোকানে ঢুকে দেখে দুজন কর্মচারী মেঝেতে বসে কাঠের কাজ করছে।একজন প্যান্ট শার্ট পরা যুবক বেঞ্চে বসে দেখছে।অমরেশ বললেন-" দোকানের মালিক উজ্জল আছে?" বসে থাকা যুবকটি বলল-" আমি উজ্জল, কি চান বলুন?" -আমি গোয়েন্দা, জাগুলীর পবিত্রবাবুর বাগানের চন্দন গাছ চুরীর তদন্ত করছি। তুমিতো ঐ বাড়ীতে দরজা জানালা লাগাচ্ছ,তোমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে চাই।" উজ্জল একটি স্টীলের চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বলল-" বসুন স্যার।আমি দাশগুপ্ত বাড়ীতে কাজের কন্টাক্ট নিয়েছি।" বসে অমরেশ বললেন-" চুরী হওয়ার আগে চন্দন গাছটা দেখেছিলে নিশ্চয়?"--" না ওদের বাগানে চন্দন গাছ আজে জানতাম না।"--" তুমি আনেকদিন ধরে ওদের বাড়ীতে মিস্ত্রীর কাজ করো, দামী চন্দন গাছটা চোখে পড়ল না?"--" স্যার আম জাম পেয়ারা কত গাছ আছে।চন্দন গাছটা লক্ষ্য পড়েনি।"--" তুমি চন্দন গাছের কাটা গুড়িটা দেখেছ।কি দিয়ে কেটেছে মনে হয়?" চিন্তা করে উজ্জল বলল-" ইলেকট্রিক করাত দিয়ে কেটেছে।"--" তোমারতো ইলেকট্রিক করাত আছে। পবিত্রবাবুর বাড়ীর কাজে ইলেকট্রিক করাত নিয়ে গিয়েছিলে?" ভয় পেয়ে উজ্জল বলল-হ্যাঁ স্যার বিশ্বাস করুন চন্দন গাছ কে কেটেছে আমি জানিনা।" কথার মাঝে অমরেশের নজর গেল কর্মচারী ছেলেটি কাঠের ছোট ফুলদানীতে পালিশ করছে। নীচের গোলাকার অংশ সরু নলের আকারে উঠে পাতার মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সন্দেহ হতে অমরেশ উঠে কর্মচারীর হাতের ফুলদানীটি কেড়ে নিলেন। উজ্জলের বিস্ফারিত চোখের সামনে তিনি ভাল করে দেখে বুঝলেন ফুলদানীটি চন্দন কাঠের তৈরী। -" এই ফুলদানীর চন্দন কাঠ তুমি পেলে কোথায়?" অমরেশের জেরায় সন্ত্রস্ত উজ্জল জড়ানো গলায় বলল-" স্যার একজন খদ্দের চন্দন কাঠের ফুলদানী করে দিতে বলেছে।আমি কলকাতা থেকে চন্দন কাঠ এনেছি।" অমরেশ হুমকির সুরে বললেন-" আমি পুলিশের লোক।মিথ্যা বলে লাভ নেই। সত্যি না বললে থানায় নিয়ে গিয়ে জেরা করব।" মাথা হেট করে বসা উজ্জলের ভয়ে গলদঘর্ম অবস্থা। অমরেশ রিভলবার হাতে নিয়ে বললেন-" উজ্জল তোমার চোখমুখ বলছে তুমি অপরাধ করেছ। বাঁচতে চাইলে বলো কে চন্দন গাছ কেটেছে?" উজ্জল ভেঙে পড়ে ছল ছল চোখে বলল-" স্যার বিশ্বাস করুন ওরা আমায় রাত্রে দাশগুপ্ত বাড়ীতে ডেকে নিয়ে করাত দিয়ে চন্দন গাছ কাটিয়েছে।ওরা কাটা গাছ লরীতে তুলে শিলিগুড়ি নিয়ে গেছে।আমায় দশহাজার টাকা আর এক খন্ড কাঠ দিয়েছে।" অমরেশ উজ্জলের হাত ধরে বলল-" ওদের নাম বল?" উজ্জল ভয়ে রাস্তা ফুটপাথ দেখে বলল-" কার্তিক দেবনাথ ছিল।ওর বাড়ী জাগুলীতে।আর একজন অবাঙালী লোক ছিল ; তাকে চিনি না। আর আমাদের ---" কিছু বলতে গিয়ে উজ্জল বলল না! আর কে ছিল বল? " ---" আর কেউ ছিল না" ফুটপাথের দিকে চেয়ে উজ্জল মুখ খুলছে না দেখে অমরেশ ওকে থানায় নিয়ে যেতে একটি রিক্সাচালককে ডেকে আনলেন।

অমরেশ উজ্জলের কলার ধরে টেনে থানায় নিয়ে যাচ্ছে দেখে দোকানের ভিতরের ঘর থেকে ওর স্ত্রী চৈতালী বেরিয়ে পথ আটকে দাঁড়াল। পরনে শালোয়ার কামিজ ও সিঁথিতে সিদুর পরা তরুণী বেপরোয়া ভাবে বলল-"স্যার ওর দোষ নেই, বাড়ীর লোক চন্দন গাছ কাটতে বলেছে বলে আমার স্বামী গাছ কেটেছে।"


bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.