মেরে রেপ হুয়া থা।

লেখিকা

- প্রিয়া গর্গ।

অনুবাদ করছেন ---- লোপামুদ্রা ঝা

কলিং বেল বেজে চলেছে।রাজীব ওরফে রাজ্জু

ঘরে বসে মন দিয়ে অঙ্ক করে চলেছে।তার মা মিসেস বর্মা বলেন" রাজ্জু বেটা,দেখ তো কে এলো,ঘণ্টি বাজছে,একটু খুলে দে,আমার দুই হাত জোড়া।"

" হ্যাঁ, মা দেখছি।" বলে রাজীব। দরজা খুলেই শিবানী ম্যাডামকে দেখে অবাক হয় সে।বলে , "আন্টি আপনি?"কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে,চোখ পাকিয়ে বলে শিবানী, " ও! রাজীব,ডোন্ট সে মি আন্টি,আই এম নট টু ওল্ড।আর তুমিও দুধের শিশু নও,দুদিন পর উচ্চমাধ্যমিক দেবে।মায়ের কোলের ছেলেটি হয়ে আর কতদিন কাটাবে বাছা? " তীব্র কটাক্ষ করে,চোখের এক অদ্ভুত ভঙ্গিমা করে রাজীবের গাল টিপে দেয় সে।মাথার চুলে বিলি কেটে, কাঁধ ঝাঁকিয়ে কিছু যেন গোপন ইশারা করতে চাই সে।ইতিমধ্যে,কাপড়ে হাত মুছতে মুছতে মিসেস বর্মা ঘরে ঢোকেন।তিনি বলেন," কে মা তুমি,আগে কখনো দেখেছি বলে মনে পড়ছে না তো।রাজীবের সঙ্গে কোনো দরকার আছে বুঝি?"

শিবানী ঢিপ করে মিসেস বর্মার পায়ে প্রণাম করে বলে," আমাকে আপনি চিনবেন না মাসীমা,আমি রাজীবের স্কুলে ইংরেজির শিক্ষিকা।আপনাদের বাড়ির পাশের বাড়িটাতেই আমি ভাড়া থাকি।রাজীবের মুখে আপনার কথা অনেক শুনেছি,আজ রবিবার,ছুটির দিন তাই একটু আলাপ করতে এলাম। তাছাড়া আমার একটু দরকারও ছিল আপনার সঙ্গে।মানে আমার মা বাবার একটা ছবি টাঙাবো,তাই একটা হাতুড়ি যদি পেতাম তাহলে খুব ভালো ' হ'ত।এখানে রাজীব ছাড়া আর তো কাউকে চিনি না তাই আর কি?তাছাড়া রাজীবের মুখে আপনার কথা এত শুনেছি যে আপনার সঙ্গে আলাপ করার লোভ সামলাতে পারলাম না। আপনি কিছু মনে করলেন না তো?"

মিসেস বর্মা খুব সহজ সরল মানুষ,তিনি বলেন,

" এ মা সে কি কথা কিছু মনে করবো কেন? তুমি আমার মেয়ের মত,তুমি একটু ব'স।গরম গরম ফুলকপির কচুরি ভেজেছি আর ডিমের ওমলেট,আজ প্রথম আমার বাড়িতে এলে,একটু মুখে দাও।" তিনি রাজীবকে বলেন, " রাজ্জু বেটা, যা তো ম্যাডামের জন্য উপর থেকে হাতুড়ি টা এনে দে তো।" এই কথা বলে তিনি কিচেন থেকে এক প্লেটে করে কচুরি আর ডিমের ওমলেট নিয়ে এসে শিবানীর সামনে এনে রেখে বলেন," এবার খেতে শুরু ক'র তো মা।ততোক্ষণ আমি তোমার সাথে গল্প করি।জানো মা,এই রাজ্জু তখন খুব ছোট,উনি হঠাৎ হার্ট

আটাক হয়ে মারা যান।মা,বাবা দুজনের ভালোবাসা দিয়ে ঐ দুধের শিশুটাকে আমি বুকে আগলে মানুষ করেছি।ও আমাকে ভগবানের মত মানে,আমার কথাই ওর কাছে শেষ কথা।আমি একটা কথা বলবো ভাবছিলাম,যদি কিছু মনে না ক'র---"।

" না,না মাসীমা, আপনি বলুন না,আমি কিচ্ছু মনে করব না।আপনি আমাকে নিজের মেয়ের মত বললেন, তাহলে এত কিন্তু কিন্তু করছেন কেন?"

মিসেস বর্মা বলেন," আসলে আমার রাজ্জুটা সায়েন্সের সাবজেক্টগুলোতে ভালোই নম্বর পায়,কিন্তু ইংরেজিতে একটু কাঁচা,তাই ভাবছিলাম,তুমি যদি ওকে ইংরেজিটা একটু দেখিয়ে দিতে। তাহলে আমি খুব উপকৃত হতাম।"

" এ মা,মাসীমা,এ আপনি কি বলছেন,আমি তো পড়াতে ভালোবাসি, আপনার যখন খুশি রাজ্জুকে আমার কাছে পাঠিয়ে দেবেন।আমি নিশ্চয় পড়িয়ে দিবো, আজ থেকে ওকে ইংরেজি শেখানোর দায়িত্ব আমার।"

মনে মনে আহ্লাদে আটখানা হচ্ছিল সে,এই ব্যাপারটা যে এত সহজে ঘটে যাবে তা সে কল্পনাই করতে পারছিলো না।রাজীবকে এত কাছে পাবে,এটা ভাবতেই রোমাঞ্চ অনুভব করে সে।

রাজীব হাতে হাতুড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিল," এসব কি বলছেন উনি,আমি কখন কথা বললাম উনার সঙ্গে? উনি এসব কথা বলছেন কেন? কি চান উনি?"

যাহোক, মায়ের কথায় ম্যাডামের হাতে হাতুড়িটা দিলো রাজীব।

শিবানী বলে," এবার তাহলে আসি মাসীমা"। রাজীবের থুতনি তে হাত দিয়ে বলে শিবানী," কাল,থেকে চলে যেও , কেমন।"

রাজীবের কিন্তু এই ম্যাডামকে একটুও পছন্দ নয়। এত উগ্র সাজ,কথা বলার ধরণ কিছুই তার পছন্দ নয়।কিন্তু মায়ের আদেশ অমান্য করার সাধ্য নেই রাজ্জুর। দু' চার দিন টাল বাহানা করে কাটালেও শেষ পর্যন্ত রাজীবকে রাজি হতেই হয়।সেদিন বুধবার, ব্যাগ নিয়ে ম্যাডামের বাড়িতে গিয়ে কলিং বেল বাজায় রাজু।

শিবানী রাজীবকে দেখেই আনন্দে লাফিয়ে ওঠে , বলে-- " হোয়াট এ প্লেজান্ট সারপ্রাইজ,রাজ্জু তুমি,আমি তো মনে করেছিলাম,তুমি আর এলেই না,যাক,এসো ভিতরে এসে ব'স। " রাজীবকে নিজের শোবার ঘরে খাটে নিয়ে গিয়ে বসতে বলে সে।রাজীব ইতস্তত করলে কাঁধে হাত দিয়ে বসিয়ে দেয় তাকে।রাজীব বই বের করে।শিবানীর চোখে তখন শিকারির শিকার ধরতে পারার আনন্দের চাউনি। অবশ্য রাজীব তা দেখতে পায় না,কারণ সে মাথা নিচু করে বই খাতা বের করতে ব্যস্ত।

শিবানী ধপ করে রাজীবের গা ঘেঁষে বসে পড়ে।রাজীব চমকে উঠে কিছুটা পিছিয়ে বসে।সাথে সাথে শিবানীও

আবার উঠে রাজীবের এতটাই কাছ ঘেঁষে বসে যেন ঘাড়ে নিঃশ্বাস পড়ে তার।সেই সঙ্গে পড়াতেও থাকে সে।একটু অস্বস্তি নিয়েই গুটিসুটি মেরে বসে থাকে রাজীব।পড়া শেষ করে বাড়ি ফিরে যায় সে।পড়তে খুব ভালো লাগলেও ম্যাডামের অতো গা ঘেঁষে বসাটা খচখচ করতে থাকে রাজীবের মনে।

পাঠদান ও পাঠগ্রহণ পর্ব ভালোই চলছিলো।

প্রোস, পোয়েট্রি, ড্রামা সবকিছুই যেন জলের মতো পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিতেন ম্যাডাম।বাকি রইলো কাছ ঘেঁষে বসার ব্যাপারটা।তা রাজীব নিজের মনকে প্রবোধ দেয়,হয়তো পড়ানোর জন্যই কাছে বসতে চান উনি।

সেদিন ম্যাডাম সন্ধ্যের সময় পড়তে ডেকেছিলেন।কি যেন একটা কাজ ছিল উনার সকালবেলা। তা,সন্ধ্যের সময়

বই খাতা নিয়ে হাজির রাজীব ম্যাডামের বাড়িতে।ওকে বসতে বলে শিবানী কিছুক্ষণের জন্য কিচেনে যায়।রাজীব মন দিয়ে লিখে চলেছে।আজ যেন একটু বেশিই সেজেছে শিবানী।কিছুক্ষণের মধ্যেই এক প্লেট চিকেন পাকোড়া ও মোগলাই নিয়ে রাজীবের মুখের সামনে রাখে। রাজীব অবাক হয়ে আমতাআমতা করতে থাকলে শিবানী এক ধমকে রাজীবকে খেতে বাধ্য করে।খাওয়া হয়ে গেলে রাজীব হাত ধোবার জন্য বেসিনের দিকে এগিয়ে যায় হঠাৎ শিবানী পিছন দিক থেকে জাপটে ধরে তাকে। নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ করার চেষ্টা করে। প্রস্তুত ছিলোনা একেবারেই রাজীব।আচমকা এই আক্রমণ তাকে বিহ্বল করে দেয় এক লহমার জন্য।কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে এক ধাক্কাতে ঠেলে দিয়ে নিজের ব্যাগ নিয়ে ছুটে বাড়ি চলে আসে রাজীব।বাড়িতে ঢুকেই সমস্ত বমি করে ফেলে সে।মিসেস বর্মা দৌড়ে এসে ছেলেকে বলেন," কি,রে শরীর খারাপ করছে নাকি?কি হ'ল

হঠাৎ? " রাজীব বলে," না মা,ম্যাডামের বাড়িতে মোগলাই খেয়ে একটু শরীর খারাপ লাগছে।"কিছুতেই আসল কথাটা বলতে পারে না সে,এক রাশ লজ্জা যেন ঘিরে ধরে তাকে।

মিসেস বর্মা ছেলের শুশ্রূষা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

পরের দিন থেকে আর কিছুতেই পড়তে যেতে রাজি করানো যায় না রাজীবকে।বাধ্য হয়েই মিসেস বর্মা রাজীবের অনুপস্থিতে শিবানীকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করেন," মা, কি হয়েছে বলতো ? কেন রাজ্জু কিছুতেই পড়তে যেতে চাইছে না তোমার কাছে?" মিসেস বর্মার ফোন পেয়ে প্রথমে একটু ঘাবড়েই গিয়েছিল শিবানী।ভেবেছিল,সবকিছু বলেই দিল বোধহয়।কিন্তু না,এতক্ষণ পরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সে।তাই বলে," মাসীমা,আসলে দোষ টা আমারই,পড়া না পারার কারণে আমি ওকে একটু বেশিই বকাবকি করে ফেলেছিলাম।আমারই বুঝিয়ে বলা উচিৎ ছিল।সরি মাসীমা,আপনি ওকে একটু বুঝিয়ে পাঠিয়ে দিবেন।" বলেই ফোনটা কেটে দেয় সে।


কয়েকদিন পর ছেলেকে অনেক বুঝিয়ে শিবানীর বাড়িতে পড়তে যেতে রাজি করাতে পারেন মিসেস বর্মা।আসলে মায়ের কথা ফেলতে পারেনা রাজীব।এক বিষম। অস্বস্তি নিয়ে ম্যাডামের বাড়ির দিকে পা বাড়ায় সে।

কলিং বেল বাজতেই শিবানী ধীর পায়ে দরজা খুলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।মাথা নিচু করেই রাজীবকে বলে " ভিতরে এসো, তোমার সাথে কিছু কথা আছে।" রাজীব ভিতরে এসে বসে।শিবানী বলতে শুরু করে," রাজীব,সেদিন যে অন্যায় আমি করেছি,তার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। আর দ্বিতীয়বার এ ভুল হবেনা কথা দিচ্ছি তোমাকে।তুমি শুধু আমাকে একটা কথা দাও,তুমি আমার বন্ধু হও।আজ থেকে তুমি আর আমি বন্ধু হ'ব।তুমি আমাকে ম্যাডাম নয়, শিবানী বলে ডাকবে।ঠিক আছে? আমি আবার বলছি আমি সত্যিই দুঃখিত।" রাজীব কিছুটা সহজ হয় এবার।মুখ তুলে বলে," ঠিক আছে।" মনে মনে বলে আমি কিন্তু আপনাকে কিছুতেই সবার সামনে ম্যাডাম ছাড়া অন্য কিছু বলতে পারবো না।সেদিন নির্বিঘ্নেই পড়া হয়ে যায়।

শিকারি নেকড়ের মতো ওৎ পেতে থাকে শিবানী।সময়ের অপেক্ষা,ঝোপ বুঝেই কোপ টা মারার জন্য ধৈর্য রাখতে হবে।তাই খুব শান্ত থাকে সে।

সাতদিন পরের ঘটনা। রাজীব লিখে চলেছে আপন মনে।ধীর পায়ে এসে দরজাটা বন্ধ করে দেয় শিবানী।রাজীব ভয় পেয়ে খাটের একপাশে নিজেকে গুটিয়ে নেয় সে।বলে," না ম্যাডাম,না, এটা ঠিক নয়।দোহাই ম্যাডাম,আমাকে ছেড়ে দিন।আমাকে যেতে দিন।আপনি বলেছিলেন যে আমরা বন্ধু,আপনি আমার সঙ্গে এমন করতে পারেন না।" শিবানী হিংস্র চোখে রাজীবের দিকে তাকিয়ে বলে," আজ তোমার আমার মিলন কেউ রুখতে পারবে না।"আস্তে আস্তে রাজীবের দিকে এগিয়ে যায় সে।আচমকা তাকে ধরে বিছানায় ফেলে তাকে বিবস্ত্র করতে উদ্যত হয় সে। ঠিক এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠে। চমকে রাজীবকে ছেড়ে দিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক অবস্থাতে এনে দরজা খুলে দেয় সে।

রাজীব ঝট করে নিজের জামার বোতাম ঠিক করে দৌড়ে খোলা দরজা দিয়ে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে যায়।

লজ্জায়,ঘেন্নায়, বাড়ি না গিয়ে নদীর ধারে গিয়ে বসে থাকে সে।মাকে বলবে? না, একথা সে নিজের মুখে কিছুতেই মাকে বলতে পারবে না।তাছাড়া মা যদি বিশ্বাস না করে তার কথা।সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে সময় বয়ে চলে।

ইতিমধ্যে শিবানী ভয় পেয়ে মিসেসে বর্মার কাছে আগেভাগে গিয়ে উপস্থিত হয়।মিসেস বর্মা একটু আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করেন," কি ব্যাপার, তোমার ছাত্রটি কোথায়,তোমার কাছেই তো পড়তে গিয়েছিল। "

শিবানী বলে, " মাসীমা,আজ রাজীব আমার সঙ্গে যা করেছে,তারপরে আমার পক্ষে আর ওকে পড়ানো সম্ভবপর নয়।জানি,বয়সটা খারাপ,তাই বলে,এতদূর! " বলেই কুম্ভীরাশ্রু বর্ষণ শুরু করে শিবানী।মিসেস বর্মা বলেন," কি ব্যাপার বলতো মা,পরিষ্কার করে খুলে না বললে আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।রাজ্জুতো কোনো খারাপ কাজ করার ছেলে নয়।কি হয়েছে আমায় তুমি খুলে বলবে একটু?"

" কি করে সব কিছু খুলে বলি বলুন তো মাসীমা, আপনার ছেলে আমাকে রেপ করতে গিয়েছিলো, একথা নিজের মুখে বলতে আমি যে মরমে মরে যাচ্ছি।" শিবানী কান্না ভেজা গলায় বলে।ধপ করে সোফাতে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন মিসেস বর্মা।তিনি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারেন না যে তার ছেলে রাজীব এমন কাজ করতে পারে।কিন্তু মেয়ের মত মেয়েটা জলভরা চোখ নিয়ে এত বড় মিথ্যাপবাদ দিচ্ছে তার ছেলের নামে তাই বা কি করে সম্ভব? ইতিমধ্যে নিজের মনকে কোনো রকমে শান্ত করে বাড়ি ফিরে আসে রাজীব।কিন্তু বাড়ি ফিরেই ম্যাডামকে বসে থাকতে দেখে চমকে ওঠে রাজীব।এত বড় অন্যায় করেও কি করে তিনি তাদের বাড়িতে এলেন তা সে কিছুতেই বুঝতে পারে না।তার চমকে যাবার কিন্তু অন্য অর্থ করেন তার মা মিসেস বর্মা।তিনি মনে করেন শিবানীকে দেখে তার ছেলে চমকে উঠলো কেন? নিশ্চয় কোনো অন্যায় সে করেছে।তাই ছেলের গালে সপাটে এক থাপ্পড় কষিয়ে দেন তিনি।রাজীব হতভম্ব হয় মায়ের আচরণে।কারণ এর আগে কোনোদিন তার মা তার গায়ে হাত

তুলেন নি।সে বলে," মা আমি কিছু করিনি,বরঞ্চ উনিই------

কথা শেষ হয় না,ঠাস করে আরও একটি থাপ্পড়

কষিয়ে দেন মিসেস বর্মা। তিনি বলেন,"ছিঃরাজ্জু,ছিঃ, এই কাজ করলি তুই! এই দিন দেখার জন্য তোকে মানুষ করেছিলাম এত কষ্ট করে আমি?" এই বলে তিনি কাঁদতে থাকেন।শিবানীও ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।তার কার্যসিদ্ধি হয়ে গেছে।

এরপর থেকে শিবানীর সাথে মিসেস বর্মা বা রাজীব কেউ আর কোনো যোগাযোগ রাখে না।স্কুলে ক্লাস নিতে গিয়ে যতটুকু দেখা হয় তার চেয়ে বেশি কোনো সম্পর্ক আর নেই তাদের মধ্যে।মায়ের সঙ্গেও ভালো করে কথা হয় না রাজীবের।মা তাকে অবিশ্বাস করে বসে আছেন,এটাই কাঁটার মতো বিঁধতে থাকে রাজীবের বুকে।

একদিন ক্লাসের পর শিবানী ম্যাডামের সাথে দেখা করে রাজীব। বলে," ম্যাডাম আজ সন্ধ্যের সময় একবার আসবেন আমাদের বাড়িতে।মা তখন মন্দিরে যাবেন পূজা দিতে।খুব দরকার আছে আপনার সাথে।" শিবানীর মন আনন্দে লাফিয়ে উঠে। আরেকবার সুযোগ পাওয়া যাবে।এবার কার্যসিদ্ধি করাতে চেষ্টার একটুও ফাঁক রাখবে না সে।বলে," ঠিক আছে,যাবো।" বাইরে থেকে তার মনের অবস্থার আঁচ করতে পারবে না কেউ।

সন্ধ্যের সময় পূজার থালা হাতে মিসেস বর্মাকে মন্দিরের দিকে যেতে দেখেই শিবানী রাজীবের ঘরে আসে।রাজীব ল্যাপটপে কি কাজ করছিল। শিবানী আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে ঘরে ঢুকে।দরজাটা রাজীব ইচ্ছে করেই খোলা রেখেছিল।ত্রস্তে নিজেকে বসনহীন করতে সচেষ্ট হয় শিবানী, সাথে জোর করে রাজীবকেও বিছানাতে ঠেলে ফেলে নিবিড় আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়।মিসেস বর্মা পূজার ঘট নিয়ে যেতে ভুলে গিয়েছিলেন।এমনিতেই তিনি আজকাল খুব অন্যমনস্ক থাকেন।তাই তিনি আবার নিজের ঘরে ফিরে আসেন।দরজা খোলা দেখে " রাজ্জু,রাজ্জু" বলে ডাকতে ডাকতে ঘরে ঢুকেন।আওয়াজটা শিবানীর কানে যাওয়া মাত্র শিবানী ঝট করে ডিগবাজি খাওয়ার ভঙ্গীতে নিজে নীচে ও রাজীবকে তার উপরে এনে ফেলে।মিসেস বর্মা ঘরে ঢুকে তাদের দুজনকে ঐ অবস্থায় দেখে রাজীবকে টেনে তুলে পাগলের মত মারতে থাকেন।শিবানী ইনিয়ে বিনিয়ে রাজীবের নামে যা খুশি তাই বলে যায়।অবশেষে কাঁদতে কাঁদতে( অবশ্যই ন্যাকা কান্না) বেরিয়ে যায়।মিসেস বর্মা ছেলেকে ছেড়ে দিয়ে বলেন "এর চেয়ে আমার মরণ ভালো ছিল।" ছেলে মাকে বলে," মা তুমি আমাকে ভুল বুঝছো।ম্যাডাম আমাকে এই নিয়ে দুবার রেপ করার চেষ্টা করেছে।" মিসেস বর্মা বলেন," হায় ভগবান,ছেলেটার মাথাটাও কি খারাপ হয়ে গেল! ওরে বোকা,রেপ হয় মেয়েদের,ছেলেদের নয়।তোর মত ছেলে থাকার চেয়ে না থাকায় ভালো।" রাজীব ছলছল চোখে শুধু একবার বলে মা!" একথা বলেই নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় সে।মিসেস বর্মাও রাগে,দুঃখে

চুপ করে বসে থাকেন সোফায়।

কিন্তু প্রায় আধঘন্টা হয়ে যাওয়ার পরেও রাজীব দরজা নাক খুললে ভয় ঢুকে যায় উনার মনে।দরজাতে ধাক্কা মারতে থাকেন তিনি, সাথে রাজ্জু,রাজ্জু করে ডাকতেও থাকেন।কিন্তু ভিতর থেকে কোনো সারা শব্দ পাওয়া যায় না।অবশেষে পাড়াপড়শির সাহায্যে দরজা ভেঙে দেখেন রাজীব ফ্যানে ফাঁসি লাগিয়ে ঝুলছে।সে আর এই পৃথিবীতে নেই। শেষকৃত্য সম্পন্ন হলে বড্ড একা হয়ে যান মিসেস বর্মা।

কিছুদিন পর রাজ্জুর ঘরে ঢুকেন।কি মনে করে ল্যাপটপ খোলা দেখে একটু আশ্চর্য হন তিনি।একটু ঘাটাঘাটি করতেই বিছানার তলা থেকে একটা সি,ডি ও রাজীবের হাতের লেখা চিঠি পান তিনি।সিডিটিকে তিনি ল্যাপটপে লাগিয়ে দেখতে থাকেন।আস্তে আস্তে সবকিছুই পরিষ্কার হয়ে যায় তার কাছে।

এবার তিনি চিঠিটা পড়তে শুরু করেন।চিঠিটা নিম্নরূপ

মা তুমিও তোমার ছেলেকে ভুল বুঝলে।আমি নির্দোষ মা।আমি কিছু করিনি।তোমার মনে আছে,আমার বয়স তখন তেরো বা চৌদ্দ হবে।একদিন খবরের কাগজে রেপ কথাটা দেখে মানে জিজ্ঞাসা করাতে তুমি আমায় বলেছিলে,তার মানে কারো জোর করে বলাৎকার করা।তখন তুমি আমায় বলনি যে,রেপ শুধু মেয়েদের নয়, ছেলেদেরও হয়।আমি তার জাজ্বল্যমান প্রমাণ।আমাকে রেপ করা হয়েছে মা।মৃত্যুর সময় আমি তোমাকে মিথ্যে কথা লিখছি না মা।তুমি বিশ্বাস ক'র,হয়তো তুমি বিশ্বাস করলে আমার আত্মা শান্তি পাবে।"

চিঠি পড়ে আকুল কান্নায় ভেঙে পড়েন মিসেস বর্মা।


bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.