বৃদ্ধা বৃদ্ধাশ্রম থেকে

এক ৭০ বছরের বৃদ্ধা বৃদ্ধাশ্রম থেকে তার ছোট্ট নাতনি কে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখেছেন

শ্রী শ্রী দুর্গা স্বহায়,

কল্যাণীয়েষু ,

স্নেহের তিন্নি(তন্নিষা) দিদিভাই প্রথমেই তোকে জানাই আমার প্রানভরা ভালোবাসা ও অনেক আশীর্বাদ। কেমন আছিস দিদিভাই ? আশা করি ভালোই আছিস। বহুদিন তোকে দেখিনি, তোকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে। সেই একবছর আগে তোকে ছেড়ে চলে এসেছি, তখন তুই ক্লাস থ্রি তে, এবার নিশ্চয় ভালো রেজাল্ট করে ক্লাস ফোরে উঠেছিস। তোর জন্য আশায় দিন কাটে আমার, হয়তো কোন একদিন দেখা হবে তোর সাথে। সেই থেকেই তো প্রতি মাসে একটা করে চিঠি লিখি তোকে কিন্তু পোস্ট করি না, নিজের কাছেই রেখে দেই। কারণ আমি জানি তোর বাবা মা আমাকে আর পছন্দ করে না তাই আমার লেখা চিঠি ওরা তোকে পড়তেও দেবে না।

তোর বাবা মাকে আমি চিঠি লিখতে পারিনা, ঘৃণা করে, আত্মসম্মানে বাধে। আমার মতো সব বৃদ্ধা মায়েদের বোধয় এরকমই পরিস্থিতি হয়। শেষ বয়েসে একটাই ঠিকানা তাদের “বৃদ্ধাশ্রম”। তোর বাবা মাও তো সেই ঠিকানাতেই পৌঁছে দিয়েছে আমায়। আজও মনে পড়ে কতো পুরনো কথা, তুই যখন আরও ছোট ছিলি তখন তোকে হামি খেতাম আদর করতাম, তোর বাবা একদিন হঠাৎ রেগে উঠে বলল “ উফঃ মা এসব কেন যে কর, বাচ্চা স্কিনে ইনফেকশন হয়ে যাবে”। কি আর বলব শুধু মলিন একটু হাসি এনেছিলাম ঠোঁটে। তোর দাদু যতদিন বেঁচেছিলেন সম্মানটা আমার যথেষ্ঠই ছিল। তারপর যে কি হল, নিজের ছেলে বউ আর নাতনিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচব ভেবেছিলাম। হায় আমার ভাবনা! তোকে খাওয়ার খাওয়াতে গেলে ওরা বলত আমি নাকি তোর খাওয়ার থেকে চুরি করে খাওয়ার সুযোগ খুঁজছি। পেট ভোরে খেতে দিতো না, বাড়ির সব কাজ আমাকে দিয়ে করাতো, বাইরের লোককে পরিচয় দিতে হলে বলতো বাচ্চা দেখাশোনার লোক। দুচোখ বেয়ে জল নেমে আসতো, তোর মা বলতো অতো কান্নাকাটির কিছু হয়নি, দুবেলা খেতে থাকতে পাচ্ছেন এই যথেষ্ঠ নয় কি, জানিস আমি মুখ বুঝে সব সহ্য করতাম। অবশেষে তোর দাদুর সব টাকাপয়সা নিজেদের নামে লিখিয়ে নিলো(কমলেশ আর মিতা)তোর বাবা মা।

বৃদ্ধা আমি অতোশত বুঝিনি। কাজ কর্মের সামর্থ্যও হারিয়েছি, তাই বাড়িতে নিষ্কর্মা হয়ে পড়ে থাকা বয়স্কা মাকে তারা ভরণপোষণ এবং থাকার জায়গা দিতে রাজি নয়। তাই এক রৌদ্রউজ্জ্বল বিকেল থেকেই আমার ঠিকানা বদলে গেল, “শান্তিনীড়” ই আমার শেষ ঠিকানা। আগে খুব কষ্ট পেতাম ছেলের জন্য, এতদিন ধরে তিল তিল করে বড় করার এটাই প্রতিদান, এতাই উপহার! এখন সব সয়ে গেছে, অভ্যাস হয়ে গেছে বেঁচে থাকার। দিদিভাই তুই তাড়াতাড়ি বড় হয়ে ওঠ,তোকে লেখা সব চিঠি গুলো তোর হাতে দিয়ে আমি শান্তিতে মরতে পারব। বাবা মায়ের সব কথা শুনিস দিদিভাই, কখনো তাদের মনে দুঃখ কষ্ট দিস না। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি তোকে আর তোর বাবা মাকে ভালো রাখুন। আমার অনেক ভালোবাসা রইল তোর জন্য।

আশীর্বাদান্তে তোর ঠাম্মি (সুভাষিণী)

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.