শুভ ভেজানো দরজাটা একটু খুলে ঘরে ঢুকতেই অঙ্কিতের হাত থেকে লোকানো 'জয় বাবা ফেলুনাথ'-টা সশব্দে মাটিতে আশ্রয় নিলো। চমকে উঠেছিল বছর ১৩-র ক্লাস সেভেন এর অঙ্কিত,বাবা হঠাৎ ঘরে প্রবেশ করায়। হাতে বেকুবের মত ধরে থাকা ওরিয়েন্ট লঙম্যানের ম্যাপ বইটা অট্টহাসি হেসে বলে ঊঠলো-"কি অঙ্কিতবাবু?দেখবেন এবার মাদারি কা খেল! "ঊফফ সামনে যেন সাক্ষাৎ মগনলাল মেঘরাজ দাঁড়িয়ে ,এখনি হয়ত বলে ঊঠবে "পোড়াশোনার নামে এই সোব হচ্ছে হে ছোকড়া?দুখানা গাঁট্টা খেলেই সোব ওয়াপিস ঠিক হোবে বুঝলে? "নাহ ভয় পেলে চলবে না,ও ভাবল হয় এর সামনা করবে নয়তো ফেলুদা পড়াই ছেড়ে দেবে!

"কি রে ভূগোল পড়ার নামে কী করছিলি?কি কি জায়গা মুখস্ত হল?"-বাবার নরম অথচ ঠাণ্ডা গলায় ঠিক ফেলুদা সুলভ ক্লাইম্যাক্সের সুর। একটু আমতা আমতা করে বলল-" ওই বেনারস টা একটু দেখছিলাম,ভারতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র।" "নিচে কি পড়ল ওটা ?"-বাবার প্রশ্নে থমকাল অঙ্কিত, "আরে ওটা কিছু না,জয় বাবা ফেলুনাথটা একটু দেখছিলাম দশাশ্বমেধ ঘাটের অবস্থান মিলছে কিনা বইয়ের সাথে। "মনে মনে হাসল শুভ..বেশ ছোটবেলার একটা স্মৃতি উস্কে দিল ব্যাপারটা। শুভ তখন ক্লাস নাইন,স্বপন স্যারের ঝিম ধরা ইতিহাস ক্লাসে রিডিং পড়তে গিয়ে,জীবন মুখোপাধ্যায় এর তলায় লোকানো এই 'জয় বাবা ফেলুনাথ' গড়গড় করে পড়তে শুরু করেছিল বেখেয়ালে। সে এক কেলেঙ্কারি কাণ্ড।গোটা ক্লাস হাসছে,স্যার হাসছেন...তো সে যাত্রা রেহাই পেয়েছিল শুভ কোনক্রমে।

"কি ভাবছ বাবা?"-ছেলের প্রশ্নে আবার ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে এলো শুভ উত্তর দিল-"ক্যাপ্টেন স্পার্ক বুদ্ধি তো বেশ খুলছে দেখছি!!"একটু বেসামল অবস্থা তখন অঙ্কিতের, খুট করে একটা মৃদু আওয়াজ পেলো দুজনে...শুভ অঙ্কিত কে কিছু বলার আগেই অঙ্কিত বলে উঠলো "মা আসছে চা নিয়ে,চুপ করে বসে পড়"। দুজন কে এরম চুপ থাকতে দেখে সুচরিতা ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো - "একটু আগেই কিসব ক্যাপ্টেন এর গল্প হচ্ছিল,টের পেলে কীভাবে আমি আসছি? "বাবা ছেলে একসাথে বলে উঠলো "মগজাস্ত্র!"


bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.