অনুভূতি



সুমন ছোট থেকেই বেশ প্রাণবন্ত , একটু চঞ্চল | দুস্টুমির জন্য প্রায়ই বকা খেতো স্কুল-এ , বাড়িতেও ছাড় পেতো না | বাড়িতে ভাঙা চূড়া করছে তো কখনো মায়ের অবাধ্য হয়ে মায়ের কাছে মার্ খাচ্ছে , আর স্কুল থেকে তো প্রায় ই মারামারি করে বই খাতা ছিঁড়ে বাড়ি ফিরছে তো কখনো হাত পা কেটে নিয়ে আসছে , ব্যাস বাড়িতে ফিরেও রেহাই নেই , মায়ের হাতে আর দুয়েক ঘা | তবু সুমন শুধরাতো না |

ধীরে ধীরে সুমন বড়ো হয়েছে এখন সে ক্লাস এইট , আর ধীরে ধীরে তার চঞ্চলতা কমে এসেছে ,মায়ের বাধ্য হয়েছে অনেকটা | পড়াশুনা তেও মনোযোগ দেয় |কিছু দিন সব ঠিক থাক ই ছিল , কিন্তু অদ্ভুত এক অনুভূতি শক্তির বৃদ্ধি হয়েছে তার মধ্যে | সে নিজেও কিছু বুঝতে পারেনি , হঠাৎ-ই একদিন স্কুলে সবাই ব্যস্ত পড়াশুনা নিয়ে মানে দিদিমনি এসে পড়া ধরবেন , আর না পারলেই কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে ,সুমন ও পড়ছিলো , আর পড়তে পড়তেই হঠাৎ তার মাথাটা একটু কেমন করে উঠলো, আর সে হঠাৎ-ই বলে উঠলো "আজ দিদিমনি আসবেন না , দিদিমনির খুব শরীর খারাপ " | কিন্তু তার কথায় কেও অবশ্য গুরুত্ব দেয়নি, বিশ্বাসও করেনি | তবে সেদিন ক্লাস টা সত্যি-ই হয়নি , দিদিমনি আসেন নি ক্লাস নিতে , শরীর খারাপ ছিল তাই |

এর পর থেকে সুমনের ক্লাসের বন্ধুরা প্রায়-ই তাকে জিজ্ঞেস করতো " এই সুমন বল না , আজ স্যার কিংবা দিদিমনি আসবেন কিনা "|

প্রথমে সুমন এতো সব ভাবতো না | তারপর একদিন সে তার বাবার সাথে বাজারে গেছে আর হঠাৎ আবার তার মাথাটা কেমন করে উঠলো, চোখ বন্ধ করতেই সামনে ভেসে উঠলো এক ছবি " একটা দুরন্ত ষাঁড় সিং উঁচিয়ে ছুটতে ছুটতে আসছে একটা বাচ্চা ছেলের দিকে , বাচ্চা টি একটি লাল জামা পড়েছিল, মাথায় কোঁকড়া চুল , চোখ খুলে ফেললো সুমন, ভাবলো হয়তো মনের ভুল ভাবনা "| কিন্তু না, কিছুক্ষনের মধ্যেই সে দেখলো একটা ষাঁড় সত্যি ছুটছে , এক মুহূর্তের মধ্যেই সে লাল জামা পড়া বাচ্চা টাকে খুঁজেও পেলো সামনের সবজি দোকানে, প্রবল বেগে ছুটে গেলো সুমন, বাচ্চা টাকে বাঁচাবে ভেবে কিন্তু বাচ্চা তার সামনে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই ষাঁড়টা এসে গুটিয়ে ফেলে দিলো সুমন কে | সুমনের বাবা তাড়াতাড়ি এসে সুমনকে তুললো , অনেক লোক জমে গেলো, সুমনের ভাগ্য ভালো অল্পের উপর দিয়ে গেছে , কোনো গুরুতর আঘাত পায়নি সে | সেই বাচ্চা ছেলেটা আর তার মা অনেক ধন্যবাদ জানালো | বাড়ি ফিরে এসে সব টা ঘটনা সে তার মা কে জানালো | কিন্তু সেটা মোটেও বিশ্বাস যোগ্য হলো না , সুমন ও আর কিছু বললো না |

এরকম-ই এক দিন সুমন তার ঘরে বসে আঁকছিলো, আবার তার মাথা টা কেমন করে উঠলো, চোখ বন্ধ করে সে দেখতে পেলো তার মায়ের হাত কেটে গেছে , অনেক করে রক্ত বেরোচ্ছো, চোখ খুলে সে ভয় পেয়ে গেলো, একটু অন্য মনস্ক হয়ে গেলো সে, তারপর রান্না ঘরের দরজায় গিয়ে দেখলো তার মা বেসিনে হাত ধুচ্ছে , রক্ত বেরিয়েই যাচ্ছে , সে ডাকলো "মা আমি আমার ভাবনায় ..... " মা সুমন কে থামিয়ে দিয়ে বলে " সমু যা তো ড্রেসিং টেবিল থেকে লাল ওষুধের শিশিটা আর তুলো নিয়ে যায় |" সুমনের সব বোঝা হয়ে গেলো যে একটু আগে সে তার অনুভূতি শক্তি দিয়ে যা অনুভব করেছে তাই-ই ঘটেছে | সুমন লাল ওষুধ আর তুলো নিয়ে এসে তার মায়ের হাতে লাগিয়ে দিলো | মা বললো " তুই কি সত্যি দেখেছিস যে আমার হাত কেটে গেছে? " সমুন বললো " হ্যা, আমি দেখলাম আর তাই তো তোমার কাছে ছুটে চলে এলাম |" মা কিছু বলতে পারলেন না | চুপচাপ সমুর দিকে তাকিয়ে থাকলেন |

এর পর সমুকে অনেক ডাক্তার দেখানো হয়েছে, কিন্তু কোনো ফল হয়নি, ডাক্তার বলেছেন " এটা কোনো রোগ নয়, এটা এক অদ্ভুত ক্ষমতা , এর কোনো চিকিৎসা হয় না | সুমন কে নিয়ে তার বাবা মা বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন |

একদিন সুমন তার বাবা মায়ের সাথে মামা বাড়ি যাচ্ছিলো, পর পর কয়েকটা বাস ভিড় বলে তারা ছেড়ে দিলো, তার পরের বাস টা একটু কম ভিড়, তার বাবা বাস -এ ওঠার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিলো , কিন্তু আবার সেই সমস্যা , আবার সুমনের মাথা কেমন করা, এবার তাড়াতাড়ি সুমন বাবার হাত ধরে আটকায় বাস উঠতে | সুমনের মা সব বুঝতে পারে একদিন সুমন তার বাবা মায়ের সাথে মামা বাড়ি যাচ্ছিলো, পর পর কয়েকটা বাস ভিড় বলে তারা ছেড়ে দিলো, তার পরের বাস টা একটু কম ভিড়, তার বাবা বাস -এ ওঠার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিলো , কিন্তু আবার সেই সমস্যা , আবার সুমনের মাথা কেমন করা, এবার তাড়াতাড়ি সুমন বাবার হাত ধরে আটকায় বাস উঠতে | সুমনের মা সব বুঝতে পারে , তার বাবাও চুপচাপ |

তারপরের বাস এলে সুমন তার মা বাবার সাথে বাস-এ উঠে পড়ে | কিন্তু কিছুদূর গিয়ে তারা দেখে আগের যে বাস টা তারা ছেড়ে দিলো সেটা ব্রিজ-এর নিচে নদীতে পড়ে গেছে | সুমন তার মায়ের দিকে তাকায় , কেঁদেই ফেলে সে, মা বলেন " চুপ কর, এটা তো দুর্ঘটনা "| রাস্তায় এমন দুর্ঘটনা , খুব জ্যাম , মামাবাড়ি পৌঁছাতে সুমনদের অনেক রাত হলো |

পরের দিন সকালেই নিউজ পেপার -এ খবর টা পড়লো সুমন " বাস দুর্ঘটনায় ড্রাইভার সহ 30 জন লোকের মৃত্যু হয়েছে" |

সুমন ছুতে যায় মায়ের কাছে , কেমলন একটা পাগল পাগল ভাব তার, সুমন বলে " আমি হাফিয়ে যাচ্ছি মা , এরকম কেন হয় আমার সাথে , আমি আর পারছি না, কাল দেখো কত লোক আমার জন্য মারা গেলো , আর আমি তাদের কাউকেই বাঁচাতে পারলাম না..."| সুমনের মা অনেক চেষ্টা করলো বোঝাবার কিন্তু সুমন কিছুতেই বোঝে না | ধীরে ধীরে আরো অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে সুমন , স্নান খাওয়া ঠিক ঠাক করে না , সারা দিন বিড়বিড় করে কি সব | নিজের মনেই একা হেসে ওঠে আবার কখনো চিৎকার করে কেঁদে ওঠে | আবার বেশ কয়েকটা ডাক্তার দেখানো হলো , তারাও কিছু করতে পারলেন না, কিছু ঘুমের ওষুধ দিয়ে এই গুরুতর সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করলেন শুধু | সুমন ঘুমায় ওষুধ খেয়ে , কিন্তু যখন জেগে ওঠে এক-ই রকম আবার….

তবে যে জিনিস টা তার বন্ধ হয়েছে সেটা হলো তার সেই অদ্ভুত অনুভূতি শক্তি | এখন আর সুমন কোনো দুর্ঘটনার আগাম আভাস পায় না |


bengali@pratilipi.com
+91 9374724060
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.