টুকরো কথা
ঈপ্সিতা মিত্র

কালকের দিনটা খুব special আমার জন্য | কাল 6th april , মায়ের birthday | কিছু লিখবো না , লিখবো না মনে করেও শেষে ভাবলাম কিছু লিখি মায়ের ব্যাপারে | যদি দুটো লোকও এই লেখাটা পরে আমার মা কে চেনে , তাহলে ক্ষতি কি ! বরং ভালোই |
আমার কাছে মা সবার মতন হয়েও সবার থেকে যেন একটু আলাদা ছিল | মায়ের কথা প্রথমে লিখতে গেলেই মায়ের হাসিটাকে মনে পরে | মা কে যারা চিনতো তাদের কাছে এই হাসিটা খুব famous ছিল | যখনি কারোর সঙ্গে দেখা হতো এক গাল হেসে মা কথা বলতো | সবাই তাই বলতো , "সদা হাস্যমুখি " | .. ছোটবেলা থেকে মা কখনো আমাকে পড়াশোনার ব্যাপারে চাপ দেয়নি | যখন আসে পাশের সবার দেখতাম ৭টা ৮টা করে প্রাইভেট টিউটর , তখন আমি দিব্যি স্কুল থেকে ফিরে হেলে দুলে টি.ভি দেখে ঘুমিয়ে পড়তাম | আর সন্ধ্যেবেলা মা বইপত্র নিয়ে নিজেই ফিল্ড এ নামতো আমাকে পড়াতে | মা একটাই কথা বলতো , " মা বাবাই লাইফের বেস্ট টিচার ... " আর বলতো , যদি স্কুল লাইফের এই পড়াতেই ৭টা ৮টা মাস্টার দিয়ে ১৪ ঘন্টা করে পড়ার অভ্যেস হয়ে যায় , তাহলে higher studies এর অতো অতো সিলেবাস পড়ার সময় তো দিনের ২৪ ঘণ্টাকেও কম মনে হবে ! তখন অতটা ঠিক বুঝতাম না, কিন্তু পরে কলেজ ইউনিভার্সিটি লাইফে মনে হয়েছে কথাগুলো একদম ঠিকই ছিল | আরো একটা কথা আমার খুব মনে পরে যেটা মা আমাকে খুব বলতো ," বেশি হাই ফাই কিছু না হলেও চলবে বড়ো হয়ে , শুধু একটু ভালো মানুষ হবি , ওটাই অনেক |" .. ছোট থেকে আজ অব্দি ওই চেষ্টাটাই করি রোজ , একটু ঠিকঠাক মানুষ হওয়ার | তবে যতই try করি , আমি জানি আমি মায়ের মতন মানুষ কখনো হতে পারবো না | চুপচাপ কিছু না বলে সবার জন্য ভাবা, সবার জন্য করা , এটাই ছিল মায়ের nature | যেমন খুব ছোট্ট একটা ঘটনা ,আমার তখন ক্লাস ইলেভেন ..আমি একদিন স্কুল থেকে এসে মা কে বলেছিলাম যে রাস্তায় একটা বয়স্ক মহিলাকে পরে থাকতে দেখি দু দিন হলো ,স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় | কথাটা শুনে সেইদিন মা চুপ ছিল | কিন্তু তার পরের দিন দেখলাম আমি স্কুল বেরোনোর আগে মা আমার হাতে টাকা দিলো , ওই বয়স্ক মহিলাকে দেয়ার জন্য | তারপর থেকেই সপ্তাহে তিন চার দিন মা আমার হাত দিয়ে কেক , বিস্কুট , চাদর , মিষ্টি এইসব পাঠাতো ঠাকুমাটার জন্য | এমন কি আমার স্কুল শেষ করে কলেজ এ ওঠার পরও এই নিয়ম চলেছে | তখন শনি রবিবার বাপির হাত দিয়ে ঠাকুমাটাকে মিষ্টি , ফল এইসব কিনে দিতো | এই রকম আরও অনেক ঘটনা আছে | লিখতে গেলে উপন্যাস লেখা হয়ে যাবে ! ..
তবে মায়ের পুরো জগৎ টা জুড়েই ছিলাম শুধু আমি | সেই ছোট থেকে কলেজের ফার্স্ট ইয়ার অব্দি যতদিন ক্লাস করতে বেড়িয়েছি সকালে, মা always খাইয়ে দিয়েছে | আর সকাল সারে ৯টার মধ্যে যে কি করে তিন চার রকম তরকারি , ভাত এই সব রান্না করতো রোজ , এই রহস্য আমি আজও ভেদ করতে পারিনি ! সত্যি | তবে মা কে শুধু আমার best cook ই না , বেস্ট economist ও মনে হয় | মা ছিল হাউজ ওয়াইফ | চাকরি করে প্রত্যেক মাসে টাকা income না করলেও টাকা কি করে save করতে হয় , সেটা খুব ভালো করে জানতো | তবে সেই saved টাকা দিয়ে কখনোই নিজের জন্য বিশেষ কিছু কিনতে দেখিনি মা কে | সব সময় আমার নতুন dress , আমার নতুন জুতো , নতুন ব্যাগ , পছন্দের গল্পের বই এইসব কেনার চিন্তা ঘুরতো মাথায় | আর যখন আমি কলেজে উঠলাম তখন তো মায়ের excitement দেখার মতন | তার আগে আমি বিশেষ সাজতাম না | কিন্তু কলেজে ওঠার পর মা দায়িত্ব নিয়ে আমাকে সাজতে শিখিয়েছিলো | আমি কোন ড্রেস টা পরে কলেজ যাবো, তার সাথে কি ব্যাগ নেবো , সব মা ঠিক করতো , রোজ | আর ফিরে এসে হিস্ট্রির শাহজাহান মমতাজের সঙ্গে কোন বন্ধু কি বললো, কটা ছেলের ঝাড়ি খেলাম যাওয়া আসার পথে , সব গল্পই হতো মায়ের সাথে | তবে মার্ একটা ব্যাপারে একটু আফসোস ও ছিল | বলতো, --- " মামন কলেজে উঠে একটা প্রেম করতে পারলি না ! যদিও তোর বাপির মতন কাউকে পাবি না, তবে একটা ভালো ছেলে যদি তোর লাইফে আসতো !" ... হয়তো আজও মা আকাশে বসে এই আফসোসটাই করে , যে মামন এখনো একটা প্রেম করে উঠতে পারলো না ! .. আর হ্যাঁ, এইটা তো মার্ কমন ডায়লগ ছিল , -- " তোর বাপির মতন কেউ হবে না |" ... মায়ের চোখে বাপি হলো best man in the universe ... তবে আমার মনে হয় মা বাপির একসাথে এতো খুশি থাকার আর একটা কারণ হলো আমার মা যা আছে যত টুকু আছে , সেটা নিয়ে খুশি থাকতে জানতো | মা কে কখনোই বাপির কাছে আমার এই গয়না চাই, ওই শাড়ি চাই করতে দেখিনি | বরং দেখতাম , "তুমি পুজোর সময় নতুন একটা জামা কেন না !" , "মাউথ অর্গান টা পুরোনো হয়ে গেছে, নতুন একটা কেন না" এইসব লাইন বলতে | লাইফ এ অনেক ছোট ছোট sacrifice করেও , সব সময় একটা হাসি মুখ | এটাই হচ্ছে নবীনা মিত্র | হ্যাঁ, আমার মার্ নাম ছিল নবীনা | আমি মা কে বলতাম "একদম unique নাম তোমার | এই নামটা খুব একটা শোনাই যায় না|" ,. তবে তখন বুঝিনি মায়ের নামের সাথে মায়ের জীবনটাও এই ভাবে মিলে যাবে | মা সত্যিই 'নবীনা' ছিল | মায়ের প্রবীণ রূপ কাউকেই দেখতে হয়নি ! ৩৬ বছর বয়সেই শেষ | 'হেপাটাইটিস ই ' ... rare case of joundice .. পনেরো দিনেই শেষ | যদিও এই কথাটা বলতে আমার একদম ভালো লাগে না | তবুও বললাম , কারণ ওপরের লেখাটা পরে as usual অনেকেই এই প্রশ্নটা করবে আমায় , যে "কি হয়েছিল ?" , তাই লেখায়ই উত্তরটা দিয়ে দিলাম | তখন আমার ১৮ | মা আমাকে প্রাপ্ত বয়স্ক করেই আকাশ পথে রওনা দিয়েছে |
যাই হোক | আর না | এবার লেখা শেষ | আর জানি না , এই দুটো প্যারাগ্রাফ এ আমি শব্দ দিয়ে কতটা মায়ের ছবি আঁকতে পারলাম ! তবে এইটুকুই বলার যে মা যেমন ছিল , যতটা ছিল , best ছিল | আর মায়ের মতন মানুষ আমি সত্যিই এতো বছরে আর একটাও দেখিনি | আর দেখবোও না , আমি জানি | কারণ আমার মা seriously unique .. and proud to be her daughter ... always ..

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.