অভিশপ্ত নীলকুঠি


(১)

বিরক্তিকর মুখে গোছগাছে ব্যস্ত সুদীপ্তবাবু। কাল অন্য কর্মস্থানে আবার। সুদীপ্তবাবুর বদলির চাকরী। এতদিন তিনি ব্যারাকপুরের একটি শাখা পোস্টঅফিসের সাব-পোস্টমাস্টার ছিলেন, এবার সেখান থেকে সটান মালদা জেলার মথুরাপুর পোস্টঅফিসে পোস্টিং। ওনার চাকুরীজীবনে অন্য জেলায় পোস্টিং এই প্রথম। এর আগে উনি চাকুরীসূত্রে উঃ ২৪ পরগণা জেলার নানান পোস্টঅফিসে পোস্টিং হয়েছেন। যাইহোক এ যুগে সরকারী চাকুরী পেলে সবাই নিজেকে ভাগ্যবানই মনে করেন, কিন্তু সুদীপ্তবাবুর ক্ষেত্রে একটু আলাদা। ব্যাতিক্রম বলে একটা প্রচলিত কথা আছে, সেটা সুদীপ্তবাবুর ক্ষেত্রে খাটে, সংসারী না হলে তিনি হয়তো মুখের উপর রেজিগনেশন লেটার ছুঁড়ে আসতেন। কিন্তু বালাই ষাট সংসারের জাল, চাইলেও অনেক কিছু করা যায়না। বাবা বলতেন, "পুরুষ মানুষের সংসারের প্রতি টানটা বোঝা যায় বাবা হবার পর।"

সুদীপ্তবাবু টানটা অনুভব করেন ঠিকই, তবে মাঝেমধ্যে "অনেককিছুই না করতে পারার যন্ত্রণা কুড়ে কুড়ে খায় তাকে।"

যাইহোক ব্যারাকপুরেই পৈতৃক ভিটেয় স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়েই সুদীপ্তবাবুর সংসার। তাদের নিয়ে যাওয়া যাবেনা কারণ, ছেলের স্কুল আছে, তাছাড়া স্ত্রী চন্দনা একটি বাচ্চাদের স্কুলে পড়ান।

তাই আপাতত তিনি গোছগাছ করে মালদাগামী ট্রেনের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন...

(২)

মালদা স্টেশনে যখন তিনি পৌঁছলেন তখন বেলা প্রায় একটা। স্টেশনের বাইরে পোস্টঅফিসের একটা গাড়ি দাঁড়িয়েছিল। ট্রেন থেকে নেমে তিনি ড্রাইভারের হাতে ট্রলি ব্যাগটা দিয়ে, আর একটা কিট ব্যাগ নিজের কাঁধে নিয়ে গাড়িতে চেপে বসলেন। একঘণ্টা লাগলো পৌঁছতে। বিশাল বাড়ি, স্থানীয় নাম 'নীলকুঠি'। ব্যাগপত্র নিয়ে সোজা অফিসেই গেলেন তিনি। আগের পোস্টমাস্টারের থেকে দায়িত্ব বুঝে নিতে সময় লাগলো, বাড়তি ঝামেলা এখন পুরানো আর নতুন নোট নিয়ে। ঘড়িতে তখন সবে পাঁচটা ছুঁইছুঁই, সবাই যেন তবু তাড়াতাড়ি অফিস গুছিয়ে চলে যেতেই ব্যস্ত। সুদীপ্ত বাবুর কাজ গোছাতে প্রায় সাড়ে পাঁচটা বাজল, তাও কেয়ারটেকার রামদীনের তাড়ায়। সুদীপ্তবাবুর কেমন একটা লাগলো, এতো তাড়াহুড়ো সবার! আশ্চর্য!

বাইরে বেরিয়ে তিনি রামদীনকে জিজ্ঞেস করলেন,

- "এখানে সবাই কটায় বাড়ি যায়! মানে সবাইকে দেখলাম কেমন তাড়াতাড়ি....মানে....অস্বাভাবিক রকমের তাড়াহুড়ো করতে..."

- "চার বাজনে সে পোস্টাফিস বন্ধ হো যাতা হ্যায় বাবুজী, আজ আপ ন্যায়া আয়ে হ্যায় ইসিলিয়ে সবকা লেট হুয়া..."

- "কাজ বেশি থাকলেও!!"

- "হাঁ বাবু! ইঁহা ছ বাজেকা বাদ র‍্যাহনা মানা হ্যায়..."

- "কেন!"

- "ইয়ে নীলকুঠি ভুতিয়া হ্যায় বাবু, গভমেন্ট হাভেলী কা দুতল্লা সিল করা দিয়া হ্যায়। বহুত কোঈ মর গিয়া হ্যায় ইঁহা।"

- "হোয়াট রাবিশ...!

তোমরা এ যুগে এসবে বিশ্বাস করো!"

- "হাহ্ বাবুজী, এটা সত্যিই আচে। এ এক অংরেজ সাহেবের হাভেলী ছিল। শুনা হ্যায় ইধার বিপ্লবী লোগকো বাঁন্দকে মার ডালতা থা। উসকে বাদ, একদিন বিপ্লবীলোগ ইস হাভেলী মে আগ লাগা দিয়া, আন্দার বহুত কোঈ জ্বলকে মর গিয়া।

বহুত কোঈ ইস হাভেলীমে খুদখুশী ভি কিয়া। এক পোস্টমাস্টার ভি ইস দুতল্লা মে খুদখুশী কিয়া। উসকে বাদ সরকার দুতল্লা কো সিল কর দিয়া। এক লেড়কা নে তো সিল কিয়া হুয়া ঘরকে আন্দার ফাঁসি লাগালিয়া। আভি ছ বাজনে কা বাদ কোঈ হাভেলীকা আশপাশ নেহি আতা।"

মিনিট পাঁচেক একসাথে হাঁটার পর এইটুকু বলে রামদীন বললে, "লিইজে সাহাব, আপকা মকান আ গিয়া।"

(৩)

ছোট্ট টিনের ছাউনি দেওয়া একতলা কোয়ার্টারটা বেশ ছিমছাম। একটা ঘর, অ্যটাচড্ বাথরুম আর কিচেন। সুদীপ্ত বাবুর নিজের রান্না করা অভ্যাস আছে। কিন্তু আজ আর রান্না করার ইচ্ছা হলোনা ওনার। ক্লান্তি লাগছে খুব। ট্রলি ব্যাগের তলার দিকে একটা হুইস্কির বোতল আছে, সেটা খুলে বসলেন তিনি। সঙ্গে আনা সল্টেড কাজুবাদাম খুব প্রিয় ওনার। তিনপেগ পান করে একটা সিগারেট ধরিয়ে সুখটান দিয়ে তিনি রামদীনকে ফোন করলেন। কাছেই বাড়ি, যদি কিছু খাবার পাওয়া যায় তাহলে যেন অবশ্যই আনে।

কিছুক্ষণ পর রামদীন ওর বউয়ের হাতে তৈরী গরম গরম রুটি-সবজি নিয়ে হাজির হলো।

সুদীপ্তবাবু ওকে হুইস্কি অফার করতে সে না করলোনা।

দুজন মিলে বেশকিছুটা পান করার পর, সুদীপ্তবাবু বললেন,

- "রামদীন, আজ থেকে দশবছর আগে আমি একটা পোস্টঅফিসে ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে এমনই লোকে বিকেলের পর লোকে থাকতো না ভুতের ভয়ে, আমি একদিন রাতে টর্চ নিয়ে চুপিচুপি যাই। গিয়ে দেখি, এলাকার সমাজবিরোধীরা মদ খাচ্ছে আর টাকাকড়ি-সোনাদানার ভাগ করছে। আমি চুপচাপ ওখান থেকে থানায় যাই। পুলিশকে গিয়ে ঘটনাটা জানাই। সেদিনই পুলিশ রেইডে সবাই ধরা পড়ে, ওটা কুখ্যাত ডাকাত দল ছিলো। লুঠপাট, খুন ও রেপ করার চার্জ ছিলো ওদের বিরুদ্ধে।

তারপর ওরা জেরায় কবুল করেছিলো, ওরা ওখানে সিকিওরড থাকার জন্যেই এলাকার লোকেদের ভূতের ভয় দেখাতো।

আসলে ভূত বলে কিছুই নেই, মনের ভুল..."

- "না বাবুজী এখানের কেসটা অলগ আচে, এখানে সচমুচ ভুত আচে বাবু..."

- "ঠিক আছে, আগামীকাল রাতে চলো। আমি আর তুমি। ওখানে রাত দশটা নাগাদ যাবো, তার আগে এখানে চিকেন কষা আর একটু হুইস্কি খাবো। টর্চ ব্যাগেই আছে, কি বলো রামদীন...!"

- "না বাবুজী, হামকো নেহি জানা হ্যায়! আপ ভি মত যাইয়ে...!"

- "আরে আমি বাঙালি হয়েও ভয় পাইনা আর তুমি..."

- "ঠিক হ্যায় সাহেব, লেকিন উপর নেহি জায়েঙ্গে। সিল ভি হ্যায়..."

সুদীপ্তবাবু মুচকি হেসে মনে মনে ভাবলেন, আগে তো নিচে অবধি চলো, তারপরে দেখা যাবে...

(৪)

পরদিন সকালে একটু ভোরের দিকেই হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গেলো সুদীপ্তবাবুর।

প্রায় ধড়মড় করে বিছানা থেকে উঠে বসলেন তিনি। তিনি স্বপ্ন দেখেছেন, পোস্টঅফিসে রাতের দিকে একটি বাচ্চা মেয়ে একা একা খেলা করছে,আর তিনি গেট থেকে দেখছেন। যদিও মুখ দেখা গেলোনা। চুলগুলো ঘাঁটা....এমন আজগুবি স্বপ্ন দেখার কারণ তিনি খুঁজে পেলেন না। কিন্তু এবিষয়ে রামদীনকে বলাও যাবেনা।

বিকেলে অফিস ফেরত সুদীপ্তবাবু একটা হুইস্কির বোতল, চিকেন ও আনুষঙ্গিক জিনিষ নিয়ে কোয়ার্টারে ফিরলেন। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ কোয়ার্টারে রামদীন এলো,

ততক্ষণে চিকেন কষা রেঁধে ফেলেছেন সুদীপ্তবাবু। রাতে রামদীন বাসায় ফিরবে না গৃহিণীকে বলে এসেছে। সুতরাং পানাহার শুরু হলো...

রাত নটা নাগাদ পানাহার যখন শেষ হলো তখন সুদীপ্তবাবু বললেন, একটু রেস্ট করে নিয়ে বারোটা নাগাদ যাবো।

রাত বারোটা নাগাদ দুজনেই 'অল্প টলোমলো পায়ে' উঠে দাঁড়ালেন। দুজনের হাতে টর্চ ও লাঠি। রামদীনের পকেটে ছোট্ট একটি হাতুড়ি ও চাবির গোছা। নীলকুঠির দিকে পা বাড়ালেন ওরা।

গেটের কাছে আসতেই রামদীন ফিসফিস করে বলে,

- "ছোড় দিইজে সাহাব, হামকো বহুত ডর লাগরাহা হ্যায়...!"

- "কিছু হবেনা, আমি আছি তো।"

টর্চটা জ্বালিয়ে একতলার চাবি খুলে ওরা পৌঁছে গেল সিঁড়ির দিকে, পকেট থেকে হাতুড়িটা বার করে সিল করা তালাটায় বার কয়েক আঘাত করতেই খুলে গেল সেটা। দরজাটা খুলে ওপরের দিকে উঠতে থাকলো ওরা। সুদীপ্তবাবু লাঠি ও টর্চ ধরে আস্তে আস্তে উঠছেন উপরে আর রামদীন দুরুদুরু বুকে এক হাতে টর্চ ও অন্য হাতে লাঠিটা শক্ত করে ধরে ওনার পিছু পিছু এগোচ্ছে...

ঝুল ও ধুলোয় চারদিক ভর্তি।

বারান্দায় পৌঁছে ওরা দেখলেন, একটি বাচ্চা মেয়ে নিচু হয়ে বসে কী যেন করছে, মুখ দেখা যাচ্ছে না। হঠাৎ মনে পড়ল সুদীপ্ত বাবুর, "আরে একেই তো স্বপ্নে দেখেছি আজ...!"

হঠাৎ একটি ঘরের দরজা খুলে গেলো, একজন সাহেব বেরিয়ে বিকট গলায় বললেন,

- "টুম লোগ ইটনে সাল বাড আটা, ইয়ে সব কৌন সাফ করেগি...!"

রামদীন সাহেবের মুখের দিকে টর্চটা মারলো, আর দুজনে দেখলো, কী বীভৎস মুখ!

বাচ্চাটার দিকে সুদীপ্তবাবু টর্চটা ঘোরাতেই দেখল বাচ্চাটা মুখটা এদিকে ঘোরাল। আধপোড়া মুখ...পচা গন্ধে ম ম করছে চারদিক।

সুদীপ্তবাবুর হাতটা ধরে টান মারলো রামদীন, পিছন ফিরে সিঁড়ি দিয়ে পালাতে গেলো দুজনেই। মাথায় একটা সজোরে আঘাত পেলো রামদীন, আর বিকট শব্দ করে নিচের দিকে পড়ল সে।

(৫)

সকাল নটায় রোজকার মতো পোস্টঅফিসের বাগান ও অফিস পরিষ্কার করতে আসে বিমলামাসি। কিন্তু দশটা বেজে গেল রামদীনের পাত্তা নেই। এদিকে অফিসের তালা খোলা! অফিসের পিছনদিকে ঝাড়ু দিতে গিয়ে দেখলেন, রামদীন উপুড় হয়ে পড়ে আছে। বিড়বিড় করে তিনি বললেন, "হারামজাদা রাতে গিলে এখানে পড়ে, বাবুরা দেখলে চাকরীটা যাবে...!" সামনে গিয়ে দেখলেন, মাথা ফেটে রক্ত বেরিয়ে কিন্তু সেটা শুকিয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি করে জল এনে ওকে সোজা করে শুইয়ে মুখে জল ছিটাতে লাগলেন। জ্ঞান ফিরতেই রামদীন হাঁউমাঁউ করে ভয়ার্ত চোখে বলল,

- "আরে ম্যায় ইধ্যার ক্যাইসে আয়া! পোস্টমাস্টার বাবু কাঁহা হ্যায়! উনকো ঢুনডো..."

ততক্ষণে আর একজন স্টাফ বিপিনবাবু চলে এসেছেন, রামদীনকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন "কী হয়েছে রামদীন!"

রামদীন পুরোটা বলার পর তিনি চোখ কপালে তুলে বললেন, "মাই গড! পুলিশকে ফোন করা দরকার।"

প্রায় মিনিট কুড়ি পরেই পুলিশের গাড়িটা এলো। দত্তবাবু লোকাল থানার ইনচার্জ।তিনিও জানেন এই ভুতুড়ে বাংলোর ঘটনা। সব শোনার পর তিনি চারজন কনস্টেবলকে নির্দেশ দিলেন আশেপাশের সমস্ত জায়গাটা তল্লাশি করতে। আর রামদীন সহ বাকীদের ওনার সাথে ওপরে ওঠার নির্দেশ দিলেন। সিঁড়ির সামনে এসে রামদীন ভয় পেয়ে বললো, "সাহাব কাল রাতকো হামি নিজের হাতে এ সিল কিয়া হুয়া তালা ভেঙেছি, ফিরসে আ ক্যাইসে গিয়া!"

ওদিকে কান না দিয়ে দত্তবাবু কোমর থেকে রিভলভারটা বার করে চালালেন তালা লক্ষ্য করে, তালাটা ভেঙে যাবার পর সেটা খুলে সিঁড়ি দিয়ে উপরের দিকে উঠলেন। সাথে থাকা বিমলামাসী, বিপিনবাবু ও রামদীন ওনার পিছু নিলেন।

বারান্দায় উঠে দেখলেন, দুটো টর্চ পড়ে আছে, সারারাত জ্বলেছে তাই দপদপ করছে, দুটো লাঠিও পড়ে। সামনের ঘরটার দিকে এগিয়ে জানালার ফাঁকে চোখ লাগিয়ে তিনি দেখলেন,

গলায় দড়ি লাগিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় একজন। কনস্টেবলদের ডেকে দরজাটা ভাঙালেন আর ফোনে কয়েকটা ফটো তুললেন নানা অ্যঙ্গেলে। কনস্টেবলরা বডিটা নামালেন। দত্তবাবু বডি পোস্টমর্টেমে পাঠালেন আর রামদীনকে বললেন, "তোমাকে আপাতত আটক করা হলো, পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট আসুক তারপর দেখছি।" দত্তবাবুর নির্দেশে আবার দোতলাটা সিল করে দেওয়া হলো।

(৬)

দুদিন পর থানায় বসে দত্তবাবু সদ্য হাতে পাওয়া পোস্টমর্টেম রিপোর্টে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছিলেন।

তখন ওনার ফোনটা বেজে উঠলো। ফোনের অপরপ্রান্তে মালদা জেলার ভারপ্রাপ্ত এস.পি সাহেব করিমুদ্দিন চৌধুরী। ফোনটা রিসিভ করলেন তিনি।

- "হ্যাঁ স্যার রিপোর্ট হাতে পেয়েছি।"

- "কী আছে তাতে?"

- "সেই একই কারণ, সুইসাইড।"

- "মনে হয় নীলকুঠির রহস্য আর উন্মোচন হবেনা..."

- "আমারও তাই মনে হয় স্যার, কিন্তু রামদীনকে কি ছেড়ে দেবো! আগের কেসগুলোতেও সাক্ষীরা প্রায় একই কথা বলেছে। তাছাড়া পরিস্কার সুইসাইড উল্লেখ রয়েছে। কী করি বলুন...!"

- "ছেড়েই দাও। নিরপরাধকে শাস্তি দেওয়া আমাদের কাজ নয়, তাছাড়া উনি ঘটনার আগের দিন এসেছেন। তাই শত্রুতার প্রশ্নও ওঠেনা। এ রহস্য চিরকাল ওই দোতলাতেই লুকিয়ে থাকবে মনে হয়।"


(সমাপ্ত)

bengali@pratilipi.com
080 41710149
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.