উপাসনা সিয়াগ- সাথী


গ্রামের রাস্তায় রামদীন আর রামেশ্বরী হাটতে বেরিয়েছে। পেছন থেকে রামদীন বলল “এই রামী চলো আমরা বিয়ে করে ফেলি”। এই শুনে রামীর বুক ধড়াস ধড়াস করতে লাগল। করবে নাই বা কেন, রামীর বয়স ৬৫ আর রামদীন ৭২। কিন্ত দুজনেই কর্মঠ,তাই বয়সের তুলনায় কম দেখায়। দুজনেরই জীবনসাথী আর বেঁচে নেই। দুজনেরই ভরা সংসার, ছেলে বউ, মেয়ে জামাই,নাতি পুতি নিয়ে। জমি জমা ভাগ বাটোয়ারা হয়ে গেছে, সংসারে কোন অশান্তি নেই। দুজনেই ছেলে মেয়ের কাছে যোগ্য সম্মান পায়। কিন্ত দুজনেই একা। সবাই যার যার জীবনে ব্যস্ত। জীবনসাথীর শূন্যতা রয়ে যায়। রামদিন আর রামেশ্বরীর দেখা তীর্থ করতে গিয়ে হয়েছিল। গ্রাম থেকে বাসে করে সবাই গেছিল। সেখানে দেখা দুজনের। রামেশ্বরী হঠাৎ একদিন পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছিল। রামদিন তখন দেখাশোনা করেছিল। তীর্থ থেকে ফিরে যে যার নিজের সংসারে ব্যস্ত হয়ে গেল। কিন্ত দুজনের দেখা সাক্ষাত হতে লাগল। রামদিনের কথা বলতে ভাল লাগে রামেশ্বরীর সাথে ,তার কথা ভাবতে, তার সঙ্গে সময় কাটাতে। রামেশ্বরীর চোখেও দেখেছে ভালোলাগা। এই জন্য আজ বিয়ের প্রস্তাব। রামী তো শুনে লজ্জায় পালিয়ে গেল। কিন্ত রামদীন বাড়ি এসে সবাইকে জানিয়ে দিল যে সে রামী কে বিয়ে করতে চায়। শুনে সবাই চুপ, বোঝা গেল কেউ রাজি নয়। শুধু বড় বউ বলল “বাবার ও সঙ্গী দরকার, আমরা কতটুকু সঙ্গ দিতে পারি”। অনেক তরক-বিতর্কের পর, বড় বউ সবাইকে রাজি করাতে পারল আর দায়িত্ব নিল রামীর ছেলে মেয়েদের রাজি করানোর। পরেরদিন রামীর বাড়িতে বড় ছেলে বউ প্রস্তাব নিয়ে গেল। সেই বাড়িতেও ঝড় উঠল। ঝড় সামলাতে বেশি হল রামীকে। রামীও লজ্জায় কোথায় মুখ লুকোবে ভেবে পেলনা। একমাত্র অধ্যাপক ছোট জামাই সবাইকে বুঝিয়ে রাজি করল। ঠিক হল দুজনের মৃত্যুর পর যার যার সম্পত্যি তার তার ছেলে মেয়েরা পাবে। সময় মতো চার হাত এক হলো। দুজনে ঘরে বসে মন্দিরের ঘন্টা শুনতে শুনতে পরের তীর্থ যাত্রার স্বপ্ন দেখতে লাগল।

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.