Tykhe, Greek goddess of chance and fortune

ব্যস্ত রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো station । 47B এর একটা বাস। বাস থামার আগেই একটা ছেলে দৌড়ে নামল । পড়নে অফ হোয়াইট একটা শার্ট, কিন্তু টাগ ইন করা না আর তার সাথে ব্লু জিন্স। চুল প্রয়োজনের চেয়ে একটু বড় ।কানে হেড ফোন, মুখে স্মিত হাসি, বাইরের জগৎ কে খুব একটা কেয়ারও যেমন করে না, তেমন অহংকার মাখা মুখও নেই। গানের তালে এক প্রকার দৌড়েই পাতালে প্রবেশ করল ।

“শোভা বাজারের টিকিট একটা” ।

টিকিট নিয়ে নেমে আসার আগেই ট্রেন এসে গেছিল। প্রথমটা ভাবল না থাক, তারপর হঠাৎ গতি বাড়িয়ে কোন রকমে শেষ কামরায় উঠে পড়ল। ভিড়ে ঠাসা বিকেলের মেট্রো। ভাগ্য বসত এটা বাতানুকূল, যদিও এতো ভিড় সেটা থাকার প্রতি কতটা অনুকূল সেই নিয়ে তর্ক চলতেই পারে। একে একে একটা station পেরল। এইবার শোভাবাজার। ভিড় ঠেলে বেড়িয়ে এসে যেই কে সেই, কোন দিকে না তাকিয়ে এগিয়ে যেতে লাগল। সামনেই monjinis , আর তার পর লিকার শপ, একটা মৃদু গন্ধ নাকে আসে।কিন্তু সব কিছু হার মানিয়ে দেয় অটোর ভিড়। এক হাত রাস্তা পেরোতে তিন বার ভগবানকে স্মরণ করতে হয়। যাক সেটাও পার হল। এবার অপেক্ষা ফাঁকা অটোর। খুচরোর চিন্তাতো আছেই।

হঠাৎ পিছন থেকে টোকা, “ কিরে রনিত না ?”

একটি মেয়ে, উচ্চতা ৫ ফুট ২ কিম্বা ৩ ইঞ্চ। পড়নে ব্লু কালো ডোরা কাটা টি শার্ট, ব্লু জিন্স। জীবন্ত দুটি চোখ, একই সাথে বড্ড চঞ্ছল আবার রহস্যে মোড়া, কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলে সম্মোহন জালে জড়িয়ে ফেলে। চুল গুলো অতি নিপুন টানে আঁচড়ানো, তবুও একটি সরু ফিতের ন্যায় গালের ওপর এসে পড়েছে। গালের কোণ দিয়ে উঁকি দেওয়া শীতল জলবিন্দু গুলি যেন শীতল এবং নরম হবার ইঙ্গিত দেয়। আর ঠোঁটের নিচের বৃন্তের বাঁ দিকে ঘেঁষা কালো তিল!! এক কথায় যৌবন নিজের উপস্থতি বিশেষ ভাবে বোঝাচ্ছে।

একে হেড ফোন, তার ওপর অটোর শব্দ দূষণ, নাকি অন্য কোন কারন। একটা প্রেগন্যান্ট পস্‌। “ sorry but have we met before ?”

একসাথে দুটো আশ্চর্য মুখ খুব কম দেখা যায়, একটা মুখ কিছু অচেনাকে চিন্তে চেয়ে আশ্চর্য, আরেকটা মুখ চাপা অবিশ্বাসের বেগে আশ্চর্য।

“what do you mean?”

“না মানে আমি ঠিক আপনাকে চিনতে পারলাম না।”

মেয়েটার মুখে অবিশ্বাস তখন স্পষ্ট।

“ মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি, মজা করছিস ?”

“ না সত্যি বলছি, আপনাকে ঠিক চিনলাম, আপনি হয়ত ভুল করছেন। ”

একে অটোর জন্য লম্বা অপেক্ষা, তার ওপর পেট্রোল পাম্পের তীব্র একটা গন্ধ চারিপাশের জগতটাকে অস্বভাবিকতার যাবতীয় ছোঁয়া দিয়ে রাখে। তার মাঝে এরকম একটি মুখরোচক ঘটনা দু তিনজনের নজর কারল বটে। মেয়েটি অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল এবং বিস্ময় ভরা মুখে একবার ছেলেটির দিকে তাকিয়ে নিয়ে বলল - “ are you serious ?”

তারপর কি মনে করে, উত্তরের জন্য আর অপেক্ষা না করে সে অন্য দিকে মুখ ঘুড়িয়ে এগিয়ে গেল।

পিছন থেকে ছেলেটি এইবার ডেকে উঠল, - “ এই যে শুনছেন!”, গাড়ির আওয়াজের ভিড়ে সেটা কানে পৌঁছানোটা অস্বাভাবিক মনে হতে । সে একপ্রকার দৌড়ে মেয়েটির কাছে গিয়ে দাঁড়াল এবং বলল,

“আসলে আমার একটা অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল কয়েক মাস আগে।মাথার পিছনে চোট পাই। আগের বেশ কিছু স্মৃতির খুব কম কথা মনে আছে ।” নিজের অজান্তেই যেন হাত মাথার পিছনে একটা বিশেষ অংশে চলে গেল। যেন খুব চেনা একটা ব্যাথা, বহু দিন বহু ভাবে ভুগিয়েছে, হটাত আবার মনে পরলে যেমনটা হয় আর কি।“ মাথার পিছন দিকে রক্ত ক্ষরণ হয়, এবং কিছুটা ইন্টারনাল ব্লাড ক্লট করে যায়, তাই সামায়িক প্যারালিসিস হয়েছিল, সেখান থেকেই অনেকটা মেমরি লস হয়েছে। প্লিস কিছু মাইন্ড করবেন না। ”

ছেলেটির কথা মেয়েটির কাছে দিনে দুপুরে ডাকাতির মত শোনাল-

“ কি করে, কোথায়, কবে হয়েছে এসব? আর আপনি আপনি করা বন্ধ কর।” এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বেড়িয়ে এল।

“ আচ্ছা তুই বলছি দেন। আমরা যেতে যেতে কথা বলি ?”

“ হ্যাঁ চল।” চোখে মুখে একটা চাপা উত্তেজনা।

অটো, আহিরিটোলা দুটো।

অটো তে পিছনের সিটে একজন ছিল, ছেলেটি তাই ভিতরে বসল আর অবশ্যই মেয়েটি ধারে বসল। রাস্তার সেই চার পাঁচটা চোখ টেড়িয়ে দেখল।

“বল রে, কি করে হল এটা?”

“ জানিনারে, কিছু মনে নেই, আর আমাকে কেউ এ ব্যাপারে বলেও না। চোখ খোলার পর থেকে দুজন লোকজনকে প্রথমে সব সময় দেখছিলাম। কয়েক দিন যেতে চিনলাম popsy আর মা। বন্ধু দের তেমন কাউকে দেখে চিনলাম না। শুধু ব্যাথাটার আজও মনে রয়েছে। ”

“তুই এসব সত্যি বলছিস? মানে এত কিছু হল অথচ কিছুই জানতে পারলাম না?”

“ আচ্ছা আমরা কি খুব ভালো বন্ধু ছিলাম? মানে রেগুলার কথা হত?”

একটু হেসিটেসান, মিথ্যে এড়াবার প্রাণপণ চেষ্টা। “হ্যাঁ মানে আমরা ভালো বন্ধুই ছিলাম, I mean FB তে কথা হত, অনেক দিন আগে ।এখন তো তুই এফ বি তে নেই। আমরা একসাথে কোচিঙে এতেও পড়েছি, সেখান থেকেই চেনা। পুরনো বন্ধু ”

“না আসলে ভালো বন্ধু হলে তুই তো জানতেই পারতিস আমার খবর তাই না ? তোকে তো কখন দেখিনি। এই রে এতক্ষণ কথা বলছি। অথচ মনেই নেই, তোর নাম কি ?”

“ আমার নাম! রাই।”

“ আসলে কিছু মনে নেই তো, তাই যার সাথে দেখা হয় মুখ চেনা চেনা লাগে, ফোটো তুলে রাখি, নাম দিয়ে সেভ করে রাখি। একবার দুবার দেখতে দেখতে মনে থেকে যায়। wait a second , তুই রাই? ”

“ হ্যাঁ মানে আমিই রাই, কেন?” ,কৌতূহল তুঙ্গে।


bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.