বাড়ী থেকে বেরনোর আগে গত রাতেই অরুনিমা বারন করেছিল “ শোনো তুমি ঐ জরাজীর্ণ বাড়ীটাতে গিয়ে থেকোনা , তার চাইতে একটা হোটেল নিয়ে রাত কাটিয়ে পরের দিন কাজ মিটিয়ে সন্ধ্যার ট্রেন ধরে ফিরে এসো। রহিম চাচা তো সে মাসে এসেছিল বাড়ীটা বিশেষ সুবিধার না বলে গেল শোনো... নি! রাতবিরেতে ওখানে কেউ যায় না আজব সব ভূতুড়ে আওয়াজের জন্য।”

- “ আহ্‌ তুমি অযথা চিন্তা করছ! ভয় আমাকে কাত করতে পারবেনা বুঝলে। ওটা আমদের পৈতৃক ভিটে তো না কি? তাছাড়া কেয়ার টেকার রহিম চাচা কে আমি কালই ফোন করে বলে দিয়েছি ঘরটা পরিষ্কার করতে একটা রাতের ব্যাপার তো !” শশাঙ্ক কথা শুনল না।

শশাঙ্কের পৈতৃক ভিটে মুর্শিদাবাদে নসিপুর এলাকায় ভাগীরথী নদীর পাড় ঘেঁষে। ঠাকুরদাদা মনোরঞ্জন সেন এই বাড়ীতে থাকতেন। শশাঙ্ক এ বাড়ীতে দু একবার এসেছে পিতা বিশ্বনাথের সঙ্গে। মনোরঞ্জন বাবু বেঁচে থাকাকালীন শশাঙ্কের পিতা কলকাতায় শিফট হয়ে যায়। ঠাকুরদার মৃত্যুর একদিন পর ওরা এসেছিল। তাও সেদিন স্নান করতে এসে রহিম হাঁকডাক দিয়ে সাড়া না পেয়ে ভিতরে এসে মৃত অবস্থা দেখে শশাঙ্কের পিতাকে অফিসে ফোন করে খবর দিয়েছিল। ঠাকুরদাদার মৃত্যুর পর মানুষজন না থেকে থেকে একপ্রকার অন্ধকারই হয়ে যায় বাড়ীটা। ধীরে ধীরে দেওয়ালের পলেস্তারও খসে খসে পড়তে শুরু করে । ঐ পঞ্চাশোর্দ্ধ রহিমই বাড়ীটা দেখাশোনা করে। রাতে তো আসেনা দিনের বেলাই দু একবার এসে ঘুরে যায়।


সকাল বেলা কলকাতা স্টেশন থেকে হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস ধরে মুর্শিদাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় । রানাঘাটে ট্রেন থামলে কিছু খাবার আর একটা খবরের কাগজ নিয়ে চোখ বোলাতে শুরু করে। ট্রেন বেলডাঙা পাড় করে এগোতেই আচমকা বড় বড় নোংরা দাড়ি-মোছ নিয়ে এক অর্ধনগ্ন বৃদ্ধ মুখের থেকে কাগজটা এক টানে নামিয়ে বলে ওঠে “ তোর সামনে বিপদ আছে সাবধানে যা , যদি ফিরে আসিস তবে বাকি কাজটা করে ফেলিস কিন্তু” । এই কথা শুনে শশাঙ্ক অবাক হয়ে যায় সে কিছু বলবে তার আগেই সে পাগল চলে যায়। এত দ্রুত ঘটে গেল কোথা থেকে এলো কোন কামরায় গেল বুঝতেই পারলনা । ঠিক বেলা এগারোটা দশে মুর্শিদাবাদ ষ্টেশনে নেমে একটা টোটো ধরে সোজা পুরনো বাড়ীতে, প্রায় দশ বছর পর। শেষ এসেছিলো ঠাকুরদাদার মৃত্যুতে। তখন পচিশ বছর বয়স। একতলা বাড়ী তিনটে ঘর একটা বড় বারান্দা, আলাদা রান্না ঘর। দেওয়ালের গা বেয়ে শ্যাওলা জমেছে, বর্ষা এসে বাড়ীকে সবুজ রঙে সাজিয়ে দিয়েছে। দেয়ালের ফাটাফুটি দিয়ে ছাদের উপর বট অশ্বত্থ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। সমগ্র বাড়ীটা প্রায় ধসে পড়া পাঁচিলে ঘেরা। আসে পাশে আরও দু একটি বাড়ী আছে সেগুলোও পুরনো, লোকজন আশা করি থাকেনা।

বাড়ীতে ঢুকতেই সদর দরজাটা সেগুন কাঠের, এখনও বেশ ভালই আছে বলা চলে। শশাঙ্ক ঠেলে ঢুকতে গেলেই একটা বিকট আওয়াজ। কোথা থেকে এক কুকুর আচমকা শশাঙ্কের পা ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। উঠানের কোথাও কোন নোংরা আবর্জনা নেই বিন্দুমাত্র । বারান্দাও বেশ পরিস্কার। তালা হীন ঘরের দরজা খুলতেই একটা সেকেলে খাটের উপরে বেশ পরিস্কার চাদর বিছানো সাথে বালিশও রয়েছে। জানলার দিকে তাকিয়ে দেখে মাটির ঘড়ায় জল রাখা আছে । জানলায় এখনও জল পড়ে আছে, মনে হয় কিছুক্ষণ আগেই জল ভরে গেছে কেউ । ঘরের ভিতর ইলেকট্রিক তার টেনে একটা বাল্বও লাগান আছে । শশাঙ্ক একা একা বিরবির করতে লাগল “ রহিমই হয়তো এ’কাজ করেছে কিন্তু তাঁর তো দেখাই নেই, সে লোক কোথায়?” খাটের উপর ব্যাগ রেখে মোবাইলে কয়েক বার ফোন করলো কিন্তু কি আশ্চর্য দুদিন আগেই যে নম্বরে কথা হল সেটা আর নেই বার বার একই কথা বলছে “দিজ নম্বর ডাস্‌ নট এক্সিস্‌ট”। সে ভাবতে লাগল এটা কিভাবে সম্ভব! এমনও হয়!

চোখে মুখে একটু জল দিয়ে ব্যাগ থেকে খাবার বার করে খেতে লাগলো। ঘরের চারিদিকে তাকাতেই দেয়ালে একটা ছবি ঝুলতে দেখে। প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে। শশাঙ্ক দাঁড়িয়ে দেখল ওটা ঠাকুরদাদারই ছবি , সে ছবিটা নামিয়ে পাশে রাখল।

খাবার টা খেয়ে একটা পুরনো কাপড় দিয়ে ছবিটা মুছে নিল। ছবি দেখে মনে হচ্ছে বুড়ো এখনও জ্বল জ্বল করে চেয়ে আছে শশাঙ্কের দিকে আর যেন বলতে চাইছে “ধুর শালা এত দিন পর তোর বুড়োকে মনে পড়েছে”। ছবিটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নেয় সে। তারপর বিছানায় গা এলিয়ে একটু বিশ্রাম।

কাল সকালে ব্রোকার সাথে কথা আছে এই বাড়ী বিক্রির ব্যাপারে। এর আগেও পিতার অনেকের সাথে যোগাযোগ হয়েছিল কিন্তু কেউ নিতে চায়নি কেউ বা জলের দাম দিতে চেয়েছিল। শশাঙ্কের চোখ প্রায় লেগে এসেছিল যখন চোখ খুলল তখন বিকেল চারটে। সে উঠে চোখে জল দিয়ে ব্যাগে করে নিয়ে আসা একটি লক্‌ দরজায় লাগিয়ে হাজারদুয়ারি প্যালেস ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়ল।

ঘুরতে ঘুরতে রাত ন’টা, রাতের খাবারটা বাইরেই সেরে নিয়েছিল সে। সরু গলিটার পথে সে বাড়ীর দিকে এগোতে লাগলো। আশেপাশের বাড়ীগুলি অন্ধকার , একটা বাড়ীর ভিতর থেকে হটাৎ দুই বিড়ালের বিকট চিৎকারে তার গা ছমছম করে ওঠে। মোবাইলের আলোটা জ্বেলে নিজেকে একটু সামলে নেয় এদিক ওদিক চেয়ে তারপর আবার দ্রুত পায়ে এগোতে থাকে। বাড়ী পৌছতেই দেখা গেল সদর দরজাটা খোলা ভিতরে লাইট জ্বলছে। সে আবার হাক মারতে লাগলো “রহিম চাচা.... রহিম চাচা.... এসেছ তুমি?”। না কোথায় কারো সাড়া নেই। ঘরে যেমন তালা লাগানো ছিল ঠিক তেমনই আছে । বাইরের বাথরুমটা দুপুরে খোলা ছিল এখন সেখানে একটা চটের পর্দা লাগানো, একটি বালতিতে জলও রয়েছে। সে নিজে নিজে বলতে লাগল “ আশ্চর্য ! আচ্ছা লোক তো রহিম চাচা , সব রেডি করে দিয়েছে অথচ আমার সাথে একবার দেখা করলো না। এমাসের টাকাটাও ভাবলাম হাতে হাতে দেব। কিন্তু সে চাচার তো দেখাই নেই । দেখি কাল ওদের বাড়ীর দিকটায় এগিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখব”।


সবে রাত দশটা কিন্তু কোন কাজ নেই চারিদিক নিঝুম । গাছের একটি পাতা পড়লেও সে আওয়াজ কানে ভেসে আসছে। পোশাক বদলে হাতে পায়ে জল দিয়ে বিছানায় গা টা এলিয়ে দিল। হাতে মোবাইল নিয়ে ভাবল একবার চাচা কে ফোন করি, আবার ভাবল না গ্রাম্য মানুষ হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। এই ভেবে সে মোবাইল ঘাটতে লাগলো। এমন সময় লোডশেডিং । উঠে বসে মোবাইলের টর্চটা জ্বালবে ঠিক তখনই নদীর দিকের জানলাটা জোর ধাক্কা লেগে খুলে যায়, মনে হল এখনি ভেঙে পড়বে। হঠাৎ এই আওয়াজে চমকে তাঁর হাতের থেকে মোবাইলটা মেঝেতে পড়ে যায়। একটা ঝোড়ো শীতল হাওয়া এসে সম্পূর্ণ ঘর ঠাণ্ডা করেদিল। শশাঙ্কের সারা শরীরে এক অপ্রত্যাশিত শিহরন জেগে উঠল। মনে হল কেউ যেন শীতল হাতে সর্বাঙ্গ ছুঁয়ে গেল। এরই মধ্যে সে উপলব্ধি করলো ছাদের উপর কিছু একটা লাফ দিয়ে পড়লো । ঘরের পশ্চিম দিকে একটা নিমগাছ আছে ছাদ লাগোয়া সম্ভবত সেটা থেকেই কিছু লাফিয়ে পড়লো ছাদে।

শশাঙ্ক একটু বিচলিত হলেও নিজেকে শক্ত করে নিল। নিচু হয়ে মোবাইলটা তুলতে যাবে এমন সময় দরজার কাছে কিছু বেশ জ্বলজ্বল করছে। তাঁর হৃদয় ভালই কেঁপে উঠলো। সে মোবাইল তুলে আলো জ্বেলে দেখতে যাবে ঠিক তখনি একটা শব্দ “মিয়াঁও”। শশাঙ্ক তখন নিশ্চিত হল আসলে যেটা জ্বলজ্বল করছিল সেটা ঐ বিড়ালের চোখ।

অন্ধকারে নিজেকে সামলে বিছানার উপর বসলো সেই সময় সদর দরজা খোলার সেই বিকট আওয়াজটা কানে এলো । কেউ একটা এগিয়ে আসছে সে বুঝতে পারল। শশাঙ্ক দেরি না করে দরজায় খিল দেওয়ার লাঠিটা শক্ত হাতে তুলে নিল। ঘরের দরজাটা হালকা ঠেলতেই একটা ছায়ার মত দেখে সে লাঠি নিয়ে মারতে যাবে সেই ভঙ্গিতে জানতে চাইল “কে..? কে... ওখানে....?”। ঠিক সেই সময় হ্যারিকেনের আলোটা একটু বাড়িয়ে মুখের কাছে তুলে ফোকলা দাঁতের মিচকি হাসি নিয়ে “ আজ্ঞে ছোট বাবু আমি.. রহিম চাচা...”। এতক্ষণে শশাঙ্কের প্রানে একটু জল এলো। একটু রাগের সুরেই বলে ওঠে “ তোমার এই সময় হল? সারাদিন কোথায় ছিলে তোমাকে তো ফোনেও পাওয়া যাচ্ছেনা?”।

হ্যারিকেনটা একটু বাড়িয়ে জানলার উপর রেখে মেঝেতে বসে “আজ্ঞে বাবু সকালে সব জোগাড় করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে চলে গিয়েছিলাম বিকালে দুই তিন বার এসেছিলাম কিন্তু আপনি ছিলেন না । আমার ফোনটাও খারাপ হয়ে গেছে তাই এই রাতে দেখতে এলাম ,আপনার কোন অসুবিধা হয়নি তো ?”

-না তেমন কিছু না। তা তোমার ফোন খারাপ তুমি অন্যের ফোন থেকেও তো একটা কল করতে পারতে আমায়!

রহিম চিন্তিত হয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলতে থাকে “ হ ছোট বাবু এই কথা টা আমার মাথায় আসে নাই”।

-এত রাতে তুমি এখানে না এলেই পারতে । নিশ্চুপ নিঝুম রাত কোথাও একটু আলো নেই । আবার তোমরাই বল এখানে নাকি রাতবিরেতে আজব ঘটনা ঘটে, আওয়াজ আসে!

-আজ্ঞে বাবু আমাদের তিন কালের পৌনে তিন কাল পাড় করে ফেলেছি, এখন আর ভয় করলে চলবে। এই রাতে আপনার কোন অসুবিধা না হয় তাই একবার দেখতে এলাম। নয় তো এ পথ কি এ রাতে মারাতাম!

-সে বুঝলাম এই ভূতুড়ে ব্যাপারেটা কি আদৌ সত্যি ? এর কোন যুক্তি আছে? এর কারনেই নাকি এই বাড়ী বিক্রি হচ্ছেনা । আমি তো এখনও তেমন কিছু বুঝলাম না।

-সেটা বাবু আপনার সাহস হয়তো । তবে কিছু তো আছে নিশ্চয়ই। তাছাড়া আপনার ঠাকুরদাদা এই বাড়ীতে মারা গিয়ে একদিন পড়ে ছিলেন বলে অনেকেই অশুভ মনে করেন। আপনার পিতাকেও একবার আমি বলেছিলাম পারলে একটা পিণ্ডদান করে আসুন গয়ায় গিয়ে । কিন্তু আপনার পিতা শুনলে কই! হয়তো কর্তা বাবুর আত্মা এখনও নিষ্কৃতি পায়নি তাই এই ঘরের আশেপাশে ঘুরছে।

-তুমি বাদ দাও তো এইসব গালগপ্প। আত্মা নিষ্কৃতি! এই সব আবার হয়না কি?

-হয় ছোট বাবু হয় আপনি বুঝবেন তবে পরে!

-রাত বাড়তে চলেছে কারেন্ট মনে হয় আর আসবেনা তুমি বরং চলে যাও।

-আজ্ঞে বাবু আমি চলে গেলে আপনার অসুবিধা হতে পারে। আমি বরং বারন্দায় বসে থাকি হ্যারিকেনটা জ্বালিয়ে।

-তুমি যদি বাড়ীতে বলে আসো তবে থাকো , কিন্তু বারন্দায় নয়! ওখানে কেন থাকবে? খাটের উপরই শুয়ে পড় আমার পাশে।

-না বাবু তা হয়না আমি এই মেঝেতেই ঘুমাই।

-“আচ্ছা তাই হোক” বলে ব্যাগ থেকে একটা চাদর বার করে রহিমের হাতে দিল “ এইটা পেতে নাও আমি শুয়ে পড়লাম”।

- হ্যাঁ বাবু আপনি ঘুমান। আর আমার কথাটা মনে রাখবেন যেন একটা পিণ্ডদান করে দেবেন।

- হম দেখবখুনি তুমি এখন ঘুমাও।


জালনার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো চোখে পড়তেই শশাঙ্কের ঘুম ভেঙ্গে যায়। মোবাইলে তখন আট’টা বাজে। “ সর্বনাশ অনেক বেলা হয়ে গেল” এই বলে একলাফে সে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে। চাদরটা রাতে যেভাবে ছুঁড়ে দিয়েছিল সেভাবেই পড়ে আছে রহিম নেই। নিজে নিজেই বলতে লাগলো বেটা সকালে উঠে তো ডাকলই না চাদরটাও ভাজ করে যায়নি । একটু চায়ের ব্যবস্থা করলে ভালো হত। দেখি আশেপাশে আছে নাকি “রহিম চাচা... ও রহিম চাচা...” ডাকতে ডাকতে সে সদর দরজা দিয়ে বাইরে বেড়িয়ে এলো। এদিক ওদিক তাকাল আবার ডাক দিল রহিম চাচা ... রহিম চাচা.... না কোথায়ও দেখা যাচ্ছেনা তাকে।

শশাঙ্ককের গলায় ডাক শুনে বাড়ীর ভিতর থেকে বেড়িয়ে আসতে দেখে দূর থেকে এক যুবক ছুটে আসে বয়স আঠেরো কুড়ি হবে। “এইযে আপনি কে , এ বাড়ীতে কি করছেন?”

এই প্রশ্নে শশাঙ্ক কিছুটা অবাক হয়েই বলল “এ বাড়ী তো আমাদের তুমি কে”?

-আমাদের মানে! আপনি কি ছোট বাবু শশাঙ্ক ?

-হ্যাঁ কিন্তু তুমি কে?

-আমি ইকবাল, আপনাদের রহিম চাচার ছেলে।

-তা তোমার আব্বু কোথায় গেল সকাল সকাল দেখছিনা যে।

-‘আব্বু ! কি বলেন ছোট বাবু ’ একু বিস্ময়ের সুরে।

-হ্যাঁ কাল রাতেই তো আমার সাথে ছিল।

-তা কি করে সম্ভব বাবু। আব্বু মারা গেছেন আজ প্রায় একমাস হতে চলেছে।

-কি পাগলের মত কথা বলছ? এই বাড়ীর দেখাশুনা করত সেই রহিম চাচার ছেলেই তো তুমি না কি...? দুদিন আগেই তো চাচার সাথে আমার কথা হল। কাল সারা রাত ছিল আমার সাথে।

-ছোট বাবু আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে । আব্বু খেয়া পাড়ের সময় নৌকা ডুবিতে একমাস আগেই মারা গেছে। মোবাইলটাও জলে তলিয়ে গেছে। আপনাদের যে খবর দেবো সে নম্বর তো ছিল না আমার কাছে।

এই কথা শুনে শশাঙ্ক চকিত হয়ে ওঠে। আর কোন কথা না বলে সোজা ঘরে ছুটে গেল , ইকবালও পিছন পিছন ছুটল। ঘরে ঢুকে দেখে কালকের পুরানো সেই খাটটা নেই , জানলার দিকে তাকাতেই দেখে জানলা টা নিজের জায়গাই আছে অথচ কাল রাতে প্রায় খুলেই পড়েছিল। চোখ ঘোরাতেই সে লক্ষ্য করলো জলের ঘরাটাও নেই। বিছনার চাদর বালিশ কিছুই নেই। তাঁর নিজের চাদরটাও ব্যাগের মধ্যে ভাজ করা অবস্থায় রয়েছে। হঠাৎ-ই ঐ সকালে শশাঙ্কের সারা শরীর বেয়ে ঘাম ঝরতে থাকে। সে একবারে বাক্‌রুদ্ধ হয়ে মেঝেতে বসে পড়ে। ইকবাল কয়েক বারই জিজ্ঞাসা করেছিল ছোট বাবু “কি হয়েছে কি হয়েছে”? কিন্তু সেই আওয়াজ সে শুনতে পেয়েছিল কিনা বোঝা গেলনা।

ইকবাল গম্ভীরতা বুঝে ছুটে গিয়ে এক বোতল জল নিয়ে আসে। তখনও সে সেই একই ভাবে বসে আছে। একটু জলের ছিটে নাকে মুখে পড়তেই শশাঙ্কের সম্বিৎ ফেরে। ইকবাল বুঝেছিল রাতে নিশ্চয়ই কিছু অঘটন ঘটে ছিল তাই সে আর বিশেষ কিছু জানতে চাইল না।

শশাঙ্ক দ্রুত জামা প্যান্ট পরে তৈরি হয়ে নিল । ইকবালের হাতে নিজের একটা কার্ড দিয়ে বলল “এই নম্বরে তুমি আমাকে ফোন করবে, আর কিছু টাকা দিয়ে বলল এই টাকা রাখ আর যতদিন এটা বিক্রি নাহয় তুমিই দেখাশুনা কর। কয়েকজন লোক আসবে তুমি ওদের বল ছোট বাবু বিশেষে কাজে সকালেই বেরিয়ে গেছে । পরে কথা বলে দেখা করবে”।

-আচ্ছা বাবু তাই বলে দেব। ইকবাল মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বাড়ীর দিকে চলে গেল সে কতকটা বুঝল কতকটা না। হয়তো তাঁর ছোট মাথায় বেশি কিছু ঢুকলও না।

ট্রেনে উঠে শশাঙ্কের মনে হল ব্রোকার কে একটা ফোন করে আসতে না করে দি। সে ফোন লাগাল অপ্রান্ত থেকে একটাই কথা এলো ““দিজ নম্বর ডাস্‌ নট এক্সিস্‌ট”।

=সমাপ্ত=







bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.