‎মেঘদূত‬



এখনকার দিনের মেয়েদের থেকে বৃষ্টি বরাবরই একটু আলাদা । এই ইন্টারনেট এর যুগে সবাই যখন ফেইসবুক আর টুইটার নিয়ে ব্যস্ত তখন ও বই পড়ে। জানলা দিয়ে পাশের বাড়ির বাগানের রঙিন ফুলগুলোকে দেখে , নাম না জানা পাখিদের ডাক শোনে । আরো একটা জায়গা আছে যেখানে মাঝে মাঝেই ওর আসা যাওয়া লেগেই থাকে সেটা ওর 'কল্পনার জগৎ '। হ্যাঁ , যখন তখন চলে যায় সেখানে ওর ইচ্ছে হলেই । নানারকম শব্দ সাজিয়ে তৈরি করে কবিতা, গল্প , আর ডায়রির পাতাগুলোতে এই 'কল্পনা' গুলোকে সাজিয়ে দেয় ।

বন্ধুবান্ধব কখনই খুব বেশি ছিল না বৃষ্টির , আসলে মনের মিল না হলে কথা আসে না ওর বিশেষ। আর ওই 'মন' টাই খুব কম লোকের সাথে মেলে । তবে একটা খুব কাছের বন্ধু ছিল অনেকটা সময় ধরে , সে হলো উৎসব । একই স্কুল ছিল ওদের । উৎসব ওর থেকে দু বছরের সিনিয়র। উৎসবও ওর মতন কবিতা, গল্প লিখত । স্কুল এর ম্যাগাজিনে ওদের লেখা বেরোত নিয়মিত । ছোটবেলায় একটা খেলা খেলত ওরা খুব , 'কল্পনার খেলা' । একটা লাইন বৃষ্টি বলত, তারপরের লাইন টা উৎসব । এইভাবে লাইন এর পর লাইন সাজিয়ে তৈরি হত গল্প, ওদের গল্প । কিন্তু আসতে আসতে যত দিন গেল উৎসবও সবার মতন হয়ে যেতে থাকলো, সবার মতন 'হিসেবী'। পরীক্ষার রেজাল্ট এ ভালো নম্বর পাওয়ার দৌড়, কেরিয়ার তৈরি করার টেনশন এই সবের মধ্যে ওর লেখা গল্প-কবিতাগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেল ! আর হয়ত ওদের বন্ধুত্বটাও। স্কুল শেষ হয়ে যাবার পর ওদের আর কোনো যোগাযোগই ছিল না।
এইখানেই ওদের গল্পটা শেষ হয়ে যেত , যদি না সেইদিনকার ঘটনাটা ঘটত ।

বৃষ্টির পিসতুতো দিদি প্রিয়ার এনগেজমেন্ট ছিল । সম্বন্ধ করেই ঠিক হয়েছিল । ছেলেটি ব্যাঙ্ক ম্যানেজার । বৃষ্টি ওর মার মুখেই এইসব শুনেছিল । যদিও নামটা জানতে একটুও ইন্টারেস্ট লাগেনি ওর । আর লাগবেই বা কেন ! ব্যাঙ্ক ম্যানেজার মানেই তো সারাদিন কাটে তার টাকার হিসেব মেলাতে মেলাতে । আর এই কর্পোরেট সেক্টর , ব্যাঙ্কিং সেক্টর এই সবের লোকজনগুলোর মুখ গুলো কেমন যেন একটা হয় । গম্ভীর, খুব সিরিয়াস , যেন এক্সট্রা একটু মুচকি হাসতেও এদের সরকারকে ট্যাক্স দিতে হবে এই রকম একটা ভাব । যদিও বাড়ির সবাই এই ছেলেকে নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ । তবে বৃষ্টি শুনেও শুনছে না । বৃষ্টির খুব অবাক লাগে একটা জিনিস ভাবতে যে আজকাল মানুষ ভালো কি মন্দ তার মাপকাঠি হচ্ছে মান্থলি ইনকাম টা ! ওটা যদি পঞ্চাশ হাজার হয় সে খুব ভালো । আর এক লাখের ওপর হলে তো কথাই নেই ! সে অসাধারণ। এই যে ওর দিদি প্রিয়া , সেও তো তাই ! যেন বিশ্ব সংসারের সাথে কম্পিটিশন এ নেমেছে । ক্লাস এ যদি কখনো এক নম্বর এর জন্য ফার্স্ট হওয়ার জায়গায় সেকেন্ড হত তাহলেই ব্যাস কেঁদে কেটে সারা বাড়ি মাথায় তুলত । আর সব সময় কপালে একটা ভাঁজ , স্কুল শেষ হলো তো কলেজ নিয়ে টেনশন , সেটা শেষের পর অফিস এ চাকরি পাওয়া নিয়ে, আর চাকরি পেয়ে প্রমোশন নিয়ে । সত্যিই মাঝে মাঝে অবাক লাগে বৃষ্টির ! এত চাপ, এত টেনশন নিয়ে এরা থাকে কি ভাবে ? আর এত টাকা টাকা করেই বা কি হবে ? স্বর্গে যাবে না কি টাকা নিয়ে ? মোটামুটি যত টুকু দরকার , ততটা হলেই তো হলো । সুইজারল্যান্ড এর জায়গায় হনিমুন এ দার্জিলিং গেলে ক্ষতিটা কি ? মেন তো হলো কাছের মানুষটার পাশে থাকা । কিন্তু কে বোঝাবে এদের। এইসবই ভাবছিল এনগেজমেন্ট পার্টিতে একটা কোনায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে । এই ভিড়ের মধ্যে কেমন যেন নিজেকে আলাদা লাগছিল । এমন যেন কেউ নেই যার সাথে দু মিনিট গিয়ে কথা বলা যায় ।

আত্মীয়মহলে বৃষ্টির পরিচয় একজন সামান্য প্রাইমারি স্কুল টিচার । যে আবার একটু কল্পনাপ্রবণ । আসলে এই যুগে ডাক্তার , ইঞ্জিনিয়ার না হলে যেন ঠিক পাতে দেওয়া যাই না ! আর সেখানে নিদেনপক্ষে হাই স্কুল টিচার হলেও না হয় কথা ছিল ... বৃষ্টি তো প্রাইমারি । একেবারেই চলে না । যাক ভালো ! বৃষ্টি চালাতেও চায় না । সবার মতন নয় বলেই তো বৃষ্টি আলাদা । এইসব ভাবনার মধ্যে এনাউন্সমেন্ট এর আওয়াজ কানে এলো । কি বলল পিসেমশাই ? ছেলেটার নামটা যেন খুব চেনা। উৎসব ! বৃষ্টি ওই স্টেজ এর সামনের ভিড়টার মধ্যে গিয়ে দাঁড়ালো । চোখ ,নাক, মুখ টা তো খুব চেনা, তবে এখন চেহারাটা একটু ভালো হয়েছে। মনে হলো একটু লম্বাও যেন হয়েছে! হঠাৎ স্কুলের ম্যাগাজিন টার কথা মনে পরে গেল বৃষ্টির । কি যেন ছিল ম্যাগাজিনটার নাম ? হ্যাঁ , 'মেঘদূত' ।

আট বছর বাদে যে এই ব্যাঙ্ক ম্যানেজার উৎসব বৃষ্টিকে চিনতে পারবে, আবার যেচে পরে কথা বলতেও আসবে এটা বৃষ্টি সত্যিই ভাবেনি । তবে ভালো লেগেছিল । স্কুলের ফেলে আসা বন্ধুর সাথে আবার দেখা হয়ে । তবে ঐটুকুই । ফোন নম্বর দেওয়ার মোটেও ইচ্ছে ছিল না, কিই বা কথা বলবে ওর সাথে ! স্কুলের দু মিনিট স্মৃতিচারণের পর ই তো শুরু হবে সেম ডায়লগ , "বৃষ্টি তোমার যখন এম.এ তে ফার্স্ট ক্লাস টা ছিল তখন শুধু শুধু প্রাইমারি স্কুল টিচার কেন হতে গেলে? নেট , সেট দিতে পারতে ।" উফ, বিরক্তিকর ।" তবে কিন্তু কিন্তু করেও অবশেষে নম্বর টা দিতেই হলো । উৎসব এত জোরাজুরি করলো !
তবে বৃষ্টি নিশ্চিন্তেই ছিল একটু । এই ব্যাঙ্ক ম্যানেজার এত কাজের চাপে , প্রিয়াকে সামলে থরিই না ফোন করতে যাবে ! নম্বর নিয়ে ভুলেই যাবে হয়ত । বাঁচা যাবে । এই ভেবেই রাতে গল্পের বইটা নিয়ে বিছানায় শুলো । এই সময়েই ফোন টা বেজে উঠলো ।

"কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া "। এত রাতে কে আবার? স্ক্রিনে আননোন নম্বর । ফোন টা ধরতেই একটা ছেলের গলা ।
-"হ্যালো , বৃষ্টি ?"
-"হ্যাঁ , বলছি । আপনি কে ? "
-"আমি উৎসব । "
উৎসব ! এত রাতে । ফোন কেন করলো ? ভোলেনি তার মানে নম্বর টা ! যাই হোক ,বৃষ্টি ভেবেছিল "কি খবর?" "কেমন চলছে?" -""হ্যাঁ ,স্কুল কে খুব মিস করি । " এই সব কিছু ভদ্রতার লাইন বলেই "আচ্ছা , ঠিক আছে তাহলে ! ভালো থেকো । বাই ! " বলে ফোন টা রেখে দেবে । কিন্তু ব্যাপার টা সেই রকম হলো না । কারণ উৎসব নিজের চেনা পরিচিত লাইনগুলো বলল না । প্রাইমারি স্কুল টিচার শুনে যেন লাফিয়ে উঠলো ,
"বাঃ, কি ভালো । সারাদিন বাচ্চাদের সাথে । আমার তো খুব বোরিং কাটে সারাদিন । হাজারটা ফাইল , আর হাজারটা ক্লায়েন্ট সামলাই ।"

তারপর স্কুলের কথা, পুরনো বন্ধুদের কথা বলতে বলতে ওই স্কুল ম্যাগাজিনটার কথাও তুলল । কি অদ্ভুত ! 'মেঘদূত' নামটা মনে আছে উৎসবের । আর তারপর সব থেকে আশ্চর্যের প্রশ্নটা করে বসলো ও , "আচ্ছা বৃষ্টি তুমি এখনো লেখ ?" এই প্রশ্ন টা যে উৎসব করবে এটা বৃষ্টি ভাবেনি । আসলে এই কঠিন বাস্তবের যুগে কল্পনার কথা ক'জন ই বা জানতে চায় !
সেইদিন ফোন টা রাখার পর যখন ঘড়ি টার দিকে চোখ পড়ল , বৃষ্টি অবাক ! রাত এক টা বাজে। ১১ টায় কল করেছিল উৎসব । মানে দু ঘন্টা কথা হলো ! তবে বেশ ভালো লাগছিল ওর । একটা ব্যাঙ্ক ম্যানেজার এর সাথে যে এতক্ষণ বকবক করা যায় বৃষ্টি এটা মোটেও ভাবেনি ।

এরপর মাঝে মাঝেই দেখা হত ওদের , বা বলা যায় দেখা করত । উৎসবই প্রত্যেকবার ফোন করে বৃষ্টিকে ডাকত, কখনো ও গঙ্গার ধারের পার্ক এ, কখনো প্রিন্সেপ ঘাটে । গঙ্গার ধারটা বৃষ্টির খুব প্রিয় , মনটা কেমন যেন শান্ত হয়ে যায় । তবে প্রত্যেকবারই দেখা করার সময় উৎসবের একটা আবদার বৃষ্টিকে রাখতেই হত । ওর লেখার খাতা টা সঙ্গে নিয়ে যেতে হত । সেখান থেকে ওর কবিতা গল্প পড়ে শোনাতে হত উৎসবকে । বৃষ্টির উৎসবকে সব সময়ই চেনা ছকের বাইরের একজন বলে মনে হয়েছে । যেন সবার মতন হয়েও সবার মতন না ! বা এটাও বলা যায় এই ভিড়ের মধ্যে উৎসব যেন নিজেকে খুঁজছে ।হারিয়ে যাওয়া 'নিজেকে' ।
-" আচ্ছা উৎসব , তোমার যদি এই চাকরি টা এতই বোরিং লাগে তাহলে করছ কেন ? "
-"কেন আবার ! মা বাবার জন্য । "
-"মানে ?"
-"মানে আমার জীবনে দিন থেকে রাত, রাত থেকে দিন সবই হয় মা বাবার জন্য । ছোটবেলায় ভাবতাম ইংলিশ নিয়ে পড়ব । শেক্সপিয়ার না হতে পারি, ওর ধারের কাছের কেউ তো হবই , নভেল , স্টোরিস কত কি লিখব । তারপর মা বাবা সব কিছুতেই জল ঢেলে দিল । কানের সামনে কেরিয়ার কেরিয়ার করে এমন খ্যাচ খ্যাচ করত যে সায়েন্স নিতেই হলো । তারপরও শান্তি নেই ! বলতে শুরু করলো আই. আই. টি ক্র্যাক করতেই হবে । নইলে না কি রিলেটিভস দের কাছে আমার মা বাবা মুখ দেখাতে পারবে না ।"
-"কেন ? না দেখানোর কি আছে ? "
-"না । আসলে মা ইঞ্জিনিয়ার আর বাবা তো ডাক্তার । তাই আমাকে ওই দুটোর মধ্যে একটা তো হতেই হবে । বিধির বিধান ।"
-"ওহ ! আচ্ছা তারপর ?"
-"তারপর আর কি ! আই. আই. টি পর্ব শেষ করে আই.বি.এম পর্ব শুরু করলাম । সেটাও অবশ্য এক রকম বাধ্য হয়েই । বাবা বলল এম.বি.এ না করলে হয় না কি ! আর তারপর সব শেষে এই ব্যাঙ্ক । আর তার বদ্ধ কেবিন । আমার ডেসটিনি ।"
-"আর বিয়ে ? ডোন্ট টেল মি সেটাও কাকু কাকিমাই ?"
-"আর আলাদা করে বলার কি আছে ! আমার লাইফ এর কপি রাইট তো আমার হাতে নেই । সবই বাবা মার কন্ট্রোল এ । প্রিয়াকেও ওরাই দেখতে গিয়েছিল । একেবারে যেন আমার মা বাবার জেরক্স কপি মেয়েটা ।অনেক চেষ্টা করেছিলাম বিয়েটা কাটানোর । কিন্তু এমন ইমোশনাল ব্ল্যাকমেলিং শুরু করলো মা বাবা, যে আ্যজ ইউজুয়াল শেষে হ্যাঁ বলতেই হলো । "

না! বেশ খারাপই লেগেছিল বৃষ্টির । সারা জীবন অন্যের ইচ্ছায় চলা, অন্যের মতন করে বাঁচার একটা আলাদাই কষ্ট । থ্যাংক গড , বৃষ্টির জীবনটা এই রকম না । ওর মা বাবা ওর মতনই বেহিসেবি । তাই বৃষ্টির জীবনটা সব সময়ই ওর নিজের হয়েই থেকেছে। তবে একটা কথা বৃষ্টি উৎসব কে না বলে পারেনি !
-"উৎসব , ডোন্ট মাইন্ড , কিন্তু একটা কথা না বলে থাকতে পারছি না । মা বাবা কে ভয় পেও না, ভালোবাসো । আর লাইফ তো একটাই , কখন শেষ হয়ে যায় বলা তো যায় না ! তাই মা বাবাকে খুশি করার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও একটু খুশি রাখো । এতে ওনাদের অপমান করা হবে না । আর মানছি এই লাইফ টা ওরা তোমাকে দিয়েছেন। কিন্তু এই লাইফ এর প্রত্যেকটা দিন, প্রত্যেকটা মুহূর্ত কিন্তু তোমার নিজের । এটা ভুলে যেও না । আর শেক্সপিয়ার এর কাছাকাছি কেউ একজন তো চাইলে তুমি এখনো হতে পারো । এখন তোমার বয়স তিরিশ । যদি ধরো তুমি ষাট বছরও বাঁচ তাহলে হাতে কিন্তু এখনো তিরিশ টা বছর আছে । সো ইউজ ইট "
বৃষ্টি কথাগুলো এমনিই বলেছিল সেইদিন । মনে হয়েছিল বলে । তবে এই কথাগুলোর ফল কি হয়েছে সেটা বুঝলো সেই রবিবার , সকালে , ঘুম থেকে উঠে ।

ওর মা কফি কাপ হাতে ওর ঘরে এসে ওকে ঘুম থেকে প্রায় টান মেরে তুলেই ব্রেকিং নিউজ টা দিল,
"জানিস কি হয়েছে ! এক্ষুনি তোর পিসি ফোন করেছিল । প্রিয়ার বিয়েটা ভেঙ্গে গেছে । ছেলেটা বাড়িতে এসে এনগেজমেন্ট এর আংটিটা ফেরৎ দিয়ে গেছে । কি অবস্থা !"
সেই দিনকার পর উৎসবের সাথে প্রায় সাত দিন কোনো কথা হয়নি । উৎসবও আর ফোন করেনি । বৃষ্টি ভেবেছিল ওর কথাগুলো হয়ত খুব একটা উৎসবের পছন্দ হয়নি । তাই বৃষ্টিও নিজে থেকে আর কন্টাক্ট করেনি । কিন্তু আজ সকালে এই খবর শোনার পর আর ফোন না করে থাকতে পারল না ! তাহলে কি সিরিয়াসলি নিয়ে নিল না কি কথা গুলো ?
-"হ্যালো , উৎসব , কি শুনলাম মায়ের কাছে ? তুমি বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছ ?"
ওপারের গলা টা বেশ রিলাক্সের ।
-"হ্যাঁ তো । ঠিক শুনেছ । ভেঙ্গে দিলাম । একচুয়ালি তোমার কথাগুলো নিয়ে সেই দিনকার পর অনেক ভেবে দেখলাম । তিরিশ বছর যখন হাতে আছে এখনো, তখন সেটা কে ইউজ করাই উচিৎ ।"
-"কি ? মানে ? আর ইউ সিরিয়াস ?"
-"একদম । এই প্রথম আমি আমার লাইফ নিয়ে এত সিরিয়াস। যেন প্রিয়ার বাড়িতে গিয়ে ডাইরেক্ট আংটি টা ফেরৎ দিয়ে এসেছি । মা বাবা কে ইচ্ছে করেই আগে কিছু বলিনি । জানবে যখন পরেই জানুক । বিয়ে টা তো আগে ভালোয় ভালোয় ভেঙ্গে যাক । ও, ভালো কথা । তোমাকে আজ বিকেলে আমার সাথে একটু বেরোতে হবে । কিছু রেন্টেড ফ্ল্যাট দেখব ।"
-"রেন্টেড ফ্ল্যাট ? সেটা কেন ?"
-"আরে এই বিয়ে ভাঙ্গা এপিসোড নিয়ে মা বাবার সাথে প্রচুর ঝামেলা হয়েছে না ! আর সারাক্ষণ দুজনের এত বকবক আর ভালো লাগছে না । তাই কিছু দিন আলাদা থাকব । ছেলের বিরহটা ফীল করুক একটু । তাহলেই বুঝবে।"
-"আচ্ছা উৎসব , এই সাত দিনেই তোমার মধ্যে এই রেভলিউশনারি চেঞ্জ হলো কি করে ? মানে আমার ওই একটা স্পিচ এ তুমি এই ভাবে বদলে গেলে ? "
-"আরে না না, সাত দিনে না । সেই ওই এনগেজমেন্ট এর দিনটা থেকেই । যখন তোমাকে আবার দেখলাম । সেই দিন থেকে রোজ, একটু একটু করে চেঞ্জ হয়েছি । একটু একটু করে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। আচ্ছা শোনো, আমি ঠিক করেছি , আমরা একটা ম্যাগাজিন বার করব । আমাদের লেখার সাথে আরো অনেকের লেখা থাকবে ওখানে । যারা কল্পনা ভালবাসে । নামটা কিন্তু একই থাকবে। 'মেঘদূত' ।"
বৃষ্টির চোখের কোণে জল, আর মুখে হাসি । আচ্ছা , কান্না হাসি কি একসাথে আসে? হয়ত আসে ! যখন না পাওয়া গুলো পাওয়ার হয় । যখন হঠাৎ কেউ এক গোছা গোলাপ এনে হাতে ধরিয়ে দেয় , যখন পাশের বাড়ির বাগানে আসা সব পাখি গুলো একসাথে ডেকে ওঠে । যখন এমনি দিনটাও একটা উৎসব হয়ে যায় । ভালো তো ওরও লেগেছিল ! সেই রাতে কথা বলার পর থেকে । শুধু সেটা ফেরত পাবে, এটা ভাবেনি ।

(সমাপ্ত )

bengali@pratilipi.com
+91 9374724060
সোশাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন
     

আমাদের সম্পর্কে
আমাদের সাথে কাজ করুন
গোপনীয়তা নীতি
পরিষেবার শর্ত
© 2017 Nasadiya Tech. Pvt. Ltd.