ভুতচতুর্দশীর রাত


কলেজে পড়াকালীন আমি সুরেশ আর দুজন বন্ধু মিলে একটা ইনটিরিওরের কাজ শুরু করেছিলাম। সেই সুত্রে একবার মাতারানির মঠে রঙের কাজের বরাত পেয়েছিলাম। নবরাত্রির আগেই রঙের কাজ শেষ করে ফেলেছিলাম, কম টাকায় নতুন কাজ হিসেবে মন্দিরের ট্রাষ্টিদের কাজ বেশ পছন্দ হয়েছিল। তাই দিওয়ালীর আগে মঠে লাইট লাগানোর কাজটাও আমরাই পেলাম। কথা ছিল দিওয়ালীর আগের দিন দুপুরে আমি আর সুরেশ গিয়ে সব লাইট লাগিয়ে দিয়ে আসবো, ভাইদুজ পেরিয়ে গেলে আবার সব লাইট খুলে নিয়েও আসবো। সেই অনুযায়ী দিওয়ালীর আগের দিন মানে ভুত চতুর্দশীর দিন দুপুর বেলায় আমি আর সুরেশ টুনি বাল্বের বাক্স নিয়ে মঠের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। মাতারানির মঠ মূল শহর থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে একটা উঁচু টিলার উপরে। টিলার নীচে সিঁড়ির কাছে বাইক থামিয়ে লাইটের বাক্স হাতে আমি আর সুরেশ মন্দিরের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগলাম। সিঁড়ি চড়তে চড়তে গুনেছি মোট ৭৯টি সিঁড়ি আছে। উপরে মন্দিরের চুড়ায় লাইট লাগিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে সিঁড়ির গায়ে সব লাইট লাগানোর কাজ যখন শেষ হোল তখন প্রায় সন্ধ্যে হয় হয়। মন্দির থেকে বেরোবার আগেই দেখলাম দু একজন করে লোক আসতে শুরু করেছে, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ধ্যা আরতি শুরু হবে। পরেরদিন দিওয়ালী, নিজেদের বাড়িতেও প্রচুর কাজ পড়ে আছে আমি আর সুরেশ তাড়াতাড়ি ফেরার উপক্রম করছি। সুরেশ বাইকের পেছনে বসে, আমি বাইকে সবে স্টার্ট দেবো এমন সময় পেছন থেকে কেউ একজন সুরেশের নাম ধরে ডাকল। ঘুরে তাকিয়ে দেখি মন্দিরের পূজারী অশ্বিনীবাবু। আমাদের দুজনকে উদ্দেশ্য করে বললেন- "আর কিছুক্ষণের মধ্যে মন্দিরে সন্ধ্যা আরতি শুরু হবে, চলো আরতি দেখে নাহয় ফিরে যেও।" অশ্বিনী বাবু বৃদ্ধ মানুষ, তার উপরে উনি সুরেশের বিশেষ পরিচিত। ওনার জন্যেই মন্দিরের কাজটা পেয়েছিলাম, তাই ওনার কথা রাখতেই হোল। মন্দিরের আরতি শেষ হওয়ার পর প্রসাদ নিয়ে যখন সিঁড়ি ভেঙ্গে নীচে নামলাম তখন বাইরে ঘুরঘুট্টি অন্ধকার। শহর থেকে অনেকটা দূরে প্রায় জনবসতিহীন এলাকা, রাস্তায় আলোর ব্যাবস্থাও নেই। এদিকে আবহাওয়ায় তখন শীতের আমেজ লেগেছে সবে মাত্র, বাইকে চড়লে ঠাণ্ডা বাতাস অনুভব করা যায়। সুরেশকে পেছনে বসিয়ে বাইকে কিক দিলাম, দুবার চেষ্টা করতেই বাইক স্টার্ট নিলো। মঠের টিলা থেকে বড় রাস্তায় উঠতে মিনিট পাঁচেক মতো সময় লাগে, এই রাতাটুকুই যা কাঁচা রাস্তা। শহরে যাওয়ার বাকি পথ পাকা রাস্তা, কিন্তু আলো নেই। রাস্তার দুপাশে বাবলা কাঁটার জঙ্গল, কোন কোন জায়গায় জঙ্গল এতো ঘন যে কাটা গাছের ডাল রাস্তার উপরে শাখা প্রশাখা মেলে ধরেছে। শহরে পৌঁছানোর দশ কিলোমিটার রাস্তা, বাইকে ষাট-পঞ্চাশ বেগে চললেও পনেরো মিনিটের বেশী সময় লাগার কথা নয়, কিন্তু আধঘণ্টার উপরে হয়ে গেলো আমি বাইক চালাচ্ছি এখনও শহরের আলোর নামগন্ধ নেই। অবাক হয়ে সুরেশকে জিজ্ঞেস করলাম- "ভাই, আমরা ঠিক রাস্তায় এসেছি তো?"

"হ্যাঁ, ঠিকই তো এলাম। মঠে ঢোকার রাস্তা ছিল ডান হাতে। ফেরার সময় ওই রাস্তাই বাঁ হাতে পড়ে। আমরা বাঁ দিকেই তো এলাম।"

আমিও সেই কথাই ভাবছি। রাস্তা ভুল হওয়ার কোন মানেই নেই, অথচ এখনও শহরে ঢুকলাম না কেন? কিছুটা এগোনর পর রাস্তার ধারে আরও দুটো ছোটো টিলা দেখে মনে হোল দুপুরে যখন সূর্যের আলো ছিল তখন এই রাস্তায় তো কোন টিলা নজরে আসেনি। এবার আমার মনে হোল- নির্ঘাত রাস্তা ভুল করেছি। সুরেশকে কথাটা বললাম, ও বলল গাড়ি ঘোরাতে। কথায় কথায় নিশ্চয়ই আমরা ভুল দিকে গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলেছি। আমি গাড়ি ঘুরিয়ে উল্টো দিকের রাস্তা ধরলাম। এভাবে প্রায় আধ ঘণ্টা চলার পরেও রাস্তার ধারে সেই বাঁকটা দেখতে পেলাম না যেখান থেকে মঠের কাঁচা রাস্তা শুরু হয়েছিল। আমার কেমন যেন সন্দেহ হতে লাগলো। সুরেশ বলল- "আমারও ব্যাপারটা ঠিক লাগছে না।" পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখলাম নেটওয়ার্ক নেই, অথচ মন্দিরে যখন কাজ করছিলাম তখন যথেষ্টই নেটওয়ার্ক ছিল। কি করবো, কোনদিকে যাবো কিছুই ভেবে পাচ্ছিনা, ঘড়িতে তখন রাত্রি আটটা বাজে। রাস্তায় একটাও মানুষ জন নেই, এদিকে চতুর্দশীর রাত, বেশ ঘন অন্ধকার। সম্বল শুধু বাইকের হেড লাইট। আমি বেশ বুঝতে পারছি আমরা রাস্তা হারিয়েছি, কিন্তু ভুলটা ঠিক কোনখানে হোল কিছুতেই বুঝতে পারছিনা। গাড়ি নিয়ে এদিক ওদিক করে তেল পোড়ানোর চেয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিই। আমি রাস্তার ধারে যুতসই জায়গা বুঝে গাড়ি দাঁড় করালাম। সুরেশকে জিজ্ঞেস করলাম- "আমরা রাস্তা হারিয়েছি, কি করা উচিত এখন?" সুরেশ একটু ভেবে বলল- "মঠের ধারে একটা ছোটো গ্রাম আছে, সেখানে ফিরে গিয়ে আজকের রাতটা কাটালে কেমন হয়? কাল ভোরে নাহয় বেরনো যাবে।"

"হ্যাঁ, কিন্তু মঠে যাওয়ার কাঁচা রাস্তাটাও তো খুঁজে পাচ্ছিনা।" আমার কথা শুনে সুরেশ একটু ভেবে নিয়ে বলল- "যদি তুই ভয় না পাস তাহলে একটা কথা বলি?"

"কি কথা?"

"মঠের কাঁচা রাস্তার পরেই যে পাকা রাস্তা পড়ে সেটার ওপাড়েই যেখানে এখন বাবলা কাঁটার জঙ্গল, শোনা যায়, বহুদিন আগে ওখানে পার্সিদের শবদেহ ঝুলিয়ে রাখা হত চিল শকুনে খাওয়ার জন্যে। এখন এদিকে পার্সি লোকজন কম হয়ে যাওয়ায় জায়গাটা আর ব্যবহার হয়না। শুনেছি ওটা শ্বাপদ এলাকা, এদিকে এসে এভাবে অনেকেই পথ হারিয়েছে। অনেক লোকজনকে খুঁজে পাওয়াও যায় নি।"

আমি সুরেশের কথা শুনে ঘামতে শুরু করেছি, জিভে কথা জড়িয়ে যাবে জেনেও ওকে বললাম- "এটা আগে বলতে পারিস নি? তুই তো জানতিস, তাহলে শুধু শুধু আরতির জন্যে অপেক্ষা কেন করলি?" আমার মুখের কথাটা শেষ হতে না হতেই দেখলাম আমাদের পেছনের দিকের রাস্তা দিয়ে গুজরাতি গোয়ালাদের সাদা পোশাক পরা পাগড়ি বাঁধা লাঠি হাতে একজন লোক এদিকে এগিয়ে আসছে। দেখে মনে হোল স্থানীয় গ্রামবাসী। লোকটা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছিল, মুখে গুন গুন করে একটা গানও ধরেছিল। ভাবলাম লোকটা কাছে আসুক, ওকে জিজ্ঞেস করবো শহরের রাস্তাটা কোনদিকে। এই ভেবে আমরা দুজনে গাড়ির উপরে চেপে বসলাম, গাড়িতে কিক মেরে স্টার্ট দিয়েই রাখলাম। লোকটা একটু এগিয়ে আসতেই দেহাতি গুজরাতি ভাষায় জিজ্ঞেস করলাম- "দাদা, শহরের দিকের রাস্তাটা কোনদিকে বলতে পারবেন?" লোকটা আমার কথার দিকে কোন ভ্রূক্ষেপ করলো না, যেমন চলছিল সেরকম চলতে থাকল। আমি আবার চেঁচিয়ে একই কথা জিজ্ঞেস করলাম, আমার কথা শুনে লোকটা এবার একটু থামল, আমার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে মৃদু তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল আর তারপরেই ওর পরনের সাদা পোশাক পাগড়ি সব ধীরে ধীরে সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডলী মতো হয়ে মিলিয়ে গেলো। এই দেখে আমি আর সুরেশ রীতিমতো ভয় পেয়েছি। সুরেশ আমাকে তাগাদা লাগিয়ে বলল- "এখান থেকে চল তাড়াতাড়ি, ওই এলাকাটা আশেপাশেই আছে। আমাদের এখান থেকে যেভাবেই হোক বেরোতে হবে।" আমিও বাইকের গতি বাড়িয়ে দিয়েছি। হঠাৎ কিছুটা যাওয়ার পরেই রাস্তার ঠিক মাঝখানে সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডলীটা আবার চোখে পড়ল আমাদের। রাস্তার ডান দিক থেকে এসে বাঁ দিকে লম্বা সুতোর মতো হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো, আমি গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দিলাম। কখনো দেখি সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডলীটা একেবারে বাইকের পাশে আমাদের গা ঘেঁষে ধাওয়া করেছে, সাদা ধোঁয়া ঘনীভূত হয়ে যেন পিশাচের মুখাবয়ব তৈরি হচ্ছে। আমি সেদিকে না তাকিয়ে গাড়ি ছোটাতে লাগলাম। সুরেশ ওর পকেট থেকে একটা জ্বলন্ত দেশলাই ধরাতেই ধোঁয়ার কুণ্ডলীটা উবে গেলো। অনেকটা এভাবে গাড়ি ছোটানর পরে দূরে শহরের ক্ষীণ আলো দেখতে পেলাম, বুঝতে পারলাম শহর আর বেশী দূরে নেই। ঠিক তখনি দেখি সেই গুজরাতি গোয়ালা লোকটা রাস্তার মাঝেই পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তার দুপাশের বাবলা কাঁটার জঙ্গল তখনও কিছুটা অবশিষ্ট আছে। ভয়ে আমার হাত কাঁপতে শুরু করেছে দেখে সুরেশ বলল- "গাড়ি থামাবি না, যেকোনো ভাবেই এই শেষ জায়গাটা পেরিয়ে গেলেই হোল।"

"কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে আছে যে।"

"কিছু হবে না, তুই চল। আমি আসার আগে প্রসাদের থালা থেকে মাতারানির তাগা নিয়ে এসেছিলাম।"

মনে মনে বললাম- "জয় মাতাদি।" গাড়ির গতিবেগ আশি থেকে এক ধাক্কায় নব্বইয়ে চড়িয়ে দিয়ে বেরিয়ে এলাম। যেখানে লেবেল ক্রসিং, শহরের রাস্তার আলোর শুরু সেখানে গিয়ে গাড়ি থামালাম। দুজনে মনে মনে মাতারানির নাম করতে করতে একেবারে গিয়ে উঠলাম সুরেশ দের বাড়িতে, তখন ঘড়িতে বাজে সাড়ে দশটা প্রায়। সুরেশের বাবা মা দিদি সবাইকে ঘটনা জানালাম, ওরা সেদিন রাতে আমাকে আর একা বাড়ি ফিরতে দেয়নি। সুরেশদের বাড়িতেই কাটালাম রাতটুকু, তবে সেদিন আমার বা সুরেশের কারো ঘুম আসে নি। পড়ে শুনেছিলাম ভুত চতুর্দশীর রাতে নাকি এরকম ঘটনা ওদিকে হয়, ওই দিন নাকি আত্মারা জেগে ওঠে। কেউ কেউ তো অলক্ষ্মী পুজোও করে ওই রাতে।

গল্পটা এতদুর বলে নিয়ে রাহুল একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো। তারপর পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ধরিয়ে আকাশের দিকে ধোঁয়া ছাড়ল। আমি খুব উদগ্রীব হয়ে বললাম- "তারপর? তারপর কি হোল? লাইট খুলতে যাওনি আর মাতারানির মঠে?"

"আমি যাইনি, সুরেশ দিনের বেলায় গিয়ে নিয়ে এসেছিল।"

"ও কিছু দেখেছিল আর?"

"নাহ। আর কিছু দেখেনি। দেখলে আমাকে বলতো।"

"ধুর, এটা আবার ভুতের গল্প হোল? বললে তো ভুতের গল্প বলবে।"

"আরে বাবা যা দেখেছি তাই বললাম। আর ওটা ভুত নাও হতে পারে। শীতের শুরুতে গ্রামের দিকে খোলা জায়গায় এরকম ধোঁয়া টোয়া দেখা যায় বুঝলে।" রাহুলের কথা শুনে আমি মুখ গোমড়া করে চেয়ারে বসে রইলাম। আমার তখন প্রেগনেন্সির সাত মাস চলছে, ডাক্তারে বলেছে একটু আধটু পায়চারি করতে, একেবারে ঘরে না বসে থাকতে। সারাদিনে পায়চারির সুযোগ সময় হয়না বলে রাতে খাওয়াদাওয়ার পর ছাদে এসে আমি আর রাহুল একটু পায়চারি করি। রাহুল নীচ থেকে দুটো চেয়ার বয়ে নিয়ে আসে, হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গেলে একটু বসে নিই। এই চেয়ারে বসে বসেই আমার আজ হঠাৎ কি মনে হোল রাহুলকে বলে ফেলেছিলাম- "ভুত দেখেছো কোনদিন?" সেই সুত্রেই এই গল্প গুলতাপ্পি দিয়ে দিলো আমাকে। এবার রাহুল বলল- "তুমি চেয়ারে বোসো, আমি নীচে বাথরুম থেকে আসছি। আমি এলে তবে নীচে নামবে, চেয়ার নিয়ে তুমি আবার নামতে যেও না।" এই বলে রাহুল তরতরিয়ে নীচে নেমে গেলো। আমি ছাদের সিঁড়িতে বসে হাওয়া খাচ্ছিলাম। বাড়ির দক্ষিণ দিকে আদিপুর ষ্টেশনের আলো দেখা যাচ্ছে, পূর্ব দিকে ওমপ্লেক্স সিনেমার মাথায় 'সংকল্প' রেস্টুরেন্টের লাল নিয়ন বাতির আলো আকাশে জ্বল জ্বল করছিল। দূরে কোথাও একটা আতসবাজির শব্দ হোল, সেদিকে তাকিয়ে মনে হোল- আগামী কাল দিওয়ালী, তারমানে আজকের রাত তো ভুত চতুর্দশীর রাত। ভুত চতুর্দশী মনে হতেই মাতারানির মঠের সেই সাদা ধোঁয়ার ভুতটার কথা মনে পড়ে গেলো। আজকে রাতে নিশ্চয়ই রাস্তায় নেমেছে সেই সাদা পাগড়িওয়ালা গুজরাতি গোয়ালা লোকটা। এসব মনে হতেই কেমন গা ছমছম করে উঠলো আমার, এদিকে রাহুল ও আসছেনা। আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে ইতস্তত পায়চারি করতে শুরু করলাম, ভয় পাচ্ছি বুঝতে পেরেছি। মিনিট পাঁচেক পেরিয়ে গেলেও রাহুল আসছেনা দেখে ভাবলাম আমিই নীচে যাই, চেয়ার নাহয় পরে নিয়ে যাওয়া হবে। এদিকে সিঁড়িতে সাদা ভিট্রিফায়েড টাইলস বসানো, একটু অসাবধান হলেই দশ বারোটা সিঁড়ি গড়িয়ে নীচে পড়ব। ছাদ ছেড়ে নীচে নামবো বলে প্রথম সিঁড়িতে পা রেখেছি দেখি রাহুল উঠে এলো। এসেই আমাকে ধমক- "বললাম না, আমি না আসা অব্দি নীচে নামবে না। শিশির পড়ে সিঁড়িগুলো ভিজে আছে।" আমি বললাম- "ঘুম পাচ্ছে। তাই নীচে যাবো।" এই বলতেই দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখতেই আমার পা সিঁড়ির ধারে পড়ে পিছলে গেলো। ভাগ্যিস রাহুল এসেছিল, সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ধরে নিয়েছে। আমাকে বলল- "দেখলে তো, এখুনি কি কাণ্ডটাই না বাধাতে। রেলিং ধরে আসতে আসতে নেমে যাও, আমি চেয়ার দুটো নিয়ে আসছি।" আমি রেলিং ধরে নীচে নেমে এলাম। ঘরের ভেতরে এসে খাটে বসেছি সবে। দেখি রাহুল বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলো, এসেই বলছে- "আরে নেমে এলে যে তুমি? এদিকে বাথরুমের লাইটটা গড়বড় করছিল ওটাকে ঠিক করতে গিয়ে দেরি হয়ে গেলো।" আমি বললাম- "তুমি বাথরুমে ছিলে? তাহলে এখুনি যে ছাদে ছিল আমার সাথে সে কে? আমি সিঁড়িতে পিছলে গেছিলাম আমাকে ধরলে তো তুমি। তারপর...।" আমি আর কিছু বলতে পারলাম না, হাত পা থর থর করে কাঁপতে শুরু করেছে আমার। আমার কথা শুনে রাহুল দৌড়ে ছাদে গিয়ে দেখে কেউ নেই, চেয়ার দুটো একা পড়ে আছে।

(সমাপ্ত)

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.