নীলিমা শর্মার “লাইফলাইন” অবলম্বনেঃ


এত ব্যস্ত যে আমার জন্য কোণ সময় নেই বাবুর,নিজের মনে বিড়বিড় করতে করতে দুমদাম পা ফেলে নিমিশা ফোন টা ছুড়ে বিছানায় ফেলে দিল।কোন কথায় কান দেয় না,চোখ ফোণের দিকে আর হাঁ হু করে যাচ্ছে।সুনীল এক মাল্টিন্যাশানাল কম্পানি তে কাজ করে।দায়িত্ব প্রচু্র কিন্ত সেটা কে বোঝায় নিম্মি কে।ছেলেরা যে কতো চাপে থাকে সেটা মেয়েরা কোনদি্ন বোঝে না।বিয়ে সতেরো বছর পর দুজনের ই চুলে পাক ধরেছে।সব দায়িত্ব পালন করতে করতে দুজনেই বুড়ো হয়ে গেছে।সুনীল খুব ছোট জায়গা থেকে পরিশ্রম করে আজ এখানে এসেছে।দুই ছেলে,একজন চোদ্দ আর একজন ষোল।দুজনেই পড়াশো্না তে ভালো।মা বাবা এখনো জীবিত।

ছেলেরা বড় হয়ে যাওয়া তে নিম্মি র হাতে অফুরন্ত সময়।কিছুদিনpainting করেছিল শখ করে,কিন্ত তাও ভালো লাগলো না।নিম্মি এখন একটু খিটখিটে হয়ে গেছে।আগে স্কুল থেকে বাচ্চারা ফিরলে মা এর সাথে গল্প করতো কিন্ত এখন মা এর থেকে দু্রে দূরে থাকে ভয়ে পাছে মা রেগে যায় কখন কি কারনে।সুনীল ও অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকে।মেয়েরা এই বয়স টাতে ভীষণ একা হয়ে যায় বিশেষ করে যাদের বাইরের কোণ নেশা ণেই।বিয়ের পরপর নিম্মী খূব চঞ্চল ছিল,অল্প তেই খুশী হয়ে যেত।তখণ অত পয়সা ও ছিল না আর জামাকাপড় ও ছিল না কিন্ত নিম্মি কে দেখে কখোনো বোঝা যেত না,সবসময় প্রানবন্ত,খুশি,আর এখন যখন কোনকিছু্র অভাব নেই তখন নিম্মি খুশি নয়,কোথাও বেরোয় না,সবকিছুতেই নাখুশ।

সকা্লের ঘটনা মনে করে সুনীলের দুঃখ হলো,এত পরিশ্রম করে তো ও নিম্মি আর বাচ্চাদের জন্য, নয়তো সুনীলেরও মনে হয় নিম্মির সাথে সময় কাটাতে,বেড়াতে।মেয়েদের মন টাই সবাই বোঝে কিন্তু ছেলেরাও যে মনে মনে কাঁদে সেটা কেউ বোঝে না।ভাবতে ভাবতে সুনীল উদাস হয়ে গেল,নিম্মি যদি একটু বুঝতো এই ভাবতে ভাবতে সুণীল হাতের কাজ সারতে লাগল।নিম্মিও রান্নাঘরে কাজ সারছিল আর ভাবছিল যে সকা্লে ও একটু বেশী ই রেগে গেছিল,বিয়ের এতদিন পর ও কেন ও সুনীলের সঙ্গ পাওয়ার জন্য এত আগ্রহী।কাজ সেরে নিম্মি গো্লাপী রঙের সালো্যার কামিজ পরলো আর সুনীলের বাড়ী ফেরার অপেক্ষা করতে লাগল।সুনীল বাড়ি যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিল বস এর ফোন এল যে এক মাসের জন্য উত্তরাখন্ড যেতে হবে ওখানে নতু্ন অফিস সেট আপ করতে,তারজন্য আলাদা টাকাও পাওয়া জাবে।আর যেহেতু ১০-৫ টা ডিউটি তাই সময় পাওয়া যাবে অনেক।শুনে নিম্মির কথাই আগে মনে পড়ল।নিম্মি আবার রেগে যাবে এটা শুনে।

এই ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফেরার জন্য গাড়ী তে উঠল।মাঝখানে গাড়ী থামিয়ে নিম্মির পছন্দের ফুলের মালা কিনে ব্যাগে ভরে নিল।ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে লুচি আলুর দম এর গন্ধ এল নাকে,বুঝলো নিম্মির রাগ পড়ে গেছে,শুরু থেকেই নিম্মি সামনে থেকে সরি বলে না,সুণীলের পছন্দের খাবার বানায়।খাওয়ার টেবিলে মা বললো যে নাতি দের নিয়ে গরমের ছুটিতে দেশের বাড়িতে যাবে,বাচ্চারা তো খুব খুশি,কিন্ত নিম্মি রেগে দুমদাম পা ফেলে রান্নাঘরে চলে গেল।কাজ সেরে ঘরে এসে দেখলো ঘরের লাইট নেভানো আর পুরো ঘর ফুলের গন্ধে মো মো করছে।দেখে রাগও হল আবার খুশিও হল ফুলের গন্ধ পেয়ে।

নিম্মি বাথরুমের লাইট জ্বালালো আর দেখলো বাথরুমের আয়নায় সুনীল লিপস্টিক দিয়ে লিখে রেখেছে সরি,হাসি পেয়ে গেল,বিয়ের পরপর এর দিনগুলো্র কথা মনে পড়ে গেল,এই ভাবেই সরি বলতো সুনীল।হাসতে হাসতে ঘরে এসে দেখল বিছানায় ফুলের মালা,একটা লাল গোলাপ আর একটা চিঠি। চিঠিতে লেখা এক মাসের জন্য উত্তরাখণ্ড যেতে হবে।নিম্মি ভাবল এত খরচ করে যাবে না।মনে পড়্ল কত শখ ছিল পাহাড়ে হনিমুন করতে যাওয়ার কিন্ত তখন পয়সা ছিল না।পিছন থেকে সুনীল জড়িয়ে ধরে বলল্ ‘সারপ্রইজ টা কেমন লাগল?সব আমার প্ল্যান,বাচ্চাদের মা এর সাথে পাঠিয়ে তুমি আর আমি হনিমুনে যাব।অফিস পাঠাচ্ছে তাই সব খরচ অফিসে্র’। নিম্মি তো দারুন খুশি।পাহাড়ের স্বপ্ন দেখতে দেখতে সুনীল কে জড়িয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ল।

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.