অ্যানাবেলা



(নিষ্ঠুর বাস্তবতা ও পরবর্তী রোমাঞ্চকর পরাবাস্তবতা নিয়ে গল্পটি)


আমার নাম এনাবেলা ক্যাসল। ডাকনাম এনি। কলকাতার অদূরে দমদম ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অ্যাংলো ইন্ডিযান পাড়ায় আমার বাস ছিল। বাবার দিকে আইরিশ ফ্রেঞ্চ দুই রক্তই আছে। শুনেছি আমার ঠাকুরমা ছিলেন হিন্দু ব্রাহ্মণ ঘরের বালবিধবা। আমার লম্বা লালচে ফরসা চামড়া নীল চোখ সাস্থ্যোজ্বল চেহারায় ভারতীয় কোন ছাপই নেই। অ্যাংলো ইন্ডিয়ান নয় চেহারা আচার আচরণে আমি পুরোপুরি নর্ডিক।

যতদিন ব্রিটিশরা এদেশে ছিলেন আমাদেরও সুদিন ছিল। বড়সড় চেহারা সাদা চামড়া আর ব্রিটিশদের প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্যের জোরে পুলিশ সারজেন্ট,রেলওয়ে গার্ড বা ড্রাইভার এসব চাকরী আমাদের ছেলেদের এবং বড় বড় অফিসারদের পিএর চাকরী আমাদের একরকম বাঁধাই ছিল। ওরা ভারত ছেড়ে চলে যেতেই আমাদেরও অধঃপতন শুরু হয়। সেইভাবে লেখাপড়া না শেখা আর উন্নাসিক মনোভাবের মূলা আমাদের কড়ায়গন্ডায় মিটাতে হয়েছিল।

আমার স্বামী ইলেকট্রিক মিস্ত্রীর কাজ করতো। রুজিরোজগার তেমন ছিল না। তার উপরে মদ খাওয়ার নেশা এবং ঠুনকো আভিজাত্য বোধ ছিল ষোল আনার জায়গায় আঠারো আনা। ফলে সংসারে অশান্তি খিটিমিটি মারপিট লেগেই থাকতো। একমাত্র ছেলেটার আঠার বছর বয়স। এই বয়সেই ডেভিডকে নিয়ে নিত্য অশান্তি। কবেই স্কুলছুট হয়ে গেছে। চব্বিশ ঘন্টাই বাড়ির বাইরে নিত্য অশান্তি । চুরি ছ্যাঁচরামি গাঁজা গুন্ডামীতে হাত পাকিয়েছে। মদ খাওয়াও শিখে গেছে। একদিন খেপে গিয়ে প্রবল মার মারলাম। অত বড় চেহারা আমি পারবো কেন? আমাকে পাল্টা মেরে রক্তাক্ত করে চিরদিনের মত বাড়ি ছাড়লো।


মাস ছয়েক পরে ছেলের খোঁজে একদিন থানায় গেছি। আর সেই যাওয়াই আমার কাল হলো। সেদিন দমদম থানায় এস পির ইনসপেকশান ছিল। আমার দারিদ্রের দোষে মলিন পোষাক আর ইউরোপীয় নর্ডিক চেহারার জৌলুশে আমি মাননীয় এস পি সাহেবের নজরে পড়লাম।থানার মাধ্যমে যে কোন মূল্যে আমায় উপভোগ করার প্রস্তাব পাঠালেন। আমার স্বামী অকর্মন্য মদ্যপ হলেও এই আত্মাভিমানী মানুষটিকে আমি ভালোবাসতাম। তাই অতবড় শক্তি প্রতিরোধের কোন ক্ষমতাই আমার হাতে নেই জেনেও একটা নোংরা চরিত্রের কালা আদমীর লালসার কাছে আমি নিজেকে খুলে দিতে পারলাম ন। আর তার ফল ফলতেও দেরী হলো না। কাছেই একটা ইলেকট্রিকাল গুডসের দোকানে চুরি করিয়ে আমার স্বামীকে মিথ্যা চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে মাননীয় এস পি সাহেব দুবছর জেল খাটিয়ে আনলেন। আমি তাও নিশীথ নাথ ভট্ট নামের ঐ শয়তানের অনুচরের কাছে আত্মসমর্পণ করি নি ।


জেল থেকে বেরিয়ে প্রবল আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন অভিমানী স্বামী আর ইন্ডিয়ায় থাকতে রাজী হলো না। কানাডায় চলে গেল। আমাকে যাওয়ার জন্য প্রবল পীড়াপীড়ি করা সত্ত্বেও আমি ইন্ডিয়া ছেড়ে যেতে রাজী হলাম না। এদেশকে আমি স্বদেশ ভাবতাম আর ভালোওবাসতাম। আর আমার ছেলে! ছেলের সাথে দেখা হওয়ার আশায় আমি রয়ে গেলাম। আমার দুঃখের ভাড়ার ষোল আনা পূর্ণ না হলে হোতোই বা কি করে? আমার ফুটো সংসারের ভরাডুবি হলো। নিশিথ ভট্ট সব খবরই রাখতো। অভাব অনটনে পরণের ছেঁড়া পোষাকে আমার তখন এমনিই উলঙ্গপ্রায় অবস্থা। পেটে আগুনে খিদে,বাড়িওয়ালাও উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছে।

এবার আমি শয়তানের অনুচরের ব্শ্য হলাম। কাকদ্বীপে নিশিথের বাগানবাড়িতে ওর রক্ষিতা প হয়ে স্বাভাবিক অস্বাভাবিক সমস্ত কামনা মেটানোর যন্ত্রে পরিণত হলাম আমি। তবে বেশীদিন না।

বছর ঘুরতে না ঘুরতে সাদা চামড়ার প্রতি ওর আকর্ষণ ফিকে হয়ে এল। একদিন সপ্তাহান্তের বদলে বোধহয় আমার আনুগত্য যাচাই করার জন্যই মাঝ সপ্তাহে ভর দুপুরবেলা এসে হাজির । তখন আমার রজঃস্রাব চলছে। এই সময আমার শরীর মন দুই ই খুব খারাপ থাকে। তার উপর সেদিন গায়ে ১০০ ডিগ্রীর উপরে জ্বর।পশুটা তার কাম মেটানোর জন্য আমার অসুস্থ শরীরটাকেও রেহাই দিল না। আমার গোটা গা ঘিনঘিন করছিল। আমি ওকে ’বাসটার্ড। সান অফ এ বিচ’ বলে চীৎকার করে গালি দিলাম। ওর মুখে একদলা থুতু ছুড়ে দিলাম। অন্যদিন রমনের সময় কাচা খিস্তি খেতে ও দিতে খুবই পছন্দ করত। কিন্তু সেদিন বোধহয় রসেবশে ছিল না। তা ছাড়া আমার মাংস ওর মুখে আর বোধহয় তেমন সুস্বাদুও লাগছিল না। মুখে থুতু দেওয়াটা বোধহয় তাতে ইন্ধন জোগালো। আমার তলপেটে আর পাছায় লাথি মারতে মারতে জানোয়ারটা ওর সিকিউরিটি আর ড্রাইভারের সাহায্যে আমায রাস্তায় বার করে দিল। আমার জন্য ওর কাকদ্বীপের বাগান বাড়ির দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেল। নতুন করে বুঝলাম আইনের রক্ষকই যখন ভক্ষক হয় দুর্বলের তার বিরুদ্ধে কোন প্রতিরোধই থাকে না।

এসপির রক্ষিতা থেকে রাস্তায় দাঁড়ানো অ্যাংলো বেশ্যায় পরিণত হলাম। এস পির ড্রাইভার সিকিউরিটিরও অনেক ক্ষমতা থাকে। আগেই বুঝতাম ড্রাইভারটার আমার লম্বা সাদা দেহটার উপর লোভ আছে। লোকটা বিনা পয়সায় দুটো পেটের ভাতের বিনিময়ে আমাকে উপর্যপরি ভোগের পর একদিন বর্ধমানের কুখ্যাত পতিতালয় মহাজনটুলীতে বিক্রী করে দিল।আমি নিকৃষ্টতম জাঁকালো বেশ্যায় নেমে এলাম। আত্মা আমার কবেই তো বিকিয়ে গেছে। সু আর কু এর কোন বিভাজন আমার কাছে নেই। পেটের ভাতের জন্য ষোল থেকে ছিয়াত্তর আমি সব পুরুষেরই অংকশায়িনী হয়েছি।


পরপর দুদিন কুকুর বিড়ালের মত বৃষ্টি হয়েছে। খরিদ্দার আসে নি একটাও। কাল পাশের ঘরের ফুলির দয়ায় রাতে একটা পাউরুটি এক কাপ চা আর একটা চারমিনার সিগারেট খেয়েছি। রাত প্রায় দশটা । বৃষ্টি আজও ধরেনি।হঠাৎ যেন আকাশ ফুড়ে একজন লম্বা শক্তিশালী চেহারার মুখভর্তি দাড়িগোঁফ যুবক আমাকে পাশ কাটিয়ে আমার অনুমতি না নিয়েই ঘরে ঢুকে পড়লো। আমি পিছন পিছন ঘরে ঢুকতেই সে বলল যে আজ রাতটা সে এখানে ঘুমোবে। কাল ভোর না হতেই উঠে চলে যাবে। পুরো রাতের চার্জ দেবে। বুঝলাম কোনো জাঁদরেল ক্রিমিনাল পুলিশের ভয়ে বা কোন রাইভাল গ্রুপের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমাদের বেশ্যাদের এরকম আশ্রয় ক্রিমিনালদের দিতেই হয় ব্যবসার স্বার্থে, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে। যা টাকা চাইলাম এক কথায় মিটিয়ে দিয়ে বলল আলো নিভিয়ে দিয়ে বাইরে চলে যেতে। ও দরজা দিয়ে দেবে ভিতর থেকে। আমি পেশাগত তাগিদে ওর দিকে এগিয়ে গিয়ে ওর গলা জড়িয়ে বলতে গেলাম,’ডার্লিং লেট আস’। শেষ করার আগেই লোকটার এক প্রবল ধাক্কায় খাটের কোনে আমার কপাল ঠুুকে গেল। আমার ছেলের হাতের মার খেয়ে তৈরি হওয়া পুরণো এক ক্ষত থেকে রক্ত বেরোতে লাগলো। লোকটা চোস্ত ইংরেজিতে বিড়বিড় করতে করতে এগিয়ে এলো,“ডেভ হেটস টু ইভেন টাচ এন ওল্ড হোর লাইক ইউ। নাউ ইউ আর ক্রিয়েটিং এ সিন। ” মুখে খারাপ কথা বললেও লোকটা এগিয়ে এসে রক্ত বেরোনো বন্ধ করতে আমার পুরনো ক্ষতটা চেপে ধরল। আর তারপরই আমার মুখের দিকে পলকহীন তাকিয়ে থাকতে থাকতে গুমরে উঠল,“অ্যালাস! আই ডিসকভার মাই মম্ ইন দিস হেল অফ এ ব্রথেল!” ডেভিড আমার নাড়ী ছেড়া ধন !আমার আঁধার প্রদীপ !আমার ছেলে ডেভ।তিন তিনটি খুনের দায়ে পুলিশের কাছ থেকে আত্মগোপনকারী ছেলে আমার চোখের জলে ভাসতে ভাসতে তার অসতী ক্ষমার অযোগ্য মায়ের প্রতিটি কথা শুনল। কোলে মুখ গুঁজে আরো আরো কাঁদল। আমার বোধহয় চোখের জলও শুকিয়ে গিয়েছিল তাই একটুও কাঁদতে পারলাম না।

ভোর হয় হয়। ডেভ ছিলা ছেড়া ধনুকের মত টানটান হয়ে দাঁড়ালো । প্য্যান্টের গোপন পকেট থেকে বার করে দেখল পিস্তলটা ঠিকমত আছে কি না।তারপরে ওর দীর্ঘ শরীরটা আবার যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। তখন যদি ভূলেও জানতাম জ্যান্ত পাপ নিশীথ ভট্টকে খুন করে ওর মায়ের অপমানের শোধ নিতে ডেভ আমার দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে বেরিয়ে গেল আমি কিছুতেই তা হতে দিতাম না। সেই ঘোর নকশাল জমানায় নিশীথ ভট্ট মানে অ্যাডিশানাল আই জি (নকসালাইটস সেল) কে তার উচু পাচিল ঘেরা পুলিশ সি আর পি এফ পরিবেষ্টিত হেস্টিংগসের বাংলোয় গিয়ে খুন করার চেষ্টা করা আর আত্মহত্যা করায় কোন ফারাক ছিল না। রাতের আঁধারে পাচিল বেয়ে নেমে হামাগুড়ি দিতে দিতে নিশীথের প্রায় বেডরুম অবধি কি ভাবে যেন আবেগতাড়িত বেপরোয়া ছেলে আমার পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু নিশীথের পোষা কুকুরের ডাকে সচকিত হয়ে তিনজন সি আর পি এফ ঝোপজঙ্গল ভেদ করে এসে পয়েন্টব্ল্যাঙ্ক রেন্জ থেকে গুলি করে ভেভিডের রোদে পোড়া তামাটে বিরাট শরীরটা ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল।

এ খবর পাওয়ার পর আর আমার বেঁচে থাকার কোন কারণ ছিল না। আমি এক টুকরো দড়ির সাহায্যে সিলিং থেকে ঝুলে পড়ে আত্মহত্যা করে এই বিড়ম্বিত জীবন শেষ করে দিলাম।


আমি নিশীথ নাথ ভট্ট। সাধারণ ডি এস পি থেকে আজ অ্যাডিশানাল আই জি ক্রাইম। আমার এই ধারাবাহিক সাফল্যের পিছনে আমার সোর্স নেটওয়ার্ক। রাস্তার বেশ্যা ভিখারি থেকে সমাজের উচ্চতম মহল পর্যন্ত আমার সোর্স বিস্তৃত। এ টাকার কানাকড়িও সরকার দেয় না। নিজের দু হাতের উপরি আয়ের এক হাতেরটা এই সোর্সের পিছনেই চলে যায়। ইদানীং আমার এক সোর্স জুটেছে। অল্পবয়সী তামাটে লোকটা বোধহয় অ্যাংলো ইন্ডিয়ান। চেহারায় পাকা ক্রিমিনালের ছাপ থাকলেও লোকটা খুব এটিকেটস জানে। পয়সার তেমন খাঁই নেই। বোধহয় উচু মহলে ভালোজাতের মেয়েছেলেও সাপ্লাই দেয়। একদিন কাণের কাছে ফিসফিস করে বলেছে ওর হাতে খাটি ফরাসী রক্তের মাঝবয়সী খুব খেলুড়ে মেয়েমানুষ আছে। আমি চাইলে এই ফ্রি স্কুল স্ট্রীটেই ব্যবস্থা হতে পারে।

নিয়মিত পূজো আর্চা করি মন দিয়ে ঘরসংসারও করি। সুখী সুখী পুতুল পুতুল গা ভর্তি গয়নাআলা বউও আছে। তবু বিশ্বাস করি শক্তিশালী সক্ষম সৃষ্টিশীল পুরুষমানুষের সেরাটা দিতে হলে সেরা সুরা আর নারী উপভোগ আবশ্যিক। অ্যানির পরে সাদা মেয়েছেলে আর ভোগ করি নি। খোচোরটার এই আহ্বান আমি ফেলতে পারলাম না।

লোকটা রসিক আছে। ২২/৫/ডি ফ্রি স্কুল স্ট্রীটের চারতলার ছাদে ওঠার সিড়িঁটা ভাঙা নড়বড়ে । কিন্তু একবার ওঠার পর এত ঘিঞ্জি একটা শহরের মাঝে আছি মনেও হচ্ছে না। আজ পূর্ণিমা। জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চারদিক । ছাদে জুঁই বেল গোলাপ হাস্নুহানারা টবে টবে সেজে সুগন্ধ ছড়াচ্ছে। পেটে দামী ফরাসী কনিয়াক । বেঁচে থাকা এইসব রাতের জন্যই বড় সুখের।

মাগীটা মাঝ বয়সী হলেও এখনও চামকি আছে। গায়ের ঘামের গন্ধটা কি চেনাচেনা?দামী বর্দো পারফিউমে আসলে ঘামের গন্ধটা ঢেকেও দিয়েছে। মেয়েটা ভারী আক্রমনাত্মক ত’! মুখোমুখি বসে লম্বা ধারালো দু হাতের নখগুলি আমার তলপেটে পাঁজরে পিঠে বুকে বিধিয়ে দিচ্ছে। আমি রক্তেভেসে যাচ্ছি। এটাই বোধহয় ওর ফোরপ্লে। অদূরেই খোচোর দালালটা উল্লাসে হাততালি দিয়ে উঠল,“ ওনলি কিপ দ্যাট বাসটারড’স ইভিল হারট ইন ট্যাক্ট সো দ্যাট আই ক্যান কিক ইট স্ট্রেট ডাউন টু দি নিয়ারেস্ট ওপেন ল্যাভাটরি চেম্বার।” মেয়েমানুষটা বলে উঠল,“নিশীথ বল তো অ্যানির এই শরীরটা এক সময় তোমায় কত সুখ দিয়েছে। কিন্তু আজকে এই রক্তপাত হতে হতে মৃত্যুর সুখ রমন সুখের থেকেও বেশী কিনা বল ত’। ”


লেখকের বক্তব্যঃ—১৯৭২ সালে ফ্রি স্কুল স্ট্রীটের একটি পরিত্যক্ত পতিতালয়ের ছাদ থেকে জনৈক অতি উচ্চ পদস্থ পুলিশ অফিসারের দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ ফাইলে ঘটনাটি আনসলভড হিসাবে নথিভুক্ত আছে। সেই ঘটনা বা অন্য কোন বাস্তব ঘটনার সঙ্গে এই লেখাটির কোন সম্পর্ক নেই।

bengali@pratilipi.com
+91 9374724060
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.