আজ আবার বাড়ির মালিক ঘর ছেড়ে দিতে বললেন। এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। অসহায় বৃদ্ধা সবিতা দেবী বিছানায় শোয়া পক্ষাঘাতে পঙ্গু বাদল বাবুর শীর্ণ দেহটার দিকে তাকিয়ে চোখের জল মোছেন। আশেপাশে কোনো বাড়ির খবর নেই। আর সবিতা দেবীর পক্ষে এভাবে বাড়ি বদলানো প্রায় অসম্ভব।

একমাত্র মেয়ে শ্রেয়া বিদেশে থাকে। পাঁচ বছর আগে শেষ একবার এসেছিল। ওর বিয়ে দিতে গিয়েই ফ্ল্যাটটাও বিক্রি করে দিয়েছিলেন বাদল বাবু। বলতেন -"মেয়ে তো আর এদেশে ফিরবে না, আমরা আর কদিন? ভাড়া বাড়িতেই শেষ দিনকটা কেটে যাবে।"

গতবছর থেকে বিছানা নিয়েছেন উনি। চিকিৎসা করাতে গিয়ে অল্প যা জমা পুঁজি পুরোটাই শেষ প্রায় । এদিকে সুদের হার কমায় ওষুধ ও কিনতে পারেননি এমাসে। অল্পকটা টাকার পেনশিয়ান শেষ ভরসা।

অসহায় সবিতা দেবী বারান্দায় এসে দাঁড়ান। গত বার বাবা অসুস্থ জানতে পেরেও মেয়ে আসে নি। দশহাজার টাকা পাঠিয়ে বলেছিল নতুন বাড়ি কিনেছে। তাই এই মুহূর্তে আসা সম্ভব নয়, বেশি টাকাও দিতে পারবে না। জামাই ফোনেই খোঁজ নিয়েছিল। এই মেয়েকে পড়িয়ে মানুষ করে বিয়ে দিতেই বাদল বাবু সব জমানো টাকা শেষ করে ফেলেছিলেন। বাগানে ফুলে ফুলে সেজে ওঠা করবী গাছটার উপর দিয়ে এক ঝলক রোদ্দুর এসে পড়েছে সবিতা দেবীর গায়ে। করবী গাছটার দিকে তাকিয়ে একসময় বোটানির ছাত্রী সবিতা দেবির চোখ দুটো জ্বলে ওঠে।

*****

ওয়াস করে পেটের প্রায় পুরো বিষটাই বার করে ফেলেছিল শুভ্র। এখন দুজনেই সুস্থ। কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যে ক্লাবের ছেলেরা বৃদ্ধ বৃদ্ধাকে নিয়ে এসেছিল হাসপাতালে। নাম শুনে ও মুখ দেখে চমকে উঠেছিল শুভ্র। আজ সকালে রাউন্ডে যেতেই বৃদ্ধার অভিযোগ কেন তাদের বাঁচানো হল!!

শুভ্র হেসে বলে এটাই যে তার ধর্ম। বৃদ্ধ শুভ্রকে দেখে হঠাৎ নড়ে ওঠেন। কিছু বলতে চাইছেন। একটা হাত তুলে শুভ্রর দিকে ইশারা করে কিছু বলতে চেষ্টা করেন। কিন্তু পক্ষাঘাতে পঙ্গু বৃদ্ধের জড়ানো কথা শুভ্র বুঝতে পারে না। বাইরে বেরিয়ে আসে। একটা পরিচিত বৃদ্ধাশ্রমে ফোন করে দুটো সিটের ব্যবস্থা করতে হবে আপাতত। বাদল বাবু যে তাকে চিনতে পেরেছেন দেখে মনটা কেমন হয়ে গেলো।

একদিন শুধু দাস পদবী আর গরীব হওয়ার অপরাধে তার ভালবাসা স্বীকৃতি পায়নি। শ্রেয়ার বাবা বাড়ি বয়ে শুভ্রর মা কে অপমান করে গেছিলেন। শুভ্র তখন মেডিকেলের ছাত্র। খুব কষ্ট করে মা পড়াচ্ছিল। একবছরের মধ্যে এনআরআই পাত্র দেখে উনি শ্রেয়ার বিদেশে বিয়ে দিয়েছিলেন । শ্রেয়া একবার পালাতে চাইলেও মায়ের কথা ভেবে শুভ্র রাজি হয় নি সেদিন। চোখের জল মুছে বিয়ের পিড়িতে বসেছিল শ্রেয়া। আজ ওনাদের জীবন ফিরিয়ে দিতে পেরে শুভ্রর খুব ভালো লাগছে। মা এর সেদিনের অপমানের জবাব আজ ও দিতে পেরেছে। ফোনটা হাতে নিয়ে পরিচিত একটা বৃদ্ধাশ্রমে ফোন করে শুভ্র।

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.