কৃতজ্ঞতা


নাহ্ আজ আবার হলো! গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো বাবানের।

এই নিয়ে তিনদিন অফিস থেকে ফেরার পথে নির্জন রাস্তাটায় একটা বুড়ি বাবানের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে,একই জায়গা, একইভাবে।

বাইক নিয়ে ফেরে সে,

বুড়িটার শুন্য দৃষ্টিটায় গা টা শিরশিরিয়ে ওঠে বাবানের।

এই রাস্তাটা একদম নির্জন।

সারাদিনে কুড়িটা লোক আসে যায় কিনা সন্দেহ। আসলে এই রাস্তাটা দুকিলোমিটার জঙ্গলের মধ্যিখান দিয়ে চলেছে। এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে অনেকটা টাইম সেইফ।

লাইট আছে,ল্যাম্পপোস্ট এর দুরত্বের জন্য একটু আবছায়া মতো রাস্তাটার আলো। মনে হয় বুড়িটা কিছু বলতে চায়।


আজও সেই ছোট্ট গাছটার নিচে দেখল বুড়িটা দাঁড়িয়ে,বাইকটা স্ট্যান্ড করে মাথাটা তুলে দেখে কেউ কোথাও নেই।

আজ সত্যিই ভয় লাগছিলো।তবে একটা পচা গন্ধ নাকে আসতেই গাছটার দিকে এগিয়ে গেলো সে।

দেখলো গাছটার পিছনদিকে একটা কিছু পড়ে আছে,মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে দেখে একটা লাশ, পচাগলা অবস্থায়।

পুলিশকে ফোন করলো বাবান,পুলিশ বডিটা তুলে নিয়ে গেলো।


সকালে থানা থেকে ফোন এসেছিলো বাবানের কাছে,গিয়েছিলো সে থানায়।


রবিবার ছুটির দিন তাই অফিস যাওয়ার তাড়া নেই। ডিউটি অফিসার জানালেন,

-বেওয়ারিশ লাশ এটা।অসুস্থতায় মৃত্যু..তিনদিন আগে সকালে..বয়স্কা মহিলার বডি এটা।

লাশটার যা অবস্থা আজই শেষকৃত্য করতে হবে,শহরের প্রতিটা পুলিশ স্টেশনে খোঁজ নেওয়া হয়েছে,মিসিং নেই কেউ।

এছাড়া হসপিটাল,রেলওয়ে স্টেশনেও খোঁজ নিয়েছি আমরা। আশ্চর্যভাবে সেখানকারও কেউ মিসিং নেই।

যাইহোক, আপনি কটা জায়গায় সই করে দিন তারপর আপনি ফ্রি।


বাবান বললো,

- স্যার, আমি ওনার শেষকৃত্যে কি যেতে পারি! আসলে আজ ছুটি তাই অফিসেরও চাপ নেই...


- হ্যাঁ হ্যাঁ! নিশ্চই,


শশ্মান থেকে ফেরার পথে কিছু মার্কেটিং করারও ছিলো,তাই নিয়ে ফিরতে ফিরতে বাবানের বেশ রাত হয়ে গেছিলো।

জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে ফেরার পথে দূর থেকে দেখল সেই বুড়িটা দাঁড়িয়ে গাছটার নিচে, একটু কাছে যেতে দেখলো মুখে মৃদু হাসি..ধীর পায়ে তিনি জঙ্গলের ভিতর দিকে হাঁটতে হাঁটতে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।


আজ আর ভয় লাগলোনা বাবানের। মনে হলো, তিনি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে চলে গেলেন।

হঠাৎ করে চোখে জল এসে চোখটা ঝাপসা হয়ে গেলো বাবানের........

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.