শিমুল


সালটা ছিল ১৯৯২ ।...শিমুলতলা গ্রাম ।.. অঞ্জ পাড়াগাঁ ।... শহর এর ভিড়, ধুলো, বালি থেকে অনেক দুরে এই গ্রাম ।... গ্রামের পরিবারের সংখ্যা ওই ত্রিশ । .. সেই পরিবার গুলোতে লোকসংখ্যা সব মিলিয়ে ১২০ জন ।... ছোট্ট গ্রাম , কাঁচা মাটির রাস্তা, আর তার পাশ দিয়ে সবুজ ধান ক্ষেত ।...... শিমুলতলার এই চেনাপরিচিত ছবি । ... কিন্তু এই ছবিতে একটা দাগ হলো 'শিমুল' ।......... ওর বয়স এখন মনে হয় কুড়ি! ... গ্রামের ১২১ তম সদস্য ।.. তবে কেউই ওকে সেই সদস্যের মর্যাদা দেয় না বলে ও গ্রামের লোকসংখ্যা থেকে বাদ ।.... শিমুলতলায় যে পুকুরটা আছে, যেটাতে সবাই জল নিতে যায়, সেই পুকুর ছাড়িয়ে গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে একটা ছোট্ট খড়ের ঘরে শিমুল থাকে ।... একা । ... সেই ঘরের চারিদিকে লাউবনের ঝাড় ।... দূর থেকে ঘরটাকে বিশেষ বোঝাও যায় না !.... এই ব্যবস্থা দায়িত্ব নিয়ে গ্রামের লোকেরাই করে দিয়েছে শিমুলকে ।... এই গ্রামের যারা থাকে তারা আসলে খুব ঈশ্বরে বিশ্বাসী , আর তাই ডাইনী ,পেত্নীদের ভয় ও ওদের মনে ভীষণ ।.... তাই আজ শিমুলের ঠিকানা গ্রামের শেষ প্রান্তে , লাউবনে ঢাকা একটা কুরে ঘরে । .. একা ।.. গ্রামের ছেলে হরির সাথে যখন মা মরা শিমুলের বিয়ে হয়েছিল ,তখন ওর বয়স ১৬ ।.. বিয়ের দিন সারা গ্রামের নেমন্তন্ন ছিল ওদের বাড়িতে ।.. শিমুলের বাবা ভাগ চাষী হলেও মেয়ের বিয়েতে ভাত, সুক্ত, রুই মাছের কালিয়া, খেজুর আমসত্বের চাটনি কিছুই বাদ রাখেনি ।... সারা শিমুলতলা বলেছিল, ''বিয়ে দেখলাম একটা !..রান্নাগুলো এত ভালো খেতে !এই রকম রান্না এর আগে কখনো খাইনি..সত্যি " ।.............. কিন্তু সেইসব কথা একদিনেই কেমন বদলে গেল, শিমুলের ফুলশয্যার খাটে না কি একটা সাপ বসে ছিল.. ! কেউ খেয়াল করেনি প্রথমে ।.. যখন মাঝরাতে শিমুলের বরের মুখ থেকে ফেনা বেরোলো তখন খেয়াল হলো.... ! গ্রামের লোকেরা অবাক !...প্রত্যেকের মুখে তখন একটাই প্রশ্ন ,"আচ্ছা শিমুলও তো খাটে শুয়ে ছিল ।.. তাহলে সাপ ওকে না কামড়ে বরটাকে কি করে কাটল !.. পোড়ারমুখী জন্মেই মা কে খেয়েছিল আর একদিনে জলজ্যান্ত সোয়ামী টা কে ও গিলে খেল !..."

বৌভাতের পরের দিন পোড়ারমুখী কে সাদা থান পরিয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দিল শশুরবাড়ি।..... বলল, ''এই মেয়ের মুখ দেখাও পাপ !.''........... এই ঘটনার সাত দিন বাদে হঠাৎ শিমুলের বাপটাও মারা গেল, ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে, সাপের কামড়ে ।.....গ্রামের প্রত্যেকের মুখ ভয়ে লাল ।... ১৬ বছরের শিমুল তো আসলে একটা বিষকন্যা । ... মা মনষার কোপে সে এসেছে এই গ্রামে !.. সবাইকে শেষ করে দিতে ।.. শিমূলতলার পুরোহিত কেষ্ট মুখুজ্যে বিধান দিল, " প্রত্যেকের বাড়িতে দুধ,কলা,মিষ্টি দিয়ে মনষা পুজো করতে হবে ।.... আর তারপর গ্রামের সবাইকে এক হয়ে ওই ডাইনির ব্যবস্থা করতে হবে ।... আর এই কদিন কেউ একা একা সন্ধ্যের পর বেরোবে না ।.. ডাইনির চোখ যদি কারোর ওপর একবার পরে ,সে কিন্তু আর বাঁচবে না ।.. তাই সবাই সাবধান । .."

শিমুল সেইদিন ঘরের উঠোনে একা বসেছিল ।... আজ থেকে ১৫ দিন আগেই এই ঘর, এই উঠোনের ছবিটা আলাদা ছিল, কত লোকের ভিড় , সানাই এর সুর, লাল তাতের শাড়িতে সেজেছিল ও, কপালে চন্দনের ফোটা ।.. পাশের বাড়ির কাকিমাই সাজিয়েছিল ওকে । বাবা নিজে দাঁড়িয়ে গাঁদা ফুলের মালা দিয়ে সাজিয়েছিল বিয়ের মণ্ডপ ।.. আর আজ, সেই উঠোন আর বাড়ি ফাঁকা ।.. কোনো লোক নেই !.. কোনো আওয়াজ নেই !... সবাই যেন এক মুহুর্তে কোথায় একটা হারিয়ে গেছে ।... ওকে একা ফেলে রেখে কোথাও একটা চলে গেছে !... ঠিক সেই সময়ই কানে এলো কাঁসর ঘন্টার আওয়াজ ।... হঠাৎ গ্রামের ১২০ জন লোক ওর বাড়ির দরজার সামনে এসে হাজির ।... কেষ্ট মুখুজ্যে খড়ের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো, "ডাইনী বুড়ি, সবাইকে খেয়ে এখন ঘরে বসে আছিস !..'' কথাটা বলেই ওর চুলের মুঠি ধরে বাইরে নিয়ে এলো ।... পাসের বাড়ির মিনুপিসীমা যে ওকে বিয়ের দিন গায়ে প্রথম হলুদ ছুঁয়ে দিয়েছিল সে হাত ভর্তি কালো কয়লা ওর মুখে ঘষে দিল ।....... ওদের দু ঘর পরের শ্যামলকাকা একটানে ওর সাদা থান টেনে খুলে দিল । গ্রামের পুরোহিত কেষ্ট মুখুজ্যে কাঁচি দিয়ে ওর কোমর অব্দি চুল টা কে কেটে মাথা মুরিয়ে নেড়া করে দিল ।.... তারপর কাসর ঘন্টা বাজিয়ে সারা গ্রাম ঘোরাতে ঘোরাতে ওকে নিয়ে যাওয়া হলো ওর নতুন ঠিকানায়, গ্রামের শেষ প্রান্তের সেই কুরে ঘরটায় ।.. ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হলো ওকে ।... গ্রামের প্রধান মাধব চন্দ্র বলল, "খবরদার ,যদি এই ঘর থেকে দিনের বেলা একটা পা ও বাইরে বার করেছিস ।...তাহলে বঁটি দিয়ে গলার নলি কেটে দিতেও কিন্তু আমাদের হাত কাঁপবে না ।"

শিমুল ওই অন্ধকার ঘরে এখন একা দিন কাটায় ।.... রাত গভীর হলে গ্রামের পুকুর থেকে এক ঘরা জল নিয়ে এসে ভাত ফোটায় ।.... চালটা পায় ওর মামাতো ভাই পল্টুর কাছ থেকে ।.... ওই গ্রামে একমাত্র সদস্য ,যে শিমুলকে দিদি বলে, ডাইনী না ।.... ওর বয়স ১০ ।.. শিমুলকে বাড়ি থেকে চাল চুরি করে এনে দিয়ে যায় সপ্তাহে একদিন করে ।..লুকিয়ে । মাঝে মাঝে শিমুলের মনে হয় ওই অন্ধকার ঘরে ও যেন একা বসে মৃত্যুর অপেক্ষা করছে, যেই মৃত্যু ও আজ ওর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ।,... এখন মাঝে মাঝে নিজের মন কে প্রশ্ন করে, গ্রামের লোকেরা কি ঠিক বলে ! ও কি সত্যি ডাইনী ? ও ই কি ওর স্বামী, বাবা, মা কে খেয়েছে !...........এইভাবেই গ্রামের ডাইনির অন্ধকার দিন, আর কালো রাতগুলো কাটছিল । ....

কিন্তু সেইদিন একটা ঘটনা ঘটলো । পল্টু ওকে দুপুরবেলা কয়েকটা আলু দিতে এসেছিল । ক্ষেতে এখন কেউ নেই, সবাই দুপুরে বাড়িতে গেছে স্রান খাওয়া করতে । এই ফাঁকা সময়ে ও শিমুল এর কাছে এলে কেউ দেখবে না ! এই ভেবেই দিদিকে দেখতে এসেছিল । কিছু বছর আগেও দিনগুলো কত আলাদা ছিল ওদের ।গ্রামের স্কুলে ওরা দুজন পড়তো । শিমুলের ক্লাস সেভেন , আর ওর ক্লাস ফোর । একসাথে হাত ধরে স্কুল যেত দুজনে । গ্রামের মাঠ , আলের রাস্তা ধরে ওরা কত হেঁটেছে ! আর আজ কিছুক্ষণ দেখা করার জন্যও এত লুকোচুরি । এইসব ভাবতে ভাবতেই শিমুলের ঘড় থেকে বেরলো । সামনের ধানক্ষেত পার হয়েই ওদের বাড়ি । সত্যি , ধানক্ষেতের এপাশে পুরো গ্রাম , আর ওপাশে শিমুল, ওর দিদি । এত বছরে কেউ একবার যার দিকে ফিরেও তাকালো না ! সে বাঁচল কি মরলো সেই নিয়ে গ্রামের কারোর কোন মাথা ব্যাথা নেই । অথচ শিমুল তো কখনই কারোর কোন ক্ষতি করেনি ! চিরকালই চুপচাপ স্বভাবের । সেই শান্ত নিরিহ মেয়েটা আজ লোকের চোখে 'ডাইনি' ! এ ও সম্ভব ! কথা গুলো আজ বার বার এসে ভিড় করছিল পল্টুর মনে । কিন্তু হঠাৎ সেই সময়েই পা এ কি যেন একটা কামড়ালো ওর । আর মাথাটা হঠাৎ ঘুরে গেল । চোখ ঝাপসা হয়ে এল । ধানের ক্ষেতে লুটিয়ে পড়লো ও এক মুহূর্তেই । আর ঝাপসা চোখে দেখলো পাশ থেকে একটা সাপ বেড়িয়ে গেলো । দরজায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শিমুল প্রত্যেকদিনের মতন আজও ভাইয়ের চলে যাওয়াটা দেখছিল । কিন্তু ভাইকে মাটিতে হঠাৎ লুটিয়ে পরতে দেখে ও অবাক ! কি হল পল্টুর ? শিমুল ছুটে গেল ধানক্ষেতে ।পল্টুর লুটিয়ে পরা শরীরটা কে কোলে তুলে নিয়েই আঁতকে উঠলো ও ! ওর পা এ সাপের কামড়ের দাগ । এই দাগ যে ওর খুব চেনা । এই দাগই ওর জীবন থেকে এতগুলো বছরকে কেড়ে নিয়েছে । এই দাগই ওকে একটা নতুন নাম দিয়েছে , 'ডাইনি' । সঙ্গে সঙ্গে শিমুল দাঁত দিয়ে পল্টুর পা এ কামড় দিল । স্কুলে পড়ার সময় দিদিমনিরা শিখিয়েছিল , সাপে কামড়ালে যদি সঙ্গে সঙ্গে দাঁত দিয়ে বিষটাকে শরীর থেকে টেনে বার করে দেয়া যায় , তাহলে শরীরে বিষ ছড়ায় না ! আজও শিমুলের বার বার মনে হয় , যদি সেই ফুলশয্যার রাতে অত গভীরে না ঘুমতো , ঠিক সময়ে দাঁত দিয়ে কামড়ে বিষটা বার করে দিত ! তাহলে হয়ত আজ এই সাদা থান ওর কপালে জুটতো না । আর যদি সেইদিন ক্ষেতে বাবার সঙ্গে থাকতো , তাহলে এই ভাবে কামড়েই বাবার শরীর থেকে বিষটা বার করে দিত । বাবাকেও হয়ত অকালে চলে যেতে হত না ! কিন্তু আর না, আজ যখন ও পল্টুর সঙ্গে আছে , ও ওর ভাইয়ের কিছু হতে দেবে না । বাঁচাবেই ভাইকে । এই ভেবেই দাঁত দিয়ে কামড়ে কামড়ে সাপের বিষটা পল্টুর শরীর থেকে বার করল । দাঁত দিয়ে কামড়ানোর জন্য শিমুলের মুখে ও রক্ত লেগে গিয়েছিল । ওর মাথা ঘুরছিল , বিষটা মুখ থেকে বার করতে করতে কিছু হয়ত শিমুলের নিজের শরীরেও গেছে ! কে জানে ! কিন্তু সেই সবের মধ্যেই একটা ব্যাপার হল । গ্রামের এক চাষি দূর থেকে খেয়াল করল ধান ক্ষেতের মাঝে শিমুল পল্টুকে কামড়াচ্ছে বার বার , আর শিমুলের মুখ থেকে রক্ত ও পরছে । ব্যাস , সে নিজের মতন একটা গল্প বানিয়ে নিল 'ডাইনি রক্ত খাচ্ছে ।' আর দৌড়ে গিয়ে গ্রামের লোকেদেরও ব্যাপারটা সবিস্তারে জানিয়ে দিল । কথাটা শুনেই এক দংগল লোক লাঠি , বঁটি , কোদাল হাতে ক্ষেতে হাজির । আর এসে তো অবাক সবাই ! যা বলেছে তার মানে সব ঠিক ! পল্টুর অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পরে থাকা, আর তার পাশে শিমুলের রক্ত মাখা মুখ দেখে সবাই গল্পটাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে নিল । তার মানে ডাইনি এখন রক্ত খেতে চায় । আজ পল্টুর খেয়েছে , পরে গ্রামের অন্য লোকের খাবে ! না না, এই ডাইনিকে কখনই বাঁচিয়ে রাখা যাবে না ! এ তো একটা নর খাদক । সেইদিন শিমুল হয়ত বুঝেছিল গ্রামের লোকেরা কি ভাবছে ! চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে নিজের সত্যিটা বলারও অনেক চেষ্টা করেছিল । কিন্তু, শেষ রক্ষা হল না । সেই একদংগল লোক লাঠি , বটি , জুত , কোদাল নিয়ে ওর দিকে ধেয়ে এল । কিল ,চড় , লাঠির বারি , দা এর কোপ কোনকিছুই বাদ গেল না ! তারপর আসতে আসতে ওর রক্তাক্ত শরীরটা অবশ হয়ে এলো । .. চোখ দুটো বন্ধ হয়ে আসছে যেন, চারিদিকের অন্ধকারটা আরো গাড় হচ্ছে ।... আর সেই অন্ধকারে হঠাৎ ওর একটা মুখ মনে এল , ওর বাবার মুখ ।.... যেন হাত বাড়ালেই বাবাকে ছুঁতে পারবে !. তারপর সব শেষ । ১৯ বছরের শিমুলের রক্তাক্ত ছিন্ন ভিন্ন দেহটা গ্রামের ক্ষেতে লুটিয়ে পড়ল । ডাইনি বধ সম্পূর্ণ হল ।


তবে গ্রামের ছবিটা কিছুক্ষণের মধ্যে বদলে গেল , পাশের সাস্থকেন্দ্রে পল্টুকে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওর জ্ঞ্যান ফিরে এসেছিল । চোখ খুলেই শুধু শিমুলের নাম করছিল । সাস্থকেন্দ্রের ডাক্তার পল্টুকে পরীক্ষা করে বলেছিল যে যদি ঠিক সময়ে শরীর থেকে কামড়ে সাপের বিষটা না বার করা হত , তাহলে ওকে বাঁচানো সম্ভব ছিল না । সেইদিন পল্টু গ্রামে ফিরে দেখেছিল একটা মৃতদেহ , রজনিগন্ধা , চন্দন, ধুপের ধোঁয়ায় সাজানো ওর দিদির মৃতদেহ । ডাক্তারের কথা শুনে , আর পল্টুকে বেঁচে ফিরে আসতে দেখে গ্রামের সবার আজ ভুল ভেঙ্গেছে । তাই শিমুলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আজ পুরো গ্রাম জরো হয়েছে । ............. না, সেইদিন যদিও শিমুলকে আর কেউ ডাইনী বলেনি ।.. সেইদিন মিনুপিসিমাই যে ডাইনি ভেবে ওর গায়ে কালো কয়লা ঘষে দিয়েছিল , আজ সে ই সারা সরিরে ঘি মাখিয়ে দিল যাতে আগুনে পুড়তে সুবিধা হয় । তারপর চিতা জ্বলে উঠলো গ্রামে । কিছুক্ষণের মধ্যেই শিমুল পুড়ে ছাই হয়ে গেল। তবে দাহ করা শেষ হলে রসগোল্লা মুখে পুরতে পুরতে সেইদিন গ্রামের পুরোহিত কেষ্ট মুখুজ্যে হঠাৎ বলে উঠেছিল, "শিমুলকে চিনতে ভুল হয়েছিল ।.. ও আসলে দেবী । পল্টু্র জীবন বাঁচাতেই হয়ত এ গ্রামে জন্মেছিল । কাজ শেষ হতেই আবার ফিরে গেল, বিধির বিধান ।... "...........

গ্রামের সব লোক এই কথার সঙ্গে একমত হলেও পল্টু সেদিন চুপ ছিল । নিস্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল ও সেই চিতা ভস্মের দিকে । কিছুক্ষণ আগে আজ সকালেও দিদিটা ওর সাথে কথা বলল ! আর এখন সব শেষ ! ওর দিদির শরীর , গলার আওয়াজ , হাতের স্পর্শ সব শেষ ! না , এটা বিধির বিধান ছিল না । ওর দিদি মারা যায়নি , খুন করা হয়েছে । ইচ্ছে করে শেষ করে দেয়া হয়েছে ওকে । আজ বার বার শিমুলের অনেক বছর আগের হাঁসি মুখটা ভেসে উঠছে ওর চোখের সামনে । আর বার বার চোখটা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে , জলে ।


এই ঘটনার পর ১৫ বছর কেটে গেছে । আজ পল্টু একজন আইএস অফিসার দেশের । আজ ওকে সবাই চেনে পলাশ সেনের নামে । পড়াশোনায় ছোট থেকেই খুব ভালো ছিল , তাই মাধ্যমিকের পর থেকেই স্কলারশিপের টাকায় পুরো পড়াশোনাটা চালিয়েছে ।


তবে শুধু আইএস অফিসার হয়ার জন্যই এই নামটা বিখ্যাত না । পলাশ সেন পাঁচ বছর ধরে একটা সংস্থা চালায় , গ্রামের পিছিয়ে পরা , অত্যাচারিত মহিলাদের সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনা , তাদের বাঁচার রসদ জোগানো , শিক্ষার আলো দেয়াই সেই সংস্থার কাজ । এখন গ্রামের অনেক মহিলাদের 'ডাইনি' সন্দেহে একঘরে করে রাখা হয় , অত্যাচার করা হয় । পলাশের সংস্থা সেই সব মহিলাদের উদ্ধার করে নতুন একটা জীবন শুরু করতে সব রকম ভাবে সাহায্য করে । আজ এই সংস্থার কথা পেপারে বড় বড় অক্ষরে ছেপে বেরিয়েছে । এই সংস্থার নাম হল , 'শিমুল' ।

bengali@pratilipi.com
+91 9374724060
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.